ই-গভর্নেন্সের প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায় সম্পর্কে জান

জনসচেতনতা, দক্ষতা, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্কিং, গোপনীয়তা।
ই-গভর্নেন্স হচ্ছে সরকার কর্তৃক আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (যেমন, ইন্টারনেট, স্থানীয় এলাকা
নেটওয়ার্ক, বিস্তৃত এলাকা নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোন) মাধ্যমে নাগরিকদেরকে উন্নত এবং দক্ষতার সাথে
সরকারি সেবা প্রদান করা। কিন্তু এ সেবা প্রদানে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইশাসন প্রচলনের অন্তরায় দূর করার জন্য নি¤œলিখিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
১। ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃষ্টি করা দরকার। এই কাঠামোটি সরকারের বিভিন্ন
মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে জনগণকেন্দ্রিক ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করবে। এছাড়াও এরকম
একটি কাঠামোর মাধ্যমে ই-গভর্নেন্সের সার্বিক কর্মকাÐের ওপর তত্ত¡াবধান করা সম্ভবপর হবে।
২। বাংলাদেশের মত দেশে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার বিধান যুক্ত করে, ২০০৯ এর ওঈঞ অপঃ
সংশোধন করতে হবে। ২০০৯ সালের জঞও অপঃ এর যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। এই অপঃ এর বাস্তবায়নের
ভিত্তিতে জনগণের তথ্য অধিকার প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত হবে।
৩। ই-গভর্নেন্স সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করতে পারে। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে কি ধরনের সেবা প্রদানের তথ্য রয়েছে তা সম্পর্কে
জনগনকে সচেতন করা উচিত।
৪। ই-গভর্নেন্স এর সুবিধা দেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে, এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো শহর থেকে
গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখতে পারে।
৫। ই-গভর্নেন্সের সুফল পেতে হলে নাগরিকদের তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।
৬। ই-গর্ভনেন্সের জন্য অত্যাবশ্যক হচ্ছে প্রতিবন্ধকতাহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ। এটি দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।
৭। ই-গভর্নেন্সের সফলতার জন্য প্রয়োজন ইন্টারনেট যোগাযোগের গতি বৃদ্ধি করা।
৮। ই-গভর্নেন্স এর মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে, এই প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা একান্ত অপরিহার্য।
৯। ই-গর্ভনেন্স প্রচলনের জন্য লাগসই প্রযুক্তি আমদানি, ক্ষেত্র বিশেষে লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার জন্য বিভিন্ন দেশীয়
ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদন করা যেতে পারে।
১০। বাংলাদেশের মতো দেশে কেবল ই-গর্ভনেন্স এর প্ল্যাটফর্ম ও সুবিধা তৈরি করলেই হবে না, বরং তা ব্যবহারের মতো
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও সৃষ্টি করতে হবে।
সর্বোপরি জনগনকে ই-গর্ভনেন্স ব্যবহারে প্রস্তুত করা এবং জনগনের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাসকরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সার-সংক্ষেপ
ই-গর্ভনেন্স হল সরকারি সেবা দ্রæত ও সঠিকভাবে প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ সেবা প্রদানের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক
কাঠামো ও প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন খুব জরুরি। ই-গর্ভনেন্স সফল করার জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধি, সার্বক্ষণিক
বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল তৈরি, ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। সর্বোপরি এ সেবা প্রদান ও প্রাপ্তিতে
প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যেন বিঘিœত না হয় সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৪.৬
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। ই-গভর্নেন্সের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে-
(ক) এ সংক্রান্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা (খ) এ সংক্রান্ত আইনী সংস্কার করা
(গ) এ সংক্রান্ত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা (ঘ) উপরের সবই
২। ই-গভর্নেন্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে-
(ক) তথ্যের গোপনীয়তা (খ) তথ্য ফাঁস
(গ) তথ্য পাচার (ঘ) তথ্য বিকৃতি
সৃজনশীল প্রশ্ন:
(১) আমুয়াকান্দি গ্রামের রহিমা বেগমের ছেলে আবুল হোসেন মালয়েশিয়াতে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত। বহুদিন তিনি
ছেলের কোন খোঁজ-খবর পাচ্ছেন না। ছেলে যাবার আগে অষ্টম শ্রেণি পড়–য়া ছোট বোন আকলিমা খাতুনকে একটি ই-
মেইল নম্বর দিয়ে গেছে। কিন্তু আকলিমাও খুব ভাল করে জানে না ই-মেইল কি? ভাই বলে গিয়েছে যে, এটি নিয়ে
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গেলেই তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
ক) ই-গর্ভনেন্স কি?
খ) ই-গর্ভনেন্স এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লিখুন।
গ) উদ্দীপক অনুযায়ী ই-গর্ভনেন্স বাস্তবায়নের জন্য মাধ্যমগুলো সম্পর্কে লিখুন।
ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত ডিজিটাল সেন্টার এর কার্যক্রম বর্ণনা করুন।
(২) আবু তাহের চিকিৎসার জন্য ভারত যেতে চান। তাঁর বাড়ী জামালপুরে। ঢাকায় তাঁর কোন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ী
নেই। অথচ তাঁকে ভারতের ভিসা যোগাড় করতে হবে। একদিন তিনি ঢাকায় আসেন ভিসা ফর্ম সংগ্রহ করার জন্য। বন্ধু
জালাল উদ্দিন তাঁকে বলে, তুমি শুধু ভিসা ফর্মের জন্য ঢাকায় কেন আসলে? জামালপুরে বসেই এই অনলাইনে ফর্ম সংগ্রহ
করা সম্ভব। অনলাইনের কথা শুনে আবু তাহের অবাক হন।
ক) শাসন ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপ কি?
খ) ই-গর্ভনেন্স এর কয়েকটি গুরুত্ব লিখুন।
গ) ই-গর্ভনেন্স কেন প্রয়োজন? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করুন।
ঘ) ই-গর্ভনেন্স বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো বর্ণনা করুন।
উত্তরমালা
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৪.১ ঃ ১। ক ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৪.২ ঃ ১। খ ২। ঘ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৪.৩ ঃ ১। খ ২। গ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৪.৪ ঃ ১। ক ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৪.৫ ঃ ১। ঘ ২। খ
পাঠোত্তর মূল্যায়ন- ৪.৬ ঃ ১। ঘ ২। ক

FOR MORE CLICK HERE
এইচএসসি বাংলা নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
ENGLISH 1ST & SECOND PAPER
এইচএসসি আইসিটি নোট
এইচএসসি অর্থনীতি নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র
এইচএসসি পৌরনীতি নোট ২য় পত্র
এইচএসসি সমাজকর্ম নোট ১ম পত্র
এইচএসসি সমাজকর্ম নোট ২য় পত্র
এইচএসসি সমাজবিজ্ঞান নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ইতিহাস নোট ১ম পত্র
এইচএসসি ইতিহাস নোট ২য় পত্র
এইচএসসি ইসলামের ইতি. ও সংস্কৃতি নোট ১ম পত্র
এইচএসসি ইসলামের ইতি. ও সংস্কৃতি নোট ২য় পত্র
এইচএসসি যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ভূগোল ও পরিবেশ নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ইসলামিক স্টাডিজ ১ম ও ২য় পত্র

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]