পদ্ধতির ধারণা ব্যাখ্যা , সমাজকর্ম পদ্ধতি কী
সমাজকর্ম বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান, মানবহিতৈষী দর্শন এবং দক্ষতানির্ভর সক্ষমকারী পেশা হিসেবে
স্বীকৃত। কতগুলোা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুশীলনের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির
সমস্যা সমাধানই সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার প্রকৃতি এবং সম্পদ ও
আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে সমাজকর্মের এ পদ্ধতিগুলো কখনো এককভাবে আবার কখনো সমাজকর্ম পদ্ধতি সম্পর্কে জানার জন্য পদ্ধতি (গবঃযড়ফ) প্রত্যয়টি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। গ্রিক শব্দ
সবঃধ এবং যড়ফড়ং শব্দ থেকে সবঃযড়ফ বা পদ্ধতি শব্দটি উদ্ভূত। গবঃধ শব্দের অর্থ হলো সুশৃঙ্খল এবং যড়ফড়ং
এর অর্থ হলো উপায়। সুতরাং বলা যায় সুশৃঙ্খলভাবে কোনো কাজ করার পন্থা বা উপায় হলো পদ্ধতি।
এইচ. বি ট্রেকারের মতে, পদ্ধতি হলো কোনো লক্ষ্য অর্জনে সচেতন প্রক্রিয়া এবং সুপরিকল্পিত উপায়। বাহ্যিক দিক
থেকে এটি কার্যসম্পাদন প্রক্রিয়া হলেও অভ্যন্তরে রয়েছে সুসমন্বিত জ্ঞান, উপলব্ধি এবং সুনির্দিষ্ট কর্মনীতি।
সুতরাং বলা যায়, কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য সুশৃঙ্খল জ্ঞান, সুপরিকল্পিত কর্মপন্থা এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের
উপর ভিত্তি করে কার্যসম্পাদনের বিশেষ উপায় হলো পদ্ধতি। সমাজকর্ম পদ্ধতির ধারণা
পেশাদার সমাজকর্মে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার সমাধান, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে যে সকল কর্মপন্থা বা
কৌশল অবলম্বন করা হয় তাকে সমাজকর্ম পদ্ধতি বলা হয়ে থাকে।
এইচ.বি ট্রেকার এর মতে, সমাজকর্ম পদ্ধতি হলো সমাজকর্ম অনুশীলনের এমন এক সুসংঘবদ্ধ জ্ঞান, ধারণা, উপলব্ধি
ও নীতির সমষ্টি যা সচেতন বা বাঞ্ছিত উপায়ে তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
আবদুল হাকিম সরকার বলেন, যেসব কর্মপন্থা বা কর্মপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা এবং নীতিমালা
ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সমাজকর্মী প্রয়োগ করে থাকেন যেসব সুশৃঙ্খল কর্ম
প্রক্রিয়ার সমষ্টিই সমাজকর্ম পদ্ধতি।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সমাজকর্ম পদ্ধতি হলো সমাজকর্মের সুশৃঙ্খল, সুপরিকল্পিত,
বিজ্ঞানভিত্তিক স্বীকৃত কর্মপন্থা যা সমাজকর্ম তার পেশাগত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে। অন্যভাবে বলা
যায়, সমস্যার প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি অনুসারে উক্ত সমস্যা সমাধানে পেশাদার সমাজকর্মে যেসব সুশৃঙখল উপায় বা পন্থা
প্রয়োগ করা হয় তাকে সমাজকর্ম পদ্ধতি বলে।
সারসংক্ষেপ
আধুনিক জটিল ও পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় বহুমুখী সমস্যা সমাধানের অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও বিজ্ঞানভিত্তিক
স্বীকৃত সাহায্যপ্রক্রিয়া হলো সমাজকর্ম। সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে নিরপেক্ষ কিছু কর্মপন্থা
বা কৌশল প্রয়োগ করা হয়ে থাকে যা সমাজকর্মের পদ্ধতি হিসেবে অভিহিত। আর এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
নির্ভরতার কারণে সমাজকর্ম আজ সারাবিশ্বে একটি স্বীকৃত পেশা।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৭.১
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। কার মতে পদ্ধতি হলো কোন লক্ষ্য অর্জনে সচেতন ও সুপরিকল্পিত উপায়?
ক) এইচ. বি ট্রেকার খ) আবদুল হাকিম সরকার
গ) আলী আকবর ঘ) ডবিøউ.এ ফ্রিডল্যান্ডার
২। সমাজকর্ম পদ্ধতি হলোÑ
র. সুপরিকল্পিত উপায় রর. বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মপন্থা ররর. নিরপেক্ষ কর্মকৌশল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
স্বীকৃত। কতগুলোা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুশীলনের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির
সমস্যা সমাধানই সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার প্রকৃতি এবং সম্পদ ও
আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে সমাজকর্মের এ পদ্ধতিগুলো কখনো এককভাবে আবার কখনো সমাজকর্ম পদ্ধতি সম্পর্কে জানার জন্য পদ্ধতি (গবঃযড়ফ) প্রত্যয়টি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। গ্রিক শব্দ
সবঃধ এবং যড়ফড়ং শব্দ থেকে সবঃযড়ফ বা পদ্ধতি শব্দটি উদ্ভূত। গবঃধ শব্দের অর্থ হলো সুশৃঙ্খল এবং যড়ফড়ং
এর অর্থ হলো উপায়। সুতরাং বলা যায় সুশৃঙ্খলভাবে কোনো কাজ করার পন্থা বা উপায় হলো পদ্ধতি।
এইচ. বি ট্রেকারের মতে, পদ্ধতি হলো কোনো লক্ষ্য অর্জনে সচেতন প্রক্রিয়া এবং সুপরিকল্পিত উপায়। বাহ্যিক দিক
থেকে এটি কার্যসম্পাদন প্রক্রিয়া হলেও অভ্যন্তরে রয়েছে সুসমন্বিত জ্ঞান, উপলব্ধি এবং সুনির্দিষ্ট কর্মনীতি।
সুতরাং বলা যায়, কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য সুশৃঙ্খল জ্ঞান, সুপরিকল্পিত কর্মপন্থা এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের
উপর ভিত্তি করে কার্যসম্পাদনের বিশেষ উপায় হলো পদ্ধতি। সমাজকর্ম পদ্ধতির ধারণা
পেশাদার সমাজকর্মে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার সমাধান, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে যে সকল কর্মপন্থা বা
কৌশল অবলম্বন করা হয় তাকে সমাজকর্ম পদ্ধতি বলা হয়ে থাকে।
এইচ.বি ট্রেকার এর মতে, সমাজকর্ম পদ্ধতি হলো সমাজকর্ম অনুশীলনের এমন এক সুসংঘবদ্ধ জ্ঞান, ধারণা, উপলব্ধি
ও নীতির সমষ্টি যা সচেতন বা বাঞ্ছিত উপায়ে তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
আবদুল হাকিম সরকার বলেন, যেসব কর্মপন্থা বা কর্মপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা এবং নীতিমালা
ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সমাজকর্মী প্রয়োগ করে থাকেন যেসব সুশৃঙ্খল কর্ম
প্রক্রিয়ার সমষ্টিই সমাজকর্ম পদ্ধতি।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সমাজকর্ম পদ্ধতি হলো সমাজকর্মের সুশৃঙ্খল, সুপরিকল্পিত,
বিজ্ঞানভিত্তিক স্বীকৃত কর্মপন্থা যা সমাজকর্ম তার পেশাগত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে। অন্যভাবে বলা
যায়, সমস্যার প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি অনুসারে উক্ত সমস্যা সমাধানে পেশাদার সমাজকর্মে যেসব সুশৃঙখল উপায় বা পন্থা
প্রয়োগ করা হয় তাকে সমাজকর্ম পদ্ধতি বলে।
সারসংক্ষেপ
আধুনিক জটিল ও পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় বহুমুখী সমস্যা সমাধানের অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও বিজ্ঞানভিত্তিক
স্বীকৃত সাহায্যপ্রক্রিয়া হলো সমাজকর্ম। সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে নিরপেক্ষ কিছু কর্মপন্থা
বা কৌশল প্রয়োগ করা হয়ে থাকে যা সমাজকর্মের পদ্ধতি হিসেবে অভিহিত। আর এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
নির্ভরতার কারণে সমাজকর্ম আজ সারাবিশ্বে একটি স্বীকৃত পেশা।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৭.১
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। কার মতে পদ্ধতি হলো কোন লক্ষ্য অর্জনে সচেতন ও সুপরিকল্পিত উপায়?
ক) এইচ. বি ট্রেকার খ) আবদুল হাকিম সরকার
গ) আলী আকবর ঘ) ডবিøউ.এ ফ্রিডল্যান্ডার
২। সমাজকর্ম পদ্ধতি হলোÑ
র. সুপরিকল্পিত উপায় রর. বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মপন্থা ররর. নিরপেক্ষ কর্মকৌশল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর