সামাজিক আন্দোলন ও সমাজসংস্কার
সামাজিক আন্দোলন কী?
সামাজিক আন্দোলন ও সমাজসংস্কার আপাতদৃষ্টিতে এক মনে হলেও দুটি ভিন্ন বিষয়। পেশাদার সমাজকর্মের
বিকাশে যেসব উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তাদের মধ্যে সামাজিক আন্দোলন ও সমাজসংস্কার অন্যতম।
সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন বা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার পদক্ষেপ গৃহীত হয়। সামাজিক
আন্দোলন হলো কাঙ্খিত সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত উদ্যোগ। সামাজিক আন্দোলন সম্পর্কে ঙীভড়ৎফ
ঊহমষরংয উরপঃরড়হধৎু তে বলা হয়েছে, কোনো নীতি বা লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য একদল লোক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ
করে।
সমাজকর্ম অভিধানের সংজ্ঞানুযায়ী, “সামাজিক আন্দোলন হলো এমন একটি যৌথ উদ্যোগ যাতে সমাজের অধিকাংশ মানুষ
কোনো আইন বা সামাজিক আদর্শ পরিবর্তনে অংশগ্রহণ করে থাকে।”
সুতরাং বলা যায় যে, বিদ্যমান সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন সাধন, সমস্যা সমাধান, অসন্তোষ দূরীকরণ ও শৃঙ্খলা আনয়নে
মানুষের সচেতন ও সংঘবদ্ধ প্রয়াসই সামাজিক আন্দোলন।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সামাজিক আন্দোলন সংঘটিত হয়। বর্তমান সময়ে সামাজিক আন্দোলন হলো মানবাধিকার
আন্দোলন, নারী অধিকার আন্দোলন, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন ইত্যাদি।
৪.৯.২ সমাজসংস্কার কী?
সংস্কার শব্দটির অর্থ হলো কোনো বিষয়ের ক্ষতিকর দিকগুলোর অপসারণ করে নতুন কিছুর আবির্ভাব ঘটানো অর্থাৎ
সংস্কার হলো সংশোধন এবং এর মাধ্যমে সমাজব্যবস্থাকে অধিকতর কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার এক
প্রক্রিয়া। অর্থাৎ সমাজসংস্কার হলো সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও আদর্শ, সমাজের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান,
সমাজের প্রথা ও প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর বা সমাজের কল্যাণের পরিপন্থী তাকে সংশোধন ও পরিবর্তন
করে সে স্থলে সমাজের কল্যাণ উপযোগী নতুন মূল্যবোধ, আদর্শ, ধ্যান-ধারণা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি গড়ে তোলা।
জড়নবৎঃ খ. ইধৎশবৎ এর মতে, সমাজসংস্কার সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে পূনর্গঠন করে এবং এর মাধ্যমে সামাজিক
ন্যায়বিচার ও অন্যান্য কাক্সিক্ষত সামাজিক পরিবর্তন আনয়নের চেষ্টা করে।
সমাজকর্ম অভিধানের সংজ্ঞানুযায়ী সমাজসংস্কার হলো সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নির্ধারিত ভূমিকা,
সামাজিক আচার-আচরণের ধরন প্রভৃতি ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের সুচিন্তিত ও উদ্দেশ্যপূর্ণ কার্যক্রম।
সমাজসংস্কার একটি বহুমুখী পরিবর্তনকারী উদ্যোগ। সমাজসংস্কার বা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ থেকে সকল
প্রকার কুসংস্কার এবং সমাজের কুপ্রথা বা অন্যায় পদক্ষেপসমূহ দূর করে সমাজে স্থিতিশীলতা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা অর্জন
করা সম্ভব। যুগে যুগে সমাজসংস্কার আন্দোলনগুলো এ লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। যেমনÑ সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ
আন্দোলন, হিন্দু বিধবা বিবাহ আন্দোলন, আলীগড় আন্দোলন, ফরায়েজী আন্দোলন প্রভৃতি।
৪.৯.৩ সমাজসংস্কার ও সামাজিক আন্দোলনের সম্পর্ক
সামাজিক আন্দোলন ও সমাজসংস্কার একে অন্যের পরিপূরক। সমাজসংস্কারের লক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচিই সামাজিক
আন্দোলনের আওতাভুক্ত। সামাজিক আন্দোলন ও সমাজসংস্কার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের দুটি প্রক্রিয়া। উভয়ই ইতিবাচক
পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াওÑ
১. সমাজসংস্কার সাধারণত সীমিত পরিধিতে পরিচালিত হয়; অন্যদিকে সামাজিক আন্দোলনের পরিধি ব্যাপক।
২. উভয়ই মানুষের কল্যাণ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে।
৩. সামাজিক আন্দোলন সামাজিক কার্যক্রম বা কর্মসূচির মাধ্যমে ফল লাভ করে আর এরই মাধ্যমে সমাজসংস্কার সাধিত হয়।
সারসংক্ষেপ
সমাজসংস্কার সাধারণত জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা-প্রতিষ্ঠান ও রীতিনীতির অবসান ঘটায়। আবার
প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা প্রতিষ্ঠানের অবসান ঘটিয়ে সমাজসংস্কার করা হয়। জনমত
গঠনের মাধ্যমে আইন প্রণেতাদের উপর চাপ প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা যায়। আবার আইন যদি
সমাজসংস্কারের রক্ষাকবচ হয় তাহলে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে উক্ত আইন সমাজ সংস্কারের চ‚ড়ান্ত লক্ষ্যার্জন
করতে সহায়তা করে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৪.৯
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সকলের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাকে কী বলা হয়?
ক) অংশীদারিত্ব খ) সংশোধন
গ) পরিমার্জন ঘ) আন্দোলন
২। সংস্কার শব্দটির অর্থ কী?
ক) সংঘবদ্ধ খ) পরিবর্তন
গ) প্রগতি ঘ) পরিমার্জন
৩। কোনটি সংস্কার আন্দোলনের যুগ?
ক) অষ্টাদশ ও উনবিংশ খ) একবিংশ ও দ্বাদশ
গ) একাদশ ও দ্বাদশ ঘ) ষোড়শ ও উনবিংশ
সামাজিক আন্দোলন ও সমাজসংস্কার আপাতদৃষ্টিতে এক মনে হলেও দুটি ভিন্ন বিষয়। পেশাদার সমাজকর্মের
বিকাশে যেসব উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তাদের মধ্যে সামাজিক আন্দোলন ও সমাজসংস্কার অন্যতম।
সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন বা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার পদক্ষেপ গৃহীত হয়। সামাজিক
আন্দোলন হলো কাঙ্খিত সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত উদ্যোগ। সামাজিক আন্দোলন সম্পর্কে ঙীভড়ৎফ
ঊহমষরংয উরপঃরড়হধৎু তে বলা হয়েছে, কোনো নীতি বা লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য একদল লোক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ
করে।
সমাজকর্ম অভিধানের সংজ্ঞানুযায়ী, “সামাজিক আন্দোলন হলো এমন একটি যৌথ উদ্যোগ যাতে সমাজের অধিকাংশ মানুষ
কোনো আইন বা সামাজিক আদর্শ পরিবর্তনে অংশগ্রহণ করে থাকে।”
সুতরাং বলা যায় যে, বিদ্যমান সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন সাধন, সমস্যা সমাধান, অসন্তোষ দূরীকরণ ও শৃঙ্খলা আনয়নে
মানুষের সচেতন ও সংঘবদ্ধ প্রয়াসই সামাজিক আন্দোলন।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সামাজিক আন্দোলন সংঘটিত হয়। বর্তমান সময়ে সামাজিক আন্দোলন হলো মানবাধিকার
আন্দোলন, নারী অধিকার আন্দোলন, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন ইত্যাদি।
৪.৯.২ সমাজসংস্কার কী?
সংস্কার শব্দটির অর্থ হলো কোনো বিষয়ের ক্ষতিকর দিকগুলোর অপসারণ করে নতুন কিছুর আবির্ভাব ঘটানো অর্থাৎ
সংস্কার হলো সংশোধন এবং এর মাধ্যমে সমাজব্যবস্থাকে অধিকতর কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার এক
প্রক্রিয়া। অর্থাৎ সমাজসংস্কার হলো সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও আদর্শ, সমাজের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান,
সমাজের প্রথা ও প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর বা সমাজের কল্যাণের পরিপন্থী তাকে সংশোধন ও পরিবর্তন
করে সে স্থলে সমাজের কল্যাণ উপযোগী নতুন মূল্যবোধ, আদর্শ, ধ্যান-ধারণা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি গড়ে তোলা।
জড়নবৎঃ খ. ইধৎশবৎ এর মতে, সমাজসংস্কার সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে পূনর্গঠন করে এবং এর মাধ্যমে সামাজিক
ন্যায়বিচার ও অন্যান্য কাক্সিক্ষত সামাজিক পরিবর্তন আনয়নের চেষ্টা করে।
সমাজকর্ম অভিধানের সংজ্ঞানুযায়ী সমাজসংস্কার হলো সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নির্ধারিত ভূমিকা,
সামাজিক আচার-আচরণের ধরন প্রভৃতি ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের সুচিন্তিত ও উদ্দেশ্যপূর্ণ কার্যক্রম।
সমাজসংস্কার একটি বহুমুখী পরিবর্তনকারী উদ্যোগ। সমাজসংস্কার বা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ থেকে সকল
প্রকার কুসংস্কার এবং সমাজের কুপ্রথা বা অন্যায় পদক্ষেপসমূহ দূর করে সমাজে স্থিতিশীলতা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা অর্জন
করা সম্ভব। যুগে যুগে সমাজসংস্কার আন্দোলনগুলো এ লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। যেমনÑ সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ
আন্দোলন, হিন্দু বিধবা বিবাহ আন্দোলন, আলীগড় আন্দোলন, ফরায়েজী আন্দোলন প্রভৃতি।
৪.৯.৩ সমাজসংস্কার ও সামাজিক আন্দোলনের সম্পর্ক
সামাজিক আন্দোলন ও সমাজসংস্কার একে অন্যের পরিপূরক। সমাজসংস্কারের লক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচিই সামাজিক
আন্দোলনের আওতাভুক্ত। সামাজিক আন্দোলন ও সমাজসংস্কার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের দুটি প্রক্রিয়া। উভয়ই ইতিবাচক
পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াওÑ
১. সমাজসংস্কার সাধারণত সীমিত পরিধিতে পরিচালিত হয়; অন্যদিকে সামাজিক আন্দোলনের পরিধি ব্যাপক।
২. উভয়ই মানুষের কল্যাণ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে।
৩. সামাজিক আন্দোলন সামাজিক কার্যক্রম বা কর্মসূচির মাধ্যমে ফল লাভ করে আর এরই মাধ্যমে সমাজসংস্কার সাধিত হয়।
সারসংক্ষেপ
সমাজসংস্কার সাধারণত জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা-প্রতিষ্ঠান ও রীতিনীতির অবসান ঘটায়। আবার
প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা প্রতিষ্ঠানের অবসান ঘটিয়ে সমাজসংস্কার করা হয়। জনমত
গঠনের মাধ্যমে আইন প্রণেতাদের উপর চাপ প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা যায়। আবার আইন যদি
সমাজসংস্কারের রক্ষাকবচ হয় তাহলে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে উক্ত আইন সমাজ সংস্কারের চ‚ড়ান্ত লক্ষ্যার্জন
করতে সহায়তা করে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৪.৯
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সকলের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাকে কী বলা হয়?
ক) অংশীদারিত্ব খ) সংশোধন
গ) পরিমার্জন ঘ) আন্দোলন
২। সংস্কার শব্দটির অর্থ কী?
ক) সংঘবদ্ধ খ) পরিবর্তন
গ) প্রগতি ঘ) পরিমার্জন
৩। কোনটি সংস্কার আন্দোলনের যুগ?
ক) অষ্টাদশ ও উনবিংশ খ) একবিংশ ও দ্বাদশ
গ) একাদশ ও দ্বাদশ ঘ) ষোড়শ ও উনবিংশ