মধুর মাধ্যমে চিকিৎসার কথা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বেশ কয়েকটি সহীহ হাদীস বর্ণনা করেছেন মধুর উপকারিতা সম্পর্কে ও রোগ নিরাময়ে এর ব্যবহার সম্পর্কে। এসব থেকে এটি স্পষ্ট যে, মধুর মধ্যে মানুষের জন্য রোগ নিরাময় রয়েছে। Diabetes বা বহুমূত্র একটি রোগ। তাই অন্যান্য রোগের ন্যায় এ রোগেরও নিরাময় এ মধুতে রয়েছে।
আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বলে যে কেউ যদি diabetes রোগে আক্রান্ত হয়, তার চিনি জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করা উচিত। বর্তমানে মিষ্টি ও অধিকাংশ চিনি জাতীয় খাবারে sucrose বা saccharin দেয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশে যতো মিষ্টি তৈরি করা হয় তার প্রায় ৯৯ ভাগই saccharin বা চিনি দিয়ে তৈরি হয়। আর চিনি মানেই sucrose, যেটা প্রধানত আখ বা sugar cane থেকে তৈরি করা হয়ে থাকে । অপরদিকে আমরা জানি যে মধুতে sucrose ছাড়াও আরো অনেক sugars বা carbohydrates রয়েছে। যেমন glucose, fructose, arabinose, xylose, gluco-uronic acid, galacto- uronic acid ইত্যাদি। তাই ডায়াবেটিক রোগীও নির্দিষ্ট মাত্রায় মধু সেবন করতে পারে। প্রতিদিন যদি কেউ ১ চা চামচ মধু সেবন করে, তবে তার ডায়াবেটিসের সমস্যা হবার কথা নয়। তবে এ ব্যাপারে diabetes বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। মূলকথা, মধুতে minerals, amino acids, fatty acids, carbohydrates, enzymes ও vitamins রয়েছে এবং এসব অসংখ্য উপাদানের synergistic effects-এর জন্যই মধুর গুণাগুণ এতো বেশি। আর এজন্যই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা পবিত্র কুরআনে একে মানুষের জন্য রোগ নিরাময়কারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন । প্রশ্ন-১৮০ : AIDS রোগের চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
উত্তর : AIDS একটি ভয়ানক ব্যাধি যা মহামারীর ন্যায় এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। AIDS জাতীয় রোগ সম্পর্কে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন কোনো জাতি প্রকাশ্যে বেহায়াপনা, নগ্নতা, অশ্লীলতা ও অন্যান্য লজ্জাহীনতার পাপকার্যে লিপ্ত হয়। এবং এসব পাপকার্য মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের জন্য আকাশ থেকে নতুন নতুন ঘাতক ব্যাধি পাঠানো হবে, যাদের নাম তারা কিংবা তাদের পূর্বপুরুষের কেউ শোনেনি ।” (ইবনে মাজাহ) ৫২৮
এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো জাতির মধ্যে যখন প্রকাশ্যে পাপাচার হতে থাকে এবং তাদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ঐসব পাপাচারীকে বাধা দেয়না, তখন আল্লাহ্ তা'য়ালা তাদের উপর ব্যাপকভাবে শাস্তি পাঠান।" (ইবনে মাজাহ) ৫২৯
বর্তমানে AIDS নামটি ৪টি ইংরেজি শব্দের প্রথম অক্ষরগুলোর একত্রীকরণ। অর্থাৎ Acquired Immunity Deficiency Syndrome-এর রোগটির কোনো vernacular নাম তথা বাংলা, আরবি, উর্দু বা ফারসি নাম নেই। AIDS is not a single English word, but it is the combination of four letters. আমাদের বাপ-দাদারাও এ রোগের নাম শোনেনি। তাই নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসটি দ্বারা যে AIDS নামক ঘাতক ব্যাধিকে বোঝায়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। হয়তো ভবিষ্যতে এ ধরনের আরো রোগ আসতে পারে, যার নাম কেউ জানবে না ।
এবার আলোচনায় আসি, AIDS রোগের চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার সম্পর্কে। মধু সম্পর্কে এতো গবেষণা হয়েছে তার সারমর্ম একত্র করলে জানা যাবে যে মধু immunity system develop করতে সাহায্য করে। মধুতে anti-aging principles বা বার্ধক্য প্রতিরোধের উপাদান রয়েছে।
অপরদিকে "কালিজিরা মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের ঔষধ" এ বিষয়ে হাদীস শরীফে অনেক বর্ণনা এসেছে। আর আধুনিক বিশ্বে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্ৰমাণ করার জন্য কালিজিরার উপর গবেষণাগারে প্রায় কয়েক হাজার গবেষণা হয়েছে। এসব গবেষণার ফলাফল এটাই প্রমাণ করে যে “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালিজিরা সম্পর্কে যা বলেছেন তা সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত।" তাই আমার বিশ্বাস, কালিজিরা ও মধুর সমন্বয়ে কোনো recipe যদি AIDS রোগীদের তিন মাস নিয়মিত সেবনের জন্য দেয়া হয়, তাহলে উক্ত রোগী আরোগ্য লাভ করবে ইনশা'আল্লাহ। সাথে সাথে AIDS ও AIDS জাতীয় রোগ সম্পর্কে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা মেনে চলতে হবে। নতুবা দুষ্ট লোকেরা AIDS-এ আক্রান্ত হতেই থাকবে আর মৃত্যুবরণ করতেই থাকবে। তাদের জন্য মায়াকান্নার কী আছে? সুন্দর এই পৃথিবী নামক গ্রহটি দুষ্টু লোকের জন্য নয়। AIDS এক প্রকার divine punishment. এর শাস্তি যে আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়, তা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেই দিয়েছেন। AIDS রোগের উৎপত্তির ইতিহাস যারা জানেন, তারা এ রোগের জন্য সমাজের পাপাচারকেই দায়ী করে থাকেন।