আলমে আরওয়াহ’ এ কী প্রতিশ্রæতি আমরা সকলে দিয়েছিলাম তা উল্লেখ করুন।

ফাসিক, নাফরমান, আহদ, মীসাক, আলমে আরওয়াহ, পরোওয়ারদিগার।
২৭. যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং যে সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য আল্লাহ আদেশ
করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথবিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
শব্দার্থ
الذين -যারা। ينقضون-ভঙ্গ করে। عهداالله-আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা। منথে-েক। بعد-পরে। ثاقهৎم بعد- সুদৃঢ়
হওয়ার পর। يقطعون-তারা ছিন্ন করে। ما-যা। امراالله ما-আল্লাহ যা আদেশ করেছেন। به-তার সাথে। يفسدون-
(তারা) বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। هم-তারাই। خسرونক্ষ-তিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গ।
ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ফাসিক ও নাফরমান লোকদের পরিচয় দিতে গিয়ে তাদের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
(২) যাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং
(৩) পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ সৃষ্টি করে।
আল্লাহ তা‘আলা ‘আলমে আরওয়াহ’ বা আত্মার জগতে হযরত আদম (আ)-এর পৃষ্ঠদেশ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ
পৃথিবীতে সৃষ্টি করা হবে তাদের সবার আত্মা বের করেছিলেন এবং তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি ও বাকশক্তি দিয়ে সবার নিকট থেকে
আল্লাহর একত্ব ও আনুগত্যের ওয়াদা নিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেনÑ
“আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?” (সূরা আরাফ-৭ : ১৭২)
সকলেই সমস্বরে স্বীকার করে বলেছিলেনا قَٰ
‘তারা বলল, হাঁ, হে আমাদের প্রতি পালক।’ (সূরা আরাফ-৭ : ১৭২)
আলোচ্য আয়াতে ওয়াদা ভঙ্গের দ্বারা ঐ প্রতিশ্রæতির প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
শরীআত ঘোষিত যে সব সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখা ও ছিন্ন করা যেমন আল্লাহ তা‘আলা ও বান্দার মধ্যে স্রষ্টা ও সৃষ্টি হিসেবে
মনিব ও দাসত্বের যে সম্পর্ক রয়েছে তা অক্ষুণœ না রাখা। অক্ষুণœ না রাখা, তাদের অধিকার ও সম্মান না করা, সালাম না
দেওয়া ও আত্মীয়-স্বজনদের হক আদায় না করা ইত্যাদি।
পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ সৃষ্টি করা
জনগণের অধিকার খর্ব করা, তাদের প্রতি অত্যাচার ও অবিচার করা, কাউকে অপদস্থ করা, হক নষ্ট করা, সমাজে অশান্তি
সৃষ্টি করা। কুফরির কারণে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে শত্রæতা পোষণ করা, তাঁর প্রতি হিংসা করা এবং মুসলিমদের মনে
কুমন্ত্রণা দিয়ে অভ্যন্তরীণ কলহ ও অনৈক্য সৃষ্টি করা।
عهد) আহদুন) শব্দের অর্থ হল রাজকীয় ফরমান। রাজা বা সম্রাট তার কর্মচারী ও প্রজাদের নামে যে নির্দেশ জারি করেন
আরবি ভাষায় তাকেই আহদুন (عهد (বলা হয়। এই ফরমান যথাযথভাবে পালন করা অধীনস্থ প্রজাসাধারণের জন্য অবশ্য
কর্তব্য। কুরআনে উল্লিখিত ও ‘আহদুন' শব্দটি এ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহর ‘আহদ' অর্থ তাঁর সেই স্থায়ী ও মহান
ফরমান যাতে গোটা মানব জাতিকে একমাত্র তাঁরই বন্দেগি, আনুগত্য অনুসরণ এবং ইবাদাত-বন্দেগি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছেÑ
ِم ْن ب َ ْعِد ِ م يث َاق ِ ِه
“সুদৃঢ়রূপে বেঁধে নেওয়ার পর।” (সূরা বাকারা-২ : ২৭)
এ বাক্য দ্বারা হযরত আদম (আ) ও সৃষ্টির সময় সমগ্র মানব জাতির নিকট থেকে একমাত্র আল্লাহর ফরমান পালনের যে
প্রতিশ্রæতি নেয়া হয়েছিল, তা বুঝানো হয়েছে। সূরা আরাফের ১৭২ নং আয়াতে এ প্রতিশ্রæতির ও ফরমানের বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
আয়াতের পর্যালোচনা হতে যেসব শিক্ষা পাওয়া যায় তা হল :
১. ফিসক জঘন্যতম চারিত্রিক দোষ। কাফির-নাস্তিক, মুশরিক, মুনাফিক ও পাপাচারে লিপ্ত সবাই এ শ্রেণিভুক্ত।
২. এরা আল্লাহ তা‘আলার সাথে যাবতীয় ওয়াদা-অঙ্গীকার ভঙ্গ করে।
৩. এরা আল্লাহর বিধান অমান্য করে।
৪. আল্লাহর নিরংকুশ প্রভুত্ব ও একত্ববাদ অস্বীকার করে এবং আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
৫. ফাসিকরা সকল নবী-রাসূলের আনীত জীবন বিধানকে অস্বীকার করে।
৬. এরা কুরআনের বিধি-বিধান সত্য বলে জেনেও তা অস্বীকার ও অমান্য করে।
৭. এরা পৃথিবীতে আল্লাহর খিলাফতের দায়িত্বকে অমান্য করে।
৮. এরা খোদ্রাদ্রোহিতায় লিপ্ত এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
৯. এরা ঈমানের দাবিতে গড়ে ওঠা সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে পৃথিবীতে গোলযোগ ও অরাজকতা সৃষ্টি করে।
১০. এরা পৃথিবীতে অশান্তি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে।
সুতরাং আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান মেনে নিয়ে তা পৃথিবীতে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসা প্রতিটি শান্তিকামী মানুষের একান্ত কর্তব্য।
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
১। ‘ইয়ানকুদুনা’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) ভঙ্গ করে (খ) রক্ষা করে
(গ)ওয়াদা করে (ঘ) বাতিল করে
২. ‘ইয়াকতাউনা’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) বাতিল করে (খ) ছিন্ন করে
(গ) সোজা করে (ঘ)বাঁকা করে
৩. ‘ইউফসিদুন’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) শান্তি স্থাপন করে (খ) শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে
(গ) বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে (ঘ) সহযোগিতা করে
৪. ‘ফাসিক’ শব্দের অর্থ কী ?
(ক) সত্যত্যগী (খ) ওয়াদা রক্ষা কারী
(গ) বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কারী (ঘ) শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কারী
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক-১
এক সময় মানুষের কোন অস্তিত্ব ছিল না। আল্লাহ দয়াপরবশ হয়ে মানুষের অস্তিত্ব দান করেন। কিন্তু সেই মানুষ এক সময়
এতটাই অকৃতজ্ঞ হয় যে, তারা আল্লাহকে পর্যন্ত ভুলে যায়। এর ফলে তারা পৃথিবীতে আপাত দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও
আখিরাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হবে।
ক. ‘আহদুন’ কী ? ১
খ. আয়াতে বর্ণিত ফাসিকদের তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন। ২
গ. আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত মানুষ থেকে কোথায় ও কিসের ওয়াদা নিয়েছিলেন ? ৩
ঘ. ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি সূরা বাকারার আলোকে বিশ্লেষণ করুন। ৪
জনাব আসগর একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। নিজের প্রয়োজেনে কখনো কখনো গ্রামের বাড়িতে
যান। কিন্তু নির্বাচনের সময় তিনি এলাকায় থাকেন। গ্রামের আনাচে-কানাচে ঘুরে জনগণের সুখ-দুঃখের খবর নেন।
এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রæতি দেন। নির্বাচনে জয়ী তিনি হওয়ার পর গ্রামের খবর রাখেন না।
ক. সম্পর্ক ছিন্ন করা বলতে কী বুঝায় ? ১
খ. মুত্তাকী কাকে বলে ? ব্যাখ্যা করুন। ২
গ. জনাব আলী আসগরের কর্মকাÐ কাদের কর্মকাÐের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ? ৩
ঘ. আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত মানুষ থেকে কোথায় একং কিসের ওয়াদা নিয়েছিলেন ? -
উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করুন। ৪
উত্তরমালা: ১। ঘ ২। খ ৩। গ ৪। ক