: মানুষের মন ও পরিবেশের উপর ধূমপানের প্রভাব কী কী?

মানুষের মন ও মুক্তিবুদ্ধির উপর ধূমপানের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। যে ব্যক্তি ধূমপানে আসক্ত তার পক্ষে ধূমপান না করা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে কোনো কিছু চিন্তা করা, কোনো ভালো কাজে মনোনিবেশ করা, কোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করা বা কোনো জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। অনেকে ধূমপানের জন্য সিগারেট হাতে টয়লেটে প্রবেশ করেন। তার মতে ধূমপান না করলে মলত্যাগ করা কঠিন হয়ে যায়। সাধারণত টয়লেটে একটি বিশেষ ধরনের দুর্গন্ধ থাকে। আর ধূমপায়ী সিগারেট সেবনের সাথে সাথে দুর্গন্ধ ও দূষিত বাতাসও নিজের শরীরে টেনে নিচ্ছে। এটিই কি medically accepted good practice? Is a cigarette substitute for laxative tablets?

তাই একজন ধূমপায়ী আল্লাহ্র দাস না হয়ে একটি সিগারেটের দাসে পরিণত হয়, যা সত্যি অপমানজনক । তার চিন্তাশক্তি, যুক্তি বুদ্ধি ও বিবেক বাধাগ্রস্ত হয়। একজন ধূমপায়ী তার আশপাশের বন্ধুবান্ধব ও স্ত্রী-পুত্র-পরিজনের সামনে সিগারেটের ধোঁয়া নির্গত করে থাকেন। তাই অধূমপায়ী হয়েও তাদেরকে ধূমপানের সমূহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কারণ এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, passive smoking is as dangerous as active smoking. অর্থাৎ যারা কারো ধূমপানের সময় তার আশপাশে থাকে, তারাও একই ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকে। Passive smoking এ শতকরা ৩০-৪০ ভাগ cancer এর ঝুঁকি থাকে। এছাড়া ধূমপায়ী যদি কোনো ছোঁয়াচে রোগী হয়ে থাকেন, তখন তিনি তার নির্গত ধোঁয়ার মাধ্যমে আশপাশের লোকদেরকে অসুস্থ করে তুলতে পারেন। এটি অতীব সত্য যে, ধূমপায়ী ধূমপানের বাজে গন্ধের মাধ্যমে চারপাশের লোকদের কষ্ট দিয়ে থাকে। আর তার যদি সর্দি-কাশি, এ্যাজমা বা এলার্জি থাকে, তাহলে তার আশপাশের লোকেরা বাধ্য হয়ে ধূমপানের সময় দূরে চলে যায়। তাই ধূমপায়ীর নিকট কোনো রহমতের ফেরেশতা আসেননা। কারণ আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান পোষণ করে সে যেনো তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।" (সহীহ আল বুখারী) ৪১৪

অনেকে ধূমপানের গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বিরক্ত হয়ে সে স্থান ত্যাগ করে। তাই পরিবেশের উপর ধূমপানের প্রভাব ব্যাপক। ওঠাবসার সঙ্গী-সাথীদের মাঝে একজন ধূমপায়ীকে খারাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন খারাপ সঙ্গী ও ভালো সঙ্গীর পার্থক্যটি নিম্নে বর্ণিত হাদীসের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন । আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই একজন ভালো সঙ্গী ও খারাপ সঙ্গীর উদাহরণ হচ্ছে একজন সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবসায়ী এবং আরেকজন লৌহকর্মকার বা কামার। সুগন্ধি ব্যবসায়ীর নিকট কেউ গেলে তিনি প্রথমে তাকে সুগন্ধিযুক্ত করবেন আর তার নিকট কিছু সুগন্ধি দ্রব্য বিক্রয় করবেন। তা না হলে তিনি

থেকে বিরত থাকবেন। কারণ একটি দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি তথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দের উপরই আইনের শাসন বাস্তবায়ন বেশি নির্ভরশীল। কাজেই যারা ধূমপান বন্ধ করবেন, সর্বপ্রথম তাদের ধূমপান পরিত্যাগ করতে হবে। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ যদি ধূমপান না করেন, বা সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিডিআর ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণ যদি ধূমপান থেকে বিরত থাকেন তাহলে বাংলাদেশে ধূমপান বন্ধ করা কোনো ব্যাপারই নয়। নতুবা দেশে ধূমপানের জন্য যে শাস্তির বিধান আছে, তা কখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর নয়। কারণ ধূমপানের শাস্তি কোনো ধূমপায়ী বিচারক দিতে পারবেননা। কোনো বিচারক যদি ধূমপায়ী হন তখন তিনি ধূমপানের অপরাধে শাস্তি দিতে নৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল থাকবেন, কারণ তিনি নিজে ধূমপান করেন বা তা করতে অভ্যস্ত ।

উদাহরণ স্বরূপ, এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ডাক্তার আজহারুল ইসলাম ও আমি আপনাদের সামনে ধূমপান ও তার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আলোচনা করছি। এখন আমরা যদি ধূমপান করি, তাহলে এ বিষয়ের উপর আলোচনা করার কোনো নৈতিক অধিকার আমাদের থাকবেনা। ঠিক তেমনি বিচারক যদি ধূমপান করেন তবে ধূমপায়ী জনগণের শাস্তি দেবার জন্য তিনি কি উপযুক্ত? তদ্রূপ যে পুলিশ আইন ভঙ্গকারী ধূমপায়ীকে গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করবেন, সেই পুলিশই যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন তবে ধূমপায়ীকে গ্রেফতার করার নৈতিক অধিকার কি তার থাকবে ?