সমাজকর্মের সাথে পৌরনীতি ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক
পৌরনীতি ও সুশাসন কী?
মানবজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পৌরনীতি। বর্তমানে পৌরনীতির সাথে সুশাসন কথাটি যুক্ত করে
নতুন নামকরণ করা হয়েছে পৌরনীতি ও সুশাসন। সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসন উভয়ই সামাজিক বিজ্ঞান।
মানববিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার মতো পৌরনীতি ও সুশাসনের সঙ্গেও সমাজকর্মের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান।
পৌরনীতি
ইংরেজি শব্দ ঈরারপং থেকে পৌরনীতি শব্দটি এসেছে। যার অর্থ নাগরিক বা নগররাষ্ট্র। সুতরাং শব্দগত অর্থে পৌরনীতি
হলো নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের আচরণ ও কার্যবালী সংক্রান্ত বিজ্ঞান। সাধারণ অর্থে যে শাস্ত্র নাগরিক, সমাজ ও
রাষ্ট্রের আচরণ এবং কার্যাবলি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করে এবং উন্নত ও অগ্রসর নাগরিক জীবন সম্মন্ধে জ্ঞানদান করে
তাকে পৌরনীতি বলে।
ঙীভড়ৎফ অফাধহপব খবধৎহবৎং উরপঃরড়হধৎু তে বলা হয়েছে, পৌরনীতি এমন একটি বিষয় যা কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক
বা সমাজের সদস্য হিসেবে তাদের অধিকার ও দায়িত্বের ব্যাপারে সরকার কী কাজ করে বা ব্যবস্থা নেয় তা আলোচনা করে।
অতএব, যে শাস্ত্র রাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলী বিশদভাবে আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি
বলে।
সুশাসন
বর্তমান বিশ্বের একটি সর্বাধিক আলোচিত বিষয় সুশাসন, যার মাধ্যমে জানা যায় জনগণ কীভাবে শাসিত হবে এবং তাদের
সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্র ও সরকারের এবং সরকার ও জনগণের সম্পর্ক কেমন হবে সুশাসন প্রত্যয়টি তাও
ব্যাখ্যা করে । শাসন এর পূর্বে সু প্রত্যয় সংযোগে সুশাসন শব্দটি গঠিত হয়েছে। এর অর্থ হলো নির্ভুল, দক্ষ ও
ফলপ্রসূভাবে শাসন করা। আইনের শাসন হচ্ছে সুশাসনের অন্যতম উপাদান। সাধারণভাবে বলা যায়, যে শাসন প্রক্রিয়ায়
জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্য প্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবাদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ
করে তাই সুশাসন।
বিশ্বব্যাংক এর মতে, সুশাসন গঠিত হয় রাজনৈতিক জবাবদিহিতা, নিয়মিত নির্বাচন, শাসন ব্যবস্থায় সামাজিক,
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সুব্যবস্থাপনা, পেশাগত গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, বিচার
বিভাগের স্বাধীনতা, আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, তথ্যের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, সুদক্ষ ও ফলপ্রসূ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং
সুশীলসমাজ ও সরকারের সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করার মধ্য দিয়ে।
পরিশেষে বলা যায় যে, পৌরনীতি ও সুশাসন হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান, যা রাষ্ট্রে নাগরিকদের অধিকার ও
কর্তব্য, আচার-আচরণ এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলী ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে ধারাবাহিক পর্যালোচনা করে।
৬.৪.১ সমাজকর্মের সাথে পৌরনীতি ও সুশাসনের সম্পর্ক
আপাতদৃষ্টিতে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজকর্মকে দুটি ভিন্ন প্রকৃতির সামাজিক বিজ্ঞান বলে মনে হলেও এদের সাথে
সমাজকর্মের নিবিড় ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে । নি¤েœ সমাজকর্মের সাথে পৌরনীতি ও সুশাসনের সম্পর্ক তুলে ধরা হলো :
১। পৌরনীতি ও সুশাসনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়াবলী এবং এর সাথে সাথে সরকারের নানামুখী কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা
করা হয়, যার লক্ষ্য জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, সমাজকর্মও তার বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাÐের মাধ্যমে
জনসাধারণের কল্যাণ অর্জনে প্রয়াসী। কাজেই জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ভিত্তিতে দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ট।
২। সমাজকর্মের নীতিমালার মধ্যে অন্যতম হলো ব্যক্তি স্বাধীনতার নীতি। আর এ জন্য সমাজকর্মীরা ব্যক্তির দায়িত্ব ও
কর্তব্য এবং অধিকার নিশ্চিত করার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজকর্মের
অনুশীলনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
৩। আধুনিক সময়ে রাষ্ট্র মানেই কল্যাণরাষ্ট্র। কাজেই পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান সমাজকর্মীদেরকে আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রের
বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করার মাধ্যমে কল্যাণমূলক কর্মকাÐের রূপরেখা প্রণয়নে সহায়তা করে।
৪। সমাজকর্মের লক্ষ্য হলো মানুষের বহুমুখী প্রয়োজন পূরণ। আর এই বহুমুখী প্রয়োজন পূরণের জন্য দরকার হয় বিভিন্ন
আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা। পৌরনীতি ও সুশাসন মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণের সাথে
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করে। কাজেই পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান
সমাজকর্মের জন্য আবশ্যক।
৫। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আইন প্রণয়নে সহযোগিতা করে। সমাজকর্মও পরিবর্তন
আনয়নের কৌশল হিসেবে আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করে।
৬। পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেতৃত্ব, নেতার ধরন, আবির্ভাব, নেতৃত্বের গুণাবলী প্রভৃতি বিষয়। অপরদিকে
সমাজকর্ম, বিশেষ করে দল সমাজ এবং সমষ্টি সংগঠন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব এক অতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ভিন্ন প্রকৃতির মনে হলেও জনকল্যাণে তাদের
সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। আবার উভয়ের সাথে কিছু বৈসাদৃশ্যও লক্ষণীয়। যেমন :
১। পৌরনীতি ও সুশাসন একটি তত্ত¡নির্ভর মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞান। পক্ষান্তরে, সমাজকর্ম একটি ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান।
২। সমাজকর্মের পরিধি পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি অপেক্ষা বিস্তৃত।
৩। সমাজকর্ম পৌরনীতি ও সুশাসনকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচেনা করে। অন্যদিকে, পৌরনীতি ও সুশাসন এর
ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিচার করা যায়।
৪। পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজকর্ম সম্পর্কিত নীতি নির্ধারণ করে। আর সমাজকর্ম তা সমাজসেবায় রূপান্তরিত করে।
৫। পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সরকার গঠন ও সরকারের
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে সমাজকর্ম বিভিন্ন সেবা কার্মসূচীর মাধ্যমে মানুষের উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সারসংক্ষেপ
সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসনের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে; তেমনি তাদের সম্পর্কও অত্যন্ত নিবিড়। পৌরনীতি
ও সুশাসনের জ্ঞান রাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় সমাজকর্মীদের প্রজ্ঞার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। অর্থাৎ > উভয়ের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। পৌরনীতির উদ্দেশ্য কী?
ক) জনগণের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা খ) জনগণের ভোগের নিশ্চয়তা বিধান করা
গ) সুনাগরিকের গুণাবলী বিশ্লেষণ করা ঘ) সুষ্ঠু ও সুন্দর নগরব্যবস্থা গড়ে তোলা
২। সমাজকর্মের সাথে পৌরনীতি ও সুশাসনের পার্থক্য বিদ্যমান কারণÑ
র. পৌরনীতি ও সুশাসন কেবল নগরিকতা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে; অন্যদিকে সমাজকর্ম সাহায্যার্থীর
সমস্যা সমাধান নিয়ে আলোচনা করে।
রর. সমাজকর্ম মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যা সমাধানে ব্যাপৃত; পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্রের কার্যাবলী নিয়ে ব্যাপৃত
ররর. পৌরনীতি ও সুশাসন সরকার গঠন নিয়ে ব্যাপৃত, অন্যদিকে সমাজকর্ম মানুষের কল্যাণ নিয়ে ব্যাপৃত।
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
মানবজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পৌরনীতি। বর্তমানে পৌরনীতির সাথে সুশাসন কথাটি যুক্ত করে
নতুন নামকরণ করা হয়েছে পৌরনীতি ও সুশাসন। সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসন উভয়ই সামাজিক বিজ্ঞান।
মানববিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার মতো পৌরনীতি ও সুশাসনের সঙ্গেও সমাজকর্মের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান।
পৌরনীতি
ইংরেজি শব্দ ঈরারপং থেকে পৌরনীতি শব্দটি এসেছে। যার অর্থ নাগরিক বা নগররাষ্ট্র। সুতরাং শব্দগত অর্থে পৌরনীতি
হলো নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের আচরণ ও কার্যবালী সংক্রান্ত বিজ্ঞান। সাধারণ অর্থে যে শাস্ত্র নাগরিক, সমাজ ও
রাষ্ট্রের আচরণ এবং কার্যাবলি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করে এবং উন্নত ও অগ্রসর নাগরিক জীবন সম্মন্ধে জ্ঞানদান করে
তাকে পৌরনীতি বলে।
ঙীভড়ৎফ অফাধহপব খবধৎহবৎং উরপঃরড়হধৎু তে বলা হয়েছে, পৌরনীতি এমন একটি বিষয় যা কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক
বা সমাজের সদস্য হিসেবে তাদের অধিকার ও দায়িত্বের ব্যাপারে সরকার কী কাজ করে বা ব্যবস্থা নেয় তা আলোচনা করে।
অতএব, যে শাস্ত্র রাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলী বিশদভাবে আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি
বলে।
সুশাসন
বর্তমান বিশ্বের একটি সর্বাধিক আলোচিত বিষয় সুশাসন, যার মাধ্যমে জানা যায় জনগণ কীভাবে শাসিত হবে এবং তাদের
সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্র ও সরকারের এবং সরকার ও জনগণের সম্পর্ক কেমন হবে সুশাসন প্রত্যয়টি তাও
ব্যাখ্যা করে । শাসন এর পূর্বে সু প্রত্যয় সংযোগে সুশাসন শব্দটি গঠিত হয়েছে। এর অর্থ হলো নির্ভুল, দক্ষ ও
ফলপ্রসূভাবে শাসন করা। আইনের শাসন হচ্ছে সুশাসনের অন্যতম উপাদান। সাধারণভাবে বলা যায়, যে শাসন প্রক্রিয়ায়
জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্য প্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবাদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ
করে তাই সুশাসন।
বিশ্বব্যাংক এর মতে, সুশাসন গঠিত হয় রাজনৈতিক জবাবদিহিতা, নিয়মিত নির্বাচন, শাসন ব্যবস্থায় সামাজিক,
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সুব্যবস্থাপনা, পেশাগত গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, বিচার
বিভাগের স্বাধীনতা, আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, তথ্যের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, সুদক্ষ ও ফলপ্রসূ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং
সুশীলসমাজ ও সরকারের সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করার মধ্য দিয়ে।
পরিশেষে বলা যায় যে, পৌরনীতি ও সুশাসন হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান, যা রাষ্ট্রে নাগরিকদের অধিকার ও
কর্তব্য, আচার-আচরণ এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলী ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে ধারাবাহিক পর্যালোচনা করে।
৬.৪.১ সমাজকর্মের সাথে পৌরনীতি ও সুশাসনের সম্পর্ক
আপাতদৃষ্টিতে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজকর্মকে দুটি ভিন্ন প্রকৃতির সামাজিক বিজ্ঞান বলে মনে হলেও এদের সাথে
সমাজকর্মের নিবিড় ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে । নি¤েœ সমাজকর্মের সাথে পৌরনীতি ও সুশাসনের সম্পর্ক তুলে ধরা হলো :
১। পৌরনীতি ও সুশাসনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়াবলী এবং এর সাথে সাথে সরকারের নানামুখী কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা
করা হয়, যার লক্ষ্য জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, সমাজকর্মও তার বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাÐের মাধ্যমে
জনসাধারণের কল্যাণ অর্জনে প্রয়াসী। কাজেই জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ভিত্তিতে দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ট।
২। সমাজকর্মের নীতিমালার মধ্যে অন্যতম হলো ব্যক্তি স্বাধীনতার নীতি। আর এ জন্য সমাজকর্মীরা ব্যক্তির দায়িত্ব ও
কর্তব্য এবং অধিকার নিশ্চিত করার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজকর্মের
অনুশীলনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
৩। আধুনিক সময়ে রাষ্ট্র মানেই কল্যাণরাষ্ট্র। কাজেই পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান সমাজকর্মীদেরকে আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রের
বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করার মাধ্যমে কল্যাণমূলক কর্মকাÐের রূপরেখা প্রণয়নে সহায়তা করে।
৪। সমাজকর্মের লক্ষ্য হলো মানুষের বহুমুখী প্রয়োজন পূরণ। আর এই বহুমুখী প্রয়োজন পূরণের জন্য দরকার হয় বিভিন্ন
আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা। পৌরনীতি ও সুশাসন মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণের সাথে
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করে। কাজেই পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান
সমাজকর্মের জন্য আবশ্যক।
৫। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আইন প্রণয়নে সহযোগিতা করে। সমাজকর্মও পরিবর্তন
আনয়নের কৌশল হিসেবে আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করে।
৬। পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেতৃত্ব, নেতার ধরন, আবির্ভাব, নেতৃত্বের গুণাবলী প্রভৃতি বিষয়। অপরদিকে
সমাজকর্ম, বিশেষ করে দল সমাজ এবং সমষ্টি সংগঠন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব এক অতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ভিন্ন প্রকৃতির মনে হলেও জনকল্যাণে তাদের
সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। আবার উভয়ের সাথে কিছু বৈসাদৃশ্যও লক্ষণীয়। যেমন :
১। পৌরনীতি ও সুশাসন একটি তত্ত¡নির্ভর মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞান। পক্ষান্তরে, সমাজকর্ম একটি ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান।
২। সমাজকর্মের পরিধি পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি অপেক্ষা বিস্তৃত।
৩। সমাজকর্ম পৌরনীতি ও সুশাসনকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচেনা করে। অন্যদিকে, পৌরনীতি ও সুশাসন এর
ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিচার করা যায়।
৪। পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজকর্ম সম্পর্কিত নীতি নির্ধারণ করে। আর সমাজকর্ম তা সমাজসেবায় রূপান্তরিত করে।
৫। পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সরকার গঠন ও সরকারের
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে সমাজকর্ম বিভিন্ন সেবা কার্মসূচীর মাধ্যমে মানুষের উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সারসংক্ষেপ
সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসনের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে; তেমনি তাদের সম্পর্কও অত্যন্ত নিবিড়। পৌরনীতি
ও সুশাসনের জ্ঞান রাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় সমাজকর্মীদের প্রজ্ঞার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। অর্থাৎ > উভয়ের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। পৌরনীতির উদ্দেশ্য কী?
ক) জনগণের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা খ) জনগণের ভোগের নিশ্চয়তা বিধান করা
গ) সুনাগরিকের গুণাবলী বিশ্লেষণ করা ঘ) সুষ্ঠু ও সুন্দর নগরব্যবস্থা গড়ে তোলা
২। সমাজকর্মের সাথে পৌরনীতি ও সুশাসনের পার্থক্য বিদ্যমান কারণÑ
র. পৌরনীতি ও সুশাসন কেবল নগরিকতা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে; অন্যদিকে সমাজকর্ম সাহায্যার্থীর
সমস্যা সমাধান নিয়ে আলোচনা করে।
রর. সমাজকর্ম মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যা সমাধানে ব্যাপৃত; পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্রের কার্যাবলী নিয়ে ব্যাপৃত
ররর. পৌরনীতি ও সুশাসন সরকার গঠন নিয়ে ব্যাপৃত, অন্যদিকে সমাজকর্ম মানুষের কল্যাণ নিয়ে ব্যাপৃত।
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর