যৌতুকের প্রভাব ও যৌতুকপ্রথা মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভূমিকা
যৌতুক হৃদয়হীন, অমানবিক ও কলঙ্কিত সামাজিক অনাচার যা সর্বস্তরে বিরাজ করছে। সমাজ জীবনে
যৌতুকপ্রথার মারাত্মক প্রভাব তুলে ধরা হলো:
১. বাংলাদেশে আত্মহত্যা প্রবণতা সৃষ্টির সহায়ক যৌতুকপ্রথা। আত্মহত্যাকারী অধিকাংশই নারী এবং অধিকাংশ
আত্মহত্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় দাম্পত্যকলহ ও নারী নির্যাতনকে। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করেই এসবের সৃষ্টি।
২. নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার লাভের প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে যৌতুক। যৌতুকপ্রথা নারীকে হেয় করে।
৩. কেবল যৌতুকের লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক ছেলে বিয়ে করে এবং বিয়ের অল্প কিছু দিন পরই দাম্পত্যকলহ শুরু হয় এবং এর পরিণামে নারীদের অহরহ নির্যাতন সইতে হয়।
৪. যৌতুকের লোভে গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহ ও বর-কনের বয়সের
অসাদৃশ্যপূর্ণ বিয়ে সংঘটিত হয়। এটি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সহায়ক ও সন্তানের সামাজিকীকরণের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
৫. অনেক ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, কন্যাদায়গ্রস্ত দরিদ্র ও নি¤œবিত্ত পিতামাতা
যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে যথাসর্বস্ব বিক্রি করে দুঃস্থ ও নিঃস্ব হয়ে জীবনযাপন করে।
৬. যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে পরিবারে শান্তি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দাম্পত্যকলহ, স্ত্রী নির্যাতন, বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি স্ত্রী হত্যা প্রায়শই ঘটে থাকে।
৩.১০.২ যৌতুকপ্রথা মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভ‚মিকা
যৌতুকপ্রথা বাংলাদেশের শুধু সামাজিক সমস্যাই নয়, অনেক সমস্যা সৃষ্টির প্রধান কারণও বটে। যৌতুকপ্রথা কোনো
বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়। অন্যান্য সামাজিক সমস্যার সাথে এটি অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কযুক্ত। মেয়েরা পণ্য নয়, বিবাহ ব্যবস্থা
বাণিজ্যের মাধ্যম নয়, সমাজে নারীর সমমর্যাদা আছে, এরূপ ধারণা সুপ্রতিষ্ঠিত সমাজে যৌতুক প্রথা থাকতে পারে না।
এরূপ যৌতুকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হলে পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হতে হবে। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী যে ভ‚মিকা পালন করতে পারেন তা হলো:
১. যৌতুকের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে সমাজকর্মী সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভ‚মিকা পালন করতে পারেন।
২. যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন হলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। যৌতুক সংঘটিত হলে যৌতুক নিরোধ আইন প্রয়োগের জন্য সমাজকর্মী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৩. যারা যৌতুক প্রদান করবে এবং গ্রহণ করবে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে সমাজকর্মী সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করবেন ও জনমত গড়ে তুলবেন।
৪. নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির জন্য সামাজকর্মী ভ‚মিকা পালন করবেন। নারী কোনো পণ্য নয়, বিয়ে বাণিজ্যের মাধ্যম নয়। এরূপ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির জন্য সমাজকর্মী ভ‚মিকা পালন করবেন।
৫. নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সমাজকর্মী কাজ করবেন।
৬. স্বচ্ছল ও ধনিক শ্রেণির যৌতুক প্রবণতা রোধে সমাজকর্মী যৌতুকপ্রথাকে হেয়তর হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবেন।
৭. যৌতুকের কারণে নির্যাতিত নারীদের আইনগত সহায়তা প্রাপ্তিতে সমাজকর্মী দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করবেন।
৮. সমাজকর্মী নৈতিক আদর্শ প্রচার করবেন এবং সমাজস্থ মানুষকে নৈতিকতার আলোয় দীক্ষিত করবেন।
সারসংক্ষেপ
যৌতুককে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত পারিবারিক অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, স্ত্রী নির্যাতন, দাম্পত্যকলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, এমনকি স্ত্রী হত্যা পর্যন্ত ঘটে থাকে। যৌতুকের দাবী মেটাতে গিয়ে অনেক পিতা-মাতা নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং যৌতুকের লোভে অহরহ বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয়। একজন সমাজকর্মী যৌতুকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৩.১০
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। যৌতুক নিচের কোনটির জন্য দায়ী?
ক) পারিবারিক শান্তি খ) শৃঙ্খলা
গ) পারিবারিক সম্প্রীতি ঘ) স্ত্রী নির্যাতন
২। কত সালে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয় ?
ক) ১৯৭৫ সালে খ) ১৯৭৭ সালে
গ) ১৯৮০ সালে ঘ) ১৯৮৩ সালে
যৌতুকপ্রথার মারাত্মক প্রভাব তুলে ধরা হলো:
১. বাংলাদেশে আত্মহত্যা প্রবণতা সৃষ্টির সহায়ক যৌতুকপ্রথা। আত্মহত্যাকারী অধিকাংশই নারী এবং অধিকাংশ
আত্মহত্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় দাম্পত্যকলহ ও নারী নির্যাতনকে। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করেই এসবের সৃষ্টি।
২. নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার লাভের প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে যৌতুক। যৌতুকপ্রথা নারীকে হেয় করে।
৩. কেবল যৌতুকের লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক ছেলে বিয়ে করে এবং বিয়ের অল্প কিছু দিন পরই দাম্পত্যকলহ শুরু হয় এবং এর পরিণামে নারীদের অহরহ নির্যাতন সইতে হয়।
৪. যৌতুকের লোভে গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহ ও বর-কনের বয়সের
অসাদৃশ্যপূর্ণ বিয়ে সংঘটিত হয়। এটি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সহায়ক ও সন্তানের সামাজিকীকরণের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
৫. অনেক ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, কন্যাদায়গ্রস্ত দরিদ্র ও নি¤œবিত্ত পিতামাতা
যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে যথাসর্বস্ব বিক্রি করে দুঃস্থ ও নিঃস্ব হয়ে জীবনযাপন করে।
৬. যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে পরিবারে শান্তি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দাম্পত্যকলহ, স্ত্রী নির্যাতন, বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি স্ত্রী হত্যা প্রায়শই ঘটে থাকে।
৩.১০.২ যৌতুকপ্রথা মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভ‚মিকা
যৌতুকপ্রথা বাংলাদেশের শুধু সামাজিক সমস্যাই নয়, অনেক সমস্যা সৃষ্টির প্রধান কারণও বটে। যৌতুকপ্রথা কোনো
বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়। অন্যান্য সামাজিক সমস্যার সাথে এটি অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কযুক্ত। মেয়েরা পণ্য নয়, বিবাহ ব্যবস্থা
বাণিজ্যের মাধ্যম নয়, সমাজে নারীর সমমর্যাদা আছে, এরূপ ধারণা সুপ্রতিষ্ঠিত সমাজে যৌতুক প্রথা থাকতে পারে না।
এরূপ যৌতুকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হলে পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হতে হবে। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী যে ভ‚মিকা পালন করতে পারেন তা হলো:
১. যৌতুকের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে সমাজকর্মী সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভ‚মিকা পালন করতে পারেন।
২. যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন হলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। যৌতুক সংঘটিত হলে যৌতুক নিরোধ আইন প্রয়োগের জন্য সমাজকর্মী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৩. যারা যৌতুক প্রদান করবে এবং গ্রহণ করবে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে সমাজকর্মী সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করবেন ও জনমত গড়ে তুলবেন।
৪. নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির জন্য সামাজকর্মী ভ‚মিকা পালন করবেন। নারী কোনো পণ্য নয়, বিয়ে বাণিজ্যের মাধ্যম নয়। এরূপ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির জন্য সমাজকর্মী ভ‚মিকা পালন করবেন।
৫. নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সমাজকর্মী কাজ করবেন।
৬. স্বচ্ছল ও ধনিক শ্রেণির যৌতুক প্রবণতা রোধে সমাজকর্মী যৌতুকপ্রথাকে হেয়তর হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবেন।
৭. যৌতুকের কারণে নির্যাতিত নারীদের আইনগত সহায়তা প্রাপ্তিতে সমাজকর্মী দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করবেন।
৮. সমাজকর্মী নৈতিক আদর্শ প্রচার করবেন এবং সমাজস্থ মানুষকে নৈতিকতার আলোয় দীক্ষিত করবেন।
সারসংক্ষেপ
যৌতুককে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত পারিবারিক অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, স্ত্রী নির্যাতন, দাম্পত্যকলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, এমনকি স্ত্রী হত্যা পর্যন্ত ঘটে থাকে। যৌতুকের দাবী মেটাতে গিয়ে অনেক পিতা-মাতা নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং যৌতুকের লোভে অহরহ বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয়। একজন সমাজকর্মী যৌতুকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৩.১০
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। যৌতুক নিচের কোনটির জন্য দায়ী?
ক) পারিবারিক শান্তি খ) শৃঙ্খলা
গ) পারিবারিক সম্প্রীতি ঘ) স্ত্রী নির্যাতন
২। কত সালে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয় ?
ক) ১৯৭৫ সালে খ) ১৯৭৭ সালে
গ) ১৯৮০ সালে ঘ) ১৯৮৩ সালে