মাদকাসক্তির প্রভাব ও মাদকাসক্তি মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভ‚মিকা
মাদকাসক্তি আর্থ-সামাজিক জীবনে সুদূরপ্রসারী মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনে। বর্তমান বিশে^র ধনী দরিদ্র সকল
দেশ মাদকের মরণছোবলের শিকার। বিশে^র কোটি কোটি লোক সর্বনাশা মাদকে আক্রান্ত। নিচে মাদকাসক্তির প্রভাব তুলে
ধরা হলো:
১. নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির সামাজিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তার মধ্যে অপরাধবোধ ও পরাজয়ের মনোভাব গড়ে ওঠে। সে তার
পরিবার, সমাজ ও আপনজনের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়।
২. মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্যের খরচ যোগাতে প্রথমে বাড়ির জিনিসপত্র চুরি ও নির্দ্বিধায় মিথ্যা বলতে শুরু করে। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়।
৩. মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদকের খরচ যোগাতে মাদকদ্রব্য পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সে নানাবিধ অপরাধ ও চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।
৪. জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর নেশার পেছনে পাঁচ হাজার কোটি
টাকা ব্যয় করা হচ্ছে যার সিংহভাগ চলে যাচ্ছে পাচার হয়ে দেশের বাইরে। মাদকাসক্তি অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব
ফেলছে।
৫. সমাজের সবচেয়ে সৃজনশীল জনগোষ্ঠী অর্থাৎ যুবসম্প্রদায় মাদকের শিকারে পরিণত হয়ে ক্রমান্বয়ে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পঙ্গুতে পরিণত হয় এবং অপাংক্তেয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬. মাদকাসক্ত পিতামাতার সন্তানেরা সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ও ব্যক্তিত্ব গঠন হতে বঞ্চিত হয়, তাদের মধ্যে কিশোর অপরাধ
প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়।
৭. বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকের মাদকাসক্তি। এরা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে
মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটায়।
৮. বাংলাদেশে শিক্ষিত যুবসমাজ ক্রমান্বয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। যার ফলে শিক্ষার পরিবেশ আজ হুমকির সম্মুখীন।
৯. মাদকাসক্তি স্বাস্থ্যহীনতা ও জনস্বাস্থ্যের অবনতির জন্য বিশেষভাবে দায়ী। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে ফুসফুস, যকৃত, হৃদযন্ত্র প্রভৃতি আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটে।
১০. মাদকাসক্তি নীরবে গোটা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। সমাজ গঠনের মূল অনু মানুষ মাদকের দংশনে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
৩.১৪.২ মাদকাসক্তি মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভ‚মিকা
মাদকাসক্ত সমস্যাটি বর্তমানে আমাদের সমাজের অনেক গভীরে এর মূল বিস্তার করেছে। এর ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক
প্রভাব সুষ্ঠু ও সুন্দর সামাজিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত করে তুলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা
পালন করতে পারেন। মাদকাসক্তি মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভ‚মিকা নি¤েœ তুলে ধরা হলো:
১. মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা হ্রাস করতে কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ;
২. মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশে বিদ্যমান আইনসমূহ কঠোরভাবে প্রয়োগে সরকারকে চাপ প্রয়োগ;
৩. সামাজিক অস্থিরতা মাদকাসক্তির প্রকোপ বৃদ্ধি করে। সামাজিক অস্থিরতা রোধে ভ‚মিকা পালন করা;
৪. পারিবারিক পরিবেশকে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারিবারিক কাউন্সেলিং প্রদান;
বাংলাদেশ উš§ুক্ত বিশ^বিদ্যালয় সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র
ইউনিট তিন পৃষ্ঠা ৯৪
৫. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব লাঘবে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা;
৬. কিশোর ও যুবদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সমাজকর্মী প্রচারণা চালানো;
৭. সারা বছরব্যাপী মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কিত প্রচারণা চালাবেন এবং জনমত গঠন করা;
৮. মাদকাসক্তদের ঘৃণা বা অবহেলা না করে উপযুক্ত কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা;
৯. সকল পাঠ্যক্রমে মাদকের কুফল অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; এবং
১০. মাদকাসক্তদের যথাযথ চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারকে উদ্ধুদ্ধ করা।
সারসংক্ষেপ
মাদকাসক্ত ব্যক্তি সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। তার নৈতিক অবক্ষয় ঘটে এবং হীনমন্যতা কাজ করে।
মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। একজন সমাজকর্মী মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখতে পারেন। তাছাড়া মাদকের সহজলভ্যতা রোধে সরকারকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৩.১৪
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন:
১। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিÑ
ক) বলিষ্ঠ চরিত্রের হয়ে থাকেন খ) দৃঢ়চেতা হয়ে থাকেন
গ) দূরদর্শী হয়ে থাকেন ঘ) হীনমন্য হয়ে থাকেন
২। মাদকাসক্তের প্রভাব কোনটি?
ক) মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায় খ) উন্নতি করতে থাকে
গ) সুখী জীবন যাপন করতে পারে ঘ) পারিবারিক সমৃদ্ধি সাধিত হয়
দেশ মাদকের মরণছোবলের শিকার। বিশে^র কোটি কোটি লোক সর্বনাশা মাদকে আক্রান্ত। নিচে মাদকাসক্তির প্রভাব তুলে
ধরা হলো:
১. নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির সামাজিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তার মধ্যে অপরাধবোধ ও পরাজয়ের মনোভাব গড়ে ওঠে। সে তার
পরিবার, সমাজ ও আপনজনের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়।
২. মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্যের খরচ যোগাতে প্রথমে বাড়ির জিনিসপত্র চুরি ও নির্দ্বিধায় মিথ্যা বলতে শুরু করে। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়।
৩. মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদকের খরচ যোগাতে মাদকদ্রব্য পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সে নানাবিধ অপরাধ ও চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।
৪. জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর নেশার পেছনে পাঁচ হাজার কোটি
টাকা ব্যয় করা হচ্ছে যার সিংহভাগ চলে যাচ্ছে পাচার হয়ে দেশের বাইরে। মাদকাসক্তি অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব
ফেলছে।
৫. সমাজের সবচেয়ে সৃজনশীল জনগোষ্ঠী অর্থাৎ যুবসম্প্রদায় মাদকের শিকারে পরিণত হয়ে ক্রমান্বয়ে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পঙ্গুতে পরিণত হয় এবং অপাংক্তেয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬. মাদকাসক্ত পিতামাতার সন্তানেরা সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ও ব্যক্তিত্ব গঠন হতে বঞ্চিত হয়, তাদের মধ্যে কিশোর অপরাধ
প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়।
৭. বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকের মাদকাসক্তি। এরা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে
মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটায়।
৮. বাংলাদেশে শিক্ষিত যুবসমাজ ক্রমান্বয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। যার ফলে শিক্ষার পরিবেশ আজ হুমকির সম্মুখীন।
৯. মাদকাসক্তি স্বাস্থ্যহীনতা ও জনস্বাস্থ্যের অবনতির জন্য বিশেষভাবে দায়ী। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে ফুসফুস, যকৃত, হৃদযন্ত্র প্রভৃতি আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটে।
১০. মাদকাসক্তি নীরবে গোটা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। সমাজ গঠনের মূল অনু মানুষ মাদকের দংশনে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
৩.১৪.২ মাদকাসক্তি মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভ‚মিকা
মাদকাসক্ত সমস্যাটি বর্তমানে আমাদের সমাজের অনেক গভীরে এর মূল বিস্তার করেছে। এর ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক
প্রভাব সুষ্ঠু ও সুন্দর সামাজিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত করে তুলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা
পালন করতে পারেন। মাদকাসক্তি মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভ‚মিকা নি¤েœ তুলে ধরা হলো:
১. মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা হ্রাস করতে কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ;
২. মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশে বিদ্যমান আইনসমূহ কঠোরভাবে প্রয়োগে সরকারকে চাপ প্রয়োগ;
৩. সামাজিক অস্থিরতা মাদকাসক্তির প্রকোপ বৃদ্ধি করে। সামাজিক অস্থিরতা রোধে ভ‚মিকা পালন করা;
৪. পারিবারিক পরিবেশকে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারিবারিক কাউন্সেলিং প্রদান;
বাংলাদেশ উš§ুক্ত বিশ^বিদ্যালয় সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র
ইউনিট তিন পৃষ্ঠা ৯৪
৫. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব লাঘবে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা;
৬. কিশোর ও যুবদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সমাজকর্মী প্রচারণা চালানো;
৭. সারা বছরব্যাপী মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কিত প্রচারণা চালাবেন এবং জনমত গঠন করা;
৮. মাদকাসক্তদের ঘৃণা বা অবহেলা না করে উপযুক্ত কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা;
৯. সকল পাঠ্যক্রমে মাদকের কুফল অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; এবং
১০. মাদকাসক্তদের যথাযথ চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারকে উদ্ধুদ্ধ করা।
সারসংক্ষেপ
মাদকাসক্ত ব্যক্তি সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। তার নৈতিক অবক্ষয় ঘটে এবং হীনমন্যতা কাজ করে।
মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। একজন সমাজকর্মী মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখতে পারেন। তাছাড়া মাদকের সহজলভ্যতা রোধে সরকারকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৩.১৪
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন:
১। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিÑ
ক) বলিষ্ঠ চরিত্রের হয়ে থাকেন খ) দৃঢ়চেতা হয়ে থাকেন
গ) দূরদর্শী হয়ে থাকেন ঘ) হীনমন্য হয়ে থাকেন
২। মাদকাসক্তের প্রভাব কোনটি?
ক) মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায় খ) উন্নতি করতে থাকে
গ) সুখী জীবন যাপন করতে পারে ঘ) পারিবারিক সমৃদ্ধি সাধিত হয়