অটিজম ধারনাটি ব্যাখ্যা কর বাংলাদেশে অটিজম পরিস্থিতি বর্ণনা করতে পারব

আমাদের সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি পাওয়া যাবে যারা আর দশ জন মানুষ থেকে ভিন্ন। তারা বহুলাংশেই নিঃসঙ্গ,
চারপাশের জগৎ ও মানুষ সম্পর্কে উদাসীন। অন্যের সাথে কখনই সমাজিক বা আবেগীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না।
এমনকি পরিবারের সদস্যদের সাথেও দু’একটি বিষয় ছাড়া কোনো আন্ত-যোগাযোগ বা মনোভাবের আদানপ্রদানে সক্ষম
হয় না। এরা অন্য মানুষের চিন্তা, অনুভ‚তি ও চাহিদাকে বুঝতে পারে না। ব্যক্তির এরূপ আচরণ পর্যবেক্ষণ করে সর্বপ্রথম
পল ইউজেন বøুলার নামের একজন চিকিৎসক ১৯১২ সালে এই সমস্যার নামকরণ করেন ‘অটিজম’ যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়
আত্ম-মগ্ন ব্যক্তি। মূলত অটিজম মস্তিষ্কজাত এক ¯œায়বিক সমস্যা যা মস্তিষ্কের সাধারণ কর্মক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
সমস্যাটি জন্মের পর প্রথম তিন বছরের মধ্যেই দেখা দেয় এবং প্রতি হাজারে ২ থেকে ৬ জন শিশুর মধ্যে এই সমস্যার
বিকাশ ঘটতে পারে। মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক আচরণ, আন্তব্যক্তিক যোগাযোগ এবং অবসর
বিনোদনের ক্ষেত্রে যে জটিলতা দেখা দেয় তাকে অটিজম বলা হয়। কখনো কখনো অটিস্টিক ব্যক্তির মধ্যে আক্রমণাত্মক
বা আত্মবিধ্বংসী আচরণও দেখা যায়।
আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন (২০০০) কর্তৃক প্রণীত
“উরধমড়হড়ংঃরপ ধহফ ঝঃধঃরংঃরপধষ গধহঁধষ ড়ভ গবহঃধষ উরংড়ৎফবৎং উঝগ-ওঠঞজ” অটিজমের সংজ্ঞায় উল্লেখ করেছে, “বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক
সামাজিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ও যোগাযোগ দক্ষতার ক্ষেত্রে গুরুতর ও ব্যাপক
বৈকল্য অথবা শিশু ও যুবদের মাঝে গন্ডিবদ্ধ আচরণ, আগ্রহ ও কার্যাবলীজনিত
যে ব্যাপক বিকাশমূলক অসংগতি পরিলক্ষিত হয় তাই হলো অটিজম

অটিজম একটি জীবনব্যাপী সমস্যা যা প্রধানত সামাজিক দক্ষতার অভাব, ভাবের আদানপ্রদান বা যোগাযোগের ব্যর্থতা
এবং অনাবশ্যক কোনো আগ্রহ বা অঙ্গপ্রতঙ্গ দোলানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
৩.১৩.২ অটিজম পরিস্থিতি
পৃথিবীর সব অঞ্চলে, সব দেশে এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ-অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সব ধরনের পরিবারেই অটিজম আক্রান্ত
ব্যক্তি দেখা যায়। তবে অটিজমের বিস্তারের হার কত এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এর প্রধান কারণ কিছু জরিপে শুধুমাত্র তীব্র
মাত্রার অটিজমকে বিবেচনা করা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অটিজমের হার কম পাওয় যায়। অন্য জরিপগুলো মৃদু মাত্রার
অটিজমকেও জরিপের অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে আক্রান্তের হার বেশি আসে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টাভিত্তিক
ঈবহঃৎব ভড়ৎ উরংপধংব ঈড়হঃৎড়ষ (ঈউঈ) এর জরিপে দেখা গেছে, ৩ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতি হাজারে
৩.৪ জন শিশুর অটিজম রয়েছে। এই হার মানসিক প্রতিবন্ধিতা ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার চেয়ে বেশি। মেয়েদের চেয়ে
ছেলেদের মধ্যে অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হলেও মেয়েদের মধ্যে এই রোগের তীব্রতা বেশি থাকে।
সারসংক্ষেপ
অটিজম একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যা। মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক আচরণ, আন্ত-ব্যক্তিক যোগাযোগ
এবং অবসর বিনোদনের ক্ষেত্রে যে জটিলতা দেখা দেয় তাই মূলত অটিজম। মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের মধ্যে অটিজম
আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হয়। কিন্তু আক্রান্ত ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে নি¤œ বুদ্ধিমত্তা বেশি লক্ষণীয়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৩.১৫
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। অটিজম সর্বপ্রথম নামকরণ করা হয় কত সালে?
ক) ১৯১০ খ) ১৯১২
গ) ১৯১৫ ঘ) ১৯১৮
২। কে প্রথম অটিজম রোগের ধারণা দেন?
ক) পল ইউজেন বøুলার খ) পল রুডলফ
গ) অগাস্তিয়ান সেবেলাফ ঘ) ইউ কে ফ্যটিস