সদ্কা কী তা ব্যাখ্যা কর <br> সমাজকল্যাণে সদ্কার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর

সদ্কা কী?
সদ্কা ইসলামী সমাজ ও জীবনব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য দিক। আরবি ‘সাদাকাহ্’ শব্দ থেকে সদ্কা শব্দের
উদ্ভব; যার অর্থ দান। দুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় জনসাধারণের কল্যাণে ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে এটি প্রচলিত রয়েছে।
সদ্কা যাকাতের ন্যায় বাধ্যতামূলক নয়। এটি নফল ইবাদতের সমান। সাধারণত মহান আল্লাহতা’লার নৈকট্য লাভের
আশায় স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে কিছু দান করাকে সদ্কা বলে। সদ্কার ক্ষেত্রে দান ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
স্বেচ্ছাধীন ও বাধ্যতামূলক (যাকাত, ফেতরা) সকল দান, মানত, যোগান নিয়ত, মাগফেরাত ও আরোগ্য কামনার্থে দান
সবই সদ্কার অন্তর্ভুক্ত। এমনকি হাদিস শরীফে নেক আমল, সদ্ব্যবহার, হাসিমুখে কথা বলা, আপন ভাইয়ের দিকে সুদৃষ্টিও
সদ্কার শামিল। সাধারণত দু’রকমের সদ্কা রয়েছে। যথা :
১. ঐচ্ছিক সদ্কা
২. বাধ্যতামূলক সদ্কা
ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় কোনো রকম বাধ্যবাধকতা ছাড়া যে দান করে, তাকে ঐচ্ছিক সদ্কা বলে। মানুষ সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য
লাভ ও পাপমোচনের উদ্দেশ্যে এ সদ্কা প্রদান করে থাকে। যেমনÑ ফকির, মিসকিন ও ভিক্ষুককে দান করা ইত্যাদি।
আবার বিশেষ শর্তসাপেক্ষে ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপলক্ষ্যে যে দান মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করার নিয়ম রয়েছে
তাকে বাধ্যতামূলক সদ্কা বলে। যেমনÑ সদ্কাতুল ফিতর ও ঈদুল আযহার কোরবানির পশুর চামড়া বা তার মূল্য।
এছাড়া মানতের সদ্কা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।
৫.২.২ সমাজকল্যাণে সদ্কার গুরুত্ব
সদ্কা ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণের বিশেষ প্রতিষ্ঠান। জনকল্যণে এর অবদান অপরিসীম। যেমন :
১. ¯্রষ্টার ইবাদত ও সৃষ্টের সেবা ইসলামের অন্যতম বিধান।সদকার মাধ্যমে একই সাথে স্রষ্টা ও সৃষ্টির সন্তুষ্টি ও সেবা করা
সম্ভব।
২. সদ্কা মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দানকে উৎসাহিত করে, যাতে সমাজের প্রভূত কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
৩. সম্পদশালী ব্যক্তি তার সম্পদের একাংশ দুস্থ, অসহায়, দরিদ্র, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, শিশু, বিধবা, নারী প্রভৃতি
শ্রেণির কল্যাণে ব্যয় করে, যা সমাজকল্যাণের লক্ষ্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৪. সদকার মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির তাৎক্ষণিক ও সাময়িক সমাধান করা সম্ভব হয়। এতে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ
সম্ভব হয় যা সমাজকল্যাণে অতীব জরুরি।
৫. সমাজে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটলে শুধুমাত্র যাকাতের অর্থ দিয়ে সে পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সদ্কার
সহায়ক ভূমিকা অতুলনীয়।
৬. সদ্কার মাধ্যমে সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলা, সাম্য, মৈত্রী ও সংহতি শক্তিশালী করা সম্ভব।
সারসংক্ষেপ
আরবি অভিধানে আল্লাহর ওয়াস্তে সম্পদের যে অংশ ব্যয় করা হয় তাকে সদ্কা বলে। সদ্কা যাকাতের ন্যায় ফরজ নয়
কিন্তু ইসলামের বিধান অনুযায়ী নফল ইবাদত। হাক্কুল ইবাদ ও হাক্কুল্লাহ বা সৃষ্টির সেবা ও স্রষ্টার ইবাদত দুটিই লাভ
করা যায় সদকার মাধ্যমে। অর্থাৎ স্রষ্টার নৈকট্য লাভের উপায় হিসেবে মুসলমানগণ আর্তমানবতায় সেবায় বস্তুগত ও
অবস্তুগতভাবে যা দান করে তাই সদ্কা, যা এতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্ব বহন করে।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। কোনটি দানশীলতার ব্যাপক পরিধির অন্তর্ভুক্ত?
ক) ওয়াক্ফ খ) যাকাত গ) বায়তুলমাল ঘ) সদ্কা
২। ইসলামে সদ্কা হিসেবে বিবেচনা করা হয়Ñ
র. স্বেচ্ছায় দান
রর. বাধ্যতামূলকভাবে প্রদত্ত দান
ররর. স্বেচ্ছায় আর্থিক সাহায্য প্রদান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
৩। বাধ্যতামূলক সদ্কার উৎস কয়টি?
ক) একটি খ) দুইটি গ) তিনটি ঘ) চারটি