সমাজকর্ম ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ কী?
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত একটি পদ্ধতি বা কৌশল। এই পদ্ধতি বা কৌশল সমাজের সদস্যদের অসংযত ও
সমাজ বিরোধী আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কু-প্রবৃত্তিকে দমন করে তাদের সাথে সামাজিক সংহতি ও শৃঙ্খলাবোধ জাগিয়ে
তোলার মাধ্যমে সমাজকে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। প্রত্যেকটি সমাজেই মানুষ কতগুলো নিয়মকানুন,
রীতিনীতি মেনে চলে এবং এর ফলে সমাজব্যবস্থা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠে। অন্যদিকে, মানুষ যখন এগুলোর পরিপন্থী
কাজ করে তখন সমাজে দেখা দেয় নানা বিশৃঙ্খলা আর এই বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতেই সামাজিক
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সৃষ্টি।
জড়নবৎঃ খ. ইধৎশবৎ সামাজিক নিয়ন্ত্রণকে সমাজ বা সমাজের কিছু সদস্যদের এক সংগঠিত প্রয়াস বলে আখ্যায়িত
করেছেন, যা সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে নিশ্চিত করে।
জড়নবৎঃংড়হ বলেন, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হলো সমাজের সদস্যবৃন্দের সমাজস্বীকৃত পন্থায় কাঙ্খিত আচরণ করার একটি
প্রক্রিয়া।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যক্তি ও সমষ্টির মধ্যকার দ্ব›দ্ব, সংঘাত ও বিরোধ হ্রাস করে সমাজের শান্তি সমুন্নত রাখে এবং
সমাজকে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পরিচালিত করে।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অনেক বাহন রয়েছে। এগুলো হলোÑ জনমত, গণমাধ্যম, রাষ্ট্র, আইন, আদালত, পুলিশ, জেলখানা,
ধর্ম, আদব-কায়দা, পরিবার, উৎসব বা অনুষ্ঠান, শিল্পকলা, পৌরাণিক কাহিনী, প্রথা, লোকাচার ও লোকরীতি, নিষেধাজ্ঞা,
ব্যক্তিত্ব, পুরস্কার ও শাস্তি প্রভৃতি।
৪.৮.২ সমাজকর্মের সাথে সমাজিক নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক
সমাজকর্ম ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বহুবিধ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। যেমনÑ
ক. সামাজিক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হলো সামাজিক কল্যাণ সাধন করা। সমাজকর্মেরও লক্ষ্য হলো সামাজিক কল্যাণ সাধনের
মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন সাধন করা।
খ. সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল, সমষ্টির আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার সমাধানে প্রয়াস চালায়, যা সমাজকে স্থিতিশীল করে গড়ে
তুলতে সহায়তা করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণও তার বিভিন্ন বাহনের মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা আনয়নে
সচেষ্ট।
গ. সমাজকর্ম মানুষের ইতিবাচক আচরণ আনয়নে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তির
মধ্যে বিদ্যমান আচরণকে নিয়ন্ত্রণ এবং সমাজের কাক্সিক্ষত ধারায় আচরণ করতে সাহায্য করে।
উদ্দেশ্যগত দিক থেকে উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও পদ্ধতিগত দিক থেকে এদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্যও রয়েছে।
সারসংক্ষেপ
প্রত্যক্ষ সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত প্রাথমিক দল যেমনÑ পরিবার, বন্ধু, সহপাঠী এদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে,
পরোক্ষ সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত সমাজের রীতিনীতি, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ইত্যাদির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আবার ইতিবাচক
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে হয়। অন্যদিকে, শাস্তির মাধ্যমে যে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হয় তা নেতিবাচক,
যা আবার শোষণমূলক নিয়ন্ত্রণ হিসেবে পরিচিত। মূলত প্রত্যেক সমাজেই সমাজ বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন
ধরনের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যায়।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ কত প্রকার?
ক) ২ প্রকার খ) ৩ প্রকার
গ) ৪ প্রকার ঘ) ৫ প্রকার
২। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন হলোÑ
র. আইন রর. ধর্ম ররর. রাষ্ট্র
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত একটি পদ্ধতি বা কৌশল। এই পদ্ধতি বা কৌশল সমাজের সদস্যদের অসংযত ও
সমাজ বিরোধী আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কু-প্রবৃত্তিকে দমন করে তাদের সাথে সামাজিক সংহতি ও শৃঙ্খলাবোধ জাগিয়ে
তোলার মাধ্যমে সমাজকে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। প্রত্যেকটি সমাজেই মানুষ কতগুলো নিয়মকানুন,
রীতিনীতি মেনে চলে এবং এর ফলে সমাজব্যবস্থা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠে। অন্যদিকে, মানুষ যখন এগুলোর পরিপন্থী
কাজ করে তখন সমাজে দেখা দেয় নানা বিশৃঙ্খলা আর এই বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতেই সামাজিক
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সৃষ্টি।
জড়নবৎঃ খ. ইধৎশবৎ সামাজিক নিয়ন্ত্রণকে সমাজ বা সমাজের কিছু সদস্যদের এক সংগঠিত প্রয়াস বলে আখ্যায়িত
করেছেন, যা সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে নিশ্চিত করে।
জড়নবৎঃংড়হ বলেন, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হলো সমাজের সদস্যবৃন্দের সমাজস্বীকৃত পন্থায় কাঙ্খিত আচরণ করার একটি
প্রক্রিয়া।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যক্তি ও সমষ্টির মধ্যকার দ্ব›দ্ব, সংঘাত ও বিরোধ হ্রাস করে সমাজের শান্তি সমুন্নত রাখে এবং
সমাজকে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পরিচালিত করে।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অনেক বাহন রয়েছে। এগুলো হলোÑ জনমত, গণমাধ্যম, রাষ্ট্র, আইন, আদালত, পুলিশ, জেলখানা,
ধর্ম, আদব-কায়দা, পরিবার, উৎসব বা অনুষ্ঠান, শিল্পকলা, পৌরাণিক কাহিনী, প্রথা, লোকাচার ও লোকরীতি, নিষেধাজ্ঞা,
ব্যক্তিত্ব, পুরস্কার ও শাস্তি প্রভৃতি।
৪.৮.২ সমাজকর্মের সাথে সমাজিক নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক
সমাজকর্ম ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বহুবিধ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। যেমনÑ
ক. সামাজিক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হলো সামাজিক কল্যাণ সাধন করা। সমাজকর্মেরও লক্ষ্য হলো সামাজিক কল্যাণ সাধনের
মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন সাধন করা।
খ. সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল, সমষ্টির আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার সমাধানে প্রয়াস চালায়, যা সমাজকে স্থিতিশীল করে গড়ে
তুলতে সহায়তা করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণও তার বিভিন্ন বাহনের মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা আনয়নে
সচেষ্ট।
গ. সমাজকর্ম মানুষের ইতিবাচক আচরণ আনয়নে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তির
মধ্যে বিদ্যমান আচরণকে নিয়ন্ত্রণ এবং সমাজের কাক্সিক্ষত ধারায় আচরণ করতে সাহায্য করে।
উদ্দেশ্যগত দিক থেকে উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও পদ্ধতিগত দিক থেকে এদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্যও রয়েছে।
সারসংক্ষেপ
প্রত্যক্ষ সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত প্রাথমিক দল যেমনÑ পরিবার, বন্ধু, সহপাঠী এদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে,
পরোক্ষ সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত সমাজের রীতিনীতি, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ইত্যাদির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আবার ইতিবাচক
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে হয়। অন্যদিকে, শাস্তির মাধ্যমে যে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হয় তা নেতিবাচক,
যা আবার শোষণমূলক নিয়ন্ত্রণ হিসেবে পরিচিত। মূলত প্রত্যেক সমাজেই সমাজ বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন
ধরনের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যায়।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ কত প্রকার?
ক) ২ প্রকার খ) ৩ প্রকার
গ) ৪ প্রকার ঘ) ৫ প্রকার
২। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন হলোÑ
র. আইন রর. ধর্ম ররর. রাষ্ট্র
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর