সংবিধান প্রতিষ্ঠার বিভিন্নপদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করুন।
অধ্যাপক গেটেলের মতে চারটি ভিন্নও পৃথক পদ্ধতির মাধ্যমে আধুনিক রাষ্ট্রেসংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। এ পদ্ধতিগুলো হচ্ছে:
১. অনুমোদন সূত্রে;
২. ইচ্ছাকৃত রচনার মাধ্যমে;
৩. ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে;
৪. বিপ্লবের মধ্যমে।
১. অনুমোদন সূত্র
রাষ্ট্রউৎপত্তির বিকাশ ধারার প্রথমাবস্থায় অধিকাংশ রাষ্ট্রেই স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালুছিল। শাসক ছিলেন সেচ্ছাচারী এবং
সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তখনও বিকশিত হয় নি। কিন্তুসময়ের বিবর্তনে গণতান্ত্রিক
মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হলে জনগণের মধ্যে মৌলিক অধিকার সম্পর্কে ধারণা জন্ম লাভ করে। এমতাবস্থায় বিপ্লবের ভয়ে
রাজা বা শাসক একটি বিধিবদ্ধ দলিলের মাধ্যমে জনগণের নিকট শাসন ক্ষমতা প্রয়োগ করার অঙ্গীকার করেন। রাজা প্রদত্ত
চুক্তির এসব শর্তাবলীকে সংবিধান বলে মনে করা হয়। রাজা চুক্তির বিধি বিধানগুলো নিজে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করতেন
না। এ ধরনের চুক্তিই রাজার ক্ষমতার পরিধি অনেকাংশে সীমিত করে। এভাবে ১৮১৪ সালে ফরাসী রাজা অষ্টাদশ লুই, ১৯০৫
সালে রাশিয়ার দ্বিতীয় জার নিকোলাস, ১৮৪৯ সালে অস্ট্রিয়ায় রাজা ফ্রান্সিস জোসেফ এবং জাপানের সম্রাট নিজ নিজ দেশের
সংবিধান ঘোষণা করেন। আর এটিই হল অনুমোদনের মাধ্যমে সংবিধান প্রতিষ্ঠার প্রকৃত পদ্ধতি। অতএব আমরা বলতে পারি
সংবিধান প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদ্ধতি হচ্ছে অনুমোদন পদ্ধতি।
২. ইচ্ছাকৃত রচনা
সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে বিশ্বের কোন কোন দেশে বিশেষ সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে গণপরিষদ খসড়া সংবিধান
প্রণয়ন করে। আইন পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ছাড়া এই খসড়া সংবিধান গৃহীত হলে তা সংবিধান হিসাবে পরিগণিত হয়।
এ ধরনের সংবিধান প্রণয়নের বাস্তব ধারণা রূপলাভ করে ফরাসী বিপ্লব ও ১৭৭৬ সালে ফিলাডেলফিয়া সম্মেলনে আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে। তা’ছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও কমনওয়েলথভুক্ত নতুন রাষ্ট্রগুলোতে এ
পদ্ধতিতে সংবিধান রচিত হয়েছে।
৩. ক্রমবিবর্তন
ঐতিহাসিক বিবর্তনের মাধ্যমেও সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক ধ্যান ধারণা বিকাশের সাথে সাথে
স্বেচ্ছাচারী শাসকদের ক্ষমতা জনপ্রতিনিধিদের হাতে চলে আসে। দীর্ঘদিন ধরে সমাজে প্রচলিত বিধি বিধান ও রাজনৈতিক
প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার কর্তৃক বৈধতা লাভ করে। এসব প্রথা, প্রচলিত নিয়ম ও রীতিনীতিগুলো শেষ পর্যন্তসাংবিধানিক মর্যদা
লাভ করে। এ ধরনের সংবিধান ক্রমবিবর্তনের ফল। এই পদ্ধতিতে প্রণীত সংবিধান তৈরী করা হয় না বরং তা বিকশিত হয়।
ব্রিটেনের সংবিধান এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ইতিহাসের ধারায় ১৬৮৮ সালের গৌরবময় বিপ্লব, ১৬৮৯ সালের বিল অব
রাইটস্, ১৭০১ সালের এ্যাক্ট অব সেটেলমেন্ট ইত্যাদির মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের সংবিধান বিকাশ লাভ করেছে।
বিপ্লবের মাধ্যমেও সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণ যখন প্রচলিত সরকার এবং শাসন ব্যবস্থায় উক্ত সরকার ও শাসন ব্যবস্থাকে
উৎখাত করার পথ না পায় তখনই তারা বিপ্লবের মাধ্যমে তা সাধন করতে অগ্রসর হয়। যখন জনগণ অত্যাচারিত, অপমানিত
এবং লাঞ্চিত হতে থাকে তখন তারা বিপ্লবকেই একমাত্র পরিত্রাণের উপায় বলে মনে করে। কখন ও দেখা যায় যে, বিপ্লবের
ফলে ক্ষমতায় আসা, সামরিক কর্তৃপক্ষ নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরী করে জনগণের নিকট সরাসরি অনুমোদন চেয়ে বসে।
আবার অনেক সময় সামরিক কর্তৃপক্ষ সংবিধান কমিশন গঠনের মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়ন করতে অনুমোদন কামনা করে।
আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন অঙ্গরাজ্যে, ফরাসী বিপ্লবের পর ফ্রান্সে, ১৯১৭ সালে বিপ্লবের পর রাশিয়ায় এবং
সা¤প্রতিককালে স্পেনে উপরোক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সারকথা
সংবিধান প্রতিষ্ঠার বিভিন্নপ্রক্রিয়া রয়েছে। অনুমোদন, ইচ্ছাকৃত রচনা, ক্রমবির্তন ও বিপ্লব প্রভৃতি পদ্ধতির যে কোন একটি
অবলম্বনে করে বিশ্বের বিভিন্নদেশে সংবিধান প্রণয়ন করেছে। তবে একথা সত্য যে, উপরোক্ত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত সংবিধানই শ্রেষ্ঠ সংবিধান বলে স্বীকার করা হয়।
সঠিক উত্তরে টিক () চিহ্ন দিন
১. সংবিধান প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদ্ধতি হচ্ছেক. বৈপ্লবিক পদ্ধতি; খ. অনুমোদন পদ্ধতি;
গ. সংসদীয় পদ্ধতি; ঘ. ইচ্ছাকৃত রচনা।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়ক. ১৭৭৬ সালে; খ. ১৭৭৮ সালে;
গ. ১৭৮৯ সালে; ঘ. ১৯১৭ সালে।
৩. ব্রিটেনের সংবিধান কিভাবে তৈরী হয়েছে ?
ক. বিপ্লবের মাধ্যমে; খ. ইচ্ছাকৃত রচনার মাধ্যমে;
গ. ক্রমবিবর্তনের মধ্য দিয়ে; ঘ. পার্লামেন্টের মাধ্যমে।
৪. ১৯১৭ সালে বিপ্লবের মধ্যদিয়ে সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয় -
ক. রাশিয়ায়; খ. চীনে;
গ. স্পেনে; ঘ. ফ্রান্সে।
উত্তরমালা ঃ ১.খ; ২.ক; ৩.গ; ৪.ক
সংক্ষিপ্ত উত্তরমূলক প্রশ্ন
১. সংবিধান প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাকৃত রচনাপদ্ধতি কি?
রচনামূলক প্রশ্ন
১. সংবিধান প্রতিষ্ঠার বিভিন্নপদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করুন।
১. অনুমোদন সূত্রে;
২. ইচ্ছাকৃত রচনার মাধ্যমে;
৩. ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে;
৪. বিপ্লবের মধ্যমে।
১. অনুমোদন সূত্র
রাষ্ট্রউৎপত্তির বিকাশ ধারার প্রথমাবস্থায় অধিকাংশ রাষ্ট্রেই স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালুছিল। শাসক ছিলেন সেচ্ছাচারী এবং
সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তখনও বিকশিত হয় নি। কিন্তুসময়ের বিবর্তনে গণতান্ত্রিক
মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হলে জনগণের মধ্যে মৌলিক অধিকার সম্পর্কে ধারণা জন্ম লাভ করে। এমতাবস্থায় বিপ্লবের ভয়ে
রাজা বা শাসক একটি বিধিবদ্ধ দলিলের মাধ্যমে জনগণের নিকট শাসন ক্ষমতা প্রয়োগ করার অঙ্গীকার করেন। রাজা প্রদত্ত
চুক্তির এসব শর্তাবলীকে সংবিধান বলে মনে করা হয়। রাজা চুক্তির বিধি বিধানগুলো নিজে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করতেন
না। এ ধরনের চুক্তিই রাজার ক্ষমতার পরিধি অনেকাংশে সীমিত করে। এভাবে ১৮১৪ সালে ফরাসী রাজা অষ্টাদশ লুই, ১৯০৫
সালে রাশিয়ার দ্বিতীয় জার নিকোলাস, ১৮৪৯ সালে অস্ট্রিয়ায় রাজা ফ্রান্সিস জোসেফ এবং জাপানের সম্রাট নিজ নিজ দেশের
সংবিধান ঘোষণা করেন। আর এটিই হল অনুমোদনের মাধ্যমে সংবিধান প্রতিষ্ঠার প্রকৃত পদ্ধতি। অতএব আমরা বলতে পারি
সংবিধান প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদ্ধতি হচ্ছে অনুমোদন পদ্ধতি।
২. ইচ্ছাকৃত রচনা
সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে বিশ্বের কোন কোন দেশে বিশেষ সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে গণপরিষদ খসড়া সংবিধান
প্রণয়ন করে। আইন পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ছাড়া এই খসড়া সংবিধান গৃহীত হলে তা সংবিধান হিসাবে পরিগণিত হয়।
এ ধরনের সংবিধান প্রণয়নের বাস্তব ধারণা রূপলাভ করে ফরাসী বিপ্লব ও ১৭৭৬ সালে ফিলাডেলফিয়া সম্মেলনে আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে। তা’ছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও কমনওয়েলথভুক্ত নতুন রাষ্ট্রগুলোতে এ
পদ্ধতিতে সংবিধান রচিত হয়েছে।
৩. ক্রমবিবর্তন
ঐতিহাসিক বিবর্তনের মাধ্যমেও সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক ধ্যান ধারণা বিকাশের সাথে সাথে
স্বেচ্ছাচারী শাসকদের ক্ষমতা জনপ্রতিনিধিদের হাতে চলে আসে। দীর্ঘদিন ধরে সমাজে প্রচলিত বিধি বিধান ও রাজনৈতিক
প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার কর্তৃক বৈধতা লাভ করে। এসব প্রথা, প্রচলিত নিয়ম ও রীতিনীতিগুলো শেষ পর্যন্তসাংবিধানিক মর্যদা
লাভ করে। এ ধরনের সংবিধান ক্রমবিবর্তনের ফল। এই পদ্ধতিতে প্রণীত সংবিধান তৈরী করা হয় না বরং তা বিকশিত হয়।
ব্রিটেনের সংবিধান এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ইতিহাসের ধারায় ১৬৮৮ সালের গৌরবময় বিপ্লব, ১৬৮৯ সালের বিল অব
রাইটস্, ১৭০১ সালের এ্যাক্ট অব সেটেলমেন্ট ইত্যাদির মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের সংবিধান বিকাশ লাভ করেছে।
বিপ্লবের মাধ্যমেও সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণ যখন প্রচলিত সরকার এবং শাসন ব্যবস্থায় উক্ত সরকার ও শাসন ব্যবস্থাকে
উৎখাত করার পথ না পায় তখনই তারা বিপ্লবের মাধ্যমে তা সাধন করতে অগ্রসর হয়। যখন জনগণ অত্যাচারিত, অপমানিত
এবং লাঞ্চিত হতে থাকে তখন তারা বিপ্লবকেই একমাত্র পরিত্রাণের উপায় বলে মনে করে। কখন ও দেখা যায় যে, বিপ্লবের
ফলে ক্ষমতায় আসা, সামরিক কর্তৃপক্ষ নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরী করে জনগণের নিকট সরাসরি অনুমোদন চেয়ে বসে।
আবার অনেক সময় সামরিক কর্তৃপক্ষ সংবিধান কমিশন গঠনের মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়ন করতে অনুমোদন কামনা করে।
আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন অঙ্গরাজ্যে, ফরাসী বিপ্লবের পর ফ্রান্সে, ১৯১৭ সালে বিপ্লবের পর রাশিয়ায় এবং
সা¤প্রতিককালে স্পেনে উপরোক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সারকথা
সংবিধান প্রতিষ্ঠার বিভিন্নপ্রক্রিয়া রয়েছে। অনুমোদন, ইচ্ছাকৃত রচনা, ক্রমবির্তন ও বিপ্লব প্রভৃতি পদ্ধতির যে কোন একটি
অবলম্বনে করে বিশ্বের বিভিন্নদেশে সংবিধান প্রণয়ন করেছে। তবে একথা সত্য যে, উপরোক্ত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত সংবিধানই শ্রেষ্ঠ সংবিধান বলে স্বীকার করা হয়।
সঠিক উত্তরে টিক () চিহ্ন দিন
১. সংবিধান প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদ্ধতি হচ্ছেক. বৈপ্লবিক পদ্ধতি; খ. অনুমোদন পদ্ধতি;
গ. সংসদীয় পদ্ধতি; ঘ. ইচ্ছাকৃত রচনা।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়ক. ১৭৭৬ সালে; খ. ১৭৭৮ সালে;
গ. ১৭৮৯ সালে; ঘ. ১৯১৭ সালে।
৩. ব্রিটেনের সংবিধান কিভাবে তৈরী হয়েছে ?
ক. বিপ্লবের মাধ্যমে; খ. ইচ্ছাকৃত রচনার মাধ্যমে;
গ. ক্রমবিবর্তনের মধ্য দিয়ে; ঘ. পার্লামেন্টের মাধ্যমে।
৪. ১৯১৭ সালে বিপ্লবের মধ্যদিয়ে সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয় -
ক. রাশিয়ায়; খ. চীনে;
গ. স্পেনে; ঘ. ফ্রান্সে।
উত্তরমালা ঃ ১.খ; ২.ক; ৩.গ; ৪.ক
সংক্ষিপ্ত উত্তরমূলক প্রশ্ন
১. সংবিধান প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাকৃত রচনাপদ্ধতি কি?
রচনামূলক প্রশ্ন
১. সংবিধান প্রতিষ্ঠার বিভিন্নপদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করুন।