সমাজকর্ম পদ্ধতি : সমাজকল্যাণ প্রশাসন, সামাজিক কার্যক্রম ও সমাজকর্ম গবেষণা
আধুনিক জটিল সমাজব্যবস্থায় নানাবিধ মনো-সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের একটি বিজ্ঞানভিত্তিক পেশাদার
প্রক্রিয়া হলো সমাজকর্ম। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাদের সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও
পুনরুদ্ধারে সরাসরি প্রয়োগ করা হয় সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতি ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম এবং সমষ্টি সংগঠন ও
সমষ্টি উন্নয়ন। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলো সরাসরি প্রয়োগ করা হলেও
এগুলোর কার্যকারিতা ও সফল বাস্তবায়নে কতিপয় পদ্ধতি পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়। এগুলো সমাজকর্মের সহায়ক
পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি তিনটি। যথাÑ সমাজকল্যাণ প্রশাসন, সামাজিক কার্যক্রম এবং
সমাজকর্ম গবেষণা।
শিল্পবিপ্লবোত্তর সমাজব্যবস্থায় পুঁজি ও যন্ত্রের দ্রæত বিকাশের ফলে ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তন সাধিত হয়। এরই প্রেক্ষাপটে
রাষ্ট্রের সমাজকল্যাণমূলক কার্যসম্পাদনের প্রেক্ষিতে উদ্ভব হয় সমাজকল্যাণ প্রশাসন। এটি সময়ের চাহিদা প্রেক্ষিতে
সামাজিক নীতি ও আইনের আলোকে জনগণের কল্যাণ সাধনে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে
থাকে। অন্যদিকে সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন অনভিপ্রেত ও অবাঞ্ছিত অবস্থার সুপরিকল্পিত সংশোধন বা পরিবর্তন, মানুষের
জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গৃহীত সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক
কার্যক্রম। আবার সমাজকর্ম পেশার সাহায্যদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন, উদ্ভাবিত পদ্ধতিগুলোর যথাযথ
প্রয়োগ ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা নির্ণয় ও দূরীকরণ, সফলতা নির্ণয়, প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদ্ধতি ও কৌশল
উদ্ভাবনের আগ্রহ ও উৎসুকতা থেকে সমাজকর্ম গবেষণা উদ্ভব হয়েছে । সমাজকর্মের এই সহায়ক পদ্ধতিগুলো মৌলিক
পদ্ধতিসমূহের কার্যকর প্রয়োগ ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনতে সহায়তা করে। প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ প্রশাসনের ধারণা প্রশাসন
প্রাচীন যুগ থেকে মানুষ দলবদ্ধভাবে জীবনযাপন করে আসছে। আর এই দলবদ্ধ জীবনে কোনো না কোনো
নেতা বা গোত্রপ্রধানের নেতৃত্বে কতিপয় নিয়মনীতি অনুসরণ করে চলতে হতো। সময়ের বিবর্তনে রাষ্ট্র ধারণা উদ্ভবের ফলে
রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি ও আইনসমূহকে বাস্তব রুপদানের ক্ষেত্রে প্রশাসন ধারণাটি উদ্ভব হয়েছে। সাধারণভাবে প্রশাসন বলতে
এমন একটি প্রক্রিয়াকে বুঝায় যা কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানকে তার লক্ষ্যার্জনে কার্য সম্পাদনে নির্দেশনা দান, নিয়ন্ত্রণ
এবং সমন্বয় করে থাকে।
এইচ. বি ট্রেকার বলেন, প্রশাসন হচ্ছে চিন্তা, পরিকল্পনা এবং কার্যক্রমের এমন এক সৃজনশীল প্রক্রিয়া, যা কোনো
প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যাবলীর সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত। এই প্রক্রিয়ায় জনগণের সাথে কাজ করার জন্য লক্ষ্য
নির্ধারণ, দায়িত্ব বন্টন, সাংগঠিক সম্পর্ক স্থাপন, কর্মসূচি পরিচালনা এবং সম্পাদিত কার্যাবলীর মূল্যায়ন করা হয়।
এল. ডি হোয়াইটের মতে, প্রশাসন হচ্ছে এমন একটি কলা, যার মাধ্যমে কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যার্জনের নিমিত্তে মানুষের
কার্যাবলীকে নির্দেশনা প্রদান, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করা হয়।
সূতরাং প্রশাসন হলো এমন একটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ
গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে।
৯.১.২ সমাজকল্যাণ প্রশাসন
সমাজকল্যাণ প্রশাসন পেশাদার সমাজকর্মের একটি সহায়ক পদ্ধতি। সমাজকল্যাণ অনুশীলনের মৌলিক পদ্ধতিগুলো
বাস্তবায়নে নিয়োজিত এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে
সমাজকল্যাণ প্রশাসন হিসেবে নির্দেশ করা হয়ে থকে যা প্রত্যক্ষভাবে সমাজকল্যাণ বা সমাজসেবামূলক কার্যাবলীর সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট। সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার যথাযথ সমাধান, জনকল্যাণমূলক সেবার প্রবর্তন এবং সামাজিক
নীতিকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা, নীতি ও মূল্যবোধের আলোকে পরিচালিত প্রশাসন ব্যবস্থা হলো
সমাজকল্যাণ প্রশাসন।
ডি. পাল চৌধুরী সমাজকল্যাণ প্রশাসনের সংজ্ঞায় বলেন, সমাজকল্যাণ প্রশাসন বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়,
যেখানে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যাবলী বাস্তবায়নের পেশাগত
যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। সামাজিক নীতি সমাজসেবায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া হিসেবেও একে আখ্যায়িত করা যায়।
রাসেল এইচ. কার্জ এর মতে, সমাজকল্যাণ প্রশাসন সামাজিক নীতিকে সমাজসেবায় রূপান্তরের এমন এক বাস্তব
অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সেবা, যার দ্বারা নীতি বা পদ্ধতি সংশোধিত হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, জনগণের সার্বিক কল্যাণের নিমিত্তে সামাজিক নীতির আলোকে গৃহীত কার্যাবলী ও দায়িত্বের সুসংহত
বণ্টন এবং কার্যসম্পাদন প্রক্রিয়াই হলো সমাজকর্ম প্রশাসন। আর এ কার্যসম্পাদনের সকল স্তরে যেমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ,
পরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মসূচি গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা, কৌশল, নীতি ও মূল্যবোধ অনুশীলিত হয়।
সারসংক্ষেপ
প্রশাসন একটি গতিশীল প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা নির্ধারণ এবং লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য
পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়ন করা হয়। অন্যদিকে সমাজকল্যাণ প্রশাসন হলো সামাজিক নীতিকে
সমাজসেবায় রূপান্তর করে তার মূল্যায়ন ও সংশোধন করার সুচিন্তিত এবং সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া। সমাজকর্মের সহায়ক
পদ্ধতি হিসেবে সমাজকল্যাণ প্রশাসন সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিসমূহের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের কার্যকর
সহায়তা করে থাকে।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সামাজিক নীতিকে সমাজসেবায় রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
ক) সামাজিক প্রশাসন খ) সমাজকল্যাণ প্রশাসন
গ) সমষ্টি উন্নয়ন প্রক্রিয়া ঘ) সমষ্টি সংগঠন প্রক্রিয়া
২। কোন উদ্দেশ্য অর্জনের নিমিত্তে মানুষের কার্যাবলীকে প্রশাসনÑ
র. নির্দেশনা প্রদান করে রর. নিয়ন্ত্রণ করে ররর. সমন্বয় সাধন করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
প্রক্রিয়া হলো সমাজকর্ম। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাদের সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও
পুনরুদ্ধারে সরাসরি প্রয়োগ করা হয় সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতি ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম এবং সমষ্টি সংগঠন ও
সমষ্টি উন্নয়ন। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলো সরাসরি প্রয়োগ করা হলেও
এগুলোর কার্যকারিতা ও সফল বাস্তবায়নে কতিপয় পদ্ধতি পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়। এগুলো সমাজকর্মের সহায়ক
পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি তিনটি। যথাÑ সমাজকল্যাণ প্রশাসন, সামাজিক কার্যক্রম এবং
সমাজকর্ম গবেষণা।
শিল্পবিপ্লবোত্তর সমাজব্যবস্থায় পুঁজি ও যন্ত্রের দ্রæত বিকাশের ফলে ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তন সাধিত হয়। এরই প্রেক্ষাপটে
রাষ্ট্রের সমাজকল্যাণমূলক কার্যসম্পাদনের প্রেক্ষিতে উদ্ভব হয় সমাজকল্যাণ প্রশাসন। এটি সময়ের চাহিদা প্রেক্ষিতে
সামাজিক নীতি ও আইনের আলোকে জনগণের কল্যাণ সাধনে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে
থাকে। অন্যদিকে সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন অনভিপ্রেত ও অবাঞ্ছিত অবস্থার সুপরিকল্পিত সংশোধন বা পরিবর্তন, মানুষের
জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গৃহীত সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক
কার্যক্রম। আবার সমাজকর্ম পেশার সাহায্যদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন, উদ্ভাবিত পদ্ধতিগুলোর যথাযথ
প্রয়োগ ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা নির্ণয় ও দূরীকরণ, সফলতা নির্ণয়, প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদ্ধতি ও কৌশল
উদ্ভাবনের আগ্রহ ও উৎসুকতা থেকে সমাজকর্ম গবেষণা উদ্ভব হয়েছে । সমাজকর্মের এই সহায়ক পদ্ধতিগুলো মৌলিক
পদ্ধতিসমূহের কার্যকর প্রয়োগ ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনতে সহায়তা করে। প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ প্রশাসনের ধারণা প্রশাসন
প্রাচীন যুগ থেকে মানুষ দলবদ্ধভাবে জীবনযাপন করে আসছে। আর এই দলবদ্ধ জীবনে কোনো না কোনো
নেতা বা গোত্রপ্রধানের নেতৃত্বে কতিপয় নিয়মনীতি অনুসরণ করে চলতে হতো। সময়ের বিবর্তনে রাষ্ট্র ধারণা উদ্ভবের ফলে
রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি ও আইনসমূহকে বাস্তব রুপদানের ক্ষেত্রে প্রশাসন ধারণাটি উদ্ভব হয়েছে। সাধারণভাবে প্রশাসন বলতে
এমন একটি প্রক্রিয়াকে বুঝায় যা কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানকে তার লক্ষ্যার্জনে কার্য সম্পাদনে নির্দেশনা দান, নিয়ন্ত্রণ
এবং সমন্বয় করে থাকে।
এইচ. বি ট্রেকার বলেন, প্রশাসন হচ্ছে চিন্তা, পরিকল্পনা এবং কার্যক্রমের এমন এক সৃজনশীল প্রক্রিয়া, যা কোনো
প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যাবলীর সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত। এই প্রক্রিয়ায় জনগণের সাথে কাজ করার জন্য লক্ষ্য
নির্ধারণ, দায়িত্ব বন্টন, সাংগঠিক সম্পর্ক স্থাপন, কর্মসূচি পরিচালনা এবং সম্পাদিত কার্যাবলীর মূল্যায়ন করা হয়।
এল. ডি হোয়াইটের মতে, প্রশাসন হচ্ছে এমন একটি কলা, যার মাধ্যমে কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যার্জনের নিমিত্তে মানুষের
কার্যাবলীকে নির্দেশনা প্রদান, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করা হয়।
সূতরাং প্রশাসন হলো এমন একটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ
গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে।
৯.১.২ সমাজকল্যাণ প্রশাসন
সমাজকল্যাণ প্রশাসন পেশাদার সমাজকর্মের একটি সহায়ক পদ্ধতি। সমাজকল্যাণ অনুশীলনের মৌলিক পদ্ধতিগুলো
বাস্তবায়নে নিয়োজিত এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে
সমাজকল্যাণ প্রশাসন হিসেবে নির্দেশ করা হয়ে থকে যা প্রত্যক্ষভাবে সমাজকল্যাণ বা সমাজসেবামূলক কার্যাবলীর সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট। সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার যথাযথ সমাধান, জনকল্যাণমূলক সেবার প্রবর্তন এবং সামাজিক
নীতিকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা, নীতি ও মূল্যবোধের আলোকে পরিচালিত প্রশাসন ব্যবস্থা হলো
সমাজকল্যাণ প্রশাসন।
ডি. পাল চৌধুরী সমাজকল্যাণ প্রশাসনের সংজ্ঞায় বলেন, সমাজকল্যাণ প্রশাসন বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়,
যেখানে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যাবলী বাস্তবায়নের পেশাগত
যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। সামাজিক নীতি সমাজসেবায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া হিসেবেও একে আখ্যায়িত করা যায়।
রাসেল এইচ. কার্জ এর মতে, সমাজকল্যাণ প্রশাসন সামাজিক নীতিকে সমাজসেবায় রূপান্তরের এমন এক বাস্তব
অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সেবা, যার দ্বারা নীতি বা পদ্ধতি সংশোধিত হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, জনগণের সার্বিক কল্যাণের নিমিত্তে সামাজিক নীতির আলোকে গৃহীত কার্যাবলী ও দায়িত্বের সুসংহত
বণ্টন এবং কার্যসম্পাদন প্রক্রিয়াই হলো সমাজকর্ম প্রশাসন। আর এ কার্যসম্পাদনের সকল স্তরে যেমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ,
পরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মসূচি গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা, কৌশল, নীতি ও মূল্যবোধ অনুশীলিত হয়।
সারসংক্ষেপ
প্রশাসন একটি গতিশীল প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা নির্ধারণ এবং লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য
পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়ন করা হয়। অন্যদিকে সমাজকল্যাণ প্রশাসন হলো সামাজিক নীতিকে
সমাজসেবায় রূপান্তর করে তার মূল্যায়ন ও সংশোধন করার সুচিন্তিত এবং সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া। সমাজকর্মের সহায়ক
পদ্ধতি হিসেবে সমাজকল্যাণ প্রশাসন সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিসমূহের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের কার্যকর
সহায়তা করে থাকে।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সামাজিক নীতিকে সমাজসেবায় রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
ক) সামাজিক প্রশাসন খ) সমাজকল্যাণ প্রশাসন
গ) সমষ্টি উন্নয়ন প্রক্রিয়া ঘ) সমষ্টি সংগঠন প্রক্রিয়া
২। কোন উদ্দেশ্য অর্জনের নিমিত্তে মানুষের কার্যাবলীকে প্রশাসনÑ
র. নির্দেশনা প্রদান করে রর. নিয়ন্ত্রণ করে ররর. সমন্বয় সাধন করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর