মুহতারাম, এতো গেল খেজুরের কথা। আঙুরের ব্যাপারে এ বিষয়ে হাদীস শরীফে কোনে বর্ণনা এসেছে কী?

হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাবীয তৈরির জন্য কিসমিস ও শুকনো খেজুর মেশাতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি এ উদ্দেশ্যে কাঁচা খেজুর ও পাকা খেজুরের সাথে মেশাতে নিষেধ করেছেন।” (সহীহ মুসলিম) ৪৫৪

সবুজ ও গোলাপি আঙুর (Green and pink graves)

নাবীয এক প্রকার পানীয়, যা খেজুর বা আঙুর থেকে পানিতে ভিজিয়ে তৈরি করা হতো। তবে fermentation It is a drink made by soaking grapes, raisins, dates etc.

in water without their ingredients allowed to ferment.

অপরদিকে আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাজা খেজুরের

সাথে আঙুর মিশাতে এবং কাঁচা ও পাকা খেজুর একত্রে মেশাতে নিষেধ করেছেন।” (সহীহ মুসলিম) ৪৫৫ অর্থাৎ তিনি এ দুই ধরনের খেজুর একত্রে মিশিয়ে কোনো কিছু তৈরি করতে নিষেধ করেছেন।

রক্তাভ ও বেগুনি আঙুর (Purple and violet grapes )

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে নাবীয তৈরির কথা উল্লেখ থাকলেও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে নাবীয তৈরির কথা বলা হয়নি। সহীহ আল বুখারীতে যে উদ্ধৃতি আছে, তার বর্ণনা একটু আলাদা । এখানে উদ্ধৃত আছে যে, আবূ কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুরমা ও কাঁচা খেজুর এবং খুরমা ও কিসমিস একত্রে মিশিয়ে পানিতে ভেজাতে নিষেধ করেছেন। এর প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথকভাবে ভেজাতে বলেছেন।” (সহীহ আল বুখারী) ৪৫৬ আবূ কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনায় জানা যায় যে “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা কাঁচা-পাকা খেজুর মিশিয়ে নাবীয তৈরি করবেনা এবং কাঁচা খেজুর ও কিসমিস দ্বারা নাবীয বানাবেনা । প্রত্যেকটি পৃথক পৃথকভাবে নাবীয বানাবে।” (সহীহ মুসলিম) ৪৫৭

এক সনদে জানা যায় যে বর্ণনাকারী আবূ কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতার সূত্রে “কাঁচা-পাকা খেজুর ও শুকনো খেজুর ও কিসমিসের কথা বলেছেন।" (সহীহ মুসলিম) ৪৫৮

এ দুটো হাদীস থেকে বুঝতে পারা যায় যে একই নামীয় খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যগত খাদ্য একত্রে মিশিয়ে কোনো কিছু তৈরি করতে তিনি নিষেধ করতেন। কারণ খেজুর পানিতে মিশানোর নির্দিষ্ট সময় পর fermentation শুরু হয়। দুই ধরনের খেজুরের onset of fermentation process আলাদা। সম্ভবত তাই তিনি তা নিষেধ করেছেন। তাছাড়া তিনি একই নামের দু'ধরনের খাদ্যদ্রব্য একত্রে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। যেমন খাসির গোশতের রোস্ট ও খাসির গোশতের তরকারি একই খাবারের বৈঠকে পরিবেশন করতে তিনি নিষেধ করেছেন। এখানে rate of digestion-এর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। হাদীস দুটোর প্রথম অংশে তাজা আঙুরের সাথে তাজা খেজুর মেশাতে নিষেধ করেছেন। কারণ আঙুর অনেক নরম প্রকৃতির এবং এতে অনেক পানি রয়েছে। তাই এই দুটো খাদ্যদ্রব্যের fermentation-এর সময় আলাদা। তিনটি হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের fermentation time সম্পর্কে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবহিত ছিলেন এবং সাহাবাগণ এ বিষয়টি তাঁর থেকে জেনেছেন। সম্মানিত দর্শক-পাঠক! এটি একটি বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। It is a wonderful scientific discovery. আমার মনে হয় এটি যদি Galen বা Hippocrates অথবা অন্য কোনো পশ্চিমা বিজ্ঞানী