গ্রামীণ ব্যাংক’র কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ

সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের সুনির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে। সমাজকর্মের
মৌলিক পদ্ধতির সাথে সহায়ক পদ্ধতির প্রয়োগ গ্রামীণ ব্যাংক’র বিভিন্ন কার্যক্রমে লক্ষণীয়। গ্রামীণ দরিদ্র মহিলাদের আর্থ-
সামাজিক উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংক, মডেল ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আত্ম সচেতনাবোধ
সম্পন্ন আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক কার্যকর ভাবে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ বঞ্চিত, নির্যাতিত,
ভূমিহীন, দরিদ্র, বৈষম্যপীড়িত নারীদের উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংক ঋণ প্রদান করে থাকে এবং প্রয়োজনীয় জীবনমুখী প্রশিক্ষণ
দিয়ে থাকে। এসব কর্মকাÐে যেমন মা ও শিশুকল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রæতি থাকে তেমনি পরিবার কল্যাণ ও
শ্রমকল্যাণের নিশ্চয়তা থাকে যা সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতির অন্যতম ব্যক্তি সমাজকর্মের পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটে।
গ্রামীণ ব্যাংকে আয়বর্ধন কর্মকান্ডের জন্য ঋণ প্রদান করে আসছে। গ্রামীণ ব্যাংক’র আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ডে ঋণ প্রদানের
লক্ষ্য হলো বিভিন্ন সমবায় কর্মকান্ড ও দলীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র জনগণকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। গ্রামীণ
ব্যাংকের সদস্যদের ৯৭ শতাংশ হলো গ্রামীণ দরিদ্র ও ভূমিহীন নারী, যারা অঞ্চলভিত্তিক নিজেরা দল গঠন করে, দলের
উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে এবং এর মাধ্যমে দলীয় গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। ঋণ গ্রহণকারী এসব নারী সদস্যরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ
করতে পারেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত তুলে ধরতে পারেন। সুতরাং দল তৈরি করা, দলীয় পারস্পরিক
তথ্য বিনিময়, মতামত প্রদান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকে দল সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যায়।
অধিকাংশ রাষ্ট্রেই দারিদ্র্য বিশ্লেষণ ও পল্লী উন্নয়ন অনেকখানি নির্ভর করে লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সক্রিয় মতামত প্রদান ও
অংশগ্রহণের উপর। লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীকে একতাবদ্ধ করা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি করা, স্বীয় প্রতিভার বিকাশ,
আত্মসচেতনা বোধ জাগ্রতকরণে সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্টির জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত
করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতির প্রয়োগ। গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে উন্নতমানের
কৃষিজাত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বীজ সরবরাহ, সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা, কৃষি পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ দান, মূলধন সরবরাহ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে।
সারসংক্ষেপ
ভূমিহীন দরিদ্র নারীদের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আনয়ন করার ক্ষেত্রে ব্যক্তি সমাজকর্ম
পদ্ধতির প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সংঘবদ্ধ করে। সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে দল গঠন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণে গ্রামীণ ব্যাংকে সমাজ কর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৭.৫
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন:
১। আয়বর্ধন মূলক কর্মকান্ডে ঋণ সংগ্রহকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মতামত প্রদান কোন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য?
(ক) দল সমাজকর্ম (খ) ব্যক্তি সমাজকর্ম
(গ) সমাজ উন্নয়ন (ঘ) সমাজকর্ম প্রশাসন
২। গ্রামীণ ব্যাংকের কোন কর্মসূচিতে ব্যক্তির সমাজকর্মের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়?
(ক) ক্ষুদ্রঋণে কর্মসূচিতে (খ) পরিবার ও শিশু কল্যাণ কর্মসূচি
(গ) মৎসচাষ কর্মসূচিতে (ঘ) কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচিতে