রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করুন।


এস এস এইচ এল
রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত¡ পৃষ্ঠা - ৪
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধি বা বিষয়বস্তু
উদ্দেশ্য
এ পাঠটি পড়ে আপনি 
 রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধি বা বিষয়বস্তু আলোচনা করতে পারবেন;
 রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে ইউনেস্কোর অভিমত ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
পূর্বের পাঠে আমরা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এবারে আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধি বা বিষয়বস্তু। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করলে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, রাষ্ট্রই
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রধান আলোচ্য বিষয়। এদিক দিয়ে বলা যায়, রাষ্ট্রের কার্যাবলী যতদূর বিস্তৃত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু/পরিধি
ততদূর বিস্তৃত ও প্রসারিত। রাষ্ট্র বা অন্য যা কিছু মানুষের রাষ্ট্রনৈতিক জীবনকে প্রভাবিত করে তাই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
আওতাভুক্ত বলে পরিগণিত হয়। সুতরাং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্ষেত্র বা পরিধি অনেক ব্যাপক।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উইলোবীর মতে, “রাষ্ট্র, সরকার এবং আইন হল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয়।” অধ্যাপক বার্জেস
আরও দুটি বিষয় সংযোগ করে বলেন যে, “স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বই হল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক গার্নার বলেন, “রাষ্ট্রকে নিয়েই রষ্ট্রবিজ্ঞানের শুরু ও সমাপ্তি।” (চড়ষরঃরপধষ ঝপরবহপব নবমরহং ধহফ
বহফং রিঃয ঃযব ংঃধঃব.) রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে আপন কক্ষপথে আবর্তন করে।
অধ্যাপক গেটেলের মতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রধানত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যথা:-
 রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্র এবং সংগঠনগুলোর বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করে;
 অতীতে রাষ্ট্রের কার্যক্রম ও রূপ কি রকম ছিল তার পর্যালোচনা করে;
 ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের কার্যক্রম কেমন হবে এবং কি রূপ লাভ করবে সে বিষয়ে আলোচনা করে।
গেটেল, লাস্কি প্রমুখ চিন্তাবিদগণ বাস্তব দৃষ্টিকোন থেকে স্বীকার করেন যে, রাষ্ট্র ও সরকার উভয়ই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
আলোচনার বিষয়। সরকার ছাড়া রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। আবার রাষ্ট্র ছাড়া সরকার চিন্তা করা যায় না। রাষ্ট্রবিজ্ঞান
একদিকে যেমন রাষ্ট্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে অন্যদিকে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ও এর আলোচনার অন্তুর্ভুক্ত।
আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্র ও সরকার উভয়কে নিয়েই আলোচনা করে। রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও জন্ম ইতিহাস জানতে হলে
সরকারের রূপ, প্রকৃতি ও জন্ম ইতিহাস পর্যালোচনা করতে হয়। তাই বলা যায় রাষ্ট্র ও সরকার অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এরিষ্টটল যথার্থই বলেছেন, ‘‘মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্যই রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।’’ মানুষকে
উন্নততর জীবন ব্যবস্থা দান করার লক্ষ্যেই রাষ্ট্র সক্রিয় থাকে। মানব জীবনের উপর রাষ্ট্রের প্রভাব সুদূর প্রসারী। অন্য
কোন প্রতিষ্ঠানই অনুরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
মানব ইতিহাসের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রের সংগঠন, রাষ্ট্রীয়
প্রতিষ্ঠান, নাগরিক অধিকার, শাসনতন্ত্রইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
ইউনেস্কোর (টঘঊঝঈঙ) অভিমত
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু বা পরিধি সংক্রান্তবিতর্ক দূর করার লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি
বিষয়ক সংস্থা (টঘঊঝঈঙ) একটি সম্মেলনে আলোচনা করে এ অভিমত ব্যক্ত করে যে নি¤œলিখিত চারটি বিষয়
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিৎ। যথা:-
 রাষ্ট্রতত্ত¡ এবং এর ইতিহাস;
 রাষ্ট্রের সংবিধান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, জাতীয় সরকার, প্রাদেশিক ও স্থানীয় শাসন প্রণালী এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের তুলনামূলক
আলোচনা;
 রাজনৈতিক দল, উপদল, শাসনকার্যে নাগরিকের অংশগ্রহণ ও জনমত;
পাঠ-২
বাংলাদেশ উš§ুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
ইউনিট - ১ পৃষ্ঠা - ৫
 আন্তর্জাতিক আইন ও আর্ন্তজাতিক সংস্থা।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের আলোচনার ক্ষেত্র ব্যাপক। রাষ্ট্রের আদর্শ ও উদ্দেশ্য, ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক,
সরকারের গঠন ও কার্যাবলী, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পারস্পারিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়ে যুক্তি
নির্ভর আলোচনা ও মতামত সবকিছুই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনাসহ সমাজের নৈতিক সমস্যা সম্পর্কে আলোকপাত করে। বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের রীতি-নীতির মধ্যে গুণাগুণের বিচারে কোনগুলো কাম্য তার অনুসন্ধানও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কাজ। সামাজিক
সংগঠনগুলো কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান তা আলোচনা করে থাকে। বিভিন্নরাজনৈতিক পদ্ধতিগুলোর তুলনামূলক
আলোচনার মাধ্যমে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে জনগণের অধিকতর কল্যাণ হবে তা নির্ধারণ করা যায়। অধ্যাপক
রবসন যথার্থই বলেছেন,“ওঃ রং পড়হপবৎহবফ নড়ঃয রিঃয যিধঃ রঃ রং ধহফ যিধঃ রঃ ংযড়ঁষফ নব." “রাষ্ট্রজ্ঞিান শুধু কি
আছে তা নিয়ে ব্যস্তথাকেনা, কি হওয়া উচিৎ তাও আলোচনা করে।”
একথা সত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান শুধু রাষ্ট্র নিয়েই এর আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখে না। রাষ্ট্রের সদস্যদের আর্থ-সামাজিক ও মনস্তাত্তি¡ক
উপাদানসমূহ যা তাদের কার্যাবলীকে প্রভাবিত করে তা নিয়েও পর্যালোচনা করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রের উৎপত্তি, কার্যাবলী সংক্রান্তবিভিন্ন মতবাদ নিয়ে আলোচনা করে। বিভিন্ন সরকারী বিভাগের মধ্যে
ক্ষমতা বন্টন, সরকারী কাঠামো, সরকারী কর্মচারীদের কার্যাবলী ও দায়িত্বশীলতা, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, আইনের
শাসন, বিচার বিভাগ, বন্টন প্রক্রিয়া, নীতি, যুদ্ধ ও শান্তিপ্রভৃতি এ শাস্ত্রেগভীরভাবে বিশ্লেষিত হয়। সার্বভৌমত্ব,
স্বাধীনতা, সাম্য, জাতীয়তাবাদ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, গণতন্ত্র, ক্ষমতা, রাজনৈতিক আচরণ, রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের
ধ্যানধারণা প্রভৃতি বিষয়গুলো রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু।
সারকথা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিকাশ, রাষ্ট্রের গঠনকাঠামো ও কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা করে। রাষ্ট্রের জাতীয় ও
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করে। সরকারের শ্রেণীবিভাগ, সরকারের কার্যাবলী, সংবিধান, রাজনৈতিক
দল, জনমত, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্র ও সরকার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রধান আলোচ্য
বিষয়। অধ্যাপক গেটেলের ভাষায় বলা যায় যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা করে থাকে।
এস এস এইচ এল
রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত¡ পৃষ্ঠা - ৬
পাঠোত্তর মূল্যায়ন
বহু নির্বাচনী প্রশ্ন
সঠিক উত্তর লিখুন।
১। ‘চড়ষরঃরপধষ ঝপরবহপব নবমরহং ধহফ বহফং রিঃয ঃযব ংঃধঃব,’ এই বক্তব্যটি কার?
(ক) এরিষ্টটলের;
(খ) বার্জেসের;
(গ) উইলোবীর;
(ঘ) গার্নারের।
২। ‘ রাষ্ট্র, সরকার ও আইন হল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয়’-কে বলেছেন?
(ক) গেটেল;
(খ) লাস্কি;
(গ) উইলোবী;
(ঘ) গার্নার।
৩। স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়- কে বলেছেন?
(ক) বার্জেস;
(খ) এরিষ্টটল;
(গ) প্লেটো;
(ঘ) উইলসন।
৪। মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্যই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছে- কে বলেছেন?
(ক) সক্রেটিস;
(খ) ইবনে খালদুন;
(গ) এরিষ্টটল;
(ঘ) গার্নার।
৫। ১৯৪৮ সালে ইউনেস্কো রাষট্রবিজ্ঞানের কয়টি আলোচ্য বিষয়ের কথা বলেছেন?
(ক) ৩টি;
(খ) ৪টি;
(গ) ২টি;
(ঘ) ৫টি।
উত্তরমালাঃ ১. ঘ, ২. গ, ৩. ক, ৪. গ, ৫, খ।
সংক্ষিপ্ত উত্তরমুলক প্রশ্ন
১. ইউনেস্কো (টঘঊঝঈঙ) কি?
রচনামূলক প্রশ্ন
১. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধি বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করুন।
বাংলাদেশ উš§ুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
ইউনিট - ১ পৃষ্ঠা - ৭
রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি বিজ্ঞান?
উদ্দেশ্য
এ পাঠটি পড়ে আপনি 
 রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি বিজ্ঞানের স্বপক্ষে ও বিপক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবেন;
 বিজ্ঞানের সংজ্ঞা দিতে পারবেন;
 রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি অর্থে বিজ্ঞান তা আলোচনা করতে পারবেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি বিজ্ঞান?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে অভিহিত করা যায় কিনা এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
আদি গুরু দার্শনিক এরিস্টটল রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি রাষ্ট্রসম্পর্কিত সামগ্রিক
আলোচনাকে বিজ্ঞানের মর্যাদা দিয়েছেন। পরবর্তী যুগে এই ধারণার সমর্থকদের মধ্যে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা হলেনসিজউইক, লর্ড ব্রাইস, হবস, বদিন, মন্টেস্কু, বন্টুসলি, ম্যাকেয়াভেলী, উইলোবী, বারজেস, ক্যাটলিন, জর্জ পোলক
প্রমুখ দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে তাঁরা বিজ্ঞান বলে আখ্যা দিয়েছেন।
জার্মান চিন্তাবিদ হলজেনডরফ রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘জ্ঞানের ব্যাপক বিস্তার লাভের ফলে
রাষ্ট্রসংক্রান্তসংক্রান্তঅভিজ্ঞতা, ঘটনা ও প্রজ্ঞাকে সমষ্টিগতভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান শিরোনামে অভিহিত করা যুক্তিসঙ্গত।’
অপরপক্ষে কয়েকজন বিশিষ্ট লেখক উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিজ্ঞান পদবাচ্য নয়। এদের মধ্যে বাকলে মেটল্যান্ড,
এ্যামস ও কোঁতের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। এসব চিন্তাবিদগণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে মেনে নিতে রাজী
নন।
মেটল্যান্ড বিদ্রæপ করে বলেন, ‘যখন আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান শিরোনামে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখি তখন প্রশ্নগুলোর জন্য নয় বরং
শিরোনামের জন্য দুঃখিত হই।’ (ডযবহ ও ংবব ধ মড়ড়ফ ংবঃ ড়ভ বীধসরহধঃরড়হ য়ঁবংঃরড়হং যবধফবফ নু ঃযব ড়িৎফ
ঢ়ড়ষরঃরপধষ ংপরবহপব, ও ৎবমৎবঃ হড়ঃ ঃযব য়ঁবংঃরড়হং নঁঃ ঃযব ঃরঃষব.দ) কৌঁতে প্রধানত তিনটি কারণে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান
বলতে রাজী নন। যথা:-
 রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু, পদ্ধতি, সিদ্ধান্তও নীতিমালা সম্পর্কে একমত নন;
 রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ ও অগ্রগতিতে কোন ধারাবাহিকতা নেই;
 ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানে কোন সঠিক নির্ভরযোগ্য স্থায়ী সূত্র বা মান নেই।
এ্যামস উল্লেখ করেন ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু ও পরিধি এত ব্যাপক ও জটিল যে, তা আলোচনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।’ এসব যুক্তির বিপক্ষে ফ্রেডরিক পোলক বলেন যে, ‘যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে স্বীকার করতে
চান না প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞান সম্পর্কে তাদের ধারণা অত্যন্তসংকীর্ণ ও অসম্পূর্ণ।’
বিজ্ঞানের সংজ্ঞা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান যথার্থ অর্থে বিজ্ঞান কিনা তা নির্ধারণ করতে হলে বিজ্ঞানের সংজ্ঞা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক।
বিজ্ঞান হল কোন বিষয় সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান (অ নড়ফু ড়ভ ংুংঃবসধঃরুবফ শহড়ষিবফমব)। বিজ্ঞান হল পরস্পর
সম্পর্কযুক্ত বিষয়সমূহ সম্পর্কেশৃঙ্খলিত জ্ঞান (ঝপরবহপব রং ধ পড়যবৎবহঃ শহড়ষিবফমব ধনড়ঁঃ ংড়সব রহঃবৎৎবষধঃবফ
ঢ়ৎড়নষবসং)। কোন বিষয়ের ধারাবাহিক জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলা হয়। সমাজবিজ্ঞানী মসকা বলেন যে, ‘বিজ্ঞান গড়ে উঠে
মূলত নিয়মানুগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের বিশেষ ধারার উপর।’ বিজ্ঞানের গবেষণায় যে সূত্র ও সত্য আবিষ্কৃত হয়
দেশ-কালভেদে তা নির্ভুল ও অপরিবর্তনীয়। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে বিশ্বজনীন নিয়মের (টহরাবৎংধষ ষধংি) সন্ধান পাওয়া
যায়। যেমন পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি ও অণুর বৈশিষ্ট্য সর্বত্র এক ও অভিন্ন। বিজ্ঞানের কার্যকারণ ও ফলাফলের মধ্যে
গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। এই কারণে সর্বত্র একই ফল পাওয়া যায়। পোলানস্কির মতে ‘বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণই হল
বিজ্ঞানের প্রধান মানদন্ড।’
পাঠ -৩
এস এস এইচ এল
রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত¡ পৃষ্ঠা - ৮
রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি অর্থে বিজ্ঞান?
বিজ্ঞানের উপরিউক্ত সংজ্ঞার আলোকে আমরা বলতে পারি পদার্থ বা রসায়ণবিদ্যা যে অর্থে নিখুঁত বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান
সে অর্থে সম্পূর্ণ বিজ্ঞান নয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের স্বরূপ ও উপাদান এক নয়। একজন প্রাকৃতিক বিজ্ঞানীর
গবেষণার বিষয়বস্তু হল কোন বস্তু বা পদার্থ। কিন্তু একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর অনুসন্ধানের প্রধান বিষয়বস্তু হল সমাজবদ্ধ মানুষ
ও রাষ্ট্র। দেশ-কাল-পাত্র ভেদে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, আবেগ, প্রবণতা ও নৈতিকতা ভিন্নতর হয়ে থাকে। মানুষের
আচরণকে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানের সূত্রের মধ্যে আবদ্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে সম্ভাব্যতার
(ঝপরবহপব ড়ভ চৎড়নধনরষরঃু) বিজ্ঞান বলে উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে ন্যায়-নীতির মানদন্ডে বিচার
করা হয়। মূলত রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি সামাজিক বিজ্ঞান। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সূত্র, স্থিরতা এবং ফলাফলের যে অভিন্নতা
তা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পাওয়া সম্ভব নয়। একথা সত্য যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে পদ্ধতিগত ও নীতিগত যতই মতপার্থক্য থাকুক
না কেন ধারাবাহিক তুলনামূলক আলোচনা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তবহুলাংশে স্থির ও নির্ভুল। এ
প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফাইনার বলেন, ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ বক্তা না হলেও সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ বক্তা
হতে পারি’ (ওহ ঢ়ড়ষরঃরপধষ ঝপরবহপব বি পধহ নবপড়সব ঃযব ঢ়ৎড়ঢ়যবঃং ড়ভ ঢ়ৎড়নধনষব হড়ঃ ঃযব ংববৎং ড়ভ ঃযব পবৎঃধরহ)।
ইতিহাসের বিভিন্ন দৃষ্টান্তও ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করে যে সিদ্ধান্তনেওয়া হয় তা অনেক ক্ষেত্রে নির্ভুল হয়। এরিস্টটল
১৫৮টি সংবিধান ও শাসনব্যবস্থা পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রের নীতিমালা, আইনের স্বার্বভৌমত্ব এবং বিপ্লবের কারণ ও
প্রতিকার সম্পর্কেযে মন্তব্য করেছেন তা আজও কার্যকর।
তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শাস্ত্রটিকে বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত করতে
সাহায্য করেছেন এজন্য তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
সমাজের বিভিন্ন ঘটনাবলী ইতিহাসের আলোকে বিচার বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আবিষ্কার করতে
সক্ষম। বিজ্ঞানের পদ্ধতি, বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্তেউপনীত হওয়ার দৃষ্টিকোন থেকে আমরা
রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে পর্যবেক্ষণমূলক বিজ্ঞান বলে অভিহিত করতে পারি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পূর্ণ বিজ্ঞান নয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান
অংকশাস্ত্রের মত স্বতঃসিদ্ধ সত্যের সন্ধান দিতে পারে না। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও
সামাজিক বিজ্ঞানের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। অধ্যাপক লাস্কি বলেন, ‘ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আমরা প্রবণতা নিয়ে আলোচনা
করি এবং অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎবাণী করে থাকি’ (ডব ফবধষ রিঃয ঃবহফবহপরবং, বি ঢ়ৎবফরপঃ ঁঢ়ড়হ ঃযব
নধংরং ড়ভ বীঢ়বৎরবহপব)। লর্ড ব্রাইস বলেন, ‘ যেভাবে আমরা আবহাওয়া বিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলি, সেভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকেও
বিজ্ঞান বলতে পারি।’ আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের সকল ভবিষ্যৎবাণী যেমন সত্য হয় না, তেমনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ভবিষ্যৎবাণী
দেশ, কাল ও ঘটনা চক্রে সবসময় সঠিক হয় না। তার মতে, ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি প্রগতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনা ক্ষেত্র ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণও গতানুগতিকতার পরিবর্তে অধিকমাত্রায় বৈজ্ঞানিক
দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছেন। পরিসংখ্যান ও গাণিতিক তত্তে¡র মাধ্যমে অর্জিত আচরণগত গবেষণালব্ধ জ্ঞানভান্ডার
রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বহুলাংশে বিজ্ঞানের মর্যাদা দিয়েছেন।
সারকথা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মত খাঁটি বিজ্ঞান নয়। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
অনেক সূত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতিলদ্ধ শ্রমের ফসল যা অনেকাংশে বিজ্ঞানের মর্যদা সম্পন্ন।
বাংলাদেশ উš§ুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
ইউনিট - ১ পৃষ্ঠা - ৯
পাঠোত্তর মূল্যায়ন
বহুনিবার্চনী প্রশ্ন
সঠিক উত্তর লিখুন।
১. রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
ক. সক্রেটিস;
খ. প্লেটো;
গ. এরিস্টোটল;
ঘ. হেরেডেটাস।
২. রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে আখ্যায়িত করায় বিদ্রƒপ করেছেন কে?
ক. মেটল্যান্ড;
খ. সিজউহক;
গ. জর্জ ক্যাটলিন;
ঘ. বারজেস।
৩. ‘যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে স্বীকার করতে চান না প্রকৃত পক্ষে বিজ্ঞান সম্পর্কে তাদের ধারণা অত্যন্তসংকীর্ণ
ও অসম্পূর্ণ।’ এই উক্তিটি কে করেছেন?
ক. হলজেনভরফ;
খ. পোলক;
গ. উইলোবী;
ঘ. লর্ড ব্রাইস।
৪. 'ডব ফবধষ রিঃয ঃবহফবহপরবং, ডব চৎবফরপঃ ঁঢ়ড়হ ঃযব নধংরং ড়ভ বীঢ়বৎরবহপবদ এই বক্তব্যটি কার?
ক. ফাইনার;
খ. মন্টেস্কু;
গ. পোলক;
ঘ. লাস্কি।
উত্তরমালা ঃ ১. ক. গ. ২. ক ৩. খ ৪. ঘ
রচনামূলক প্রশ্ন
১. রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি বিজ্ঞান? আলোচনা করুন।
এস এস এইচ এল
রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত¡ পৃষ্ঠা - ১০
রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা
উদ্দেশ্য
এ পাঠটি পড়ে আপনি 
 রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে পারবেন;
 বাংলাদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব সর্ম্পকে বলতে পারবেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। এরিষ্টটলকে ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।
তিনি আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্বন্ধে বলতে গিয়ে এ শাস্ত্রকে ‘গধংঃবৎ ঝপরবহপব' বা
সমস্তবিজ্ঞানের বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক জীবনকে কেন্দ্র করে অর্থাৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুষ্ঠু ও
যথার্থ বিন্যাস, ভ‚মিকা এবং কার্যাবলীর উপরই নাগরিক জীবনের চাহিদার যথাযথ পূরণ ও বিকাশ নির্ভর করে।
একজন শিক্ষার্থী একজন নাগরিকও বটে। শিক্ষাজীবনের সমাপ্তির পর সমাজ জীবনের বৃহত্তর পরিবেশে যেখানেই সে
তার স্থান করে নেয় না কেন রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য কিংবা রাষ্ট্রের নিকট তার অধিকারের প্রসঙ্গ জীবনজুড়ে থাকবেই।
তাকে কোন না কোনভাবে এ সবের সাথে জড়িত থাকতেই হবে। এ পর্যায়ে রাষ্ট্র সম্পর্কিত পূর্বজ্ঞান পথ চলতে প্রভ‚ত
সহায়তা করবে। রাজনৈতিক জীব হিসেবে এ বিষয়ের জ্ঞান মানুষকে উন্নততর জীবনের সন্ধানও দিতে পারে।
সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্রিয়া ও আন্তক্রিয়ার সাথে পরিচিতি অর্জনের প্রবেশদ্বার হচ্ছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান। রাজনৈতিক কৃষ্টি ও সংস্কৃতির
প্রতি প্রবণতা বা সামাজিকীকরণ রাষ্ট্রীয় জীবনের এক গুরুত্ব পূর্ণ উপাদান। রাজনৈতিক সচেতনতা বা রাজনীতির দীক্ষা
গ্রহণে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সর্বদাই সহায়ক ভ‚মিকা পালন করে। সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর পারস্পরক্রিয়া কিভাবে
রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, বিধি প্রণয়ণ ও বাস্তবায়নে প্রভাব রাখে তা রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমেই জানা সম্ভব।
সমাজ গতিশীল। সমাজে নিরন্তর পরিবর্তন ঘটে চলেছে। সর্বদা রাজনৈতিক জীবনে ঘটছে নানারকম কাক্সিক্ষত বা
অনাকাক্সিক্ষত পরিবর্তন। সাধারণ দৃষ্টিতে এ পরিবর্তন বা রদবদলের কারণ উপলদ্ধি করা গেলেও প্রকৃত ও অন্তর্নিহিত
কারণ হয়তো তার চেয়ে অনেক দূরবর্তী বা গভীর। এ দূরবর্তী ও গভীর কারণকে জানতে গেলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে
রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
একসময় রাষ্ট্রকে পুলিশী রাষ্ট্র (চড়ষরপব ংঃধঃব) বলা হত। কালের পরিবর্তনে এ নামকরণ পরিবর্তিত হয়ে কল্যাণমূলক
রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে (ডবষভধৎব ংঃধঃব)। প্রশাসনের সেবা ও শাখা বিস্তৃত হতে থাকে সমাজ জীবনের সর্বত্র। ফলে রাষ্ট্র
পরিচিত হল প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক রাষ্ট্র নামে। এ বিবর্তনের ধারাবাহিকতা ও স্বরূপ উপলদ্ধির স্বার্থে স্বাভাবিকভাবে
রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হবার দাবী করতে পারে।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। সুদীর্ঘ আন্দোলন এবং এক রক্ষক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত
হয়েছে। একথা সত্য যে, স্বাধীনতা লাভ করার চেয়েও দেশগড়া আরও কঠিন কাজ। তাই বাংলাদেশের নাগরিকের জন্য
রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নের বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত
কঠিন কাজ। এর জন্য দরকার সচেতন উদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা সম্পন্ন নাগরিক
গোষ্ঠী। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এসকল গুণাবলীর বিকাশ ঘটাতে সক্ষম। দেশপ্রেমিক ও আদর্শ
নাগরিক গড়ে তুলতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের ভ‚মিকা অনস্বীকার্য।
রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, নাগরিকদের গণতন্ত্রমনা, সহনশীলতা বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যয়ন ও অনুশীলন
অপরিহার্য। বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি নাগরিকের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করা
একান্তপ্রয়োজন।
বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। এখানে সুষম সমাজ ব্যবস্থা এখনও গড়ে উঠেনি। সামাজিক ও অর্থনেতিক জীবনে ঐকমত্য
ও সহনশীলতার অভাব খুবই প্রকট। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে সহনশীল সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে
তোলা অপরিহার্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়ন আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই মনোভাব ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা করতে
পারে।
সারকথা
এরিষ্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলে আখ্যায়িত করা হয়। তিনি আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে রাষ্ট্রবিজ্ঞান
সম্পর্কে বলতে গিয়ে এ শাস্ত্রকে ‘গধংঃবৎ ঝপরবহপব ’ বা সমস্তবিজ্ঞানের বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। তিনি তার
রচিত পুস্তকের নামও দিয়েছেন চড়ষরঃরপং বা রাজনীতি। তার মতে মানব জীবনের সমস্তদিক ও বিভাগ আবর্তিত হয়
রাজনৈতিক জীবনকে কেন্দ্র করে। অর্থাৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুষ্ঠু ও যথার্থবিন্যাস, ভ‚মিকা এবং কার্যাবলীর উপরই
নাগরিক জীবনের চাহিদার যথাযথ পূরণ ও বিকাশ নির্ভর করে।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সঠিক উত্তর লিখুন।
১। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলে আখ্যায়িত করা হয় কাকে?
(ক) সক্রেটিসকে;
(খ) এরিষ্টটলকে;
(গ) প্লেটোকে;
(ঘ) হেরোডটাসকে।
২। এরিষ্টটল কত হাজার বছর পূর্বে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে গধংঃবৎ ংপরবহপব বলেছেন?
(ক) চার হাজার বছর পূর্বে;
(খ) আড়াই হাজার বছর পূর্বে;
(গ) পাঁচ হাজার বছর পূর্বে;
(ঘ) দু’হাজার বছর পূর্বে।
৩। এরিষ্টটলের রচিত গ্রন্থের নাম- K. Political Science; L. Politics; M. Applied politics; N. Theoretical politics.
(৪) শূন্যস্থান পূরণ করুনঃ-
(ক) স্বাধীনতা লাভ করার চেয়ে ----------আরও কঠিন কাজ
(খ) সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য------------ অধ্যয়ন প্রয়োজন।
(গ) --------------আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের ভ‚মিকা অনস্বীকার্য।
উত্তরমালাঃ ১. খ, ২.খ, ৩.ক, ৪. .ক, দেশগড়া খ.রাষ্ট্রবিজ্ঞান, গ দেশপ্রেমিক
সংক্ষিপ্ত উত্তরমূলক প্রশ্ন
১। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করুন।
২। আপনি কি মনে করেন যে বাংলাদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে? যুক্তিসহ আলোচনা করুন।

FOR MORE CLICK HERE
এইচএসসি বাংলা নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
ENGLISH 1ST & SECOND PAPER
এইচএসসি আইসিটি নোট
এইচএসসি অর্থনীতি নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র
এইচএসসি পৌরনীতি নোট ২য় পত্র
এইচএসসি সমাজকর্ম নোট ১ম পত্র
এইচএসসি সমাজকর্ম নোট ২য় পত্র
এইচএসসি সমাজবিজ্ঞান নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ইতিহাস নোট ১ম পত্র
এইচএসসি ইতিহাস নোট ২য় পত্র
এইচএসসি ইসলামের ইতি. ও সংস্কৃতি নোট ১ম পত্র
এইচএসসি ইসলামের ইতি. ও সংস্কৃতি নোট ২য় পত্র
এইচএসসি যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ভূগোল ও পরিবেশ নোট ১ম পত্র ও ২য় পত্র
এইচএসসি ইসলামিক স্টাডিজ ১ম ও ২য় পত্র

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]