রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিন। রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্যসমূহ রাজনৈতিক দলের সাধারণ কার্যাবলী

কিছু সংখ্যক ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ হলে যে সংগঠন গড়ে ওঠে তাকেই রাজনৈতিক দল
বলে। সরকারী ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপরিচালনার উদ্দেশ্যে যে জনগোষ্ঠী কতকগুলো সাধারণ লক্ষ্যে ও আদর্শে একত্রিত
হয়ে সাংগঠনিকভাবে নিয়োজিত থাকে তাদেরকেই সম্মিলিতভাবে রাজনৈতিক দল বলা যায়। ম্যাকাইভার-এর এতে,
রাজনৈতিক দল হচ্ছে সেই সংঘবদ্ধ জনসমাজ যা বৈধ উপায়ে শাসন ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। গেটেল রাজনৈতিক দল
বলতে সংগঠিত নাগরিক স¤প্রদায়কে বুঝিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ এডমন্ড বার্কের কথায়, রাজনৈতিক
দল হল নির্দিষ্ট ও স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে এবং সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একত্রিত এক জনসমষ্টি।
অধ্যাপক গিলক্রিস্ট বলেন, “সম মতাদর্শে বিশ্বাসী নাগরিকদের সেই অংশকে রাজনৈতিক দল বলে যা একটি রাজনৈতিক
সংগঠন হিসেবে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।” বার্কার-এর মতে, “বিশেষ মতবাদের দ্বারা পরিচালিত হওয়া সত্তে¡ও
জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচকদের সমর্থন আদায়ের
চেষ্টায় নিয়োজিত থাকে রাজনৈতিক দল।” অধ্যাপক সূলজ-এর মতে, “রাজনৈতিক দল এমন এক সংগঠন যা নির্বাচনে
প্রার্থী দাঁড় করায় এবং কর্মসূচি পেশ করে।” এলডারসভেন্ড-এর মতে, “রাজনৈতিক দল হল একটি সামাজিক গোষ্ঠী।” জে.
এস. কোলম্যান বলেন, “যখন কোন জনগোষ্ঠী এককভাবে বা অনুরূপ কোন সংঘের সাথে মিলিত হয়ে কিংবা প্রতিদ্ব›িদ্বতা
করে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারি নীতি ও কর্মচারীদের উপর আইনগত কর্তৃত্ব স্থাপন বা সংরক্ষণের জন্য স্পষ্ট
ও বিঘোষিত উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয় তখন ঐ জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা যায়।”
রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য
রাজনৈতিক দল কি তা পরিস্কার ভাবে বুঝতে হলে এর বৈশিষ্ট্যগুলো জানা প্রয়োজন। বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
 রাজনৈতিক দল একটি সামাজিক গোষ্ঠী। কারণ, এর সদস্যদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কস্থাপন করাই এর প্রথম কাজ।
তারপর নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য এই গোষ্ঠী কাজ করে।
 এটি এমন এক সংগঠন যার সদস্যগণ একই রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী ও তা অর্জনের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত।
 রাজনৈতিক দল তার নিজস্ব মতাদর্শ, নীতি ও কর্মসূচি অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধন করতে তৎপর থাকে।
 রাজনৈতিক দল সমাজের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলাপ আলোচনা করে এবং নিজ মতাদর্শের
সমর্থনে জনমত গঠন করে।
 প্রয়োজনীয় জনসমর্থন পেলে নিজ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্য সরকারী দায়িত্বগ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে।
 নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য অবিরাম চেষ্টা করে।
 রাজনৈতিক দল স্তরভিত্তিক সংগঠন। এর নেতৃত্ব একেবারে নিম্নপর্যায় হতে কেন্দ্র পর্যন্তবিস্তৃত থাকে।
রাজনৈতিক দলের কার্যাবলী
বিভিন্নরাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক দলের কার্যাবলী আলোচনা করেছেন। তাদের আলোচনার সূত্র ধরে রাজনৈতিক
দলের কার্যাবলীকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন ঃ এক. প্রচলিত বা গতানুগতিক কার্যাবলী এবং দুই. আধুনিক
কার্যাবলী। এসব কাজ সম্পাদন করার মাধ্যমেই রাজনৈতিক দলসমূহ তাদের কৃতিত্ব বা সাফল্য দাবি করতে পারে। এসব
কাজ সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়েই করে থাকে। নিম্নেতা আলোচনা করা হলঃ
প্রচলিত বা গতানুগতিক কার্যাবলী
 নীতি নির্ধারণ : দল গঠনের পর প্রথম কাজই হচ্ছে দলের জন্য নীতি নির্ধারণ করা। দলীয় ঘোষণাপত্রে সাধারণত:
রাজনৈতিক দলের নীতিমালা বর্ণনা করা হয়।
 সংগ্রহ : দলের পক্ষে জনসমর্থন জোরদার করার জন্য রাজনৈতিক দল ব্যাপক তৎপরতা চালায়। সর্বক্ষণ এ তৎপরতা
চালু রাখার জন্য প্রয়োজন হয় অধিক সংখ্যক দলীয় কর্মীর। প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ করার পর তাঁদের মধ্য হতে
কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা হয়। সদস্য সংখ্যা যত বেশি হবে, কর্মীর সংখ্যাও সে অনুপাতে বাড়বে। এ দৃষ্টিকোন হতে সদস্য
সংগ্রহের কাজে দলগুলো সচেষ্ট থাকে।
 জনমত গঠন : নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য থাকে জনগণের আস্থা অর্জন। লক্ষ্য থাকে ব্যাপক
জনসমর্থনের ভিত্তিতে ক্ষমতা লাভ। এজন্য দলের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য নেতা ও কর্মীগণ একযোগে কাজ
করে থাকেন।
 প্রার্থী মনোনয়ন : নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে হয়। এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
নির্বাচনে বিজয়ী হলেই তা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে উপযুক্ত ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রিয়তা ও
গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে জয়লাভের জন্য প্রার্থী মনোনীত করে।
 প্রচারাভিযান : প্রার্থী মনোনয়ন করার পরই তাঁর পক্ষে ব্যাপক প্রচারে নেমে পড়ে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রার্থীর পক্ষে
গণজাগরণ সৃষ্টিতে সচেষ্ট হয়। সভাসমিতি, মিছিল, সমাবেশ, প্রচারপত্র বিলি, দেয়াল লিখন, পোষ্টারিং ইত্যাদির মাধ্যমে
দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালায়। এ ছাড়া একই সাথে দলীয় কর্মসূচি ও আদর্শ জনগণের সামনে তুলে ধরে।
 তহবিল সংগ্রহ : নির্বাচনে জয়লাভসহ রাজনৈতিক দলের সার্বিক কর্মকান্ড সুষ্টুভাবে পরিচালনার জন্য প্রচুর অর্থ লাগে।
এজন্য দলীয় সদস্য, সুধী, শুভানুধ্যায়ী, ব্যবসায়ী, ধনী প্রভৃতি ব্যক্তি ও উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করে দলগুলো তহবিল
গড়ে তোলে। বর্তমানে দলীয় ব্যবস্থা এতই উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে যে, দলীয় অর্থসাহায্য না পেলে দলের
তৎপরতা অব্যাহত রাখা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা ভাবাই যায় না।
 ঐক্য সাধন : রাজনৈতিক দল জনগণের ঐক্যের প্রতীক। জনমতের বিভিন্নধারণার মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক
দল জনগণের মধ্যে জাতীয় ইস্যুতে ঐক্য গড়ে তোলে। নির্বাচনে জয়লাভ ও ক্ষমতা ভাগাভাগি করার জন্য সমমনা
দলগুলো প্রয়োজনে নির্বাচনী ফ্রন্ট গঠন করে। মোট কথা, জাতীয় জীবনে বিভিন্নধারার মাঝে সমন্বয় ঘটিয়ে জাতিকে
ঐক্যবদ্ধ রাখা রাজনৈতিক দলের কাজ।
 সরকার গঠন : প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই মূল লক্ষ্য থাকে সরকারী ক্ষমতা অর্জন। কারণ, ক্ষমতা ব্যতীত নির্বাচন
কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। দল এজন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ী হবার পর সর্বপ্রথম সরকার গঠনে
মনোনিবেশ করে। রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার হলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি তাঁর মন্ত্রিসভা গঠন করেন। অন্যদিকে, পার্লামেন্ট
শাসিত সরকার হলে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দলীয় নেতাদের নিয়ে গঠন
করেন মন্ত্রিপরিষদ।
 বিরোধিতা : নির্বাচনে পরাজিত দলের কাজ হয় ক্ষমতাসীন সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও বিরোধিতা করা। এ
বিরোধিতা করা হয় সরকারের নীতি ও কর্মসূচির প্রতি। যাতে সরকার এগুলো সংশোধন করে নতুন ভাবে সিদ্ধান্তনিতে
পারে। এ বিরোধিতা প্রকাশ পায় সরকারের সমালোচনা, আইনসভায় বিতর্ক, আলোচনা ও প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে।
প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগ বা মন্ত্রিপরিষদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশের মাধ্যমেও বিরোধিতা প্রকাশ
করা হয়।
 রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ : দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ সুচারুরূপে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক দলগুলো কর্মীদেরকে
দলের আদর্শ, উদ্দেশ্য, কর্মনীতি ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কেপ্রশিক্ষণ প্রদান করে। যে দলে যত বেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী
থাকে, সেই দলের কাজে তত বেশি সফলতা আগে।
 সমস্যা চিহ্নিতকরণ : প্রত্যেক রাষ্ট্রেই জনজীবনে নানা প্রকার সমস্যা থাকে। এসব সমস্যা অসংখ্য এবং বহুমুখী।
রাজনৈতিক দলগুলো এসবের মধ্য থেকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমস্যা চিহ্নিত করে এবং তা সমাধানে সরকারি দল
ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং বিরোধী দল ক্ষমতাবৃত্তের বাইরে থেকে সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করে সমাধানের চেষ্টা করে।
 নির্বাচকমন্ডলীর স্বার্থ সংরক্ষণ : নির্বাচনে বিজয়ী হবার জন্য রাজনৈতিক দল নির্বাচকমন্ডলীর স্বার্থ রক্ষার্থে নানাপ্রকার
প্রতিশ্রæতি প্রদান করে। নিজ দলের প্রয়োজনে তথা পরবর্তী নির্বাচনে তাদের সহানুভূতি অর্জনের লক্ষ্যে দলগুলো
ভোটদাতাদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে।
আধুনিক কার্যাবলী
আধুনিক কালে রাজনৈতিক দল সম্বন্ধে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজতত্ত¡বিদদের দৃষ্টিভঙ্গি এক ভিন্নমোড় নিয়েছে। তারা সম্পূর্ণ নতুন
ধারায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও কার্যাবলী বিচার করতে চান। এদের মধ্যে রয়েছেন এ্যালমন্ড, পাওয়েল, দ্যুভারজার,
নিউম্যান, আলান বল প্রমুখ। এদের সকলের সমন্বিত চিন্তাধারার আলোকে রাজনৈতিক দলের আধুনিক কার্যাবলী নিম্নরূপভাবে
আলোচনা করা যায়।
 ঐক্য স্থাপন, সরলীকরণ ও স্থায়িত্ব রক্ষা : রাজনৈতিক দল জনগণের খন্ড খন্ড স্বার্থ বা দাবীকে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত করে,
রাষ্ট্রের বিভিন্নঅঞ্চলের মধ্যকার ভৌগোলিক ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয় এবং সরকারের বিভিন্নকাঠামোর মধ্যে সংযোগ সাধনের
মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্থায়িত্ববজায় রাখে। পার্লামেন্ট শাসিত সরকারে আইনসভা ও শাসন বিভাগের মধ্যকার ঐক্য রাজনৈতিক
দলের ভূমিকারই ফল।
 শৃংখলা রক্ষা : প্রতিটি দলই ক্ষমতা লাভের জন্য একপ্রকার লড়াই করে। এ সময় সমাজের মধ্যে বিশৃংখলা যাতে না ঘটে
তার প্রতি খেয়াল রাখে। শৃংখলা রক্ষায় তারা এমন ভূমিকা রাখে যা তাদের প্রতি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে দেয়।
 সেতুবন্ধন : রাজনৈতিক দল জনগণের পক্ষ হতে বিভিন্নমুখী দাবি সরকারের নিকট পেশ করে। আবার সরকারের গৃহীত
জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ ও তার বাস্তবায়ন সম্বন্ধে জনগণকে অবহিত করে। এভাবে সরকার ও জনগণের মাঝে যোগাযোগ
রক্ষা করে।
 রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৃষ্টি : নিজেদের কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত করে এবং জনগণকে বেশী মাত্রায় দলের সাথে সম্পৃক্ত করে
রাজনৈতিক দল ভবিষ্যত রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৃষ্টির পথকে সুগম করে তোলে। এতে রাজনৈতিক এলিটগণ দলে আসার
সুযোগ পান এবং জনগণের অগ্রসর অংশ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ করতে পারে। ফলে যোগ্য নেতৃত্বগড়ে ওঠার সুযোগ ঘটে।
 সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা : রাজনৈতিক দলের ক্রিয়াকলাপ, আচরণ, প্রচার প্রোপাগান্ডা, কথাবার্তা এবং দলীয় আদর্শ,
উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি জনগণ আগ্রহের সাথে লক্ষ্য করে। তাদের এ সমস্তকাজ জনমনে প্রভাব বিস্তার করে। তারা দলীয়
লোকদের দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুপ্রাণিত হয়। ফলে রাজনৈতিক দলের দ্বারা সমাজে মূল্যবোধের উদ্ভব, লালন
ও বিকাশ ঘটে।
 রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ : স্থিতিশীল রাষ্ট্রগঠনে রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ অত্যন্তউপযোগী মাধ্যম। এটি এক ধরণের
শিক্ষণ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রকাশ্য ও সুষ্ঠুভাবে জনগণের মধ্যে প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠাযোগ্য রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্বন্ধে ধারণা
গড়ে তোলা হয়। এ কাজে রাজনৈতিক দলের বিকল্প কোন মাধ্যম নেই। এতে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চিন্তাচেতানার
অনুপ্রবেশ ঘটান যায়। ফাইনার মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো সকল নাগরিকের, বিশেষত যারা প্রত্যক্ষভাবে
রাজনীতিতে অংশগ্রহণে অনাগ্রহী তাদের উদাসীনতা ও নিষ্পৃহতাকে দূর করে প্রেরণা সৃষ্টি করে।
সারকথা
সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে সম আদর্শে উদ্ধুদ্ধ নাগরিকদের একটি সুসংগঠিত অংশ যখন জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ,উন্নতি ও অগ্রগতির
জন্য রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে সরকার গঠন, নিয়ন্ত্রণ ও দলীয় নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে তখন তাকে রাজনৈতিক
দল বলা হয়। এটি সেই রাজনৈতিক সংগঠন যার উদ্দেশ্য হল ক্ষমতা লাভ ও সরকার পরিচালনা করা। রাজনৈতিক দল
সরকারি ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচির ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায় হতে নিম্নস্তর পর্যন্তবিস্তৃত নেতৃত্ব দ্বারা
পরিচালিত একটি নিয়মতান্ত্রিক সংগঠন যা ক্ষমতার আসনে বসে নিজস্ব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি
বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনকল্যাণ সাধন করতে আগ্রহী। রাজনৈতিক দলের সনাতন ও আধুনিক কার্যাবলীর দ্বারা এটাই প্রমাণিত
হয় যে, একটি দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় বিকাশ সাধনে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অগ্রগণ্য। রাজনৈতিক দলের
দিকনির্দেশনা, জনসেবার মনোভাব, আচরণ, শিক্ষাদান পদ্ধতি ইত্যাদি জনগণের জন্য অনুকরণীয় হয় এবং তার প্রভাবে তারা
সক্রিয় হয়ে উঠে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সঠিক উত্তরে টিক () চিহ্ন দিন
১. রাজনৈতিক দল কি ?
ক. ক্ষমতালিপ্সুগোষ্ঠী;
খ. রাজনৈতিক মতাবলম্বী চক্র;
গ. সংগঠিত নাগরিক স¤প্রদায়;
ঘ. জনসক্ষার্থ রক্ষাকারী ব্যক্তিবর্গ।
২. রাজনৈতিক দলের সদস্যগণ কেমন প্রকৃতির ?
ক. বিভিন্নমুখী চিন্তাধারার বাহক;
খ. সম মতাদর্শে বিশ্বাসী;
গ. লেজুরবৃত্তি পরায়ণ;
ঘ. পরস্পরের প্রতি বিরোধী মনোভাবাপন্ন।
৩. রাজনৈতিক দলের মূল বৈশিষ্ট্য কি ?
ক. জনগণকে সংগঠিত করা;
খ. দাবি আদায়ে আন্দোলন করা;
গ. রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করা;
ঘ. সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করা।
সঠিক উত্তর ঃ ১.গ ২.খ ৩.খ
সংক্ষিপ্ত উত্তর-প্রশ্ন
১. রাজনৈতিক দল কি?
২. রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা কি?
রচনামূলক প্রশ্ন
১. রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিন। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করুন।
২. রাজনৈতিক দলের সাধারণ কার্যাবলী আলোচনা করুন।
৩. একটি আধুনিক রাজনৈতিক দল কি কি কাজ করে ? আলোচনা করুন।

FOR MORE CLICK HERE
এইচএসসি বাংলা নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
ENGLISH 1ST & SECOND PAPER
এইচএসসি আইসিটি নোট
এইচএসসি অর্থনীতি নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র
এইচএসসি পৌরনীতি নোট ২য় পত্র
এইচএসসি সমাজকর্ম নোট ১ম পত্র
এইচএসসি সমাজকর্ম নোট ২য় পত্র
এইচএসসি সমাজবিজ্ঞান নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ইতিহাস নোট ১ম পত্র
এইচএসসি ইতিহাস নোট ২য় পত্র
এইচএসসি ইসলামের ইতি. ও সংস্কৃতি নোট ১ম পত্র
এইচএসসি ইসলামের ইতি. ও সংস্কৃতি নোট ২য় পত্র
এইচএসসি যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ভূগোল ও পরিবেশ নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ইসলামিক স্টাডিজ ১ম ও ২য় পত্র

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]