কে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, কেন আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে

নাস (মানব জাতি), ইবাদত, রব, তাকওয়া, রব্ব, খালাকা, নাফরমানি, একত্ববাদ, ইখলাস।
২১. হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদাত কর, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি
করেছেন, যাতে তোমরা তাক্ওয়া অর্জন করতে পার।
শব্দার্থ
يا-েহ। يها ا-ওহে। الناس-মানব জাতি। الناس يها ياا-েহ মানবজাতি। اعبدوا-েতামরা ইবাদাত কর। رب-প্রতিপালক।
ربكم-েতামাদের প্রতিপালকের। الذى-েয. যিনি। خلق-সৃষ্টি করেছেন। كم-েতামাদের। خلقكم-ে তামাদের সৃষ্টি
করেছেন। و-এবং। الذين-যারা।منথে-ে ক। قبل-পূর্বে, আগে। منقبلكم والذين -এবং যারা তোমাদের পূর্বে ছিল।
لعل-যাতে। كم-েতামরা, لعلكم-যাতে তোমরা। تتقون لعلكم- যাতে তোমরা আত্মরক্ষা করতে (বাঁচতে পার) তাকওয়া অর্জন করতে পার।
ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
মহান আল্লাহ বলেন, হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই মহান প্রভুর দাসত্ব স্বীকার কর, যিনি তোমাদের ও তোমাদের
পূর্ববর্তী লোকদের সৃষ্টিকর্তা। এতেই তোমাদের আত্মরক্ষা করার উপায় নিহিত রয়েছে। অর্থাৎ দুনিয়ার ভ্রান্ত চিন্তা, ভ্রান্ত
মত ও মতবাদ, ভুল কাজ-কর্ম এবং পরকালে আল্লাহর কঠোর শাস্তি হতে রক্ষা পাবার একমাত্র পথ এটাই। এখানে গোটা
মানবজাতিকে লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ বলেন- ‘তোমাদের রবের ইবাদাত কর।' ইবাদাত শব্দের অর্থ দাসত্ব, আনুগত্য ইত্যাদি।
সারসংক্ষেপ
দুনিয়াতে শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তির পথ তাওহীদকে গ্রহণ করো এবং শিরক হতে বিরত থাকো। আর মহান
আল্লাহর নিরংকুশ ক্ষমতাকে স্বীকার করে তারই ইবাদাত ও আনুগত্যে নিয়োজিত করো।
সুতরাং এ আয়াতের বিশ্লেষণ হতে যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা হচ্ছে১. আল-কুরআনের মূল শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে- একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা।
২. আর আল্লাহর ইবাদাতের মাধ্যমেই পরিত্রাণ পাওয়া যাবে ইহকাল ও পরকালে।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১। ‘ইবাদত’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) আনুগত্য করা (খ) সেবা করা
(গ) দূরে থাকা (ঘ) বিরত থাকা
২. ‘তাকওয়া’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) আল্লাহকে দেখা (খ) আল্লাহভীতি
(গ)সহজ-সরল (ঘ) আল্লাহকে না দেখা
৩.‘রব’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) বর্জনকারী (খ) ক্ষমাকারী
(গ) গ্রহণকারী (ঘ) প্রতিপালক
৪। আলোচ্য ২১ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা যাদের সম্বোধন করেছেনর. মুসলিমদের রর. কাফিরদের ররর. মুনাফিকদের
নিচের কোনটি সঠিক ?
(ক) র (খ) র ও রর
(গ) রর ও ররর (ঘ) র, রর ও ররর
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক,
বিশিষ্ট ইসলামি গবেষক জনাব মফিদুল ইসলাম এক সেমিনারে বলেন, মানুষ আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, অথচ অনেকেই
দুনিয়ার মোহে আল্লাহকে ভুলে গেছে। তারা হালাল-হারামের তোয়াক্কা না করে কেবলই ছুটে চলেছে অর্থ-বিত্তের পেছনে।
অথচ মানুষ ও জিন জাতিকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। প্রকৃত ইমানদার ব্যক্তি আল্লাহর
আনুগত্যের মধ্যেই আত্মিক শান্তি লাভ করে থাকে।
ক. ইবাদত কী ? ১
খ. আলোচ্য আয়াতে ‘মানবজাতি’ বলে কাদের বুঝানো হয়েছে ? ২
গ. প্রকৃত মুত্তাকী হওয়ার জন্য আমাদের করণীয় কী ? ৩
ঘ. মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য - উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করুন। ৪
উত্তরমালা: ১। ক ২। খ ৩। ঘ ৪। ঘ