সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের সমস্যা
সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের সমস্যা
পরিকল্পিত ও টেকসই সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী সামাজিক নীতি প্রণয়ন ও
বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়শীল দেশগুলোতে সামাজিক পরিবর্তন সাধন ও সামাজিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা
অনুভূত হলেও নানাবিধ আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে
সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়। সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসকল বিষয় অন্তরায় হিসেবে
কাজ করে তা হলো :
১. সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব : সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের সবচেয়ে প্রধান সমস্যা হলো পর্যাপ্ত সঠিক তথ্যের
অভাব। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, জনগণের অনুভূত প্রয়োজন, সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি এসকল
বিষয়ে যদি পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া যায় তাহলে সামাজিক নীতির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।
২. সম্পদের সীমাবদ্ধতা : জনকল্যাণমুখী নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদের স্বল্পতা বা সীমাবদ্ধতা অন্যতম অন্তরায়।
অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যহীনতা বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর সেবা ব্যবস্থায়
সময়মতো প্রয়োজন মাফিক সাহায্য প্রাপ্তির অনিশ্চয়তাসহ নানাবিধ কারণে সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
৩. বিশেষজ্ঞের অভাব : সামাজিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্বের অবদান অনস্বীকার্য।
জ্ঞান-দক্ষতায় সমৃদ্ধ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু আমাদের দেশে পর্যাপ্ত
বিশেষজ্ঞ না থাকায় সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞের অভাব দেখা দেয়
দুটি কারণে। প্রথমত, উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগের অপর্যাপ্তার কারণে
পেশাগত জ্ঞানের সংকীর্ণতা এবং দ্বিতীয়ত, অধিক ব্যয়সাপেক্ষ বহিঃবিশেষজ্ঞ নিয়োগ। এছাড়া অনেক সময় রাজনৈতিক
বিবেচনায় অযোগ্য ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, এর ফলে সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
৪. জনগণের সহযোগিতার অভাব : সামাজিক নীতির বাস্তবায়ন অনেকাংশ নির্ভর করে জনগণের সক্রিয় সমর্থন,
সহযোগিতা বা অংশগ্রহণের উপর। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে জনগণের সচেতনতার অভাব ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনীহা
সামাজিক নীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অজ্ঞতা, কুসংস্কার, উন্নত মানসিকতার অভাব, পরিবর্তনবিমুখতা,
রক্ষণশীলতা ও ভাগ্যনির্ভরতাসহ প্রভৃতি কারণে অনেক ক্ষেত্রে নীতি বাস্তবায়নে জনগণের আগ্রহের কমতি পরিলক্ষিত হয়।
ফলে সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
৫. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা : অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম সমস্যা হলো
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এসব দেশে খুব তাড়াতাড়ি ও নির্দিষ্ট সময় পরপর সরকার পরিবর্তন হয়। এক সরকারের
গৃহীত নীতি অন্য সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়না। এসব দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা,
দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। ফলে সামাজিক নীতি বাস্বায়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক
অস্থিতিশীলতা অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
৬. সরকার ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব : উন্নয়নশীল দেশে সরকার ও জনগণের মধ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক
থেকে একটি দুরত্ব বিরাজমান। বিশেষত শহরকেন্দ্রিক জন প্রতিনিধিত্ব এসব দেশের গ্রামীণ জনগণের আশা-আকাঙ্খা,
চাহিদা, প্রয়োজন পূরণ ও স্বার্থরক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। ফলে জনগণের একটি বিশাল অংশের সাথে
সরকারের যোগাযোগ গড়ে ওঠে না। একারণে অনেক সময় সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়ে।
৭. দক্ষ কর্মীর অভাব : উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হলো নীতি অনুশীলনে দক্ষ কর্মীর
অভাব। কেননা নীতির সামাজিক রূপদানে পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, নীতি বাস্তবায়ন
কার্যক্রমের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং ফলাফল যাচাই ও সুপারিশ প্রদানে দক্ষকর্মীর সহায়তা একান্ত আবশ্যক। কিন্তু
আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেমন দক্ষকর্মীর অভাব, তেমনি যতটুকু পাওয়া যায় তাদেরকে সঠিকভাবে কাজে
লাগানোর ক্ষেত্রে উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এর ফলে সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
৮. অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ : সাধারণত আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো সনাতন ধারণায় অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধিমুখী উন্নয়ন ঘটাতে চায়। এক্ষেত্রে সামাজিক বিষয়গুলো গৌণ হয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সামাজিক উন্নয়ন শুধু
অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব নয়; এর সাথে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন উপাদানও ব্যাপক ও
গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং দেখা যায় যে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রধান্য দেওয়াতে সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত
সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন সমস্যাগ্রস্ত হচ্ছে।
৯. সামাজিক সমস্যার দুষ্টচক্র : আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিরাজমান সামাজিক সমস্যাবলী বিচিত্রমুখী ও জটিল। এসব
সমস্যা একটি অপরটির সাথে এমনভাবে জড়িত যে, একটিকে প্রাধান্য দিয়ে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করলেও আশাব্যঞ্জক
ফললাভ সম্ভব নয়। সামাজিক সমস্যার এরূপ দুষ্টচক্র সামাজিক নীতি বাস্তবায়নকে অনিশ্চিত করে তোলে।
১০. প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতার অভাব : সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের
আগ্রহ ও জবাবদিহিতার অভাব, প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা ইত্যাদি কারণে যথাযথভাবে নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় দুর্নীতি। যার ফলে নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়, উদ্দেশ্য অর্জন ব্যহত হয় এবং নীতির সুফল জনগণের
নিকট পৌঁছানো সম্ভব হয়না।
সারসংক্ষেপ
পরিকল্পিত সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে বাস্তবমুখী সামাজিক নীতি প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন। সামাজিক
নীতি বাস্তবায়ন পর্যায় বেশ জটিল। দেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক ব্যবস্থায়
অব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতাসহ নানাবিধ কারণে নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। সাধারণত আমাদের দেশে নীতি
বাস্তবায়নে যে সকল সমস্যাগুলো বিদ্যমান তা হলোÑ ১) সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, ২) সম্পদের স্বল্পতা, ৩)
বিশেষজ্ঞের অভাব, ৪) জনগণের সহযোগিতার অভাব, ৫) রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ৬) সরকার ও জনগণের মধ্যকার
দূরত্ব, ৭) সামাজিক নীতি অনুশীলনে দক্ষ কর্মীর অভাব, ৮) অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দেয়া, ৯) সমস্যার
দুষ্টচক্র এবং ১০) প্রশাসনিক দুর্বলতা।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। টেকসই সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত কোনটি?
ক) সামাজিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন খ) সামাজিক পরিকল্পনা গ্রহণ
গ) সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ ঘ) সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা
২। আমাদের দেশে সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের অন্তরায় হলোÑ
র. সম্পদের সীমাবদ্ধতা
রর. সরকার ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব
ররর. দক্ষকর্মী বাহিনীর অভাব
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
পরিকল্পিত ও টেকসই সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী সামাজিক নীতি প্রণয়ন ও
বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়শীল দেশগুলোতে সামাজিক পরিবর্তন সাধন ও সামাজিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা
অনুভূত হলেও নানাবিধ আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে
সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়। সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসকল বিষয় অন্তরায় হিসেবে
কাজ করে তা হলো :
১. সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব : সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের সবচেয়ে প্রধান সমস্যা হলো পর্যাপ্ত সঠিক তথ্যের
অভাব। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, জনগণের অনুভূত প্রয়োজন, সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি এসকল
বিষয়ে যদি পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া যায় তাহলে সামাজিক নীতির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।
২. সম্পদের সীমাবদ্ধতা : জনকল্যাণমুখী নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদের স্বল্পতা বা সীমাবদ্ধতা অন্যতম অন্তরায়।
অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যহীনতা বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর সেবা ব্যবস্থায়
সময়মতো প্রয়োজন মাফিক সাহায্য প্রাপ্তির অনিশ্চয়তাসহ নানাবিধ কারণে সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
৩. বিশেষজ্ঞের অভাব : সামাজিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্বের অবদান অনস্বীকার্য।
জ্ঞান-দক্ষতায় সমৃদ্ধ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু আমাদের দেশে পর্যাপ্ত
বিশেষজ্ঞ না থাকায় সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞের অভাব দেখা দেয়
দুটি কারণে। প্রথমত, উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগের অপর্যাপ্তার কারণে
পেশাগত জ্ঞানের সংকীর্ণতা এবং দ্বিতীয়ত, অধিক ব্যয়সাপেক্ষ বহিঃবিশেষজ্ঞ নিয়োগ। এছাড়া অনেক সময় রাজনৈতিক
বিবেচনায় অযোগ্য ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, এর ফলে সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
৪. জনগণের সহযোগিতার অভাব : সামাজিক নীতির বাস্তবায়ন অনেকাংশ নির্ভর করে জনগণের সক্রিয় সমর্থন,
সহযোগিতা বা অংশগ্রহণের উপর। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে জনগণের সচেতনতার অভাব ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনীহা
সামাজিক নীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অজ্ঞতা, কুসংস্কার, উন্নত মানসিকতার অভাব, পরিবর্তনবিমুখতা,
রক্ষণশীলতা ও ভাগ্যনির্ভরতাসহ প্রভৃতি কারণে অনেক ক্ষেত্রে নীতি বাস্তবায়নে জনগণের আগ্রহের কমতি পরিলক্ষিত হয়।
ফলে সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
৫. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা : অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম সমস্যা হলো
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এসব দেশে খুব তাড়াতাড়ি ও নির্দিষ্ট সময় পরপর সরকার পরিবর্তন হয়। এক সরকারের
গৃহীত নীতি অন্য সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়না। এসব দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা,
দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। ফলে সামাজিক নীতি বাস্বায়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক
অস্থিতিশীলতা অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
৬. সরকার ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব : উন্নয়নশীল দেশে সরকার ও জনগণের মধ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক
থেকে একটি দুরত্ব বিরাজমান। বিশেষত শহরকেন্দ্রিক জন প্রতিনিধিত্ব এসব দেশের গ্রামীণ জনগণের আশা-আকাঙ্খা,
চাহিদা, প্রয়োজন পূরণ ও স্বার্থরক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। ফলে জনগণের একটি বিশাল অংশের সাথে
সরকারের যোগাযোগ গড়ে ওঠে না। একারণে অনেক সময় সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়ে।
৭. দক্ষ কর্মীর অভাব : উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হলো নীতি অনুশীলনে দক্ষ কর্মীর
অভাব। কেননা নীতির সামাজিক রূপদানে পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, নীতি বাস্তবায়ন
কার্যক্রমের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং ফলাফল যাচাই ও সুপারিশ প্রদানে দক্ষকর্মীর সহায়তা একান্ত আবশ্যক। কিন্তু
আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেমন দক্ষকর্মীর অভাব, তেমনি যতটুকু পাওয়া যায় তাদেরকে সঠিকভাবে কাজে
লাগানোর ক্ষেত্রে উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এর ফলে সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
৮. অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ : সাধারণত আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো সনাতন ধারণায় অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধিমুখী উন্নয়ন ঘটাতে চায়। এক্ষেত্রে সামাজিক বিষয়গুলো গৌণ হয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সামাজিক উন্নয়ন শুধু
অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব নয়; এর সাথে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন উপাদানও ব্যাপক ও
গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং দেখা যায় যে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রধান্য দেওয়াতে সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত
সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন সমস্যাগ্রস্ত হচ্ছে।
৯. সামাজিক সমস্যার দুষ্টচক্র : আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিরাজমান সামাজিক সমস্যাবলী বিচিত্রমুখী ও জটিল। এসব
সমস্যা একটি অপরটির সাথে এমনভাবে জড়িত যে, একটিকে প্রাধান্য দিয়ে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করলেও আশাব্যঞ্জক
ফললাভ সম্ভব নয়। সামাজিক সমস্যার এরূপ দুষ্টচক্র সামাজিক নীতি বাস্তবায়নকে অনিশ্চিত করে তোলে।
১০. প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতার অভাব : সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের
আগ্রহ ও জবাবদিহিতার অভাব, প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা ইত্যাদি কারণে যথাযথভাবে নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় দুর্নীতি। যার ফলে নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়, উদ্দেশ্য অর্জন ব্যহত হয় এবং নীতির সুফল জনগণের
নিকট পৌঁছানো সম্ভব হয়না।
সারসংক্ষেপ
পরিকল্পিত সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে বাস্তবমুখী সামাজিক নীতি প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন। সামাজিক
নীতি বাস্তবায়ন পর্যায় বেশ জটিল। দেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক ব্যবস্থায়
অব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতাসহ নানাবিধ কারণে নীতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। সাধারণত আমাদের দেশে নীতি
বাস্তবায়নে যে সকল সমস্যাগুলো বিদ্যমান তা হলোÑ ১) সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, ২) সম্পদের স্বল্পতা, ৩)
বিশেষজ্ঞের অভাব, ৪) জনগণের সহযোগিতার অভাব, ৫) রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ৬) সরকার ও জনগণের মধ্যকার
দূরত্ব, ৭) সামাজিক নীতি অনুশীলনে দক্ষ কর্মীর অভাব, ৮) অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দেয়া, ৯) সমস্যার
দুষ্টচক্র এবং ১০) প্রশাসনিক দুর্বলতা।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। টেকসই সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত কোনটি?
ক) সামাজিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন খ) সামাজিক পরিকল্পনা গ্রহণ
গ) সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ ঘ) সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা
২। আমাদের দেশে সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের অন্তরায় হলোÑ
র. সম্পদের সীমাবদ্ধতা
রর. সরকার ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব
ররর. দক্ষকর্মী বাহিনীর অভাব
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর