সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচিতি: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং বাস্তবায়ন কৌশল
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পৃথক ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হিসেব পরিচিতি লাভ করে ১৯৮৯ সালে। এর পূর্বে এ
মন্ত্রণালয়টি বিভিন্ন মন্ত্রনায়য়ের সাথে যৌথ মন্ত্রণালয় হিসেবে সংযুক্ত ছিল।
তৎকালীণ পাকিস্তান আমলে এ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ
মন্ত্রণালয় এবং শ্রম, জনশক্তি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিত
ছিল। পরবর্তীতে এ মন্ত্রণালয় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক
মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করে যা ১৯৮৯ সালের অক্টোবর মাস
পর্যন্ত বহাল ছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে মহিলা ও শিশু
বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নামে পৃথক দু’টি
মন্ত্রণালয়ের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে
সমাজসেবা অধিদফতর দেশের সামগ্রিক সরকারি-বেসরকারি সমাজকল্যাণ
কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
৬.২.১ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভিশন বা লক্ষ্য হচ্ছে উন্নত জীবন এবং যতœশীল সমাজ গঠন করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সামাজিক
সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নত জীবন প্রস্তুত করার
মিশন বা উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ মহিলা ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী
ব্যক্তিদের ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রবর্তনের
ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ব্যাপকভাবে সমাদৃত। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ হচ্ছে:
ক) মানব সম্পদ উন্নয়ন;
খ) দারিদ্র্য হ্রাসকরণ;
গ) সমাজের অনগ্রসর ও দুর্বল অংশগ্রহণের কল্যাণ, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন;
ঘ) সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাকরণ; এবং
ঙ) ব্যক্তির সর্বোচ্চ বিকাশে সহায়তা দান।
৬.২.৩ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতি বাস্তবায়নের কৌশলসমূহ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের অবহেলিত, উপেক্ষিত, দারিদ্র্য পীড়িত এবং সামাজিক সমস্যায় সমস্যাগ্রস্ত মানুষের সমস্যা
সমাধান এবং সর্বোচ্চ মানবিক মর্যাদা প্রদানের লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতি বাস্তবায়নের
কৌশল হচ্ছে পাঁচটি। কৌশলগুলো হচ্ছে:
ক) লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচির বাস্তবায়ন;
খ) সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় লক্ষ্যভুক্ত দলের মতামতের প্রতি গুরুত্বারোপ;
গ) প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি (রহঢ়ঁঃ) সরবারাহ নিশ্চিতকরণ;
ঘ) ফলাবর্তন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য মূল্যায়ন; এবং
ঙ) নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য অনুভূত চাহিদার (ভবষঃ হববফং) প্রতি গুরুত্বারোপ।
পরিশেষে বলা যায়, মানব সম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাসকরণ, সমাজের অনগ্রসর ও দুর্বল অংশের কল্যাণ, উন্নয়ন ও
ক্ষমতায়ন, সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাকরণ এবং ব্যক্তির সর্বোচ্চ বিকাশে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
বিভিন্ন কৌশলনির্ভর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের অবহেলিত, দুঃস্থ, উপেক্ষিত তথা সমস্যাগ্রস্ত মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সারসংক্ষেপ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৯৮৯ সালে পৃথক ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হিসেব পরিচিতি লাভ করে। উন্নত জীবন এবং যতœশীল
সমাজ গঠন করার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে লক্ষ্যভুক্ত
জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচির বাস্তবায়ন; সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় লক্ষ্যভুক্ত দলের মতামতের প্রতি
গুরুত্বারোপ; প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি (রহঢ়ঁঃ) সরবারাহ নিশ্চিতকরণ; ফলাবর্তন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য মূল্যায়ন; এবং নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য অনুভূত চাহিদার (ভবষঃ হববফং) প্রতি গুরুত্বারোপ এই পাঁচটি কৌশল অবলম্বন করে থাকে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৬.২
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন:
১। কবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পৃথক ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হিসেব পরিচিতি লাভ করে?
ক) ১৯৮৮ সালের অক্টোবর মাসে খ) ১৯৮৮ সালের নভেম্বর মাসে
গ) ১৯৮৯ সালে অক্টোবর মাসে ঘ) ১৯৮৯ সালে নভেম্বর মাসে
২। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতি বাস্তবায়নের কৌশল কয়টি?
ক) চারটি খ) পাঁচটি
গ) ছয়টি ঘ) সাতটি
মন্ত্রণালয়টি বিভিন্ন মন্ত্রনায়য়ের সাথে যৌথ মন্ত্রণালয় হিসেবে সংযুক্ত ছিল।
তৎকালীণ পাকিস্তান আমলে এ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ
মন্ত্রণালয় এবং শ্রম, জনশক্তি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিত
ছিল। পরবর্তীতে এ মন্ত্রণালয় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক
মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করে যা ১৯৮৯ সালের অক্টোবর মাস
পর্যন্ত বহাল ছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে মহিলা ও শিশু
বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নামে পৃথক দু’টি
মন্ত্রণালয়ের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে
সমাজসেবা অধিদফতর দেশের সামগ্রিক সরকারি-বেসরকারি সমাজকল্যাণ
কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
৬.২.১ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভিশন বা লক্ষ্য হচ্ছে উন্নত জীবন এবং যতœশীল সমাজ গঠন করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সামাজিক
সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নত জীবন প্রস্তুত করার
মিশন বা উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ মহিলা ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী
ব্যক্তিদের ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রবর্তনের
ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ব্যাপকভাবে সমাদৃত। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ হচ্ছে:
ক) মানব সম্পদ উন্নয়ন;
খ) দারিদ্র্য হ্রাসকরণ;
গ) সমাজের অনগ্রসর ও দুর্বল অংশগ্রহণের কল্যাণ, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন;
ঘ) সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাকরণ; এবং
ঙ) ব্যক্তির সর্বোচ্চ বিকাশে সহায়তা দান।
৬.২.৩ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতি বাস্তবায়নের কৌশলসমূহ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের অবহেলিত, উপেক্ষিত, দারিদ্র্য পীড়িত এবং সামাজিক সমস্যায় সমস্যাগ্রস্ত মানুষের সমস্যা
সমাধান এবং সর্বোচ্চ মানবিক মর্যাদা প্রদানের লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতি বাস্তবায়নের
কৌশল হচ্ছে পাঁচটি। কৌশলগুলো হচ্ছে:
ক) লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচির বাস্তবায়ন;
খ) সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় লক্ষ্যভুক্ত দলের মতামতের প্রতি গুরুত্বারোপ;
গ) প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি (রহঢ়ঁঃ) সরবারাহ নিশ্চিতকরণ;
ঘ) ফলাবর্তন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য মূল্যায়ন; এবং
ঙ) নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য অনুভূত চাহিদার (ভবষঃ হববফং) প্রতি গুরুত্বারোপ।
পরিশেষে বলা যায়, মানব সম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাসকরণ, সমাজের অনগ্রসর ও দুর্বল অংশের কল্যাণ, উন্নয়ন ও
ক্ষমতায়ন, সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাকরণ এবং ব্যক্তির সর্বোচ্চ বিকাশে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
বিভিন্ন কৌশলনির্ভর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের অবহেলিত, দুঃস্থ, উপেক্ষিত তথা সমস্যাগ্রস্ত মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সারসংক্ষেপ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৯৮৯ সালে পৃথক ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হিসেব পরিচিতি লাভ করে। উন্নত জীবন এবং যতœশীল
সমাজ গঠন করার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে লক্ষ্যভুক্ত
জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচির বাস্তবায়ন; সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় লক্ষ্যভুক্ত দলের মতামতের প্রতি
গুরুত্বারোপ; প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি (রহঢ়ঁঃ) সরবারাহ নিশ্চিতকরণ; ফলাবর্তন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য মূল্যায়ন; এবং নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য অনুভূত চাহিদার (ভবষঃ হববফং) প্রতি গুরুত্বারোপ এই পাঁচটি কৌশল অবলম্বন করে থাকে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৬.২
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন:
১। কবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পৃথক ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হিসেব পরিচিতি লাভ করে?
ক) ১৯৮৮ সালের অক্টোবর মাসে খ) ১৯৮৮ সালের নভেম্বর মাসে
গ) ১৯৮৯ সালে অক্টোবর মাসে ঘ) ১৯৮৯ সালে নভেম্বর মাসে
২। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতি বাস্তবায়নের কৌশল কয়টি?
ক) চারটি খ) পাঁচটি
গ) ছয়টি ঘ) সাতটি