পেশা ও বৃত্তির সম্পর্ক

‘পেশা’ ও ‘বৃত্তি’ শব্দ দু’টি একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। মানব সভ্যতার শুরুর দিকে এই দুয়ের
মধ্যে ততটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি। তখন মূলত জীবিকা নির্বাহের নিমিত্তে যেকোনো কাজকেই পেশা হিসেবে
বিবেচনা করা হতো। এছাড়া প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ‘পেশা’ ও ‘বৃত্তি’ একই অর্থে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে
বিশেষ করে উন্নত দেশে শব্দ দুটোর মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট করা সম্ভব হলেও আমাদের মতো দেশে সর্বক্ষেত্রে পৃথক করা
দুরূহ বিষয়। তবে এ কথা অনস্বীকার্য ও সত্য যে কোনো পেশা বৃত্তি না হয়ে পেশার মর্যাদা লাভ করে না। আবার সকল
বৃত্তি পেশার মর্যাদায় উন্নীত হতে পারে না। তাই বলা হয়, “সকল পেশাই বৃত্তি কিন্তু সকল বৃত্তি পেশা নয়।” যেমনÑ
ডাক্তারী একাধারে বৃত্তি ও পেশা কিন্তু রিক্সাচালানো শুধু একটি বৃত্তি; কখনো পেশা নয়। পেশা ও বৃত্তির সম্পর্কের ক্ষেত্রে
বলা যায়, শাব্দিক অর্থে ও বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার আলোকে এদের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও জীবিকা নির্বাহের
অর্থনৈতিক পন্থা হিসেবে দুটির মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।
৩.২.২ পেশা ও বৃত্তির পার্থক্য
পেশা (ঢ়ৎড়ভবংংরড়হ) বলতে কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, দক্ষতা, নৈপূণ্য ও সুশৃঙ্খল জ্ঞান সম্পন্ন বৃত্তিকে
বোঝানো হয়। প্রতিটি পেশার পেশাগত নৈতিক মানদÐ ও মূল্যবোধ থাকে যেগুলো এক পেশাকে অন্য পেশা হতে স্বতন্ত্র
পরিচয়ে পরিচিত করে। অন্যদিকে, বৃত্তি (ড়পপঁঢ়ধঃরড়হ) বলতে জীবন নির্বাহের সাধারণ উপায়কে নির্দেশ করে যার জন্য
তাত্তি¡ক জ্ঞানের আবশ্যকতা নেই। সুতরাং পেশা ও বৃত্তির মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও এদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
পেশার জন্য নিজস্ব সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান একান্ত প্রয়োজন। পেশার সামাজিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য
প্রত্যেক পেশারই পেশাগত সংগঠন রয়েছে। অন্যদিকে বৃত্তির ক্ষেত্রে বিশেষ জ্ঞানার্জনের বাধ্যবাধকতা নেই। বৃত্তির জন্য
পেশাগত সংগঠনের আবশ্যকতা নেই। পেশাগত নীতিমালা ও মূল্যবোধ দ্বারা প্রতিটি পেশা পরিচালিত হয়। এসব
নীতিমালা ও মূল্যবোধ পেশাদার ব্যক্তিকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে দায়িত্বশীল ও দায়বদ্ধ করে তোলে। কিন্তু বৃত্তির
ক্ষেত্রে নৈতিক মানদÐ বা মূল্যবোধর উপস্থিতি পরিলক্ষিত হলেও তা পরিবর্তনশীল এবং ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর
নির্ভরশীল। পেশার ক্ষেত্রে জনকল্যাণমুখীতা ও জবাবদিহিতা আবশ্যক। তবে বৃত্তির ক্ষেত্রে জনকল্যাণ ও জবাবদিহিতা
অনুপস্থিত থাকতে পারে। কেননা তা ব্যক্তি নির্ভর হয়ে থাকে। পেশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য সামাজিক স্বীকৃতি; সামাজিক
স্বীকৃতি ব্যতীত কল্যাণকামী হওয়া সত্তে¡ও কোনো কোনো বৃত্তি পেশার মর্যাদা নাও পেতে পারে।
কোনো পেশাদার ব্যক্তি ইচ্ছা করলেই পেশা পরিবর্তন করতে পারে না। অন্যদিকে, বৃত্তি সহজে পরিবর্তন করা যায়।
যেমনÑ একজন প্রকৌশলী ইচ্ছা করলেই চিকিৎসক হতে পারবেন না। কিন্তু একজন দিনমজুর ইচ্ছা করলে রিক্সচালক হতে
পারবেন। পেশার সঙ্গে দক্ষতা ও যোগ্যতার বিষয়টি জড়িত হলেও বৃত্তির ক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতায় বিষয়টি ততটা মুখ্য
বিষয় নয়। সুতরাং এটা প্রতীয়মান হয় যে, পেশা ও বৃত্তির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। এ প্রসঙ্গে সংক্ষেপে বলা যায়,
“প্রত্যেক পেশাই বৃত্তি, কিন্তু প্রত্যেক বৃত্তিই পেশা নয়।”
সারসংক্ষেপ
সকল পেশাই বৃত্তি, তবে সকল বৃত্তিই পেশা নয়। বৃত্তি হচ্ছে জীবিকা নির্বাহের সাধারণ উপায় বা পন্থা। অন্যদিকে পেশা
হলো বিশেষ জ্ঞান, দক্ষতা, নৈপূণ্য, সুশৃঙ্খল জ্ঞান, নীতিমালা ও মূল্যবোধ সম্পন্ন বৃত্তি। যেমনÑ রিক্সচালানোকে বৃত্তি
বলা হবে এবং ডাক্তারীকে পেশা হিসেবে অভিহিত করা হবে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৩.২
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
ক) সকল পেশাই বৃত্তি কিন্তু সকল বৃত্তি পেশা নয় খ) সকল পেশা বৃত্তি নয় কিন্তু সকল বৃত্তি পেশা
গ) সকল বৃত্তিই পেশা কিন্তু সকল পেশা বৃত্তি নয় ঘ) সকল বৃত্তিই পেশা ও সকল পেশাই বৃত্তি
২। নিচের কোনটি সর্বজন স্বীকৃত পেশা?
ক) শিক্ষকতা খ) ব্যবসা
গ) দিনমজুর ঘ) রাজমিস্ত্রী
৩. নিচের কোন কাজটি বৃত্তি?
ক) ওকালতি খ) ডাক্তারি
গ) অধ্যাপনা ঘ) দিনমজুরি