সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ধারণা ও বৈশিষ্ট্য

ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সমস্যা সমাধান, মানুষের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
সামাজিক প্রতিষ্ঠান মূলত সমাজদেহের কার্যনির্বাহী অঙ্গ। সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে সাধারণত কোনো স্থায়ী কাঠামো বা
সংগঠনকে বোঝায়। যেমনÑ পরিবার, রাষ্ট্র ইত্যাদি। আবার অন্য অর্থে, সামাজিক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সমাজের প্রচলিত
অনুষ্ঠান, রীতি বা কর্মপদ্ধতি। যেমনÑ বিবাহ, সরকার প্রভৃতি।
সমাজবিজ্ঞানী (১৯৮৩) তাঁদের
বলেন, “প্রতিষ্ঠান হলো এমন এক সক্রিয় ব্যবস্থা যা সামাজিক রীতিনীতি ও লোকাচারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে (অহ , “সামাজিক প্রতিষ্ঠান
হলো সামাজিক কাঠামো ও যন্ত্রস্বরুপ যার মাধ্যমে মানবসমাজ সংগঠিত ও পরিচালিত হয় এবং প্রয়োজন মেটানোর জন্য
বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপ সম্পাদন করে ।” সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের সংজ্ঞানুযায়ী, “প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সেসব প্রতিষ্ঠিত কর্মপদ্ধতি, যার
মাধ্যমে গোষ্ঠীর কার্যকলাপের বৈশিষ্ট্য সূচিত হয়।”
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, সামাজিক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সমাজ কর্তৃক প্রবর্তিত ও অনুমোদিত এমন এক নিয়ম বা
পদ্ধতি যা মানুষের আচার-আচরণ ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমাজজীবনে শৃঙ্খলা ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
৪.১.২ সামাজিক সংস্থার ধারণা (ঈড়হপবঢ়ঃ ড়ভ ঝড়পরধষ অমবহবু)
সামাজিক সংস্থা সমাজস্থ এমন একটি স্থান যেখান থেকে কোনো বিশেষ বিষয়ে সেবাদান করা হয়। সেবাদানের কেন্দ্রবিন্দু
হলো সামাজিক সংস্থা। সাধারণত এজেন্সি শব্দটি কোনো বিষয়ের কার্যালয় বা অফিস হিসেবে গণ্য হয়। কোনো কেন্দ্রীয়
অফিসের অধীনে অন্য কোনো স্থান, অফিস বা কার্যালয় নিযুক্ত করাকে এজেন্সি বা সেবাদান স্থান বলা হয়। সামাজিক সংস্থা
কেবলমাত্র সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের নিযুক্ত কেন্দ্র বা কার্যালয়কে বোঝায়। এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, “সামাজিক সংস্থা হলো এক ধরনের সংগঠন বা সুবিধা
প্রদান ব্যবস্থা যাতে একটি পরিচালনা বোর্ডের উদ্যোগে সমাজসেবার সুব্যবস্থা করা হয় এবং সাধারণত মানবসেবা কর্মীদের
দ্বারা সেবা প্রদান করা
মানবসেবামূলক তৎপরতায় নিযুক্ত আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিকে সামাজিক সংস্থার আওতাভুক্ত করা যায়। উদাহরণ স্বরুপ, আইন
প্রয়োগকারী সংস্থা, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা প্রভৃতি সামাজিক সংস্থার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বলা যায়, সামাজিক সংস্থা
হলো এমন একটি সাংগঠনিক সুবিধা প্রদান ব্যবস্থা যা সচরাচর পরিচালকদের বোডের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এবং মানবসেবা প্রদানকারী কর্মীদের দ্বারা সমাজসেবা প্রদান করে থাকে।
৪.১.৩ সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য (
সামাজিক প্রতিষ্ঠান নানাদিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। নিচে এর কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো:
১. মানুষের বহুমুখী চাহিদা ও প্রয়োজন থেকে সৃষ্ট;
২. সমাজদেহের কার্যনির্বাহী অঙ্গ;
৩. সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই সমাজস্বীকৃত হতে হবে;
৪. সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম;
৫. সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ পরস্পর নির্ভরশীল;
৬. সামাজিক স্থায়িত্বের রক্ষাকবচ;
৭. যৌথ জীবনযাত্রা পদ্ধতির সূতিকাগার;
৮. সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমাজ পরিচালনার বাহন;
৯. সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কর্মভার হস্তান্তরিত হতে পারে;
১০. গতিশীল ও পরিবর্তনশীল; এবং
১১. সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল সমাজজীবনের জন্য অপরিহার্য।
সামাজিক প্রতিষ্ঠান কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বাহন। এর সদস্য হওয়া যায় না, অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান এ দুই অর্থেই প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়। সামাজিক প্রতিষ্ঠান বা এর কর্মপদ্ধতি যদি খুব কঠোর হয়, তখন মানুষ এর বিরুদ্ধে
তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমাজের অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখে। সমাজবিজ্ঞানী গিডিংস এর ভাষায়,
মানবজীবনের যা কিছু মহৎ ও কল্যাণকর তার সবই সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এক যুগ হতে অন্য যুগে বর্তায়।
৪.১.৪ সামাজিক সংস্থার বৈশিষ্ট্য (
সামাজিক সংস্থার কতকগুলো সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা নি¤œরুপ:
১. সামাজিক সংস্থা সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের হতে পারে। তবে এর পরিচয় হলো সমাজসেবামূলক;
২. সামাজিক সংস্থা সমাজ উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সাধারণত সমাজকল্যাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এর কর্মতৎপরতার অন্তর্ভুক্ত;
৩. সমাজে যে সমস্যা রয়েছে তা দূরীকরণের জন্য সামাজিক এজেন্সি ভূমিকা পালন করে;
৪. সমষ্টিকেন্দ্রিক সেবাদানের জন্য এজেন্সি ব্যবহৃত হয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট সমষ্টির সেবা প্রদানের বাহন হিসেবে এজেন্সিগুলো পরিচিত;
৫. সামাজিক সংস্থা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দিক। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা উন্নয়ন এর কার্যক্রমের আওতাভুক্ত;
৬. সামাজিক সংস্থার অর্থসংস্থান হয় মানবহিতৈষী দান, অনুদান, সরকার প্রদত্ত অর্থ, সেবার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফি ও
অন্যান্য উৎস থেকে;
৭. সামাজিক এজেন্সির পরিধি সীমিত এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে সেবা প্রদান করে থাকে;
৮. সামাজিক সংস্থা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মতো স্থায়ী ও সর্বজনীন নয়। এটি বিলুপ্ত হতে পারে কিংবা দর্শনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন করে শুরু হতে পারে; এবং
৯. সামাজিক সংস্থার টার্গেট গ্রæপ ঝুঁকিপ্রবণ জনগোষ্ঠী এবং সারাদেশ বা সমগ্রবিশ্ব হতে পারে।
সারসংক্ষেপ
সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা,
সমস্যা সমাধান, মানুষের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিষ্ঠান অনন্য ভূমিকা পালন করে।
সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে সাধারণত কোনো স্থায়ী কাঠামো বা সংগঠনকে বোঝায় যেমনÑ পরিবার, রাষ্ট্র ইত্যাদি।
আবার অন্য অর্থে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সমাজের প্রচলিত অনুষ্ঠান, রীতি বা কর্মপদ্ধতি। যেমনÑ বিবাহ, সরকার
প্রভৃতি। অন্যদিকে সামাজিক সংস্থা সমাজস্থ এমন একটি স্থান যেখান থেকে কোনো বিশেষ বিষয়ে সেবা দান করা হয়।
সাধারণত এজেন্সি শব্দটি কোনো বিষয়ের কার্যালয় বা অফিস হিসেবে গণ্য হয়। কোনো কেন্দ্রীয় অফিসের অধীনে অন্য
কোনো স্থান অফিস বা কার্যালয় নিযুক্ত করাকে এজেন্সি বা সেবাদান স্থান বলা হয়। সামাজিক সংস্থা বলতে কেবল সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের নিযুক্ত কেন্দ্র বা কার্যালয়কে বোঝায়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৪.১
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। সমাজদেহের কার্যনির্বাহী অঙ্গ বলা হয় কোনটিকে?
ক) সামাজিক প্রতিষ্ঠান খ) সামাজিক অনুষ্ঠান
গ) সামাজিক সংস্থা ঘ) সামাজিক প্রথা
২। সামাজিক সংস্থা হলো এক ধরনের সংগঠন বা সুবিধা প্রদান ব্যবস্থা যাতেÑ
র. একটি পরিচালনা বোর্ডের উদ্যোগে সমাজসেবার সুব্যবস্থা করা হয়
রর. টার্গেট গ্রæপ ঝুঁকিপ্রবণ জনগোষ্ঠী, সারা দেশ বা সমগ্র বিশ্ব হতে পারে
ররর. সাধারণত মানবসেবা কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর