জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জাতীয় মানবাধিকার কমিনের কার্যক্রমসমূহ বর্ণনা কর

মানুষের বিকাশ এবং স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তায় অত্যাবশকীয় সুযোগ-সুবিধাগুলোই মানবাধিকার।
মানবাধিকার রক্ষা, নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়ন প্রতিটি রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। মানবাধিকার
সর্বজনীন। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের মানবাধিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। মানুষ হিসেবে পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য এ
অধিকারের আবশ্যকতা রয়েছে। জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা
হয়। এজন্য প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস
হিসেবে পালন করা হয়। মানবাধিকার ঘোষণায় মোট ২৫ টি
মানবাধিকরের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে ১৯ টি নাগরিক ও
রাজনৈতিক অধিকার এবং ৬ টি আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
অধিকার রয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্র তার মানবাধিকার পরিস্থিতির
মূল্যায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গঠন
করে। বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রথম
উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৯৮ সালে। টঘউচ এর সহায়তায় একটি
আইনের খসড়া তৈরি করা হলেও দীর্ঘদিন তা স্থবির থাকে।
পরবর্তীতে জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশ, ২০০৭ এর মাধ্যমে ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রথম জাতীয় মানবাধিকার
কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করে। ২০০৭ সালে প্রণীত এই অধ্যাদেশ বাতিল করে
জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ১৯৯৩ সালে গৃহীত ‘প্যারিস নীতিমালা’য় উল্লেখ করা হয় যে, ‘‘জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান
গঠনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, কার্যকারিতা এবং সকলের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।” প্যারিস নীতিমালা এবং
২০০৯-এর মানবাধিকার আইন অনুসারেই একটি স্বাধীন এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে মানবাধিকার
কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার
কমিশন তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
৬.১৩.২ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রধান কাজ হচ্ছে মানবাধিকার শিক্ষা ও প্রচারণা, সেমিনার ও ওয়ার্কসপ, পরিদর্শন এবং
গবেষণা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নি¤েœাক্ত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করছেÑ
ক্স কমিশন যেকোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত অভিযোগের তদন্ত করা। কমিশনে অভিযোগ দায়ের না করা
হলেও কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ গঠন করা;
ক্স জেলখানা, থানা হেফাজত ইত্যাদি আটকের স্থান পরিদর্শন করে তার উন্নয়নের কাজ সরকারের কাছে সুপারিশ করা;
ক্স হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে সেসবের উন্নয়নে সরকারকে সুপারিশ প্রদান;
ক্স সংবিধান অথবা দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ পর্যালোচনা করে এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সুপারিশ প্রদান;
ক্স আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে দেশীয় আইনের সমাঞ্জস্যবিধানে ভূমিকা রাখা;
ক্স মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা;
ক্স প্রচার ও প্রকাশনার মাধ্যমে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করা;
ক্স আপোষের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য কোনো অভিযোগ মধ্যস্ততা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা; এবং ক্স মানবাধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যসহ অন্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নি¤েœ চিত্রের সাহায্যে উপস্থপন করা হলো:
পুনর্গঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পরপরই প্রথম যে কাজ হাতে নেয় তা হচ্ছে পাঁচবছর মেয়াদি একটি
কৌশলপত্র প্রণয়ন করা। মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একজন বিশেষজ্ঞের সহায়তায়
কৌশলপত্রটির খসড়া তৈরি করা হয়। খসড়া কৌশলপত্রে ১৬ টি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যূ হিসেবে চিহ্নিত করা
হয়। বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন অভিযোগকারীর দাবি আদায়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।
সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের প্যারিস নীতিমালা,
১৯৯৩ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ অনুসারে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান
হিসেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংবিধান অনুযায়ী মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৬.১৩
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন:
১। বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রথম উদ্যোগ কোন সংস্থা সহায়তা করেছিলো?
ক) টঘউচ খ) টঘ
গ) টঘঊচ ঘ) ঐজঈ
২। জাতিসংঘ সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে কবে?
ক) ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর খ) ১৯৪৭ সালের ১০ ডিসেম্বর
গ) ১৯৪৮ সালের ১০ অক্টোবর ঘ) ১৯৪৭ সালের ১০ অক্টোবর