সমাজকর্ম ও সমাজকল্যাণ
সমাজকর্ম কী?
সমাজকর্ম হচ্ছে সমস্যা সমাধানের এক আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া। আধুনিক জীবনের নানাবিধ মনোসামাজিক সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়। এটি মূলত একটি পদ্ধতিনির্ভর ব্যবহারিক বিজ্ঞান। এর মূল লক্ষ্য
হলো সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য প্রতিটি স্তরের জনগণকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলা এবং অনুকূল সামাজিক
পরিবেশ সৃষ্টি করা। আধুনিক শিল্পসমাজে পেশাগত সমাজকর্মীরা সাধারণত সমাজকর্মের নীতি আদর্শ এবং কৌশল
অনুসরণ করে যুগোপযোগী সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। শিল্পবিপ্লবোত্তর সমাজের জটিল ও বহুমুখী সমস্যার সমাধানে
এবং সমাজসেবা ও সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে উদ্ভব ঘটে সমাজকর্মের, যা বর্তমানে একটি পেশাগত রূপ পরিগ্রহ করেছে।
সমাজকর্ম সম্পর্কে ডবিøউ. এ ফ্রিডল্যান্ডার বলেন, সমাজকর্ম হলো মানবীয় সম্পর্ক বিষয়ক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক
এক পেশাদার সেবাকর্ম, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক সন্তুষ্টি এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এককভাবে অথবা দলীয়ভাবে
ব্যক্তিকে সহায়তা করে।
আমেরিকার জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি ১৯৭০ সালে সমাজকর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। এই সংজ্ঞায় বলা
হয়েছে- সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে সাহায্য করার এক পেশাগত কর্মকাÐ যা তাদের সামাজিক ভূমিকা পালন
ক্ষমতাকে পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালী করে এবং সামাজিক পরিবেশকে এই লক্ষ্যে উপযোগী করে গড়ে তোলে।
সুতরাং সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণপূর্বক বলা যায় যে, সমাজকর্ম মূলত একটি পদ্ধতি এবং পেশাভিত্তিক কর্মকাÐ এবং মানুষকে
সাহায্য করার এক প্রায়োগিক বিজ্ঞান যা সকল মানুষের কল্যাণ ত্বরান্বিত করার জন্য ব্যাক্তি, দল ও সমষ্টিকে তার সামাজিক
ভূমিকা পালনে সহায়তা করে এবং যথোপযুক্ত সামাজিক পরিবর্তন অর্জনে চেষ্টা করে।
৪.৩.২ সমাজকর্মের সাথে সমাজকল্যাণের সম্পর্ক
সমাজকর্মের সাথে সমাজকল্যাণের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। উভয়ই সমাজের বৃহত্তর কল্যাণ সাধনে নিবেদিত। সমাজকল্যাণ
হলো সমাজকর্মের লক্ষ্য আর সমাজকর্ম হলো সমাজকল্যাণ সাধনের অন্যতম সক্ষমকারী প্রক্রিয়া। এই দুইয়ের মধ্যে
সম্পর্ক হলো :
১. সমাজকর্ম একটি পেশগত কার্যক্রম বা সেবা যা ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার সমধান ও ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা
করে। অন্যদিকে সমাজকল্যাণের জন্য সমাজকর্মের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা জরুরি নয় ফলে যেকোনো ব্যক্তি বা
প্রতিষ্ঠান সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত থাকতে পারে।
২. সমাজকল্যাণমূলক কাজ সমাজের যেকোনো পেশাদার কিংবা অপেশাদার ব্যক্তি সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু সমাজকর্ম
একটি পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতাভিত্তিক সেবাকার্যক্রম, যা পরিচালনার জন্য পেশাদার সমাজকর্মী প্রয়োজন।
৩. সনাতন সমাজকল্যাণ সাধারণত ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও মানবতাবোধ থেকে করা হয়। পেশাদার সমাজকর্মের ক্ষেত্রে
পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে সেবা প্রদান করা হয়। সমাজকর্ম পেশাগত নীতি ও মূল্যবোধ আশ্রিত বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া।
৪. সমাজকল্যাণ হলো একটা বৃহত্তম সিস্টেম। সমাজকর্ম হলো একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান ও পেশা। বৃহত্তর সমাজকল্যাণ
সিস্টেমের একটা উপাদান হলো সমাজকর্ম।
৫. সমাজকল্যাণ ব্যক্তিগত, দলগত বা প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো উদ্যোগে সম্পাদিত হতে পারে। পক্ষান্তরে পেশাদার
সমাজকর্ম সকল ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পদিত হয়। সমাজকর্মীরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে সেবাদান করে।
সারসংক্ষেপ
শিল্পবিপ্লবোত্তর সমাজব্যবস্থার জটিল ও বহুমুখী মনো-সামাজিক সমস্যা সমাধানে পেশাদার সমাজকর্মের আবির্ভাব ঘটে।
সনাতন সমাজকল্যাণমূলক সেবাব্যবস্থার পরিবর্তে বিজ্ঞানভিত্তিক সুশৃঙ্খল সেবাদানের একটি সক্ষমকারী প্রক্রিয়া হলো
সমাজকর্ম। দুইয়ের মধ্য পার্থক্য থাকলেও একে অপরের পরিপূরক। সামাজিক সম্পর্ক লাভে সমাজকর্ম মানুষের সামর্থ্য
বৃদ্ধি করে ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটায় এবং এ লক্ষ্যে অনুকূল সামাজিক পরিবেশ সষ্টি করে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৪.৩
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি কত সালে সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন?
ক) ১৯৬৫ সালে খ) ১৯৬৭ সালে
গ) ১৯৬৯ সালে ঘ) ১৯৭০ সালে
২। কোনটি শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুপ্রেরণা বা দর্শন থেকে মানবকল্যাণে নিয়োজিত?
ক) সমাজকল্যাণ খ) সমাজকর্ম
গ) রাষ্ট্রবিজ্ঞান ঘ) ইতিহাস
সমাজকর্ম হচ্ছে সমস্যা সমাধানের এক আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া। আধুনিক জীবনের নানাবিধ মনোসামাজিক সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়। এটি মূলত একটি পদ্ধতিনির্ভর ব্যবহারিক বিজ্ঞান। এর মূল লক্ষ্য
হলো সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য প্রতিটি স্তরের জনগণকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলা এবং অনুকূল সামাজিক
পরিবেশ সৃষ্টি করা। আধুনিক শিল্পসমাজে পেশাগত সমাজকর্মীরা সাধারণত সমাজকর্মের নীতি আদর্শ এবং কৌশল
অনুসরণ করে যুগোপযোগী সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। শিল্পবিপ্লবোত্তর সমাজের জটিল ও বহুমুখী সমস্যার সমাধানে
এবং সমাজসেবা ও সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে উদ্ভব ঘটে সমাজকর্মের, যা বর্তমানে একটি পেশাগত রূপ পরিগ্রহ করেছে।
সমাজকর্ম সম্পর্কে ডবিøউ. এ ফ্রিডল্যান্ডার বলেন, সমাজকর্ম হলো মানবীয় সম্পর্ক বিষয়ক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক
এক পেশাদার সেবাকর্ম, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক সন্তুষ্টি এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এককভাবে অথবা দলীয়ভাবে
ব্যক্তিকে সহায়তা করে।
আমেরিকার জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি ১৯৭০ সালে সমাজকর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। এই সংজ্ঞায় বলা
হয়েছে- সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে সাহায্য করার এক পেশাগত কর্মকাÐ যা তাদের সামাজিক ভূমিকা পালন
ক্ষমতাকে পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালী করে এবং সামাজিক পরিবেশকে এই লক্ষ্যে উপযোগী করে গড়ে তোলে।
সুতরাং সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণপূর্বক বলা যায় যে, সমাজকর্ম মূলত একটি পদ্ধতি এবং পেশাভিত্তিক কর্মকাÐ এবং মানুষকে
সাহায্য করার এক প্রায়োগিক বিজ্ঞান যা সকল মানুষের কল্যাণ ত্বরান্বিত করার জন্য ব্যাক্তি, দল ও সমষ্টিকে তার সামাজিক
ভূমিকা পালনে সহায়তা করে এবং যথোপযুক্ত সামাজিক পরিবর্তন অর্জনে চেষ্টা করে।
৪.৩.২ সমাজকর্মের সাথে সমাজকল্যাণের সম্পর্ক
সমাজকর্মের সাথে সমাজকল্যাণের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। উভয়ই সমাজের বৃহত্তর কল্যাণ সাধনে নিবেদিত। সমাজকল্যাণ
হলো সমাজকর্মের লক্ষ্য আর সমাজকর্ম হলো সমাজকল্যাণ সাধনের অন্যতম সক্ষমকারী প্রক্রিয়া। এই দুইয়ের মধ্যে
সম্পর্ক হলো :
১. সমাজকর্ম একটি পেশগত কার্যক্রম বা সেবা যা ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার সমধান ও ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা
করে। অন্যদিকে সমাজকল্যাণের জন্য সমাজকর্মের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা জরুরি নয় ফলে যেকোনো ব্যক্তি বা
প্রতিষ্ঠান সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত থাকতে পারে।
২. সমাজকল্যাণমূলক কাজ সমাজের যেকোনো পেশাদার কিংবা অপেশাদার ব্যক্তি সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু সমাজকর্ম
একটি পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতাভিত্তিক সেবাকার্যক্রম, যা পরিচালনার জন্য পেশাদার সমাজকর্মী প্রয়োজন।
৩. সনাতন সমাজকল্যাণ সাধারণত ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও মানবতাবোধ থেকে করা হয়। পেশাদার সমাজকর্মের ক্ষেত্রে
পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে সেবা প্রদান করা হয়। সমাজকর্ম পেশাগত নীতি ও মূল্যবোধ আশ্রিত বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া।
৪. সমাজকল্যাণ হলো একটা বৃহত্তম সিস্টেম। সমাজকর্ম হলো একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান ও পেশা। বৃহত্তর সমাজকল্যাণ
সিস্টেমের একটা উপাদান হলো সমাজকর্ম।
৫. সমাজকল্যাণ ব্যক্তিগত, দলগত বা প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো উদ্যোগে সম্পাদিত হতে পারে। পক্ষান্তরে পেশাদার
সমাজকর্ম সকল ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পদিত হয়। সমাজকর্মীরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে সেবাদান করে।
সারসংক্ষেপ
শিল্পবিপ্লবোত্তর সমাজব্যবস্থার জটিল ও বহুমুখী মনো-সামাজিক সমস্যা সমাধানে পেশাদার সমাজকর্মের আবির্ভাব ঘটে।
সনাতন সমাজকল্যাণমূলক সেবাব্যবস্থার পরিবর্তে বিজ্ঞানভিত্তিক সুশৃঙ্খল সেবাদানের একটি সক্ষমকারী প্রক্রিয়া হলো
সমাজকর্ম। দুইয়ের মধ্য পার্থক্য থাকলেও একে অপরের পরিপূরক। সামাজিক সম্পর্ক লাভে সমাজকর্ম মানুষের সামর্থ্য
বৃদ্ধি করে ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটায় এবং এ লক্ষ্যে অনুকূল সামাজিক পরিবেশ সষ্টি করে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৪.৩
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি কত সালে সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন?
ক) ১৯৬৫ সালে খ) ১৯৬৭ সালে
গ) ১৯৬৯ সালে ঘ) ১৯৭০ সালে
২। কোনটি শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুপ্রেরণা বা দর্শন থেকে মানবকল্যাণে নিয়োজিত?
ক) সমাজকল্যাণ খ) সমাজকর্ম
গ) রাষ্ট্রবিজ্ঞান ঘ) ইতিহাস