বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজউন্নয়ন কার্যক্রম
আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে সাধারণত এমন সংস্থাকে বোঝানো হয় যা দুইয়ের অধিক দেশে জনগণের সামাজিক,
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কাজ করে, বিশ্বব্যাপী কাজের উপস্থিতি থাকে এবং কাজ করার পরিধি বিস্তৃত
থাকে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সাধারণত বৈশ্বিক ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত হয়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত, দারিদ্র্য কবলিত, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও পুনবার্সন কার্যক্রম জোরদার;
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাপী কাজ করে। সমাজ
উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থার অবদান বিশ্বব্যাপী। বিশেষকরে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভিন্ন স্বল্পোন্নত
দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোতে সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে আন্তর্জাতিক সংস্থার অবদান অনস্বীকার্য। অধ্যাপক কুহন্সি রাইট (ছঁরহপু
ৎিরমযঃ) এর মতে, কতগুলো সাধারণ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্য বিভিন্ন স্বাধীন রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত
আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সমাজের গঠন ও পরিচালনা ব্যবস্থাই হলো আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য, ক্ষুধা,
রোগ, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিপর্যয় প্রভৃতি থেকে মুক্ত করে শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আন্তর্জাতিক
সংস্থার মূল লক্ষ্য। আন্তজার্তিক সংস্থাকে সাধারণত দু ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত: আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা
যেগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে অলাভজনকভাবে পরিচালিত হয় যেমনÑ স্কাউট মুভমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেড
ক্রস ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত: আন্তঃসরকার সংস্থা ( যেগুলোকে অনেক সময়
আন্তর্জাতিক সরকারি সংস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এসব সংস্থা মূলত বিভিন্ন স্বাধীন রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
যেমনÑ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা, জাতিসংঘ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইত্যাদি।
৮.১.২ বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থার বিবর্তন ও কার্যক্রম
বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম বেশ পুরানো। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে
দুটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পূর্ব পাকিস্তান অংশে কাজ করে আসছিলো। বাংলাদেশে
তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংগঠিত উপরে সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের সূত্রপাত ঘটেছিলো আন্তর্জাতিক সংস্থার
মাধ্যমে। ১৯৫২ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় আগমন করে বিভিন্ন অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ ও
জরিপ পরিচালনা করে। এরই প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সহায়তায় ১৯৫৪ সালে প্রথম ঢাকা প্রজেক্ট নামে পরীক্ষামূলক প্রজেক্ট
চালু হয়। ১৯৫৫ সালে ঢাকার কায়েতটুলীতে শহর সমষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প চালু করা হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে
পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তা ছিলো বর্বরোচিত। বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে
স্বাধীনতা লাভের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রের পুনবার্সন ও উন্নয়নে অনেক আন্তার্জাতিক সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থা
বাংলাদেশে কাজ করছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ ডঐঙ, টঘওঈঊঋ, ডড়ৎষফ ঠরংরড়হ, জবফ ঈৎড়ংং, ঝধাব ঃযব
ঈযরষফৎবহ ইত্যাদি।
সারসংক্ষেপ
সাধারণত বিশ্বমানবের কল্যাণে স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্বন্বয়ে গঠিত কোনো সংস্থাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলা হয়। এসব সংস্থা
বিশ্বব্যাপী দরিদ্র, অবহেলিত, বঞ্চিত ও দুর্যোগকলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে থাকে। বাংলাদেশের সমাজ
উন্নয়নেও আন্তর্জাতিক সংস্থা কার্যকরভাবে অবদান রেখে চলেছে।Ñ WHO, UNICEF, World Vision, Red Cross, Save the Children সহ বিভিন্ন সংস্থা স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক
উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৮.১
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন:
১। কিভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠিত হয়?
(ক) দুই সংস্থার সমন্বয়ে (খ) স্বাধীন রাষ্ট্রের সমন্বয়ে
(গ) দুই ব্যক্তির সমন্বয়ে (ঘ) একক ভাবে
২। কত সালে ঢাকা প্রজেক্ট চালু হয়?
(ক) ১৯৫২ সালে (খ) ১৯৫৪ সালে
(গ) ১৯৫৫ সালে (ঘ) ১৯৫৭ সালে
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কাজ করে, বিশ্বব্যাপী কাজের উপস্থিতি থাকে এবং কাজ করার পরিধি বিস্তৃত
থাকে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সাধারণত বৈশ্বিক ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত হয়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত, দারিদ্র্য কবলিত, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও পুনবার্সন কার্যক্রম জোরদার;
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাপী কাজ করে। সমাজ
উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থার অবদান বিশ্বব্যাপী। বিশেষকরে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভিন্ন স্বল্পোন্নত
দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোতে সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে আন্তর্জাতিক সংস্থার অবদান অনস্বীকার্য। অধ্যাপক কুহন্সি রাইট (ছঁরহপু
ৎিরমযঃ) এর মতে, কতগুলো সাধারণ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্য বিভিন্ন স্বাধীন রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত
আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সমাজের গঠন ও পরিচালনা ব্যবস্থাই হলো আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য, ক্ষুধা,
রোগ, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিপর্যয় প্রভৃতি থেকে মুক্ত করে শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আন্তর্জাতিক
সংস্থার মূল লক্ষ্য। আন্তজার্তিক সংস্থাকে সাধারণত দু ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত: আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা
যেগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে অলাভজনকভাবে পরিচালিত হয় যেমনÑ স্কাউট মুভমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেড
ক্রস ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত: আন্তঃসরকার সংস্থা ( যেগুলোকে অনেক সময়
আন্তর্জাতিক সরকারি সংস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এসব সংস্থা মূলত বিভিন্ন স্বাধীন রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
যেমনÑ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা, জাতিসংঘ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইত্যাদি।
৮.১.২ বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থার বিবর্তন ও কার্যক্রম
বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম বেশ পুরানো। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে
দুটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পূর্ব পাকিস্তান অংশে কাজ করে আসছিলো। বাংলাদেশে
তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংগঠিত উপরে সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের সূত্রপাত ঘটেছিলো আন্তর্জাতিক সংস্থার
মাধ্যমে। ১৯৫২ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় আগমন করে বিভিন্ন অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ ও
জরিপ পরিচালনা করে। এরই প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সহায়তায় ১৯৫৪ সালে প্রথম ঢাকা প্রজেক্ট নামে পরীক্ষামূলক প্রজেক্ট
চালু হয়। ১৯৫৫ সালে ঢাকার কায়েতটুলীতে শহর সমষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প চালু করা হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে
পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তা ছিলো বর্বরোচিত। বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে
স্বাধীনতা লাভের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রের পুনবার্সন ও উন্নয়নে অনেক আন্তার্জাতিক সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থা
বাংলাদেশে কাজ করছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ ডঐঙ, টঘওঈঊঋ, ডড়ৎষফ ঠরংরড়হ, জবফ ঈৎড়ংং, ঝধাব ঃযব
ঈযরষফৎবহ ইত্যাদি।
সারসংক্ষেপ
সাধারণত বিশ্বমানবের কল্যাণে স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্বন্বয়ে গঠিত কোনো সংস্থাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলা হয়। এসব সংস্থা
বিশ্বব্যাপী দরিদ্র, অবহেলিত, বঞ্চিত ও দুর্যোগকলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে থাকে। বাংলাদেশের সমাজ
উন্নয়নেও আন্তর্জাতিক সংস্থা কার্যকরভাবে অবদান রেখে চলেছে।Ñ WHO, UNICEF, World Vision, Red Cross, Save the Children সহ বিভিন্ন সংস্থা স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক
উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৮.১
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন:
১। কিভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠিত হয়?
(ক) দুই সংস্থার সমন্বয়ে (খ) স্বাধীন রাষ্ট্রের সমন্বয়ে
(গ) দুই ব্যক্তির সমন্বয়ে (ঘ) একক ভাবে
২। কত সালে ঢাকা প্রজেক্ট চালু হয়?
(ক) ১৯৫২ সালে (খ) ১৯৫৪ সালে
(গ) ১৯৫৫ সালে (ঘ) ১৯৫৭ সালে