গণতন্ত্রে আইনসভার ভ‚মিকা ব্যাখ্যা কর
ভোট, আইন, নির্বাচন, রাজনৈতিক চেতনা, জনমত।
গণতন্ত্রে আইনসভার ভ‚মিকা
আইনসভা সরকারের তিনটি অঙ্গের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। বস্তুত: সংবিধান প্রণয়ন কিংবা আইন
প্রণয়নের মত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বলতে গেলে আইন সভা থেকেই একটি রাষ্ট্রের কার্যক্রম সূচনা হয়। জনগনের
ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আইনসভার সদস্য হন। যার জন্য আইনসভাকে গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয়। গণতন্ত্রের
সাফল্য এবং বিকাশে আইনসভার ভ‚মিকা অসামান্য। নি¤েœ গণতন্ত্রে আইনসভার ভ‚মিকা আলোচনা করা হল:
১। আইন প্রণয়ন: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভা মুখ্য ভ‚মিকা পালন করে। দেশ পরিচালনার সকল বিধি-বিধান ও
আইন-কানুন আইনসভা কর্তৃক গৃহীত হয়। স্বাধীন দেশের সংবিধান প্রণয়ন, এবং পরবর্তীতে জাতীয় স্বার্থের সাথে সঙ্গতি
রেখে সংবিধান সংশোধন, পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন আইনসভাই করে থাকে।
২। সরকার ও জনগনের মধ্যে সেতুবন্ধন: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভা সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন
হিসেবে কাজ করে। আইনসভার সদস্যরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের খুব কাছে এসে
তাদের বক্তব্য শুনতে পারেন। জনগণের সে বক্তব্য বা দাবি আইনসভার সদস্যরা আইনসভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে এ
সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয় যা গণতন্ত্রে রজন্য কল্যাণকর।
৩। শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ: আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ
পেয়ে থাকে। শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সর্বপ্রধান স্থান হচ্ছে আইনসভা। একজন ব্যক্তি নেতৃত্বের গুনাবলী, মেধা, জনকল্যাণ
ও জনসংযোগের বলে, কোন একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কিংবা নির্দলীয়ভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে আইন সভাতে স্থান
করে নিতে পারেন। আর আইন সভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই তিনি সর্বোচ্চ মাত্রাতে শাসনকার্যে অংশ নেন।
৪। নির্বাচন: বিভিন্ন গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভা নির্বাচন সংক্রান্ত কতকগুলো কাজ সম্পাদন করে থাকে। যেমনসুইজারল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনসভা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিষদ এর সদস্যদের নির্বাচিত করে। ভারতে রাষ্ট্রপ্রধান ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধান
নির্বাচনে আইনসভা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
৫। জনমত গঠন: আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভা জনমত গঠন সংক্রান্ত কাজ করে থাকে। আইনসভার সদস্যরা
সংসদে যে বক্তব্য-বিবৃতি প্রদান করেন তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়ে বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গঠিত
হয়। এই জনমতের ভিত্তিতে ক্ষমতার পালা বদলের দিক ঠিক হয়।
৬। রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভার সদস্যগণ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য ও মতামত প্রদান করেন। এগুলো বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হলে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ সাধিত হয়। এর ফলে জনগণ সরকারি কার্যকলাপের উপর সদাসতর্ক দৃষ্টি রাখতে সক্ষম হয়।
৭। রাজনৈতিক নিয়োগ: আইনসভা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতা ও প্রশিক্ষক নিয়োগে সাহায্য করে। আইনসভার সদস্য
হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর আইন সভার সদস্যদের অনেকেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে দেখা যায়।
৮। রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভার নির্বাচন জনগণকে রাজনেতিক অংশগ্রহণের ব্যাপারে
উদ্বুদ্ধ করে। এ ধরনের নির্বাচনের ফলে প্রার্থী ও নির্বাচকমন্ডলীর মধ্যে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার মানসিকতা সৃষ্টি হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, আইনসভা প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। আইন প্রণয়নের কারণে
সরকারের অন্য দুই বিভাগ থেকে এ বিভাগের মর্যাদা অধিকতর। আইনসভাকে অনেকে তাই ‘জাতীয় মঞ্চ’ বলে অভিহিত করেন।
সার-সংক্ষেপ
আধুনিক গণতন্ত্র প্রতিনিধিত্বমূলক বিধায়, এ শাসন ব্যবস্থায় আইনসভার গুরুত্ব অধিক পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়। বস্তুত:
আইন সভাতে আইন প্রনয়ণের মধ্য দিয়েই বলতে গেলে একটি রাষ্ট্রের কাজ শুরু হয়। আইন পাস ছাড়াও, আইন সভাতেই
যাবতীয় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক সাপেক্ষে দিক নির্দেশনা ঠিক হয়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৯.৫
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। সরকার ও জনগনের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে কোন বিভাগ?
ক) শাসন বিভাগ খ) আইন বিভাগ
গ) বিচার বিভাগ ঘ) নির্বাচন কমিশন
২। গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয় কোন সংস্থাকে?
ক) আইনসভা খ) বিচার বিভাগ
গ) শাসন বিভাগ ঘ) নির্বাচকমÐলী
৩। ‘জাতীয় মঞ্চ’ বলা হয় কোন বিভাগকে?
ক) শাসন বিভাগ খ) বিচার বিভাগ
গ) আইন বিভাগ ঘ) উপরের সবগুলো
গণতন্ত্রে আইনসভার ভ‚মিকা
আইনসভা সরকারের তিনটি অঙ্গের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। বস্তুত: সংবিধান প্রণয়ন কিংবা আইন
প্রণয়নের মত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বলতে গেলে আইন সভা থেকেই একটি রাষ্ট্রের কার্যক্রম সূচনা হয়। জনগনের
ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আইনসভার সদস্য হন। যার জন্য আইনসভাকে গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয়। গণতন্ত্রের
সাফল্য এবং বিকাশে আইনসভার ভ‚মিকা অসামান্য। নি¤েœ গণতন্ত্রে আইনসভার ভ‚মিকা আলোচনা করা হল:
১। আইন প্রণয়ন: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভা মুখ্য ভ‚মিকা পালন করে। দেশ পরিচালনার সকল বিধি-বিধান ও
আইন-কানুন আইনসভা কর্তৃক গৃহীত হয়। স্বাধীন দেশের সংবিধান প্রণয়ন, এবং পরবর্তীতে জাতীয় স্বার্থের সাথে সঙ্গতি
রেখে সংবিধান সংশোধন, পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন আইনসভাই করে থাকে।
২। সরকার ও জনগনের মধ্যে সেতুবন্ধন: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভা সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন
হিসেবে কাজ করে। আইনসভার সদস্যরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের খুব কাছে এসে
তাদের বক্তব্য শুনতে পারেন। জনগণের সে বক্তব্য বা দাবি আইনসভার সদস্যরা আইনসভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে এ
সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয় যা গণতন্ত্রে রজন্য কল্যাণকর।
৩। শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ: আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ
পেয়ে থাকে। শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সর্বপ্রধান স্থান হচ্ছে আইনসভা। একজন ব্যক্তি নেতৃত্বের গুনাবলী, মেধা, জনকল্যাণ
ও জনসংযোগের বলে, কোন একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কিংবা নির্দলীয়ভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে আইন সভাতে স্থান
করে নিতে পারেন। আর আইন সভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই তিনি সর্বোচ্চ মাত্রাতে শাসনকার্যে অংশ নেন।
৪। নির্বাচন: বিভিন্ন গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভা নির্বাচন সংক্রান্ত কতকগুলো কাজ সম্পাদন করে থাকে। যেমনসুইজারল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনসভা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিষদ এর সদস্যদের নির্বাচিত করে। ভারতে রাষ্ট্রপ্রধান ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধান
নির্বাচনে আইনসভা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
৫। জনমত গঠন: আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভা জনমত গঠন সংক্রান্ত কাজ করে থাকে। আইনসভার সদস্যরা
সংসদে যে বক্তব্য-বিবৃতি প্রদান করেন তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়ে বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গঠিত
হয়। এই জনমতের ভিত্তিতে ক্ষমতার পালা বদলের দিক ঠিক হয়।
৬। রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভার সদস্যগণ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য ও মতামত প্রদান করেন। এগুলো বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হলে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ সাধিত হয়। এর ফলে জনগণ সরকারি কার্যকলাপের উপর সদাসতর্ক দৃষ্টি রাখতে সক্ষম হয়।
৭। রাজনৈতিক নিয়োগ: আইনসভা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতা ও প্রশিক্ষক নিয়োগে সাহায্য করে। আইনসভার সদস্য
হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর আইন সভার সদস্যদের অনেকেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে দেখা যায়।
৮। রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভার নির্বাচন জনগণকে রাজনেতিক অংশগ্রহণের ব্যাপারে
উদ্বুদ্ধ করে। এ ধরনের নির্বাচনের ফলে প্রার্থী ও নির্বাচকমন্ডলীর মধ্যে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার মানসিকতা সৃষ্টি হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, আইনসভা প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। আইন প্রণয়নের কারণে
সরকারের অন্য দুই বিভাগ থেকে এ বিভাগের মর্যাদা অধিকতর। আইনসভাকে অনেকে তাই ‘জাতীয় মঞ্চ’ বলে অভিহিত করেন।
সার-সংক্ষেপ
আধুনিক গণতন্ত্র প্রতিনিধিত্বমূলক বিধায়, এ শাসন ব্যবস্থায় আইনসভার গুরুত্ব অধিক পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়। বস্তুত:
আইন সভাতে আইন প্রনয়ণের মধ্য দিয়েই বলতে গেলে একটি রাষ্ট্রের কাজ শুরু হয়। আইন পাস ছাড়াও, আইন সভাতেই
যাবতীয় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক সাপেক্ষে দিক নির্দেশনা ঠিক হয়।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৯.৫
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। সরকার ও জনগনের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে কোন বিভাগ?
ক) শাসন বিভাগ খ) আইন বিভাগ
গ) বিচার বিভাগ ঘ) নির্বাচন কমিশন
২। গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয় কোন সংস্থাকে?
ক) আইনসভা খ) বিচার বিভাগ
গ) শাসন বিভাগ ঘ) নির্বাচকমÐলী
৩। ‘জাতীয় মঞ্চ’ বলা হয় কোন বিভাগকে?
ক) শাসন বিভাগ খ) বিচার বিভাগ
গ) আইন বিভাগ ঘ) উপরের সবগুলো