‘মৌলিক অধিকার উত্তম সংবিধানের বিশেষ দিক’ ব্যাখ্যা করুন।
একটি দেশের সংবিধানের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের মূল ক্ষমতা কোথায় তা নির্ধারণ করা এবং সরকারের বিভিন্নবিভাগের
মধ্যে বিরাজমান ক্ষমতা সম্পর্কের সঠিক বিবরণ দেয়া। সংবিধান রাষ্ট্রের মৌলিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন, আইন
বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচকমন্ডলী প্রভৃতির মধ্যকার ক্ষমতা সম্পর্ক কেমন হবে ইত্যাদির
নির্দেশ দান করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সুতরাং সংবিধান হচ্ছে একটি দর্পনস্বরূপ।
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতি সাধনের জন্য রাষ্ট্রেএকটি উত্তম সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা
অনস্বীকার্য। কি কি বৈশিষ্ট্য বা গুনাবলী থাকলে একটি সংবিধান উত্তম বলে বিবেচিত হবে এ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ
নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। যথাঃ
১. সুষ্পষ্টতা : উত্তম সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সুষ্পষ্টতা। সংবিধান সুষ্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হওয়া দরকার, যেন সংবিধানটি
বুঝতে কারও অসুবিধা না হয়। সুতরাং উত্তম সংবিধান অর্থপূর্ণ, প্রাঞ্জল ও সহজ ভাষায় রচিত হতে হবে।
২. মৌলিক অধিকার : সংবিধানে মৌলিক অধিকারের উল্লেখ থাকলে সরকার কখনও স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না। শাসন বিভাগ
জনগণের অধিকার ক্ষুন্নকরতে চাইলে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান লংঘনের অভিযোগ আনতে পারে। ফলে
সরকারের স্বৈরাচারী প্রবণতা বন্ধ হয় এবং জনগণের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন থাকে। সুতরাং মৌলিক অধিকার
অর্ন্তভুক্তকরণ উত্তম সংবিধানের একটি বিশেষ দিক।
৩. লিখিত সংবিধান : উত্তম সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো লিখিত সংবিধান। লিখিত সংবিধান না থাকলে অনেক
জটিলতা দেখা দিতে পারে। লিখিত সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বেশী।
৪. সার্বভৌম ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা : উত্তম সংবিধানের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সার্বভৌম ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য
রক্ষা করা। সার্বভৌমত্ববন্টনের ক্ষেত্রে উত্তম সংবিধান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কারণ সরকার এবং জনগণের মধ্যে
ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যাবশক অন্যথায় গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের ভয় থাকে।
৫. সময়োপযোগিতা : উত্তম সংবিধানের অপর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, উত্তম সংবিধানকে অবশ্যই সামাজিক
ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। সমাজ গতিশীল, সমাজে নিয়ম ও মূল্যবোধের পরিবর্তন সাধিত
হচ্ছে। জনগণের চাহিদা এবং আশা-আকাঙ্খারও পরিবর্তন ঘটছে। সংবিধানকে অবশ্যই জনগণের এ পরিবর্তিত চাহিদা
ও অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলতে হবে। অন্যথায় সাংবিধানিক বিধি বিধান উদ্দেশ্যের সঙ্গে জনগণের ইচ্ছার
দ্ব›দ্ব ও সংঘাত দেখা দিবে। ফলে বিপ্লবের সূচনা হতে পারে। সমাজ ও রাষ্ট্রঅস্থির হয়ে উঠতে পারে।
৬. সংক্ষিপ্ততা : উত্তম সংবিধানের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংক্ষিপ্ততা। বিভিন্নধারা, উপধারার সংক্ষিপ্ত হওয়া
বাঞ্ছনীয় যেন সংবিধানের মধ্যে অযথা অপ্রয়োজনীয় প্রসঙ্গের অনুপ্রবেশ না ঘটে। অবশ্য সংবিধান শুধু সংক্ষিপ্ত হলেই
চলবে না বরং সামগ্রিক ভাবে রাষ্ট্রের বিভিন্নঅংশের গঠন এবং কিভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত
ব্যবস্থার উল্লেখ থাকতে হবে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের উল্লেখ করে সংবিধানকে বড় করে তোলার প্রয়োজন নেই।
কে.সি. হুইয়ার বলেন, একটি সর্বোত্তম আদর্শ সংবিধানের আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা। উল্লেখ্য যে,
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে মাত্র ৪ হাজার শব্দ সন্নিবেশিত হয়েছে। এদিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি উত্তম সংবিধান।
৭. জনগণের অগ্রাধিকার : উত্তম সংবিধানে জনমতের প্রতিফলন ঘটে। উত্তম সংবিধান হবে জনমতের ধারক ও বাহক।
জনমতের প্রতি লক্ষ্য রেখে সময়ে সময়ে সংবিধান পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হতে হবে।
৮. স্থায়ীত্ব: উত্তম সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণবৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর স্থায়ীত্ব। সংবিধান স্থায়ী হলে তা প্রকারান্তরে রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতার সহায়ক হয়ে। এর ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সুনিশ্চিত হয়ে থাকে।
৯. জাতীয় আশা আকাঙ্খার প্রতিচ্ছবি : একটি উত্তম সংবিধান জনমতের প্রতিফলন ঘটে। যার ফলে এর মাধ্যমে সমগ্রজাতির
আশা আকাঙ্খার পূর্ণতা প্রকাশ পায়। দীর্ঘদিন ধরে একটি জাতি যে স্বকীয়তা ও মৌলিকত্ব লালন করে থাকে তাই
সংবিধানে ফুটে উঠে।
১০. সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি : উত্তম সংবিধানকে অবশ্যই একটি সহজ সংশোধন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। সংবিধান
যদি সুপরিবর্তনীয় না হয় তা হলে তাকে প্রয়োজনবোধে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। অবশ্য সংশোধন পদ্ধতি খুব সহজসাধ্য
হওয়া উচিত নয় । কারণ এর ফলে ভাবাবেগ, উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে আইনসভা অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করতে
প্রয়াসী হয়। আবার সংশোধন পদ্ধতি অত্যাধিক জটিল হওয়াও বাঞ্ছনীয় বা কাম্য নয়। কারণ এর ফলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত
গ্রহণে অহেতুক বিলম্ব ঘটে। ডবিøউ এফ উইলোবি বলেন-
১১. বিচার বিভাগের প্রাধান্য : উত্তম সংবিধানের প্রাধান্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে হবে।
এজন্য বিচার বিভাগের হাতে সংবিধানকে ব্যাখ্যা করবার ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। কারণ বিচার বিভাগই সংবিধানের রক্ষক ও অভিভাবক।
সারকথা
উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, একটি সংবিধানকে উত্তম হতে হলে একে অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য
ও গুণের অধিকারী হতে হবে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতি সাধনের জন্য রাষ্ট্রেএকটি উত্তম
সংবিধানের প্রয়োজন রয়েছে। জনগণের মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত করা উত্তম বা আদর্শ সংবিধানের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সঠিক উত্তরে টিক () চিহ্ন দিন
১. ‘একটি সর্বোত্তম আদর্শ সংবিধানের আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা।’ এটি কার উক্তি?
ক. লর্ড ব্রাইস;
খ. সি. এফ. স্ট্রং;
গ. কে. সি. হুইয়ার;
ঘ. অধ্যাপক ফাইনার।
২. সংক্ষিপ্তার দিক দিয়ে কোন রাষ্ট্রের সংবিধান সর্বোত্তম ?
ক. ব্রিটেনের;
খ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের;
গ. ভারতের;
ঘ. বাংলাদেশের।
৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কত হাজার শব্দ সন্নিবেশিত হয়েছে ?
ক. ৪ হাজার;
খ. ৫ হাজার;
গ. ৭ হাজার;
ঘ. ৩ হাজার ৫ শত।
৪. "জরমযঃষু ধহফ ভষবীরনরষরঃু ধৎব ঃযব ঃড়ি ড়ঢ়ঢ়ড়ংরহম ঃবহফবহপরবং ড়ভ ধ মড়ড়ফ পড়হংঃরঃঁঃরড়হ" এই উক্তিটি কে করেছেন?
ক. উইলোবী;
খ. কে. সি. হুইয়ার;
গ. ফাইনার;
ঘ. লর্ড ব্রাইস।
উত্তরমালা ঃ ১.গ; ২.খ; ৩.ক; ৪.ক।
সংক্ষিপ্ত উত্তরমূলক প্রশ্ন
১. উত্তম সংবিধানের প্রধান দু’টি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করুন।
রচনামূলক প্রশ্ন
১. ‘মৌলিক অধিকার উত্তম সংবিধানের বিশেষ দিক’ ব্যাখ্যা করুন।
মধ্যে বিরাজমান ক্ষমতা সম্পর্কের সঠিক বিবরণ দেয়া। সংবিধান রাষ্ট্রের মৌলিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন, আইন
বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচকমন্ডলী প্রভৃতির মধ্যকার ক্ষমতা সম্পর্ক কেমন হবে ইত্যাদির
নির্দেশ দান করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সুতরাং সংবিধান হচ্ছে একটি দর্পনস্বরূপ।
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতি সাধনের জন্য রাষ্ট্রেএকটি উত্তম সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা
অনস্বীকার্য। কি কি বৈশিষ্ট্য বা গুনাবলী থাকলে একটি সংবিধান উত্তম বলে বিবেচিত হবে এ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ
নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। যথাঃ
১. সুষ্পষ্টতা : উত্তম সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সুষ্পষ্টতা। সংবিধান সুষ্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হওয়া দরকার, যেন সংবিধানটি
বুঝতে কারও অসুবিধা না হয়। সুতরাং উত্তম সংবিধান অর্থপূর্ণ, প্রাঞ্জল ও সহজ ভাষায় রচিত হতে হবে।
২. মৌলিক অধিকার : সংবিধানে মৌলিক অধিকারের উল্লেখ থাকলে সরকার কখনও স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না। শাসন বিভাগ
জনগণের অধিকার ক্ষুন্নকরতে চাইলে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান লংঘনের অভিযোগ আনতে পারে। ফলে
সরকারের স্বৈরাচারী প্রবণতা বন্ধ হয় এবং জনগণের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন থাকে। সুতরাং মৌলিক অধিকার
অর্ন্তভুক্তকরণ উত্তম সংবিধানের একটি বিশেষ দিক।
৩. লিখিত সংবিধান : উত্তম সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো লিখিত সংবিধান। লিখিত সংবিধান না থাকলে অনেক
জটিলতা দেখা দিতে পারে। লিখিত সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বেশী।
৪. সার্বভৌম ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা : উত্তম সংবিধানের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সার্বভৌম ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য
রক্ষা করা। সার্বভৌমত্ববন্টনের ক্ষেত্রে উত্তম সংবিধান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কারণ সরকার এবং জনগণের মধ্যে
ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যাবশক অন্যথায় গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের ভয় থাকে।
৫. সময়োপযোগিতা : উত্তম সংবিধানের অপর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, উত্তম সংবিধানকে অবশ্যই সামাজিক
ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। সমাজ গতিশীল, সমাজে নিয়ম ও মূল্যবোধের পরিবর্তন সাধিত
হচ্ছে। জনগণের চাহিদা এবং আশা-আকাঙ্খারও পরিবর্তন ঘটছে। সংবিধানকে অবশ্যই জনগণের এ পরিবর্তিত চাহিদা
ও অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলতে হবে। অন্যথায় সাংবিধানিক বিধি বিধান উদ্দেশ্যের সঙ্গে জনগণের ইচ্ছার
দ্ব›দ্ব ও সংঘাত দেখা দিবে। ফলে বিপ্লবের সূচনা হতে পারে। সমাজ ও রাষ্ট্রঅস্থির হয়ে উঠতে পারে।
৬. সংক্ষিপ্ততা : উত্তম সংবিধানের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংক্ষিপ্ততা। বিভিন্নধারা, উপধারার সংক্ষিপ্ত হওয়া
বাঞ্ছনীয় যেন সংবিধানের মধ্যে অযথা অপ্রয়োজনীয় প্রসঙ্গের অনুপ্রবেশ না ঘটে। অবশ্য সংবিধান শুধু সংক্ষিপ্ত হলেই
চলবে না বরং সামগ্রিক ভাবে রাষ্ট্রের বিভিন্নঅংশের গঠন এবং কিভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত
ব্যবস্থার উল্লেখ থাকতে হবে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের উল্লেখ করে সংবিধানকে বড় করে তোলার প্রয়োজন নেই।
কে.সি. হুইয়ার বলেন, একটি সর্বোত্তম আদর্শ সংবিধানের আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা। উল্লেখ্য যে,
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে মাত্র ৪ হাজার শব্দ সন্নিবেশিত হয়েছে। এদিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি উত্তম সংবিধান।
৭. জনগণের অগ্রাধিকার : উত্তম সংবিধানে জনমতের প্রতিফলন ঘটে। উত্তম সংবিধান হবে জনমতের ধারক ও বাহক।
জনমতের প্রতি লক্ষ্য রেখে সময়ে সময়ে সংবিধান পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হতে হবে।
৮. স্থায়ীত্ব: উত্তম সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণবৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর স্থায়ীত্ব। সংবিধান স্থায়ী হলে তা প্রকারান্তরে রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতার সহায়ক হয়ে। এর ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সুনিশ্চিত হয়ে থাকে।
৯. জাতীয় আশা আকাঙ্খার প্রতিচ্ছবি : একটি উত্তম সংবিধান জনমতের প্রতিফলন ঘটে। যার ফলে এর মাধ্যমে সমগ্রজাতির
আশা আকাঙ্খার পূর্ণতা প্রকাশ পায়। দীর্ঘদিন ধরে একটি জাতি যে স্বকীয়তা ও মৌলিকত্ব লালন করে থাকে তাই
সংবিধানে ফুটে উঠে।
১০. সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি : উত্তম সংবিধানকে অবশ্যই একটি সহজ সংশোধন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। সংবিধান
যদি সুপরিবর্তনীয় না হয় তা হলে তাকে প্রয়োজনবোধে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। অবশ্য সংশোধন পদ্ধতি খুব সহজসাধ্য
হওয়া উচিত নয় । কারণ এর ফলে ভাবাবেগ, উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে আইনসভা অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করতে
প্রয়াসী হয়। আবার সংশোধন পদ্ধতি অত্যাধিক জটিল হওয়াও বাঞ্ছনীয় বা কাম্য নয়। কারণ এর ফলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত
গ্রহণে অহেতুক বিলম্ব ঘটে। ডবিøউ এফ উইলোবি বলেন-
১১. বিচার বিভাগের প্রাধান্য : উত্তম সংবিধানের প্রাধান্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে হবে।
এজন্য বিচার বিভাগের হাতে সংবিধানকে ব্যাখ্যা করবার ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। কারণ বিচার বিভাগই সংবিধানের রক্ষক ও অভিভাবক।
সারকথা
উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, একটি সংবিধানকে উত্তম হতে হলে একে অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য
ও গুণের অধিকারী হতে হবে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতি সাধনের জন্য রাষ্ট্রেএকটি উত্তম
সংবিধানের প্রয়োজন রয়েছে। জনগণের মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত করা উত্তম বা আদর্শ সংবিধানের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সঠিক উত্তরে টিক () চিহ্ন দিন
১. ‘একটি সর্বোত্তম আদর্শ সংবিধানের আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা।’ এটি কার উক্তি?
ক. লর্ড ব্রাইস;
খ. সি. এফ. স্ট্রং;
গ. কে. সি. হুইয়ার;
ঘ. অধ্যাপক ফাইনার।
২. সংক্ষিপ্তার দিক দিয়ে কোন রাষ্ট্রের সংবিধান সর্বোত্তম ?
ক. ব্রিটেনের;
খ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের;
গ. ভারতের;
ঘ. বাংলাদেশের।
৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কত হাজার শব্দ সন্নিবেশিত হয়েছে ?
ক. ৪ হাজার;
খ. ৫ হাজার;
গ. ৭ হাজার;
ঘ. ৩ হাজার ৫ শত।
৪. "জরমযঃষু ধহফ ভষবীরনরষরঃু ধৎব ঃযব ঃড়ি ড়ঢ়ঢ়ড়ংরহম ঃবহফবহপরবং ড়ভ ধ মড়ড়ফ পড়হংঃরঃঁঃরড়হ" এই উক্তিটি কে করেছেন?
ক. উইলোবী;
খ. কে. সি. হুইয়ার;
গ. ফাইনার;
ঘ. লর্ড ব্রাইস।
উত্তরমালা ঃ ১.গ; ২.খ; ৩.ক; ৪.ক।
সংক্ষিপ্ত উত্তরমূলক প্রশ্ন
১. উত্তম সংবিধানের প্রধান দু’টি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করুন।
রচনামূলক প্রশ্ন
১. ‘মৌলিক অধিকার উত্তম সংবিধানের বিশেষ দিক’ ব্যাখ্যা করুন।