নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ধারাসমূহ বর্ণনা কর
১. নারী নির্যাতন বাংলাদেশে নিত্য ঘটনা। নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন, অপহরণ, যৌতুকের কারণে হত্যা, ধর্ষণ,
ধর্ষণের উদ্দেশ্যে হত্যা প্রভৃতি অপরাধ উল্লেখযোগ্য। সমাজে নারীকে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রণীত হয় নারী
নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩। এ আইনটি ১৯৮৩ সালের ৩ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে কার্যকর হয়। এ আইনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১। শিরোনাম ও প্রয়োগ: এ অধ্যাদেশ নারীদের প্রতি নৃশংস আচরণ বা নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮০
হিসেবে অভিহিত হবে। বাংলাদেশের সকল নাগরিক, তারা যেখানে থাকুক না কেন এবং বাংলাদেশে সাময়িকভাবে
বসবাসরত যে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে।
২। অন্যান্য সকল আইনের ওপর এর প্রাধান্য: বর্তমানে প্রচলিত সকল আইনের ওপর এ আইনের বিধানসমূহ কার্যকর হবে।
৩। বে-আইনি বা অসৎ উদ্দেশ্যে নারী অপহরণ বা অপহরণের শাস্তি: যদি কোনো ব্যক্তি যে কোনো বয়সী নারীকে
জোরপূর্বক অপহরণ করে পতিতাবৃত্তি বা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়োগ বা ব্যবহার করে, নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে
কোনো ব্যক্তিকে বিবাহ করতে বাধ্য করে অথবা অবৈধ যৌনসঙ্গমে বল প্রয়োগ বা প্রলুদ্ধ করো, তবে ঐ ব্যক্তি
যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা চৌদ্দ বছর সশ্রম কারাদন্ড বা অর্থদন্ড (এক লাখ টাকা পর্যন্ত) বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৪। নারী ব্যবসা পরিচালনার শাস্তি: যে কেউ যে কোনো বয়সের নারীকে যদি পতিতাবৃত্তি বা কোনো ব্যক্তির সাথে নিষিদ্ধ
যৌনসঙ্গমের উদ্দেশ্যে বা কোনো বেআইনি ও অনৈতিক উদ্দেশ্যে আমদানি-রপ্তানি বা বিক্রি করে, ভাড়া দেয় বা
অন্যভাবে হস্তান্তর করে বা ক্রয় করে বা অন্যদের কোনোভাবে দখলে নেয়, তবে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন
কারাদন্ড বা চৌদ্দ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড যা সাত বছরের কম হবে না বা অর্থদন্ড অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৫। যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি: যদি কোনো নারীর স্বামী বা স্বামীর পিতামাতা বা অভিভাবক বা আত্মীয়স্বজন
যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটায় বা ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা
চৌদ্দ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড বা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৬। ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি: যদি কেউ ধর্ষণ করতে গিয়ে বা ধর্ষণের চেষ্টা করে কোনো নারীর মৃত্যু ঘটায়
অথবা ধর্ষণের পরে যদি নারীকে হত্যা করে তবে সে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন করাদন্ড এবং অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
৭। ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত করার শাস্তি: যদি কেউ ধর্ষণ করতে গিয়ে অথবা ধর্ষণের চেষ্টা করতে গিয়ে
কোনো নারীর মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করে বা গুরুতর আঘাত করে, তাহলে সে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা চৌদ্দ বছর মেয়াদের কারাদন্ড বা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে।
৮। অপরাধের সহায়তা ও প্ররোচনা: যদি কেউ এ অধ্যাদেশের দন্ডনীয় কোনো অপরাধের সহায়তা করে বা প্ররোচনা দেয়,
তাহলে অপরাধের জন্য যে শাস্তি, ওই ক্ষেত্রে সে একই শাস্তি ভোগ করবে।
নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ নারী সমাজের নিরাপত্তা বিধান, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সকল প্রকার
নির্যাতন থেকে নারীকে রক্ষার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে নারীকে দিয়ে অবৈধ ও অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনাসহ নারীকে যথেচ্ছা ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
নারী নির্যাতন বাংলাদেশে নিত্য ঘটনা। নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন, অপহরণ, যৌতুকের কারণে হত্যা, ধর্ষণ,
ধর্ষণের উদ্দেশ্যে হত্যা প্রভৃতি অপরাধ উল্লেখযোগ্য। সমাজে নারীকে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রণীত হয় নারী
নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩। এ আইনটি ১৯৮৩ সালের ৩ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে কার্যকর হয়।
১৯৮৩ সালের এই আইন নারী সমাজের নিরাপত্তা বিধান, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সকল প্রকার নির্যাতন থেকে নারীকে
রক্ষার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে নারীকে দিয়ে অবৈধ ও অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনাসহ নারীকে যথেচ্ছা ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৬
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী ধর্ষণের ফলে মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি কী?
ক) মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড খ) মৃত্যুদন্ড বা ১৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
গ) মৃত্যুদন্ড বা ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ঘ) যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
২। নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি কী?
ক) মৃত্যুদন্ড বা ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড খ) মৃত্যুদন্ড বা ২০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
গ) মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড ঘ) যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
ধর্ষণের উদ্দেশ্যে হত্যা প্রভৃতি অপরাধ উল্লেখযোগ্য। সমাজে নারীকে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রণীত হয় নারী
নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩। এ আইনটি ১৯৮৩ সালের ৩ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে কার্যকর হয়। এ আইনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১। শিরোনাম ও প্রয়োগ: এ অধ্যাদেশ নারীদের প্রতি নৃশংস আচরণ বা নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮০
হিসেবে অভিহিত হবে। বাংলাদেশের সকল নাগরিক, তারা যেখানে থাকুক না কেন এবং বাংলাদেশে সাময়িকভাবে
বসবাসরত যে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে।
২। অন্যান্য সকল আইনের ওপর এর প্রাধান্য: বর্তমানে প্রচলিত সকল আইনের ওপর এ আইনের বিধানসমূহ কার্যকর হবে।
৩। বে-আইনি বা অসৎ উদ্দেশ্যে নারী অপহরণ বা অপহরণের শাস্তি: যদি কোনো ব্যক্তি যে কোনো বয়সী নারীকে
জোরপূর্বক অপহরণ করে পতিতাবৃত্তি বা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়োগ বা ব্যবহার করে, নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে
কোনো ব্যক্তিকে বিবাহ করতে বাধ্য করে অথবা অবৈধ যৌনসঙ্গমে বল প্রয়োগ বা প্রলুদ্ধ করো, তবে ঐ ব্যক্তি
যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা চৌদ্দ বছর সশ্রম কারাদন্ড বা অর্থদন্ড (এক লাখ টাকা পর্যন্ত) বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৪। নারী ব্যবসা পরিচালনার শাস্তি: যে কেউ যে কোনো বয়সের নারীকে যদি পতিতাবৃত্তি বা কোনো ব্যক্তির সাথে নিষিদ্ধ
যৌনসঙ্গমের উদ্দেশ্যে বা কোনো বেআইনি ও অনৈতিক উদ্দেশ্যে আমদানি-রপ্তানি বা বিক্রি করে, ভাড়া দেয় বা
অন্যভাবে হস্তান্তর করে বা ক্রয় করে বা অন্যদের কোনোভাবে দখলে নেয়, তবে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন
কারাদন্ড বা চৌদ্দ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড যা সাত বছরের কম হবে না বা অর্থদন্ড অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৫। যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি: যদি কোনো নারীর স্বামী বা স্বামীর পিতামাতা বা অভিভাবক বা আত্মীয়স্বজন
যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটায় বা ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা
চৌদ্দ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড বা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
৬। ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি: যদি কেউ ধর্ষণ করতে গিয়ে বা ধর্ষণের চেষ্টা করে কোনো নারীর মৃত্যু ঘটায়
অথবা ধর্ষণের পরে যদি নারীকে হত্যা করে তবে সে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন করাদন্ড এবং অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
৭। ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত করার শাস্তি: যদি কেউ ধর্ষণ করতে গিয়ে অথবা ধর্ষণের চেষ্টা করতে গিয়ে
কোনো নারীর মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করে বা গুরুতর আঘাত করে, তাহলে সে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা চৌদ্দ বছর মেয়াদের কারাদন্ড বা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে।
৮। অপরাধের সহায়তা ও প্ররোচনা: যদি কেউ এ অধ্যাদেশের দন্ডনীয় কোনো অপরাধের সহায়তা করে বা প্ররোচনা দেয়,
তাহলে অপরাধের জন্য যে শাস্তি, ওই ক্ষেত্রে সে একই শাস্তি ভোগ করবে।
নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ নারী সমাজের নিরাপত্তা বিধান, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সকল প্রকার
নির্যাতন থেকে নারীকে রক্ষার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে নারীকে দিয়ে অবৈধ ও অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনাসহ নারীকে যথেচ্ছা ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
নারী নির্যাতন বাংলাদেশে নিত্য ঘটনা। নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন, অপহরণ, যৌতুকের কারণে হত্যা, ধর্ষণ,
ধর্ষণের উদ্দেশ্যে হত্যা প্রভৃতি অপরাধ উল্লেখযোগ্য। সমাজে নারীকে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রণীত হয় নারী
নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩। এ আইনটি ১৯৮৩ সালের ৩ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে কার্যকর হয়।
১৯৮৩ সালের এই আইন নারী সমাজের নিরাপত্তা বিধান, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সকল প্রকার নির্যাতন থেকে নারীকে
রক্ষার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে নারীকে দিয়ে অবৈধ ও অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনাসহ নারীকে যথেচ্ছা ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.৬
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন :
১। নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী ধর্ষণের ফলে মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি কী?
ক) মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড খ) মৃত্যুদন্ড বা ১৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
গ) মৃত্যুদন্ড বা ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ঘ) যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
২। নারী নির্যাতন (নিবর্তক শাস্তি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি কী?
ক) মৃত্যুদন্ড বা ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড খ) মৃত্যুদন্ড বা ২০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
গ) মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড ঘ) যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড