সমাজকর্ম গবেষণার ধাপসমূহ
সমাজকর্ম গবেষণার ধাপ
সমাজকর্ম গবেষণা মূলত সমস্যার সমাধান কর্মসূচি প্রণয়ন বা তার যথাযর্থ বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
যুগোপযোগী কৌশল উদ্ভাবন ও প্রয়োগের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কতগুলো ধাপ বা পর্যায়
অতিক্রম করে সামগ্রিক গবেষণা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। সি. আর কোথারি সমাজকর্ম গবেষণার ধাপসমূহ নি¤েœাক্তভাবে
দেখিয়েছেন :
চিত্র : ৯.১.১.১ সমাজকর্ম গবেষণার ধাপ
সার্বিকভাবে সমাজকর্ম গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব ধাপ অতিক্রম করতে হয় তা আলোচনা করা হলো :
১. গবেষণার সমস্যা বা বিষয় নির্বাচন : সমাজকর্ম গবেষণার প্রথম ধাপে সমাজকর্মী সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা সমস্যা বা
গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন করে থাকেন। সাধারণত সমস্যা হলো সমাজের এমন অবাঞ্ছিত অবস্থা যা সমাজের
অধিকাংশ লোকের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। কিন্তু গবেষণা সমস্যা অন্য অর্থ পরিগ্রহ করে। গবেষক কোন সামাজিক
সমস্যা নিয়ে কোন বিষয়ের প্রতি জনগণের মনোভাব জানার জন্য বা কোন পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য গবেষণা
কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। যে বিষয়ের ওপর গবেষণা পরিচালিত হয় তাকেই গবেষণা সমস্যা বলা হয় ।
২. প্রাসঙ্গিক সাহিত্য পর্যালোচনা : গবেষণার ক্ষেত্রে সাহিত্য পর্যালোচনা অপরিহার্য বিষয়। সমস্যা বা বিষয় নির্দিষ্ট করার
পর উক্ত বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন জরুরি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রন্থ, জার্নাল, পত্রপত্রিকা পাঠ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে
যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। এছাড়া গবেষণাধীন বিষয়ে পূর্বে কোনো গবেষণা পরিচালিত হয়ে থাকলে উক্ত গবেষণা
প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষণা বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পাওয়া যায়।
৩. উদ্দেশ্য নির্দিষ্টকরণ : প্রত্যেকটি গবেষণার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা অত্যাবশ্যক। উদ্দেশ্য নির্ধারণের ম্যাধমে গবেষণা
কোন পথে পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করা হয়। গবেষণায় একটি সাধারণ বা মূল উদ্দেশ্য থাকে এবং একাধিক বিশেষ বা
নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে।
৪. অনুমিত সিদ্ধান্ত প্রণয়ন : হাইপোথিসিস বা অনুকল্প হলো গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে পূর্ব সিদ্ধান্ত যার সত্যতা
নিরূপণের জন্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। এ পর্যায়ে গবেষক গবেষণাধীন বিষয় সম্পর্কে পূর্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সমস্যার সংজ্ঞায়ন
তত্ত¡ ও প্রত্যয় পর্যালোচনা পূর্বে পরিচালিত গবেষণা পর্যালোচনা
অনুমিত সিদ্ধান্ত
গবেষণা নকশা প্রণয়ন
তথ্য সংগ্রহ
তথ্য বিশ্লেষণ
প্রতিবেদন প্রণয়ন
ফলাফল উপস্থাপন
গবেষণার পরিভাষায় যা হলো অনুকল্প বা পূর্বানুমান। এই অনুমিত সিন্ধান্তই সমগ্র গবেষণা প্রক্রিয়ায় গবেষকের
দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
৫. গবেষণা নকশা প্রণয়ন : গবেষণা নকশা অনুসন্ধান কার্যের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার একটি
কার্যক্রম বিশেষ। গবেষণার অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর উক্ত অনুকল্প প্রমাণের জন্য গবেষককে একটি পূর্ণাঙ্গ
কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হয় যা গবেষণা নকশা হিসেবে পরিচিত। নকশার মাধ্যমে গবেষণা সংক্রান্ত সকল পরিকল্পনা ও
কার্যক্রম জানা যায়। তাই গবেষণা নকশাকে গবেষণার বøুপ্রিন্ট বলা হয়। একটি উত্তম গবেষণা নকশায় যে সকল বিষয়ের
অন্তর্ভুক্ত থাকে তা হলোÑ তথ্যের উৎস্য ও প্রকৃতি নির্ধারণ; গবেষণার জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা নির্বাচন; গবেষণার সমগ্রক,
নমুনা ও বিশ্লেষণের একক নির্বাচন; তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, কৌশল ও মাধ্যম নির্ণয়; প্রয়োজনীয় উপকরণ ও কর্মী সংগ্রহ;
কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান; বাজেট প্রণয়ন এবং সময়সূচি নির্ধারণ।
৬. প্রত্যয়সমূহের কার্যকরী সংজ্ঞায়ন : গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষক কিছু চলক বা বিশেষ অর্থবোধক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহার
করে থাকেন। এসকল চলক বা প্রত্যয়ের কার্যকরী সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা প্রদান জরুরি। কেননা অনেক সময় কোনো কোনো
চলক একাধিক অর্থবোধক হতে পারে। এক্ষেত্রে গবেষণার উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি অনুযায়ী চলকসমূহের সংজ্ঞা প্রদান অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৭. পদ্ধতি নির্ধারণ : গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে মূলত কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়। সামাজিক
জরিপ, কেস স্ট্যাডি, নৃ-তাত্তি¡ক পদ্ধতি বা পরিবীক্ষণ পদ্ধতি কোনটা ব্যবহার করা হবে সেটির সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকতে হয়।
কারণ পদ্ধতি প্রয়োগের ভিন্নতার জন্য গবেষণার নকশা, ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের ধরনও পরিবর্তিত হয়।
৮. তথ্য সংগ্রহ : সমাজকর্ম গবেষণায় তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। তথ্য সংগ্রহের উপরই মূলত গবেষণার
ফলাফল নির্ধারিত হয়। প্রয়োজনীয় ও যথাযথ তথ্য সংগৃহীত না হলে অনেক সময় গবেষণাকর্ম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এ
পর্যায়ে গবেষক নিজে বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ বেতনভুক্ত কর্মীদের দ্বারা তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার,
পর্যবেক্ষণ, প্রশ্নপত্র, অভীক্ষণ, ফোকাস দল আলোচনা, সরেজমিন অংশগ্রহণসহ নানা ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
৯. তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশ্লেষণ : গবেষণার সংগৃহীত তথ্যাবলী সাধারণত অবিন্যস্ত, অসংগঠিত ও বিশৃঙ্খল অবস্থায়
থাকে। ফলে উক্ত তথ্য থেকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা ফলাফল প্রদান করা যায় না। সমাজকর্ম গবেষণার এ পর্যায়ে
সংগৃহীত তথ্যাবলী সম্পাদনার পর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সুবিন্যস্তভাবে শ্রেণিবিন্যাস ও তালিকাকরণ করা হয় এবং
উক্ত তথ্যগুলো যথাযথভাবে বর্ণনা করা হয়।
১০. গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন : সমাজকর্ম গবেষণার এ পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের আলোকে প্রাপ্ত ফলাফল প্রতিবেদন
আকারে প্রকাশ করা হয়। সাধারণত চিত্র, সারণি, তালিকা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে গবেষণা ফলাফল যথাযথভাবে উপস্থাপনার
চেষ্টা করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদন সাধারণত পর্যায়ক্রমিক এবং সহজ ও বোধগম্য হয়ে থাকে।
সারসংক্ষেপ
সমাজকর্ম গবেষণা হলো প্রণালীবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল অনুসন্ধান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় কতগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ধাপ বা
পর্যায় অনুসরণ করা হয়। যদিও এই ধাপ বা পর্যায়গুলোর প্রত্যেকটিতে আলাদা আলাদা কাজ সম্পন্ন হয়, তথাপিও
এগুলো একে অপরের উপর পরস্পর নির্ভরশীল। মূলত এই পর্যায়গুলোর যথাযথ বাস্তবায়নই সমাজকর্ম গবেষণার
পূর্ণাঙ্গতা প্রকাশ পায়। সমাজকর্ম গবেষণার পর্যায় বা ধাপসমূহ হলোÑ ১) গবেষণার সমস্যা চিহ্নিতকরণ, ২) সাহিত্য
সমীক্ষা, ৩) উদ্দেশ্য নির্দিষ্টকরণ, ৪) অনুকল্প গঠন, ৫) গবেষণা নকশা প্রণয়ন, ৬) প্রত্যয়সমূহের কার্যকরী সংজ্ঞায়ন, ৭)
পদ্ধতি নির্ধারণ, ৮) তথ্য সংগ্রহ, ৯) তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশ্লেষণ এবং ১০) গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। গবেষণার ‘বøুপ্রিন্ট’ বলা হয় কোনটিকে?
ক) অনুমিত সিদ্ধান্ত খ) সাহিত্য পর্যালোচনা
গ) গবেষণা নকশা ঘ) প্রতিবেদন উপস্থান
২। চিত্র, সারণি ও তালিকা এগুলো গবেষণার কোন পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়?
ক) সমস্যা চিহ্নিতকরণে খ) গবেষণা নকশা প্রণয়নে
গ) তথ্য সম্পাদনায় ঘ) প্রতিবেদন উপস্থাপনে
৩। তথ্য সংগ্রহ পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যাবলী যে অবস্থায় থাকেÑ
র. অবিন্যস্ত
রর. সুশৃঙ্খল
ররর. অসংগঠিত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
৪। কোনটি গবেষককে গবেষণা প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে?
ক) উদ্দেশ্য নির্ধারণ খ) অনুকল্প
গ) গবেষণা নকশা ঘ) পদ্ধতি নির্ধারণ
সমাজকর্ম গবেষণা মূলত সমস্যার সমাধান কর্মসূচি প্রণয়ন বা তার যথাযর্থ বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
যুগোপযোগী কৌশল উদ্ভাবন ও প্রয়োগের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কতগুলো ধাপ বা পর্যায়
অতিক্রম করে সামগ্রিক গবেষণা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। সি. আর কোথারি সমাজকর্ম গবেষণার ধাপসমূহ নি¤েœাক্তভাবে
দেখিয়েছেন :
চিত্র : ৯.১.১.১ সমাজকর্ম গবেষণার ধাপ
সার্বিকভাবে সমাজকর্ম গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব ধাপ অতিক্রম করতে হয় তা আলোচনা করা হলো :
১. গবেষণার সমস্যা বা বিষয় নির্বাচন : সমাজকর্ম গবেষণার প্রথম ধাপে সমাজকর্মী সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা সমস্যা বা
গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন করে থাকেন। সাধারণত সমস্যা হলো সমাজের এমন অবাঞ্ছিত অবস্থা যা সমাজের
অধিকাংশ লোকের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। কিন্তু গবেষণা সমস্যা অন্য অর্থ পরিগ্রহ করে। গবেষক কোন সামাজিক
সমস্যা নিয়ে কোন বিষয়ের প্রতি জনগণের মনোভাব জানার জন্য বা কোন পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য গবেষণা
কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। যে বিষয়ের ওপর গবেষণা পরিচালিত হয় তাকেই গবেষণা সমস্যা বলা হয় ।
২. প্রাসঙ্গিক সাহিত্য পর্যালোচনা : গবেষণার ক্ষেত্রে সাহিত্য পর্যালোচনা অপরিহার্য বিষয়। সমস্যা বা বিষয় নির্দিষ্ট করার
পর উক্ত বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন জরুরি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রন্থ, জার্নাল, পত্রপত্রিকা পাঠ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে
যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। এছাড়া গবেষণাধীন বিষয়ে পূর্বে কোনো গবেষণা পরিচালিত হয়ে থাকলে উক্ত গবেষণা
প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষণা বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পাওয়া যায়।
৩. উদ্দেশ্য নির্দিষ্টকরণ : প্রত্যেকটি গবেষণার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা অত্যাবশ্যক। উদ্দেশ্য নির্ধারণের ম্যাধমে গবেষণা
কোন পথে পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করা হয়। গবেষণায় একটি সাধারণ বা মূল উদ্দেশ্য থাকে এবং একাধিক বিশেষ বা
নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে।
৪. অনুমিত সিদ্ধান্ত প্রণয়ন : হাইপোথিসিস বা অনুকল্প হলো গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে পূর্ব সিদ্ধান্ত যার সত্যতা
নিরূপণের জন্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। এ পর্যায়ে গবেষক গবেষণাধীন বিষয় সম্পর্কে পূর্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সমস্যার সংজ্ঞায়ন
তত্ত¡ ও প্রত্যয় পর্যালোচনা পূর্বে পরিচালিত গবেষণা পর্যালোচনা
অনুমিত সিদ্ধান্ত
গবেষণা নকশা প্রণয়ন
তথ্য সংগ্রহ
তথ্য বিশ্লেষণ
প্রতিবেদন প্রণয়ন
ফলাফল উপস্থাপন
গবেষণার পরিভাষায় যা হলো অনুকল্প বা পূর্বানুমান। এই অনুমিত সিন্ধান্তই সমগ্র গবেষণা প্রক্রিয়ায় গবেষকের
দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
৫. গবেষণা নকশা প্রণয়ন : গবেষণা নকশা অনুসন্ধান কার্যের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার একটি
কার্যক্রম বিশেষ। গবেষণার অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর উক্ত অনুকল্প প্রমাণের জন্য গবেষককে একটি পূর্ণাঙ্গ
কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হয় যা গবেষণা নকশা হিসেবে পরিচিত। নকশার মাধ্যমে গবেষণা সংক্রান্ত সকল পরিকল্পনা ও
কার্যক্রম জানা যায়। তাই গবেষণা নকশাকে গবেষণার বøুপ্রিন্ট বলা হয়। একটি উত্তম গবেষণা নকশায় যে সকল বিষয়ের
অন্তর্ভুক্ত থাকে তা হলোÑ তথ্যের উৎস্য ও প্রকৃতি নির্ধারণ; গবেষণার জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা নির্বাচন; গবেষণার সমগ্রক,
নমুনা ও বিশ্লেষণের একক নির্বাচন; তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, কৌশল ও মাধ্যম নির্ণয়; প্রয়োজনীয় উপকরণ ও কর্মী সংগ্রহ;
কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান; বাজেট প্রণয়ন এবং সময়সূচি নির্ধারণ।
৬. প্রত্যয়সমূহের কার্যকরী সংজ্ঞায়ন : গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষক কিছু চলক বা বিশেষ অর্থবোধক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহার
করে থাকেন। এসকল চলক বা প্রত্যয়ের কার্যকরী সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা প্রদান জরুরি। কেননা অনেক সময় কোনো কোনো
চলক একাধিক অর্থবোধক হতে পারে। এক্ষেত্রে গবেষণার উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি অনুযায়ী চলকসমূহের সংজ্ঞা প্রদান অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৭. পদ্ধতি নির্ধারণ : গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে মূলত কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়। সামাজিক
জরিপ, কেস স্ট্যাডি, নৃ-তাত্তি¡ক পদ্ধতি বা পরিবীক্ষণ পদ্ধতি কোনটা ব্যবহার করা হবে সেটির সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকতে হয়।
কারণ পদ্ধতি প্রয়োগের ভিন্নতার জন্য গবেষণার নকশা, ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের ধরনও পরিবর্তিত হয়।
৮. তথ্য সংগ্রহ : সমাজকর্ম গবেষণায় তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। তথ্য সংগ্রহের উপরই মূলত গবেষণার
ফলাফল নির্ধারিত হয়। প্রয়োজনীয় ও যথাযথ তথ্য সংগৃহীত না হলে অনেক সময় গবেষণাকর্ম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এ
পর্যায়ে গবেষক নিজে বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ বেতনভুক্ত কর্মীদের দ্বারা তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার,
পর্যবেক্ষণ, প্রশ্নপত্র, অভীক্ষণ, ফোকাস দল আলোচনা, সরেজমিন অংশগ্রহণসহ নানা ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
৯. তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশ্লেষণ : গবেষণার সংগৃহীত তথ্যাবলী সাধারণত অবিন্যস্ত, অসংগঠিত ও বিশৃঙ্খল অবস্থায়
থাকে। ফলে উক্ত তথ্য থেকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা ফলাফল প্রদান করা যায় না। সমাজকর্ম গবেষণার এ পর্যায়ে
সংগৃহীত তথ্যাবলী সম্পাদনার পর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সুবিন্যস্তভাবে শ্রেণিবিন্যাস ও তালিকাকরণ করা হয় এবং
উক্ত তথ্যগুলো যথাযথভাবে বর্ণনা করা হয়।
১০. গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন : সমাজকর্ম গবেষণার এ পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের আলোকে প্রাপ্ত ফলাফল প্রতিবেদন
আকারে প্রকাশ করা হয়। সাধারণত চিত্র, সারণি, তালিকা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে গবেষণা ফলাফল যথাযথভাবে উপস্থাপনার
চেষ্টা করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদন সাধারণত পর্যায়ক্রমিক এবং সহজ ও বোধগম্য হয়ে থাকে।
সারসংক্ষেপ
সমাজকর্ম গবেষণা হলো প্রণালীবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল অনুসন্ধান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় কতগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ধাপ বা
পর্যায় অনুসরণ করা হয়। যদিও এই ধাপ বা পর্যায়গুলোর প্রত্যেকটিতে আলাদা আলাদা কাজ সম্পন্ন হয়, তথাপিও
এগুলো একে অপরের উপর পরস্পর নির্ভরশীল। মূলত এই পর্যায়গুলোর যথাযথ বাস্তবায়নই সমাজকর্ম গবেষণার
পূর্ণাঙ্গতা প্রকাশ পায়। সমাজকর্ম গবেষণার পর্যায় বা ধাপসমূহ হলোÑ ১) গবেষণার সমস্যা চিহ্নিতকরণ, ২) সাহিত্য
সমীক্ষা, ৩) উদ্দেশ্য নির্দিষ্টকরণ, ৪) অনুকল্প গঠন, ৫) গবেষণা নকশা প্রণয়ন, ৬) প্রত্যয়সমূহের কার্যকরী সংজ্ঞায়ন, ৭)
পদ্ধতি নির্ধারণ, ৮) তথ্য সংগ্রহ, ৯) তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশ্লেষণ এবং ১০) গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন।
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। গবেষণার ‘বøুপ্রিন্ট’ বলা হয় কোনটিকে?
ক) অনুমিত সিদ্ধান্ত খ) সাহিত্য পর্যালোচনা
গ) গবেষণা নকশা ঘ) প্রতিবেদন উপস্থান
২। চিত্র, সারণি ও তালিকা এগুলো গবেষণার কোন পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়?
ক) সমস্যা চিহ্নিতকরণে খ) গবেষণা নকশা প্রণয়নে
গ) তথ্য সম্পাদনায় ঘ) প্রতিবেদন উপস্থাপনে
৩। তথ্য সংগ্রহ পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যাবলী যে অবস্থায় থাকেÑ
র. অবিন্যস্ত
রর. সুশৃঙ্খল
ররর. অসংগঠিত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
৪। কোনটি গবেষককে গবেষণা প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে?
ক) উদ্দেশ্য নির্ধারণ খ) অনুকল্প
গ) গবেষণা নকশা ঘ) পদ্ধতি নির্ধারণ