সামাজিক কার্যক্রমের উপাদানগুলো বর্ণনা করতে পারবেন।
সামাজিক কার্যক্রমের উপাদান
সামাজিক কার্যক্রম একটি পরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়া, যা কোনো সামাজিক বিষয়ের পরিবর্তন
আনয়নে জনগণের সমর্থন অর্জনের মাধ্যমে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছায়। সামাজিক কার্যক্রমে লক্ষ্য অর্জনের প্রক্রিয়া বহুবিধ
উপাদানের সমষ্টি। নাখান ই. কোহেনের মতে, সামাজিক কার্যক্রমের উপাদান পাঁচটি। যথাÑ ১) গবেষণা, ২) পরিকল্পনা,
৩) জনসমর্থন আদায়, ৪) ব্যাখ্যাকরণ ও ৫) বাস্তবায়ন। আবার স্যোশ্যাল ওয়ার্ক ইয়ার বুক : ১৯৫১ অনুযায়ী সামাজিক
কার্যক্রমের উপাদানগুলো হলোÑ ১) গবেষণা, ২) সমস্যা সমাধান পরিকল্পনা, ৩) জনসমর্থন আদায়, ৪) সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব
উপস্থাপনা এবং ৫) কার্যকরকরণ। সার্বিকভাবে সামাজিক কার্যক্রমের উপাদানগুলো নিচে আলোচনা করা হলো :
১) সমস্যা : সামাজিক কার্যক্রমের অন্যতম উপাদান হলো সমস্যা। যে বিষয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত
হয় তাকে সামাজিক কার্যক্রমের সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। যেমনÑ যৌতুক প্রথা, বাল্যবিবাহ, ইভ টিজিং ইত্যাদি।
২) সমাজকর্মী বা সামাজিক আন্দোলন কর্মী : সামাজিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সমাজকর্মী বা সামাজিক
আন্দোলন কর্মী। সামাজিক কার্যক্রমে সমাজকর্মীর ভূমিকা নেতৃত্বদানকারী এবং সচেতনতা সৃষ্টিকারী। সমাজকর্মীকে
এজন্য সামাজিক আন্দোলন কর্মী বলা হয়। সমাজকর্মী ব্যতীত সামাজিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
৩) সামাজিক গবেষণা : গবেষণা সামাজিক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যখন কোনো বিষয় বা সমস্যাকে কেন্দ্র করে
সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তখন উক্ত বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট আরও অনেক বিষয় সম্পর্কে তথ্যের প্রয়োজন
দেখা দেয়। এক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য হতে সমস্যা বা নির্দিষ্ট বিষয়ের গভীরতা, ব্যাপকতা ও গুরুত্ব
অনুধাবন করা যায় এবং সে অনুযায়ী লক্ষ্য অর্জনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
৪) সমাধান পরিকল্পনা : সামাজিক কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো সমাজ হতে অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্খিত কুপ্রথা, আচার-আচরণ,
অভ্যাস ও মূল্যবোধের পরিবর্তন সাধন। এক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাবলী বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়
বা সমস্যা সম্পর্কে যথাযথভাবে জেনে সমাধান পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কারণ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ব্যতীত লক্ষ্য
অর্জন সম্ভব হয় না।
৫) জনসমর্থন আদায় : সামাজিক কার্যক্রম হলো একটি দলীয় প্রচেষ্টা। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা পরিচালিত কর্ম
প্রক্রিয়া হলো সামাজিক কার্যক্রম। এক্ষেত্রে সমাজে বাঞ্ছিত পরিবর্তন আনতে কর্মসূচির প্রতি জনগণের সমর্থন আদায়
অপরিহার্য উপাদান। সমস্যা ও সমস্যার সমাধান ব্যবস্থার খুটিনাটি সকল দিক সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে করে
তাদের সমর্থন আদায় এবং কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬) প্রস্তাব উপস্থাপন : গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমস্যা নির্দিষ্টকরণ, সমাধান পরিকল্পনা গ্রহণ এবং
সমস্যা সংশ্লিষ্ট সমাধান কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থন আদায়ের সাথে সাথে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব উপস্থাপন
করা সামাজিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রস্তাবনা মূলত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপস্থাপনাকেই বুঝায়। সামাজিক
কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে কার্যক্রম পরিচালনাকারীগণ কর্তৃপক্ষের নিকট সুর্নিদিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপণ
করে থাকেন।
৭) কার্যকরকরণ : সামাজিক কার্যক্রমের সর্বশেষ উপাদান হলো কার্যকরকরণ। সামাজিক কোনো বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন,
জনসমর্থন আদায় এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপণার পরও যদি সেগুলো কার্যকর করা না হয় তাহলে কার্যক্রমের লক্ষ্য
অর্জন সম্ভব হয় না। এজন্য অবশ্যই এগুলো যথাযথভাবে কার্যকর বা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হয়। সামাজিক
কার্যক্রম কার্যকরকরণের দুটি উপায় রয়েছে। যথাÑ সামাজিক আইন ও সামাজিক নীতি প্রণয়ন।
সারসংক্ষেপ
সামাজিক কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল কর্মপ্রক্রিয়া যা সমাজ হতে বিভিন্ন অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্খিত অবস্থা
দূর করে সমাজে বাঞ্ছিত পরিবর্তন সাধন ও কাঙ্খিত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে সামাজিক
কার্যক্রমের কতগুলোা সুনির্দিষ্ট উপাদান পরস্পর অবিচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে। সামাজিক কার্যক্রমের
এই উপাদানগুলো হলোÑ ১) সুনির্দিষ্ট বিষয় বা সমস্যা, ২) সমাজকর্মী বা সামাজিক আন্দোলন কর্মী, ৩) সামাজিক
গবেষণা, ৪) সমাধান পরিকল্পনা, ৫) জনসমর্থন আদায়, ৬) যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও ৭) কার্যকরকরণ।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সামাজিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের উপায় কোনটি?
ক) সমাজ সংস্কার খ) সামাজিক আইন
গ) সামাজিক উন্নয়ন ঘ) সামাজিক পরিকল্পনা
২। সামাজিক কার্যক্রমের উপাদান হলোÑ
র. সামাজিক গবেষণা রর. জনসমর্থন আদায় ররর. সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপনা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
সামাজিক কার্যক্রম একটি পরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়া, যা কোনো সামাজিক বিষয়ের পরিবর্তন
আনয়নে জনগণের সমর্থন অর্জনের মাধ্যমে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছায়। সামাজিক কার্যক্রমে লক্ষ্য অর্জনের প্রক্রিয়া বহুবিধ
উপাদানের সমষ্টি। নাখান ই. কোহেনের মতে, সামাজিক কার্যক্রমের উপাদান পাঁচটি। যথাÑ ১) গবেষণা, ২) পরিকল্পনা,
৩) জনসমর্থন আদায়, ৪) ব্যাখ্যাকরণ ও ৫) বাস্তবায়ন। আবার স্যোশ্যাল ওয়ার্ক ইয়ার বুক : ১৯৫১ অনুযায়ী সামাজিক
কার্যক্রমের উপাদানগুলো হলোÑ ১) গবেষণা, ২) সমস্যা সমাধান পরিকল্পনা, ৩) জনসমর্থন আদায়, ৪) সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব
উপস্থাপনা এবং ৫) কার্যকরকরণ। সার্বিকভাবে সামাজিক কার্যক্রমের উপাদানগুলো নিচে আলোচনা করা হলো :
১) সমস্যা : সামাজিক কার্যক্রমের অন্যতম উপাদান হলো সমস্যা। যে বিষয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত
হয় তাকে সামাজিক কার্যক্রমের সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। যেমনÑ যৌতুক প্রথা, বাল্যবিবাহ, ইভ টিজিং ইত্যাদি।
২) সমাজকর্মী বা সামাজিক আন্দোলন কর্মী : সামাজিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সমাজকর্মী বা সামাজিক
আন্দোলন কর্মী। সামাজিক কার্যক্রমে সমাজকর্মীর ভূমিকা নেতৃত্বদানকারী এবং সচেতনতা সৃষ্টিকারী। সমাজকর্মীকে
এজন্য সামাজিক আন্দোলন কর্মী বলা হয়। সমাজকর্মী ব্যতীত সামাজিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
৩) সামাজিক গবেষণা : গবেষণা সামাজিক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যখন কোনো বিষয় বা সমস্যাকে কেন্দ্র করে
সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তখন উক্ত বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট আরও অনেক বিষয় সম্পর্কে তথ্যের প্রয়োজন
দেখা দেয়। এক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য হতে সমস্যা বা নির্দিষ্ট বিষয়ের গভীরতা, ব্যাপকতা ও গুরুত্ব
অনুধাবন করা যায় এবং সে অনুযায়ী লক্ষ্য অর্জনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
৪) সমাধান পরিকল্পনা : সামাজিক কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো সমাজ হতে অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্খিত কুপ্রথা, আচার-আচরণ,
অভ্যাস ও মূল্যবোধের পরিবর্তন সাধন। এক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাবলী বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়
বা সমস্যা সম্পর্কে যথাযথভাবে জেনে সমাধান পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কারণ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ব্যতীত লক্ষ্য
অর্জন সম্ভব হয় না।
৫) জনসমর্থন আদায় : সামাজিক কার্যক্রম হলো একটি দলীয় প্রচেষ্টা। জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা পরিচালিত কর্ম
প্রক্রিয়া হলো সামাজিক কার্যক্রম। এক্ষেত্রে সমাজে বাঞ্ছিত পরিবর্তন আনতে কর্মসূচির প্রতি জনগণের সমর্থন আদায়
অপরিহার্য উপাদান। সমস্যা ও সমস্যার সমাধান ব্যবস্থার খুটিনাটি সকল দিক সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে করে
তাদের সমর্থন আদায় এবং কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬) প্রস্তাব উপস্থাপন : গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমস্যা নির্দিষ্টকরণ, সমাধান পরিকল্পনা গ্রহণ এবং
সমস্যা সংশ্লিষ্ট সমাধান কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থন আদায়ের সাথে সাথে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব উপস্থাপন
করা সামাজিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রস্তাবনা মূলত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপস্থাপনাকেই বুঝায়। সামাজিক
কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে কার্যক্রম পরিচালনাকারীগণ কর্তৃপক্ষের নিকট সুর্নিদিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপণ
করে থাকেন।
৭) কার্যকরকরণ : সামাজিক কার্যক্রমের সর্বশেষ উপাদান হলো কার্যকরকরণ। সামাজিক কোনো বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন,
জনসমর্থন আদায় এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপণার পরও যদি সেগুলো কার্যকর করা না হয় তাহলে কার্যক্রমের লক্ষ্য
অর্জন সম্ভব হয় না। এজন্য অবশ্যই এগুলো যথাযথভাবে কার্যকর বা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হয়। সামাজিক
কার্যক্রম কার্যকরকরণের দুটি উপায় রয়েছে। যথাÑ সামাজিক আইন ও সামাজিক নীতি প্রণয়ন।
সারসংক্ষেপ
সামাজিক কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল কর্মপ্রক্রিয়া যা সমাজ হতে বিভিন্ন অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্খিত অবস্থা
দূর করে সমাজে বাঞ্ছিত পরিবর্তন সাধন ও কাঙ্খিত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে সামাজিক
কার্যক্রমের কতগুলোা সুনির্দিষ্ট উপাদান পরস্পর অবিচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে। সামাজিক কার্যক্রমের
এই উপাদানগুলো হলোÑ ১) সুনির্দিষ্ট বিষয় বা সমস্যা, ২) সমাজকর্মী বা সামাজিক আন্দোলন কর্মী, ৩) সামাজিক
গবেষণা, ৪) সমাধান পরিকল্পনা, ৫) জনসমর্থন আদায়, ৬) যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও ৭) কার্যকরকরণ।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সামাজিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের উপায় কোনটি?
ক) সমাজ সংস্কার খ) সামাজিক আইন
গ) সামাজিক উন্নয়ন ঘ) সামাজিক পরিকল্পনা
২। সামাজিক কার্যক্রমের উপাদান হলোÑ
র. সামাজিক গবেষণা রর. জনসমর্থন আদায় ররর. সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপনা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর