নাগরিক অধিকার, কর্তব্য ও মানবাধিকার

নাগরিক অধিকার, কর্তব্য ও মানবাধিকার
পৌরনীতি ও সুশাসনের প্রধান আলোচ্য বিষয় নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য। অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের সদস্য হিসেবে আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, মৌলিক ও মানবাধিকার
ভোগ করি। এসব অধিকার ভোগের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ পায়। অন্যদিকে এসব অধিকার কর্তব্য
পালনের ইঙ্গিত প্রদান করে। অর্থাৎ অধিকার ভোগের সাথে সাথে সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতি কর্তব্য পালন
করতে হয় অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ যে একটি ছাড়া অন্যটির কথা অকল্পনীয়। এ ইউনিটে অধিকার ও
কর্তব্যের ধারনা, পারস্পরিক সম্পর্ক, শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অধিকারের ধারণা
সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়। এদিক থেকে
বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে
স্বেচ্ছাচার বলা হয়। অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, “অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র
সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।” অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও
অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়। যেমনÑ পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত
হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।
অধিকার ভোগের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। সেই সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রে কল্যাণকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ
প্রসঙ্গে অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি বলেন ‘অধিকার বলতে আমরা সামাজিক জীবনের সেসব শর্তকে বুঝি, যা ব্যতীত সাধারণভাবে ব্যক্তির সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন অসম্ভব।” এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ব্যক্তির কল্যাণের জন্য অধিকার
অপরিহার্য। বস্তুত প্রকৃত অধিকার বলতে সমাজ কল্যাণের জন্য কতগুলো শর্তকে বোঝায়।
অধিকার সম্পর্কে উপরিউক্ত আলোচনা বিশ্লেষণ করলে কতগুলো বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়Ñ
১. সুযোগ-সুবিধার সমষ্টি: অধিকার হল ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও জীবনকে বিকশিত করার জন্য কতগুলো সুযোগ-সুবিধার
সমষ্টি। যেমন, জীবন রক্ষার অধিকার, কর্মের অধিকার, ধর্ম সংক্রান্ত অধিকার প্রভৃতি।
২. সমাজ কর্তৃক সৃষ্ট: মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে সুন্দরভাবে বসবাস করার জন্য প্রয়োজন হয় নানা অধিকার। আর
এসব অধিকার সমাজ কর্তৃক সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ অধিকার সমাজ কর্তৃক অবশ্যই স্বীকৃত।
৩. রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত: অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। আর এজন্য রাষ্ট্র অধিকার হরণকারীকে শাস্তি
দিয়ে থাকে।
৪. কল্যাণের সহায়ক: অধিকারের মূল লক্ষ্য সকল মানুষের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ সাধন করা। এর ফলশ্রæতিতে সমাজ ও
রাষ্ট্রের উন্নয়ন হয়।
৫. পরিবর্তনশীল: সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে অধিকারের প্রকৃতি পরিবর্তন হতে পারে। যেমন, এক
সময় না থাকলেও, বর্তমানে নারীদের ভোটাধিকার আছে।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, অধিকার হচ্ছে এমন কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও
অনুমোদিত এবং যা ব্যক্তির সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের সহায়ক।
সার-সংক্ষেপ
অধিকার হল এমন কতগুলো সুযোগ সুবিধা, যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত এবং যা ব্যক্তির সর্বাঙ্গীন
উন্নয়নের সহায়ক। অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের আশ্রয় নেয়া যায়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৫.১
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। অধিকার বলতে বোঝায়Ñ
র) নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করা
রর) সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত সুবিধা
ররর) রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত সুযোগ
কোনটি সঠিক?
ক) র ও রর খ) রর ও ররর
গ) র ও ররর ঘ) র, রর ও ররর
২। “অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার
জন্য সচেষ্ট হয়।” এটি কার উক্তি?
ক) অধ্যাপক গেটেল খ) অধ্যাপক গার্নার
গ) অধ্যাপক বার্কার ঘ) অধ্যাপক ডাইসি
৩। অধিকারের প্রধান বৈশিষ্ট্যÑ
র) সকল সুযোগ-সুবিধার সমষ্টি
রর) সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত
ররর) কল্যাণকর ও পরিবর্তনশীল
কোনটি সঠিক?
ক) র খ) রর
গ) ররর ঘ) র, রর ও ররর