সমাজকর্ম ও আইন পেশার মধ্যে সম্পর্ক

১ আইন পেশা কী?
আইনের সাথে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সম্পর্ক রয়েছে। আইন পেশা আইনগত অধিকার
ভোগের প্রতিবন্ধকতা বা অন্তরায় মোকাবিলায় সাহায্য করে। ব্যক্তি যাতে রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের আওতায় কর্তব্য
পালনের মাধ্যমে অধিকার ভোগ করতে পারে আইন পেশা সেজন্য সহায়তা করে। আইন পেশার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো
সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রার্থী সরাসরি পেশাদার ব্যক্তির নিকট সেবার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। আইন পেশায় নিয়োজিত
ব্যক্তিরা সেবাগ্রহীতার পক্ষে আইনগত সহায়তা করে থাকেন। সুতরাং বলা যায় আইনের সঠিক প্রয়োগ, ন্যায়বিচার
প্রতিষ্ঠা, অন্যায়কারীর শাস্তি বিধান এবং অত্যাচারিতদের রক্ষা ও সেবায় নিয়োজিত পেশাকে আইন পেশা বলে।
৬.৮.২ সমাজকর্ম ও আইন পেশার সম্পর্ক
সমাজকর্ম ও আইন পেশার সম্পর্ক সুগভীর। কেননা উভয় পেশায় যুক্তি ও নিয়ম-শৃঙ্খলার মাধ্যমে সাহায্যার্থীকে
সামাজিক ভূমিকা পালনে সচেষ্ট করা হয়। সমাজকর্মের পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি হলো কতগুলো নৈপূণ্যের সাহায্যে
সেবাগ্রহীতাদের দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করা এবং সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা। সমাজকর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দক্ষ
এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। কতগুলো সুনির্দিষ্ট মানদÐ এবং নৈতিক ভিত্তির উপর নির্ভর করে মানুষের সেবায়
সমাজকর্ম নিয়োজিত। সমাজকর্মের আদর্শ হলো সেবাগ্রহীতার ব্যক্তিগত মূল্য ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ
অধিকার প্রদান। সেবাদান পরিকল্পনায় ব্যক্তির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া যায়। আইন পেশাগত দক্ষতানির্ভর এবং
সুনিদির্ষ্ট মানদÐ মেনে চলে।
আইন ও সমাজকর্ম উভয়েই মানবসেবায় নিয়োজিত। পেশাগত সমাজকর্মের ক্ষেত্রে আইন হাতিয়ার হিসেবে কাজ
করে। কেননা এর মাধ্যমে সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন করে সমাজের অর্থপূর্ণ কল্যাণ নিশ্চিত করা হয়। সমাজকর্মীরা
এখানে নীতি বাস্তবায়নকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইন মানবকল্যাণের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলে
এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে সকল প্রকার ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে কল্যাণকামী রাষ্ট্রের সুচনায় সাহায্য
করে। আইনের লক্ষ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করা, যা প্রকারান্তরে
সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য হিসেবে কাজ করে। আধুনিক যুগে সেবাকে অর্থপূর্ণ করার জন্য বিভিন্ন সংশোধন কেন্দ্রে,
বিশেষ করে কিশোর সংশোধনী কর্মসূচিতে, সমাজকর্মীরা কাজ করেন। সংশোধনমূলক সেবায় আইনজীবীরাও
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অপরদিকে, আইন পেশায় যারা নিয়োজিত থাকেন তাদের জনগণের সেবায়
উদ্বুদ্ধকরণে সমাজকর্মীগণ কাজ করেন। তাই সমাজকর্ম হলো আইন পেশা ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যকার
সমঝোতামূলক এক ধরনের সেবা। সমাজের ক্ষতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোপরি আইন প্রতিষ্ঠায় কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করা সমাজকর্ম এবং আইন পেশার
অন্যতম লক্ষ্য।
পরিশেষে বলা যায় যে, আইন পেশা ও সমাজকর্ম পরস্পর নির্ভরশীল ও সম্পর্কযুক্ত পেশা। সমাজের প্রচলিত
ক্ষতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ, সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত
করা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, সর্বোপরি মানবাচরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
করাই সমাজকর্ম ও আইন পেশার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
সারসংক্ষেপ
মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার সমাজকর্মের মৌলিক ভিত্তি। আইনগত কাঠামোর আওতায় আইনের
শাসনের মাধ্যমে মানবাধিকার ও সামজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। দুটি পেশারই প্রধান ও অন্যতম
লক্ষ্য হলো সামাজিক কুপ্রথা, অন্যায় অবিচার ও কুসংস্কার দূরীকরণের মাধ্যমে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিচের কোন পেশাটি সরাসরি সম্পৃক্ত?
ক) আইন পেশা খ) সাংবাদিকতা
গ) সমাজকর্ম ঘ) চিকিৎসা পেশা
২। সংশোধনমূলক কর্মসূচির আওতায় সমস্যাগ্রস্তদের পূনর্বাসনে সহায়তা করেÑ
র. আইন পেশা রর. সমাজকর্ম ররর. চিকিৎসা পেশা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর