শাসনবিভাগ বলতে কি বুঝেন ? শাসনবিভাগের গুরুত্ববর্ণনা করুন।

সরকারের যে অঙ্গ বা বিভাগ জনজীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যাবলী সম্পাদন করে, জনজীবনে শান্তি-শৃংখলা
বজায় রাখে এবং দ্রব্য ও সেবা সরবরাহের দায়িত্বপালন করে তাকেই শাসন বিভাগ বলে। প্রচলিত আইনের বাস্তবায়ন, দুষ্টের
দমন ও শিষ্টের পালন, রাষ্ট্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রভৃতি কাজে জড়িত সরকারের অঙ্গটি শাসনবিভাগ নামে পরিচিত।
শাসনবিভাগের গুরুত্বঃ আধুনিক রাষ্ট্রেশাসনবিভাগের কার্যকলাপ নির্দিষ্ট কোন গন্ডিতে সীমাবদ্ধ করা যায় না। ব্যক্তি ও সমাজ
জীবনের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে শাসনবিভাগ হস্তক্ষেপ করে না। পূর্বেপুলিশি রাষ্ট্রের ধারণা প্রচলিত থাকায় শাসনবিভাগ
কর আদায়, শান্তিশৃংখলা রক্ষা এবং সীমান্তরক্ষার মত ক্ষেত্র ছাড়া নাগরিক জীবনে খুব কমই হস্তক্ষেপ করত। ক্রমান্বয়ে
মানবজীবনের জটিলতা বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নতির ফলে রাষ্ট্রের কাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় শাসন বিভাগের গুরুত্ব
বেড়েই চলেছে। সরকারের আইন ও বিচার বিভাগ জনগণের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সর্বদা জড়িত থাকে না। শাসন
বিভাগকেই প্রতিদিন প্রতি মূহুর্তে জনজীবনের সমস্যা এবং তার সমাধান নিয়ে ব্যস্তথাকতে হয়। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, যুদ্ধ, জরুরি
অবস্থা প্রভৃতির মোকাবেলা এককভাবে শাসনবিভাগকেই করতে হয়। এ সময় প্রয়োজন বোধে আইনবিভাগ ও বিচারবিভাগের
কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোাতে সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে আইন ও বিচার
বিভাগের কর্মকান্ড স্থগিত রাখা হয়। কিন্তুশাসন বিভাগের কাজ চলতেই থাকে। প্রধান শাসক তার নির্বাহী পরিষদ, মন্ত্রিসভা ও
সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে শাসন বিভাগীয় কাজ চালু রাখে। সরকারকে যদি একটি দেহের সাথে তুলনা করা যায়, তবে
শাসনবিভাগকে তার রক্ত সঞ্চালনকারী হৃৎপিন্ড বললে অত্যুক্তি হবে না। তাই বলা যায়, শাসন বিভাগই হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্রের মূল
উপাদান এবং সরকারি কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু।
শাসন বিভাগের কার্যাবলী
শাসন বিভাগ সরকারের অতি জরুরি কার্যাবলীর সাথে জড়িত। এছাড়া কতকগুলো নিয়মিত কাজ শাসন বিভাগকে সম্পাদন
করতে হয়, যেমন:
 অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা: নাগরিক জীবনের প্রাথমিক চাহিদাগুলোর মধ্যে শান্তিও শৃঙ্খলা অন্যতম। সুষ্ঠুজীবন বিকাশের
ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম প্রয়োজন ব্যক্তির নিরাপত্তা। শাসন বিভাগ তার স্বরাষ্ট্রবিভাগ কিংবা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে
শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করে থাকে। এজন্য পুলিশ কিংবা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি,
পদোন্নতি ইত্যাদি সংক্রান্তকাজ করে। এসব বাহিনীর মাধ্যমে শাসন বিভাগ আইনপ্রয়োগের ব্যবস্থা করে এবং আইন
যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কিনা তা তত্ত¡াবধান করে।
 অর্থনৈতিক কার্যাবলী: আইন সভার অনুমোদন সাপেক্ষে শাসন বিভাগ রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও তা ব্যয় করে।
নাগরিক কল্যাণের জন্য কর আদায় ও নির্ধারিত খাতে তা ব্যয় করার মাধ্যমে শাসন বিভাগ রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সচল
রাখে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ সংস্থান, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক
অর্থের উৎস সন্ধান, দাতা সংস্থার সাথে যোগাযোগ রক্ষা ও দেনদরবার করা ইত্যাদি অর্থনৈতিক কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত।
রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রধানত শাসন বিভাগের সামর্থ, দক্ষতা ও কর্মতৎপরতার উপর নির্ভরশীল।
 প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ সংক্রান্তকার্যাবলী: অধ্যাপক গেটেল এ কাজটিকে শাসন বিভাগের সামরিক কার্যাবলী বলে অভিহিত
করেছেন। একাজে রাষ্ট্রের স্থল, বিমান ও নৌ বাহিনী নিয়োজিত থাকে। শাসন বিভাগের প্রধান সম্মিলিত ভাবে এ সব
বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তিনি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বরখাস্তকরেন, পদোন্নতি দান করেন
এবং সামরিক নির্দেশাবলী প্রদান করেন। আইনসভার অনুমতি সাপেক্ষে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেন, শান্তিচুক্তি সম্পাদন
করেন, যুদ্ধকালে সামরিক বাহিনী পরিচালনা করেন, দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ
করেন। আইন সভার অনুমতি না পাওয়া গেলে প্রধান শাসক হিসাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি এমন অবস্থা সৃষ্টি
করতে পারেন যা যুদ্ধ ঘোষণাকে অনিবার্য করে তোলে। এছাড়া দেশের সীমান্তরক্ষায় সার্বক্ষণিক বাহিনী মোতায়েন,
তাদের নিয়োগ ও বরখাস্ত, বেতন ও ভাতা ইত্যাদি নির্ধারণ করা শাসন বিভাগের কাজ।
 আন্তর্জাতিক কার্যাবলী: আন্তর্জাতিক কার্যাবলী বলতে প্রকৃত পক্ষে রাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যাবলী বুঝায়। দেশের সামগ্রিক
স্বার্থেআন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে সম্পর্ক রাখা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শাসন বিভাগ এজন্য বিদেশে রাষ্ট্রদূত
নিয়োগ করে, বিদেশী রাষ্ট্রদূতগণের পরিচয়পত্র গ্রহণ করে। বিদেশে বিভিন্নপ্রকার বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল
প্রেরণ করে, বিভিন্নপ্রকার চুক্তি সম্পাদন করে এবং পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে। বর্তমানে ঠান্ডা লড়াই-এর অবসান,
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং এক মেরু বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে উঠার ফলে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ
অবস্থায় শাসন বিভাগ রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা ও দেশে উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে
অর্থনৈতিক কূটনীতি পরিচালনা করে থাকে।
 আইন সংক্রান্তকার্যাবলী : সংসদীয় সরকারে শাসন বিভাগের নেতৃবৃন্দ আইন পরিষদেরও সদস্য। ফলে এ ব্যবস্থায় শাসন
বিভাগ তথা মন্ত্রিসভা সরাসরি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করে ও নেতৃত্বদেয়। আইনের খসড়া প্রণয়ন থেকে শুধুকরে
রাষ্ট্রপতির সম্মতি গ্রহণ পর্যন্তপদক্ষেপে শাসন বিভাগই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে আইনসভার কাজ শুধু
আলোচনা, বিতর্ক ও আইনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে আইন
সভার অধিবেশন আহŸান, স্থগিতকরণ বা বিশেষ অধিবেশন আহŸানের মাধ্যমে শাসন বিভাগ আইনসংক্রান্তকাজ করে
থাকে। ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে প্রণীত আইনকে বাতিল করার ক্ষমতাও প্রধান শাসকের অধিকার রূপে স্বীকৃত। আইনসভা
গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ ও নির্বাচনকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা শাসন বিভাগের কাজ। শাসনবিভাগ
প্রয়োজনে অধ্যাদেশ বা বিধি বিধান জারি করে শাসন কাজ চালু রাখতে পারে। তাছাড়া প্রত্যার্পিত আইন প্রণয়ন
চালু হবার ফলে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের অনেক কাজ সম্পাদন করে চলেছে।
 বিচার বিভাগীয় কার্যাবলী : নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বিচার বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব।
শাসনবিভাগের সর্বাত্মক সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা বিচার বিভাগের পক্ষে সম্ভব নয়। শাসনবিভাগ
বিচারকগণকে নিয়োগ করে, তাঁদের সামাজিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে, রাষ্ট্রবনাম নাগরিক মামলায় রাষ্ট্রের পক্ষে
আইনগত সহায়তা প্রদান করে এবং সুষ্ঠুবিচারের স্বার্থেআইন সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রধান বিচারালয় কর্তৃক
প্রদত্ত মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাথ আসামীর দন্ড হ্রাস বা মওকুফ করা রাষ্ট্রপ্রধানের বিশেষ অধিকার।
শাসনবিভাগের সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগ প্রদত্ত রায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
সারকথা
শাসনবিভাগ রাষ্ট্রের অস্তিত্ত¡তুলে ধরে। সরকারের দৈনন্দিন উপস্থিতি ও সচলতা প্রমাণ করে। জনজীবনের গতি বজায় রাখে।
জনগণের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটায়। প্রয়োজনে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। শান্তিরক্ষায় এগিয়ে আসে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। আইন প্রণয়নে,
বিচার সম্পাদনে, অর্থ নীতিকে সচল ও জীবন্তরাখায় সদা উদ্যোগ নেয়। তাই বলা যায়, শাসন বিভাগের অনুপস্থিতি কিংবা
নিষ্ক্রিয়তা কাম্য ও সম্ভব নয়। এসব আলোচনায় শাসন বিভাগকে রাষ্ট্রদেহের হৃৎপিন্ড এবং সরকার যন্ত্রের গতি সঞ্চারকারী অঙ্গ বললেই যথার্থ হবে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
সঠিক উত্তরে টিক () চিহ্ন দিন
১. শাসন বিভাগ অথনৈতিক উন্নয়নের জন্য কি কাজ করে ?
ক. কর আরোপ;
খ. পরিকল্পনা প্রণয়ন;
গ. আইন প্রণয়ন;
ঘ. ঋণ গ্রহণ।
২. ঠান্ডা লড়াই- এর অবসান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কি বৃদ্ধি পেয়েছে ?
ক. জাতিতে জাতিতে উত্তেজনা;
খ. সামরিক খাতে ব্যয়;
গ. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন;
ঘ. বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা।
৩. কোন অধিকার বলে শাসন বিভাগ আইন প্রণয়ন করে ?
ক. পুলিশ বাহিনী হাতে থাকায়;
খ. সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণে থাকায়;
গ. আইনসভা অচল হওয়ায়;
ঘ. ভারার্পিত ক্ষমতা বলে।
সঠিক উত্তর : ১.ক ২.ঘ ৩.ঘ
সংক্ষিপ্ত উত্তরমূলক প্রশ্ন
১. বর্তমানকালে কি শাসন বিভাগের ক্ষমতা ও গুরুত্বহ্রাস পাচ্ছে?
২. শাসন বিভাগের দুটি উল্লেখযোগ্য কাজ কি?
৩. সংসদীয় ব্যবস্থায় শাসন বিভাগের মর্যদা কতটুকু?
রচনামূলক প্রশ্ন
১. শাসনবিভাগ বলতে কি বুঝেন ? শাসনবিভাগের গুরুত্ববর্ণনা করুন।
২. সরকারের অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ হিসাবে শাসনবিভাগের কার্যাবলী আলোচনা করুন।

FOR MORE CLICK HERE
এইচএসসি বাংলা নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
ENGLISH 1ST & SECOND PAPER
এইচএসসি আইসিটি নোট
এইচএসসি অর্থনীতি নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র
এইচএসসি পৌরনীতি নোট ২য় পত্র
এইচএসসি সমাজকর্ম নোট ১ম পত্র
এইচএসসি সমাজকর্ম নোট ২য় পত্র
এইচএসসি সমাজবিজ্ঞান নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ইতিহাস নোট ১ম পত্র
এইচএসসি ইতিহাস নোট ২য় পত্র
এইচএসসি ইসলামের ইতি. ও সংস্কৃতি নোট ১ম পত্র
এইচএসসি ইসলামের ইতি. ও সংস্কৃতি নোট ২য় পত্র
এইচএসসি যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ভূগোল ও পরিবেশ নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ইসলামিক স্টাডিজ ১ম ও ২য় পত্র

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]