বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের অতি বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর
আমলাতন্ত্রের অতিবিকাশ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন
কমিশন।
বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের অতি বিকাশ
বিশ্বের অন্যান্য সকল দেশের ন্যায় বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রেরও বিকাশ হয়েছে। কিন্তু উপনিবেশিক ও সামরিক
শাসনের কারণে বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের বিকাশ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাধিত হয়নি। নি¤েœ বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের অতি
বিকাশের কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হল:
১। ঐতিহাসিক কারণ: বৃটিশ শাসনামলে ভারতবর্ষে আাধুনিক আমলাতন্ত্রের প্রচলন শুরু হয়। বৃটিশ শাসক গোষ্ঠী
নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য আমলাদের ব্যবহার করতেন। তখন রাজস্ব আদায় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই ছিল
আমলাদের প্রধান কাজ। আমলারা জনগনের উপর আধিপত্য বিস্তার করতেন এবং তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন।
উপনিবেশিক আমলারা জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন। পাকিস্তানী শাসনামলেও আমলারা নিজেদের জনগণের
সেবক না ভেবে প্রভু মনে করতেন। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র বৃটিশ এবং পাকিস্তানী আমলাতন্ত্রের উত্তরসূরী হিসেবে কাজ করছে।
২। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য আমলারা অতিমাত্রায় প্রভাবশালী হয়ে
ওঠে। রাজনেতিক দলের মতানৈক্যের জন্য আমলারা জনগণের কাছ থেকে আরো দূরে সরে যায়। নিজেদের উচ্চ
মর্যাদাবান ভাবার কারণে তারা জনগণের সেবক হতে পারেন নি।
৩। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা: আমলারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত
হন। আমলারা তাদের শিক্ষা, দক্ষতা, মেধা, অভিজ্ঞতা দ্বারা সরকারি কাজে পারদর্শী হয়ে উঠে। পক্ষান্তরে, রাজনৈতিক
নেতৃত্বের একটি অংশের মধ্যে দলীয় কোন্দল, প্রশিক্ষণের অভাব ও অভিজ্ঞতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক
নেতৃত্বের দুবর্লতা ও নিজেদের পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আমলারা অধিক শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
৪। দুর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার কারণে আমলাতন্ত্র অতি বিকশিত
হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা, কোন্দল, দুর্বল নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব, বিচার বিভাগের
ক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল দুর্নীতি দমন কমিশনের মত সমস্যার কারণে আমলাতন্ত্র অতিমাত্রায় প্রভাব বিস্তার করে।
৫। প্রবেশগম্যতার অভাব: সরকার, প্রশাসন ও রাজনীতিতে জনগণের প্রবেশে (অপপবংংরনরষরঃু) নানাবিধ বাধার কারণে
আমলাতন্ত্র অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সর্বজনীন ভোটারদের অংশগ্রহণমূলক অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন না হওয়া
তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের অভাব এক্ষেত্রে বড় বাধা।
পরিশেষে বলা যায় যে, নানাবিধ ঐতিহাসিক কারণ থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগেই বাংলাদেশের মত
দেশগুলোতে আমলাতন্ত্রের অসম বিকাশ ঘটে।
সার-সংক্ষেপ
আমলাতন্ত্র হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা
বর্তমানে অতিমাত্রায় বিকাশমান। উপনিবেশিক সংস্কৃতির প্রভাব থাকার কারণে আমলাদের মধ্যে সেবার মন-মানসিকতার
পরিবর্তে অনেক সময় প্রভুত্বসুলভ মানসিকতার প্রতিফলন ঘটছে। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের অতিবিকাশের জন্য
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সুযোগ্য নেতৃত্বের সংকট ও রাজনৈতিক অসচেতনতা বিশেষভাবে দায়ী।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-১১.৪
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। আমলাতান্ত্রিক সংগঠনে দলীয়করণের কারণে প্রশাসনে কী বৃদ্ধি পায়?
ক) পক্ষপাতিত্ব খ) রাজনীতি
গ) স্বজনপ্রীতি ঘ) বিশৃঙ্খলা
২। দল-নিরপেক্ষ সেবা প্রদানের অঙ্গীকার কে করে?
ক) সাংস্কৃতিক সংগঠন খ) সামাজিক সংগঠন
গ) আমলাতান্ত্রিক সংগঠন ঘ) নাগরিক সংগঠন
৩। আমলা প্রশাসন রাজনীতি নিরপেক্ষ সংগঠন; কারণ তারাÑ
ক) জনগণ হতে দূরে থাকে খ) সুশীল সমাজ থেকে দূরে থাকে
গ) দেশপ্রেমীদের কাছ থেকে দূরে থাকে ঘ) রাজনীতি হতে বিরত থাকে
কমিশন।
বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের অতি বিকাশ
বিশ্বের অন্যান্য সকল দেশের ন্যায় বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রেরও বিকাশ হয়েছে। কিন্তু উপনিবেশিক ও সামরিক
শাসনের কারণে বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের বিকাশ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাধিত হয়নি। নি¤েœ বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের অতি
বিকাশের কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হল:
১। ঐতিহাসিক কারণ: বৃটিশ শাসনামলে ভারতবর্ষে আাধুনিক আমলাতন্ত্রের প্রচলন শুরু হয়। বৃটিশ শাসক গোষ্ঠী
নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য আমলাদের ব্যবহার করতেন। তখন রাজস্ব আদায় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই ছিল
আমলাদের প্রধান কাজ। আমলারা জনগনের উপর আধিপত্য বিস্তার করতেন এবং তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন।
উপনিবেশিক আমলারা জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন। পাকিস্তানী শাসনামলেও আমলারা নিজেদের জনগণের
সেবক না ভেবে প্রভু মনে করতেন। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র বৃটিশ এবং পাকিস্তানী আমলাতন্ত্রের উত্তরসূরী হিসেবে কাজ করছে।
২। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য আমলারা অতিমাত্রায় প্রভাবশালী হয়ে
ওঠে। রাজনেতিক দলের মতানৈক্যের জন্য আমলারা জনগণের কাছ থেকে আরো দূরে সরে যায়। নিজেদের উচ্চ
মর্যাদাবান ভাবার কারণে তারা জনগণের সেবক হতে পারেন নি।
৩। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা: আমলারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত
হন। আমলারা তাদের শিক্ষা, দক্ষতা, মেধা, অভিজ্ঞতা দ্বারা সরকারি কাজে পারদর্শী হয়ে উঠে। পক্ষান্তরে, রাজনৈতিক
নেতৃত্বের একটি অংশের মধ্যে দলীয় কোন্দল, প্রশিক্ষণের অভাব ও অভিজ্ঞতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক
নেতৃত্বের দুবর্লতা ও নিজেদের পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আমলারা অধিক শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
৪। দুর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার কারণে আমলাতন্ত্র অতি বিকশিত
হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা, কোন্দল, দুর্বল নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব, বিচার বিভাগের
ক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল দুর্নীতি দমন কমিশনের মত সমস্যার কারণে আমলাতন্ত্র অতিমাত্রায় প্রভাব বিস্তার করে।
৫। প্রবেশগম্যতার অভাব: সরকার, প্রশাসন ও রাজনীতিতে জনগণের প্রবেশে (অপপবংংরনরষরঃু) নানাবিধ বাধার কারণে
আমলাতন্ত্র অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সর্বজনীন ভোটারদের অংশগ্রহণমূলক অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন না হওয়া
তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের অভাব এক্ষেত্রে বড় বাধা।
পরিশেষে বলা যায় যে, নানাবিধ ঐতিহাসিক কারণ থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগেই বাংলাদেশের মত
দেশগুলোতে আমলাতন্ত্রের অসম বিকাশ ঘটে।
সার-সংক্ষেপ
আমলাতন্ত্র হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা
বর্তমানে অতিমাত্রায় বিকাশমান। উপনিবেশিক সংস্কৃতির প্রভাব থাকার কারণে আমলাদের মধ্যে সেবার মন-মানসিকতার
পরিবর্তে অনেক সময় প্রভুত্বসুলভ মানসিকতার প্রতিফলন ঘটছে। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের অতিবিকাশের জন্য
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সুযোগ্য নেতৃত্বের সংকট ও রাজনৈতিক অসচেতনতা বিশেষভাবে দায়ী।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন-১১.৪
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। আমলাতান্ত্রিক সংগঠনে দলীয়করণের কারণে প্রশাসনে কী বৃদ্ধি পায়?
ক) পক্ষপাতিত্ব খ) রাজনীতি
গ) স্বজনপ্রীতি ঘ) বিশৃঙ্খলা
২। দল-নিরপেক্ষ সেবা প্রদানের অঙ্গীকার কে করে?
ক) সাংস্কৃতিক সংগঠন খ) সামাজিক সংগঠন
গ) আমলাতান্ত্রিক সংগঠন ঘ) নাগরিক সংগঠন
৩। আমলা প্রশাসন রাজনীতি নিরপেক্ষ সংগঠন; কারণ তারাÑ
ক) জনগণ হতে দূরে থাকে খ) সুশীল সমাজ থেকে দূরে থাকে
গ) দেশপ্রেমীদের কাছ থেকে দূরে থাকে ঘ) রাজনীতি হতে বিরত থাকে