সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবাহ ও পরিবারের ধারণা এবং কার্যাবলী

বিবাহ হচ্ছে সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্ম কর্তৃক অনুমোদিত এমন একটি সামাজিক চুক্তি, যার মাধ্যমে একজন পুরুষ
ও একজন নারী একত্রে বসবাস করার চূড়ান্ত ক্ষমতা অর্জন করে। অর্থাৎ নর-নারীর দাম্পত্য বন্ধনকে বিবাহ বলে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, বিবাহ জিনিসটা সভ্য সমাজের অন্যসব ব্যাপারের মতোই প্রকৃতির অভিপ্রায়ের সাথে মানুষের
অভিপ্রায়ের সন্ধি স্থাপনের ব্যবস্থা। বিবাহ সম্পর্কে নৃবিজ্ঞানী ঐ. খড়রিব (১৯১৯) তাঁর ” উল্লেখ করেন, “বিবাহ হচ্ছে অনুমোদনযোগ্য সঙ্গীর মধ্যে মোটামুটি স্থায়ী বন্ধনতে বলেন,
“সামগ্রিকভাবে বিবাহ হচ্ছে যৌন সম্পর্কের আইনসম্মত অধিকার প্রদানের চেয়ে সন্তান উৎপাদন ও প্রতিপালনের একটি চুক্তি
এডওয়ার্ড ওয়েস্টারমার্ক (১৯২১) তাঁর গ্রন্থে বলেন, “বিবাহ হলো এক বা
একাধিক পুরুষের সঙ্গে এক বা একাধিক স্ত্রীলোকের আইন কর্তৃক স্বীকৃত এক একটি সম্পর্ক যা বিবাহিত ব্যক্তিবর্গ এবং
তাদের সন্তানসমূহের জন্য নির্দিষ্ট কতগুলো অধিকার ও কর্তব্যের সৃষ্টি করে।”
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, বিবাহ হচ্ছে সমাজ অনুমোদিত নর-নারীর এমন এক চুক্তি ও আইনগত সম্পর্ক
যার মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয় ও সন্তান উৎপাদিত হয়। এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ বৈধভাবে একত্রে বসবাস ও দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে পারস্পরিক ভালোবাসার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করতে পারে।
৪.২.২ পরিবারের ধারণা (ঈড়হপবঢ়ঃ ড়ভ ঋধসরষু):
সাধারণত পরিবার হচ্ছে সমাজ কর্তৃক অনুমোদিত ও স্বীকৃত এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে স্বামী-স্ত্রী সন্তানসহ একত্রে
বসবাস করে। পরিবারের ধারণায় ম্যাকাইভার এবং পেজ (১৯৬৭) তাঁদেও “ গ্রন্থে বলেন বলেন, “পরিবার
হলো এমন একটি গোষ্ঠী যাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট যৌন সম্পর্ক রয়েছে এবং সে সম্পর্ক সন্তান উৎপাদন ও লালন পালনের
স্বার্থে যথেষ্ট সুস্পষ্ট এবং সৃষ্ট
সমাজবিজ্ঞানী বি. ম্যালিনস্কি এর মতে, “পরিবার হচ্ছে সন্তান উৎপাদন ও প্রতিপালনের একটি চুক্তি।”
সমাজবিজ্ঞানী গবুবৎ ঋ. (১৯৬৫) তাঁর “” গ্রন্থে পরিবারের ধারণায়
বলেন, “পরিবার হচ্ছে স্বামী ও স্ত্রী কর্তৃক সৃষ্ট মোটামুটি স্থায়ী সংগঠন যেখানে সন্তান-সন্ততি থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।”
সামনার ও কেলার (ঝঁসহবৎ ধহফ কবষষবৎ) এর মতে, “পরিবার হচ্ছে রক্ত সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন যা কমপক্ষে দু’পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করে।”
উপর্যুক্ত ধারণার আলোকে বলা যায়, পরিবার হচ্ছে বিবাহবন্ধনের মাধ্যমে সৃষ্ট পুরুষ ও নারীর একত্রে বসবাসের একটি ক্ষুদ্র
সামাজিক সংগঠন, যেখানে স্বামী-স্ত্রী বৈবাহিক ও রক্ত সম্পর্কের ভিত্তিতে সন্তানসহ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জ্ঞাতি সদস্যসহ একত্রে বসবাস করে।
৪.২.৩ বিবাহের কার্যাবলী
মানবসমাজে বিবাহ একটি সর্বজনীন প্রথা ও প্রতিষ্ঠান। সমাজবদ্ধ মানুষের সামাজিক জীবন সুশৃঙ্খল, গঠনমূলক ও
স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বিবাহের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। বিবাহ প্রসঙ্গে দার্শনিক বাট্রান্ড
রাসেল তাঁর “গধৎৎরধমব ধহফ গড়ৎধষং” গ্রন্থে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি যে, দুটি নরনারীর মধ্যে সবচেয়ে প্রয়োজনীয়
সম্পর্ক যদি কিছু থাকে তা হলো বিবাহ।” মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক প্রভৃতি দিকে বিবাহ যে সকল কার্যাবলী সম্পাদন করে তা নি¤েœ আলোকপাত করা হলো:
ক) পরিবার গঠন: বিবাহ হচ্ছে এমন একটি কার্যপ্রণালী যার মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে। মূলত বিবাহ হচ্ছে পরিবার
গঠনের উপায়। কেননা একজন নারী এবং একজন পুরুষের মাঝে পারিবারিক জীবনের সূচনা ঘটিয়ে দেয় বিবাহ। বিবাহ
ছাড়া পরিবার গঠন অসম্ভব। সুতরাং পরিবার গঠনে বিবাহের গুরুত্ব ও ভূমিকা অগ্রগণ্য।
খ) যৌন চাহিদা পূরণ: মানুষসহ সকল প্রাণীরই যৌন চাহিদা একটা সহজাত প্রবৃত্তি। নির্দিষ্ট বয়সে মানুষের মধ্যে এ চাহিদা
সৃষ্টি হয়, যা পূরণ করা অপরিহার্য। বৈধ ও সমাজস্বীকৃত পন্থায় এ চহিদা পূরণের একমাত্র পথ হচ্ছে বিবাহ। প্রকৃতপক্ষে
নারী ও পুরুষের যৌন সংযোগ সম্পর্কের সামাজিক উদ্দেশ্য হলো সন্তান জন্মদান। বস্তুত এই উদ্দেশ্যকে সফল করে বিবাহ।
গ) সন্তান জন্মদান ও লালনপালন: সন্তান উৎপাদন ও লালনপালন বিবাহের অন্যতম কাজ। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার
গঠিত হয়। আর পরিবার হলো সন্তান উৎপাদন ও লালনপালনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। মানবশিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব
বাবা-মার ওপর। বিবাহের মাধ্যমে বাবা-মা এ দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করায় শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন পালনে কোনো সমস্যা হয় না।
ঘ) উত্তরাধিকার: বিবাহ বংশের ধারা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিবাহিত পিতামাতার সন্তান বংশ
সুরক্ষায় সক্ষম হয়। সন্তান পিতামাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। বিবাহই সন্তানকে অবৈধ সন্তান পরিচয়ের গøানি থেকে
রক্ষা করে পিতৃ পরিচয়ে গৌরবান্বিত করে। সমাজবিজ্ঞানী ম্যালিওনসকির ভাষায়, বিবাহ কেবল যৌন মিলনের অনুমতি দেয় না, বরং পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের দায়িত্ব ন্যাস্ত করে।
ঙ) সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ: বিবাহের অন্যতম প্রধান ভূমিকা হলো সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ। পতিতাবৃত্তি, নৈতিক
অধঃপতন, উচ্ছৃঙ্খলতা ও নেশাগ্রস্ততা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিবাহের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মরণব্যাধি এইডস-এর প্রধান
কারণ হলো বহুগামিতা বা অবাধ যৌনাচার। নিয়ন্ত্রিতভাবে যৌন ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করে বিবাহ এইডস প্রতিরোধে
ভূমিকা পালন করতে পারে।
চ) সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা: বিবাহ নতুন সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে। বিবাহ কেবল দু’জন নর-নারীর মধ্যেই মধুর সম্পর্ক
প্রতিষ্ঠা করে না, দুটো পরিবার তথা দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করে। বিভিন্ন
মানুষ ও পরিবারের মধ্যে সেতু বন্ধন রচনা করে। এতে করে সামাজিক পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়।
ছ) শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ: বিবাহের মাধমে দুজন নরনারী সুখের সংসার গড়ে তোলা সুযোগ পায়। পিতামাতার ¯েœহের
ছায়ায় ও তত্ত¡াবধানে সন্তানের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ সম্ভব হয় এবং তারা সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠে। শিশুর স্বাভাবিক
বৃদ্ধি, বিকাশ ও মানস গঠনে বিবাহ কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।
জ) সমাজের স্থায়িত্ব রক্ষা: সমাজের স্থায়িত্ব ও সংহতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও বিবাহের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। বিবাহের মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পরিবারিক এবং সামাজিক সম্পর্ক প্রসারিত হয়ে পরিবারিক ও সামাজিক ঐক্য সৃষ্টি করে। এ ধরনের ঐক্য
সমাজে স্থায়িত্ব, সংহতি ও গঠনমূলক পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক।
উপর্যুক্ত কার্যাবলী ছাড়াও বিবাহ ধর্মীয় নীতিমালা প্রতিষ্ঠা, প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষা, মানসিক সুস্থতা ও প্রশান্তি আনয়ন, আর্থিক
সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, সামাজিক রীতিনীতি বজায় রাখা এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
৪.২.৪ পরিবারের কার্যাবলী
সমাজবিজ্ঞানী জিসবার্ট পরিবারকে সমাজের জন্মকোষ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরিবারের
কার্যাবলীর সঠিক সীমারেখা টানা যায় না। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের কার্যাবলীও পরিবর্তিত হচ্ছে। বিভিন্ন
সমাজবিজ্ঞানী পরিবারের কার্যাবলী সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত প্রদান করেছেন। করহমংষবু উধারং এবং ইড়ঃঃড়সড়ৎব
পরিবার কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলীকে চার ভাগে ভাগ করেছেনÑ ১) সন্তান প্রজনন (২) সন্তান প্রতিপালন (৩) কর্মনিযুক্তির
ব্যবস্থা, এবং (৪) সামাজিকীকরণ। গ.ঋ. (১৯৪৭) তাঁদের “ গ্রন্থে পরিবার দ্বারা সম্পাদিত কার্যাবলীকে ছয়টি ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথাÑ (১) ¯েœহ সম্পর্কিত, (২)
অর্থনৈতিক, (৩) প্রমোদমূলক, (৪) নিরাপত্তামূলক, (৫) ধর্মীয় এবং (৬) শিক্ষা বিষয়ক। সমাজবিজ্ঞানীদের দেওয়া
মতামতের ওপর ভিত্তি করে পরিবারের সামগ্রিক কার্যাবলী নিচে আলোচনা করা হলো:
ক) জৈবিক চাহিদা পূরণ: মানুষের অন্যতম সহজাত প্রবৃত্তি ও মৌল চাহিদা হচ্ছে জৈবিক চাহিদা। নারী-পুরুষ বিবাহের
মাধ্যমে পরিবার গঠনের মধ্য দিয়ে জৈবিক চাহিদা পূরণ করে থাকে। সুতরাং জৈবিক চাহিদা পূরণ পরিবারের অন্যতম মৌলিক কাজ।
খ) মনস্তাত্তি¡ক চাহিদা পূরণ: পরিবার ¯েœহ-ভালোবাসা, মায়া-মমতা, আদর-যতœ, সহানুভূতি-সহমর্মিতা, প্রেম-প্রীতি প্রভৃতির
মাধ্যমে মনস্তাত্তি¡ক কাজ সম্পন্ন করে।
গ) অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ: সামাজিক একক হিসেবে পরিবারকে নানাবিধ অর্থনৈতিক কাজ সম্পাদন করতে হয়। জীবন
ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর উৎপাদন, সংগ্রহ, বন্টন, কর্মসংস্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঘ) সন্তান জন্মদান ও লালনপালন: পরিবার সন্তান জন্মদান ও রক্ষণাবেক্ষণের ধারক ও বাহক। মানবসমাজে সন্তান
প্রজননের একমাত্র স্বীকৃত সংস্থা হলো পরিবার। সুতরাং সন্তান জন্মদান ও প্রতিপালনে পরিবার মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
ঙ) শিশুশিক্ষার কেন্দ্র: পরিবার হচ্ছে মানব জীবনের শাশ্বত বিদ্যাপিঠ। প্রতিটি শিশু পরিবার থেকে পারস্পরিক আচরণ,
নীতিবোধ, আদর্শ ইত্যাদি গুণ শিখে থাকে। তাই পরিবারকে নাগরিকের প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র বলা হয়। পরিবারকে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা যায়, যার প্রধান পিতা বা মাতা। এ পরিমন্ডল থেকে সন্তান-সন্ততি নেতৃত্ব, দায়িত্ব, কর্তব্য,
নিয়মশৃঙ্খলা, অধিকার, আনুগত্য ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে।
চ) ধর্মীয় শিক্ষার সূতিকাগার: পরিবার শিশুদের ধর্মীয়শিক্ষা প্রদানে অনন্য ভূমিকা পালন করে। ধর্মীয় রীতিনীতি, আচারঅনুষ্ঠান, নৈতিকতা, সততা, চরিত্র গঠন প্রভৃতি শিক্ষা দেয় পরিবার।
ছ) শিশুর সামাজিকীকরণ: মানবশিশুর সামাজিকীকরণ পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শিশুকে সামাজিক জীবনের
নিয়ম-কানুন, রীতিনীতি, আদর্শ, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাা দিয়ে গঠনমূলক আচরণ বিকাশে
পরিবারের ভূমিকা অনন্য। এসব পদক্ষেপ শিশুর সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
এছাড়া পরিবার তার সদস্যদের নিরাপত্তা বিধান, সামাজিক পরিচিতি ও মর্যাদা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, উত্তরাধিকার সংরক্ষণ,
বিবাহদান, মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ প্রভৃতি কার্যসম্পাদন করে। পরিশেষে বলা যায়, পরিবার হলো মানব প্রকৃতির
নার্সারি ও সামাজিক প্রথার সূতিকাগার। একটি সুন্দর জীবন, সুন্দর সমাজ, সুসংগঠিত জাতি ও রাষ্ট্রগঠনে পরিবারের
ভূমিকা সর্বজনীন। অধ্যাপক রোজের মতে,
সারসংক্ষেপ বিবাহ হচ্ছে সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্ম কর্তৃক অনুমোদিত এমন একটি সামাজিক চুক্তি, যার মাধ্যমে একজন পুরুষ ও
একজন নারী একত্রে বসবাস করার চূড়ান্ত ক্ষমতা অর্জন করে। অন্যদিকে, পরিবার হচ্ছে সমাজ কর্তৃক অনুমোদিত ও
স্বীকৃত এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে স্বামী-স্ত্রী সন্তানসহ একত্রে বসবাস করে। মানবসমাজে বিবাহ একটি সর্বজনীন
প্রথা ও প্রতিষ্ঠান। সমাজবদ্ধ মানুষের সামাজিক জীবন সুশৃঙ্খল, গঠনমূলক ও স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক
প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বিবাহের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। বিবাহ ধর্মীয় নীতিমালা প্রতিষ্ঠা, প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষা, মানসিক সুস্থতা ও
প্রশান্তি আনয়ন, আর্থিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান করে, সামাজিক রীতিনীতি বজায় রাখে
এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও বিকাশ ঘটায়। আবার পরিবার তার সদস্যদের নিরাপত্তাবিধান, সামাজিক পরিচিতি ও মর্যাদা,
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, উত্তরাধিকার সংরক্ষণ, বিবাহদান, মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ প্রভৃতি কার্যসম্পাদন করে। পরিবার
হলো মানব প্রকৃতির নার্সারি ও সামাজিক প্রথার সূতিকাগার। একটি সুন্দর জীবন, সুন্দর সমাজ, সুসংগঠিত জাতি ও রাষ্ট্রগঠনে বিবাহ ও পরিবারের ভূমিকা সর্বজনীন।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৪.২
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। দুইজন নরনারীর মধ্যকার সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্ম কর্তৃক অনুমোদিত সামাজিক চুক্তি কোনটি?
ক) বিবাহ খ) পরিবার
গ) জ্ঞাতি সম্পর্ক ঘ) উত্তরাধিকার
২। পরিবারের কার্যাবলী হলোÑ
র. নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ করা
রর. শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া
ররর. সদস্যদের নিরাপত্তা বিধান, সামাজিক পরিচিতি ও মর্যাদাদান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) র ও ররর
গ) রর ও ররর ঘ) র, রর ও ররর