সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সাথে ব্যক্তি সমাজকর্মীর সম্পর্ক
র্যাপোর সংজ্ঞা
ব্যক্তির মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে ব্যক্তি সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে
সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যার গতি-প্রকৃতি, ধরন, কারণ ইত্যাদি নির্ণয়ের মাধ্যমে সমাধান প্রদানে সাহায্যার্থী ও সমাজকর্মীর
মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হওয়া আবশ্যক। সমাজকর্মের পরিভাষায় এই সম্পর্ককে বলা হয় র্যাপো।
জধঢ়ঢ়ড়ৎঃ একটি ফারসি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ সহানুভূতিপূর্ণ সম্পর্ক। ব্যক্তি সমাজকর্মে র্যাপো শব্দটি সর্বপ্রথম গ্রন্থে ১৯৩০ সালে ব্যবহার
করেন। সাধারণভাবে ব্যক্তি সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সাহায্যার্থী ও সমাজকর্মীর মধ্যে যে গভীর, আন্তরিক,
সহানুভূতিপূর্ণ পেশাগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাই হলো র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক। গ্রন্থে বলেন, সাহায্যার্থী তার নিজের ও পরিবেশের
মধ্যকার উন্নত সামঞ্জস্যবিধান ক্ষমতার্জনে সহায়তা করার লক্ষ্যে সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থীর মনোভাব এবং আবেগের
গতিশীল আন্তঃক্রিয়াই হচ্ছে ব্যক্তি সমাজকর্মের পেশাগত সম্পর্ক।
সুতরাং সাহায্যার্থীর সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পেশাগত মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্দেশ্যকে অক্ষুন্ন রেখে সাহায্যার্থী ও
সমাজকর্মীর মধ্যে যে আন্তরিক পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যার সাহায্যে মানবীয় সম্পর্ক সংক্রান্ত জ্ঞানের কার্যকর
প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়, তাই হলো র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক।
৭.৭.২ র্যাপো’র উদ্দেশ্য
সাধারণভাবে সাহায্যার্থীর মনো-সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং কাক্সিক্ষত চাহিদা পূরণই র্যাপোর উদ্দেশ্য। সুনির্দিষ্টভাবে
র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্কের উদ্দেশ্য হলো :
ক) সাহায্যার্থীর মনো-সামাজিক অনুধ্যান, সমস্যা নির্ণয় ও সমাধান ব্যবস্থায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সাহায্যার্থী
যেন স্বস্তি অনুভব করে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা;
খ) ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন;
গ) সাহায্যার্থীর সমস্যার উন্নতর সমাধান ব্যবস্থা প্রদান;
ঘ) সমাধান কার্যক্রমের উপায় বা পন্থা তুলে ধরা;
ঙ) বাস্তবতা ও আবেগীয় সমস্যাবলী বর্ণনা করা ও তুলে ধরা;
চ) সাহায্যার্থীর ব্যক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে অধিক গ্রহণযোগ্য সামঞ্জস্যবিধান ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা। আর এসব
উদ্দেশ্য অর্জনে সমাজকর্মী সাতটি নীতি অনুসরণ করে থাকে। যথাÑ ১) ব্যক্তিস্বাতন্ত্রীকরণ নীতি, ২) অনুভূতির উদ্দেশ্যপূর্ণ
প্রকাশ নীতি, ৩) সংযত আবেগের নীতি, ৪) গ্রহণ নীতি, ৫) বিচারসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহারের নীতি, ৬) সাহায্যার্থীর
আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার নীতি এবং ৭) গোপনীয়তার নীতি।
৭.৭.৩ ব্যক্তি সমাজকর্মে র্যাপোর গুরুত্ব
ব্যক্তি সমাজকর্মে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সাহায্যার্থী সম্পর্কে সঠিক ও কার্যকরী তথ্য উদঘাটন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে
ফলপ্রসূ সমস্যা সমাধান কৌশল উদ্ভাবনে র্যাপো একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে কাজ করে। সম্পর্ক স্থাপনের এ
দ্বিমুখী প্রক্রিয়ায় একদিকে সাহায্যার্থী তার জটিল মনো-সামাজিক সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশায়; অন্যদিকে সমাজকর্মী তার
পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এ ধরনের সম্পর্ক স্থাপনে ব্রতী হয়। ব্যক্তি সমাজকর্মের বিভিন্ন ক্ষেত্রে র্যাপোর গুরুত্ব তুলে
ধরা হলো :
১. সাহায্যার্থীর সমস্যার স্বরূপ নির্ণয় : র্যাপো’র মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যার কারণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে যথাযথভাবে
অবগত হয়ে ব্যক্তির সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার উন্নয়নে সহায়তা করা সম্ভব
হয়।
২. সাহায্যার্থীর পারিপার্শিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ : সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে
যথাযথ ধারণা লাভের মাধ্যমে সেগুলোকে ব্যক্তির অনুকূলে আনতে র্যাপো কার্যকরী তথ্য প্রদান ও যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণে
সহায়তা করে থাকে।
৩. সাহায্যার্থীর মানসিক পীড়ন হতে মুক্তি : সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে মানসিক চাপমূলক অবস্থা হতে মুক্ত করার ক্ষেত্রে র্যাপো
বিশেষ ভূমিকা রাখে। কেননা পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্যক্তি দ্বিধাহীনভাবে তার সমস্যা সম্পর্কে সমাজকর্মীকে
অবহিত করতে পারে। এর ফলে ব্যক্তির মানসিক পীড়ন অনেকখানি নিরসন করা সম্ভব হয়।
৪. সাহায্যার্থীর আত্মমূল্যায়ন : র্যাপো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তি যখন তার সমস্যা সম্পর্কে সমাজকর্মীকে অবগত করে তখন
সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় যেমনÑ সমাজে ব্যক্তির মর্যাদা, ভূমিকা এবং এক্ষেত্রে তার ব্যর্থতা, পরাজয় বা
অপরাধবোধ সবকিছুই সে তার বিচারবোধ দিয়ে মূল্যায়ন করতে পারে।
৫. সাহায্যার্থীর আচরণে পরিবর্তন আনয়ন : ব্যক্তির মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে র্যাপো ব্যক্তির
ব্যক্তিত্ব ও আচরণ, মনোভাব দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন আনয়নে র্যাপো কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৬. ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ : সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার নিজস্ব সমস্যা সমাধানে উদ্বুদ্ধ করতে র্যাপো সহায়তা করে।
এক্ষেত্রে ব্যক্তির সুপ্ত ক্ষমতা ও প্রতিভার বিকাশ সাধন এবং নিজস্ব সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান
নির্দেশে র্যাপোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
৭. সমাজকর্মীর দক্ষতা বৃদ্ধি : কার্যকর ও ফলপ্রসূ র্যাপো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজকর্মীর দক্ষতা ও গুণাবলী বিকাশের
সুযোগ সৃষ্টি হয়। এটি সমাজকর্মীর পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
৮. সাহায্যার্থীর সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার পুনরুদ্ধার : সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার সমস্যাকে যথাযথভাবে অনুধাবন,
বিশ্লেষণ, স্বরূপ ও প্রকৃতি নির্ণয়ের মাধ্যমে যথাযথ সমাধান কৌশল প্রয়োগ করে ব্যক্তির সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার
পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নে র্যাপোর গুরুত্ব অপরিসীম।
সারসংক্ষেপ
সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে উদ্ভব হয়েছে ব্যক্তি সমাজকর্মের। এক্ষেত্রে ব্যক্তির
সমস্যার ধরন, কারণ, প্রকৃতি ইত্যাদি নির্ণয়ের মাধ্যমে যথাযথ সমাধান প্রদানে সাহায্যার্থী ও সমাজকর্মীর মধ্যে
পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হওয়া জরুরি। কেননা কেবল পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হলেই সাহায্যার্থী অবলীলায় তার
সমস্যা সংক্রান্ত তথ্যাদি সমাজকর্মীর নিকট বলতে পারে। সমাজকর্মের ভাষায় এই পেশাগত সম্পর্কের নাম র্যাপো।
র্যাপোর উদ্দেশ্য হলো সাহায্যার্থীর সমস্যা সংশ্লিষ্ট সকল তথ্যাদি সংগ্রহ করে সমস্যার যথাযথ কারণ ও প্রকৃতি নির্ণয়ের
মাধ্যমে সমস্যার যথোপযোগী সমাধান ব্যবস্থা নির্দেশ করে ব্যক্তিকে তার হারানো সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার
পুনরুদ্ধারে যথাযথভাবে পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সহায়তা করা।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৭.৭
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। র্যাপো কী?
ক) ব্যবসায়িক সম্পর্ক খ) পারিবারিক সম্পর্ক
গ) পেশাগত সম্পর্ক ঘ) সামাজিক সম্পর্ক
২। র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্কের উদ্দেশ্য হলোÑ
র. সাহায্যার্থীর সমস্যার সমাধান ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা
রর. ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন
ররর. সাহায্যার্থীর সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার পুনরুদ্ধার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
ব্যক্তির মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে ব্যক্তি সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে
সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যার গতি-প্রকৃতি, ধরন, কারণ ইত্যাদি নির্ণয়ের মাধ্যমে সমাধান প্রদানে সাহায্যার্থী ও সমাজকর্মীর
মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হওয়া আবশ্যক। সমাজকর্মের পরিভাষায় এই সম্পর্ককে বলা হয় র্যাপো।
জধঢ়ঢ়ড়ৎঃ একটি ফারসি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ সহানুভূতিপূর্ণ সম্পর্ক। ব্যক্তি সমাজকর্মে র্যাপো শব্দটি সর্বপ্রথম গ্রন্থে ১৯৩০ সালে ব্যবহার
করেন। সাধারণভাবে ব্যক্তি সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সাহায্যার্থী ও সমাজকর্মীর মধ্যে যে গভীর, আন্তরিক,
সহানুভূতিপূর্ণ পেশাগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাই হলো র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক। গ্রন্থে বলেন, সাহায্যার্থী তার নিজের ও পরিবেশের
মধ্যকার উন্নত সামঞ্জস্যবিধান ক্ষমতার্জনে সহায়তা করার লক্ষ্যে সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থীর মনোভাব এবং আবেগের
গতিশীল আন্তঃক্রিয়াই হচ্ছে ব্যক্তি সমাজকর্মের পেশাগত সম্পর্ক।
সুতরাং সাহায্যার্থীর সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পেশাগত মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্দেশ্যকে অক্ষুন্ন রেখে সাহায্যার্থী ও
সমাজকর্মীর মধ্যে যে আন্তরিক পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যার সাহায্যে মানবীয় সম্পর্ক সংক্রান্ত জ্ঞানের কার্যকর
প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়, তাই হলো র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক।
৭.৭.২ র্যাপো’র উদ্দেশ্য
সাধারণভাবে সাহায্যার্থীর মনো-সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং কাক্সিক্ষত চাহিদা পূরণই র্যাপোর উদ্দেশ্য। সুনির্দিষ্টভাবে
র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্কের উদ্দেশ্য হলো :
ক) সাহায্যার্থীর মনো-সামাজিক অনুধ্যান, সমস্যা নির্ণয় ও সমাধান ব্যবস্থায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সাহায্যার্থী
যেন স্বস্তি অনুভব করে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা;
খ) ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন;
গ) সাহায্যার্থীর সমস্যার উন্নতর সমাধান ব্যবস্থা প্রদান;
ঘ) সমাধান কার্যক্রমের উপায় বা পন্থা তুলে ধরা;
ঙ) বাস্তবতা ও আবেগীয় সমস্যাবলী বর্ণনা করা ও তুলে ধরা;
চ) সাহায্যার্থীর ব্যক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে অধিক গ্রহণযোগ্য সামঞ্জস্যবিধান ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা। আর এসব
উদ্দেশ্য অর্জনে সমাজকর্মী সাতটি নীতি অনুসরণ করে থাকে। যথাÑ ১) ব্যক্তিস্বাতন্ত্রীকরণ নীতি, ২) অনুভূতির উদ্দেশ্যপূর্ণ
প্রকাশ নীতি, ৩) সংযত আবেগের নীতি, ৪) গ্রহণ নীতি, ৫) বিচারসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহারের নীতি, ৬) সাহায্যার্থীর
আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার নীতি এবং ৭) গোপনীয়তার নীতি।
৭.৭.৩ ব্যক্তি সমাজকর্মে র্যাপোর গুরুত্ব
ব্যক্তি সমাজকর্মে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সাহায্যার্থী সম্পর্কে সঠিক ও কার্যকরী তথ্য উদঘাটন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে
ফলপ্রসূ সমস্যা সমাধান কৌশল উদ্ভাবনে র্যাপো একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে কাজ করে। সম্পর্ক স্থাপনের এ
দ্বিমুখী প্রক্রিয়ায় একদিকে সাহায্যার্থী তার জটিল মনো-সামাজিক সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশায়; অন্যদিকে সমাজকর্মী তার
পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এ ধরনের সম্পর্ক স্থাপনে ব্রতী হয়। ব্যক্তি সমাজকর্মের বিভিন্ন ক্ষেত্রে র্যাপোর গুরুত্ব তুলে
ধরা হলো :
১. সাহায্যার্থীর সমস্যার স্বরূপ নির্ণয় : র্যাপো’র মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যার কারণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে যথাযথভাবে
অবগত হয়ে ব্যক্তির সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার উন্নয়নে সহায়তা করা সম্ভব
হয়।
২. সাহায্যার্থীর পারিপার্শিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ : সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে
যথাযথ ধারণা লাভের মাধ্যমে সেগুলোকে ব্যক্তির অনুকূলে আনতে র্যাপো কার্যকরী তথ্য প্রদান ও যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণে
সহায়তা করে থাকে।
৩. সাহায্যার্থীর মানসিক পীড়ন হতে মুক্তি : সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে মানসিক চাপমূলক অবস্থা হতে মুক্ত করার ক্ষেত্রে র্যাপো
বিশেষ ভূমিকা রাখে। কেননা পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্যক্তি দ্বিধাহীনভাবে তার সমস্যা সম্পর্কে সমাজকর্মীকে
অবহিত করতে পারে। এর ফলে ব্যক্তির মানসিক পীড়ন অনেকখানি নিরসন করা সম্ভব হয়।
৪. সাহায্যার্থীর আত্মমূল্যায়ন : র্যাপো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তি যখন তার সমস্যা সম্পর্কে সমাজকর্মীকে অবগত করে তখন
সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় যেমনÑ সমাজে ব্যক্তির মর্যাদা, ভূমিকা এবং এক্ষেত্রে তার ব্যর্থতা, পরাজয় বা
অপরাধবোধ সবকিছুই সে তার বিচারবোধ দিয়ে মূল্যায়ন করতে পারে।
৫. সাহায্যার্থীর আচরণে পরিবর্তন আনয়ন : ব্যক্তির মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে র্যাপো ব্যক্তির
ব্যক্তিত্ব ও আচরণ, মনোভাব দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন আনয়নে র্যাপো কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৬. ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ : সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার নিজস্ব সমস্যা সমাধানে উদ্বুদ্ধ করতে র্যাপো সহায়তা করে।
এক্ষেত্রে ব্যক্তির সুপ্ত ক্ষমতা ও প্রতিভার বিকাশ সাধন এবং নিজস্ব সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান
নির্দেশে র্যাপোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
৭. সমাজকর্মীর দক্ষতা বৃদ্ধি : কার্যকর ও ফলপ্রসূ র্যাপো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজকর্মীর দক্ষতা ও গুণাবলী বিকাশের
সুযোগ সৃষ্টি হয়। এটি সমাজকর্মীর পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
৮. সাহায্যার্থীর সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার পুনরুদ্ধার : সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার সমস্যাকে যথাযথভাবে অনুধাবন,
বিশ্লেষণ, স্বরূপ ও প্রকৃতি নির্ণয়ের মাধ্যমে যথাযথ সমাধান কৌশল প্রয়োগ করে ব্যক্তির সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার
পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নে র্যাপোর গুরুত্ব অপরিসীম।
সারসংক্ষেপ
সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে উদ্ভব হয়েছে ব্যক্তি সমাজকর্মের। এক্ষেত্রে ব্যক্তির
সমস্যার ধরন, কারণ, প্রকৃতি ইত্যাদি নির্ণয়ের মাধ্যমে যথাযথ সমাধান প্রদানে সাহায্যার্থী ও সমাজকর্মীর মধ্যে
পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হওয়া জরুরি। কেননা কেবল পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হলেই সাহায্যার্থী অবলীলায় তার
সমস্যা সংক্রান্ত তথ্যাদি সমাজকর্মীর নিকট বলতে পারে। সমাজকর্মের ভাষায় এই পেশাগত সম্পর্কের নাম র্যাপো।
র্যাপোর উদ্দেশ্য হলো সাহায্যার্থীর সমস্যা সংশ্লিষ্ট সকল তথ্যাদি সংগ্রহ করে সমস্যার যথাযথ কারণ ও প্রকৃতি নির্ণয়ের
মাধ্যমে সমস্যার যথোপযোগী সমাধান ব্যবস্থা নির্দেশ করে ব্যক্তিকে তার হারানো সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার
পুনরুদ্ধারে যথাযথভাবে পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সহায়তা করা।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৭.৭
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। র্যাপো কী?
ক) ব্যবসায়িক সম্পর্ক খ) পারিবারিক সম্পর্ক
গ) পেশাগত সম্পর্ক ঘ) সামাজিক সম্পর্ক
২। র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্কের উদ্দেশ্য হলোÑ
র. সাহায্যার্থীর সমস্যার সমাধান ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা
রর. ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন
ররর. সাহায্যার্থীর সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার পুনরুদ্ধার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর