মূল্যবোধের ধারণা ও ধরন

মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক ও বির্মূত ধারণা, যার মাধ্যমে মানুষের সামাজিক আচার-আচারণের ভালো-মন্দ
বিচার করা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো সমাজকাঠামোর অপরিহার্য উপাদান, যা মানুষের ব্যক্তিগত ও
সমষ্টিগত আচার-আচারণকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
সমাজকর্ম অভিধানের (১৯৯৫) সংজ্ঞানুযায়ী “মূল্যবোধ হলো সেসব প্রথা, আচরণের মানদÐ এবং নীতিমালা যেগুলো
কোনো একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, দল অথবা ব্যক্তি প্রত্যাশিত বলে বিবেচনা করে।” (ঠধষঁবং ধৎব ঃযব পঁংঃড়সং, ংঃধহফধৎফং ড়ভ
পড়হফঁপঃ ধহফ ঢ়ৎরহপরঢ়ষবং পড়হংরফবৎবফ ফবংরৎধনষব নু ধ পঁষঃঁৎব, ধ মৎড়ঁঢ় ড়ভ ঢ়বড়ঢ়ষব ড়ৎ রহফরারফঁধষং.)
আরমান্ডো টি. মরেলস ও বি. ডবিøউ. শিফার (১৯৮৬) মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, “মূল্যবোধ কর্মকাÐের সুর্নিদিষ্ট কোনো
লক্ষ্য নয় বরং লক্ষ্য নির্ণয়ের মানদÐ।” (ঠধষঁবং ধৎব হড়ঃ ঃযব পড়হপৎবঃ মড়ধষং ড়ভ ধপঃরড়হ, নঁঃ ৎধঃযবৎ ঃযব
‘পৎরঃবৎরধ’ নু যিরপয মড়ধষং ধৎব পযড়ংবহ.)
সমাজবিজ্ঞানী আর. এম. উইলিয়াম (জ. গ. ডরষষরধস) এর মতে “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদÐ যার
আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি পরিচালিত এবং যার মানদÐে সমাজস্থ মানুষের কার্যাবলীর ভাল-মন্দ বিচার
করা হয়।”
সুতরাং বলা যায়, মূল্যবোধ হলো মানুষের বিশ্বাসবোধ ও আচরণের মানদÐ ও যার আদর্শে মানুষের আচার আচরণ
নিয়ন্ত্রিত, পরিচালিত ও ভাল-মন্দ বিচার করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, ন্যায়পরায়নতা, সাম্য, স্বাধীনতা ইত্যাদি
হচ্ছে মূল্যবোধ; এবং শ্রমের মর্যাদা, সহযোগিতা, সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ, সামাজিক সাম্য, আইনের শাসন ইত্যাদি হচ্ছে
মূল্যবোধের ভিত্তি।