পবিত্র কুরআনে দুধ সম্পর্কে কি কোনো বর্ণনা এসেছে? রেফারেন্স সহকারে বলুন।

মানব জাতিকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা যতগুলো নিয়ামত দান করেছেন, দুধ তার মধ্যে অন্যতম। জান্নাতে যেসব নিয়ামতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, তন্মধ্যে একটি হচ্ছে দুধের নহর। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা ইরশাদ করেন,



وَأَنْهُرٌ مِنْ لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ ﴾



“বেহেশতে দুধের এমন নহর প্রবাহিত হবে, যার স্বাদ বা গন্ধ কখনো পরিবর্তন হবেনা।” (মুহাম্মদ ৪৭:১৫ ) 'সব ধরনের দুধ কিছু সময় fresh বা সতেজ থাকে। তারপর এর স্বাদ পরিবর্তন হতে থাকে এবং পরে তা টক হয়ে যায় । কিন্তু জান্নাতের দুধ এর ব্যতিক্রম। জান্নাতের দুধের স্বাদ কখনো পরিবর্তন হবেনা । অপরদিকে সূরা নাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা দুধকে স্বচ্ছ, নির্মল ও সুস্বাদু বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন,



لَبَنَّا خَالِصًا سَابِنَّا لِلشَّرِ بِيْنَ ﴾



“স্বচ্ছ, নির্মল, নির্ভেজাল ও খাঁটি দুধ, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু ও উপাদেয়।” (নাহল ১৬:৬৬) অপরদিকে শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য বলা হয়েছে । আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা ইরশাদ করেন,



وَالْوَالِدتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ



“মায়েরা পুরো দু'বছর তাদের সন্তানদের বুকের দুধ পান করাবে।” (আল বাকারাহ ২:২৩৩) দুগ্ধবতী মায়েদের অর্থাৎ দুই বছর সময়ের ভেতর পুনরায় সন্তান সম্ভাব্য হওয়ার বিষয়ে কিছু বিধি-নিষেধ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অরোপ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরে আর তিনি তা করেননি। যুদাম বিনতে ওয়াহহাব রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন যে আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- “আমি দুগ্ধবতী মায়েদের সাথে তাদের স্বামীদের মিলনকে নিষেধ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন আমি রোম ও পারস্যের অধিবাসীদেরকে দেখলাম যে তাদের ছেলেমেয়েরা 'আল-গাইলা' (দুগ্ধপোষ্য শিশু থাকাকালীন সময়ে সংগম) অভ্যাসের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি, তখন আমি আর সে অভ্যাসটি নিষেধ করিনি।" (সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, আবূ দাউদ, আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) ৫৪৬



নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিন্তার পিছনে সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক কারণ ছিলো। এ হাদীসের ব্যাখ্যা বিবরণীতে আল্লামা আস্-সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন যে কোনো মহিলা যখন গর্ভবতী



হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মাসিক রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। গর্ভধারণের সময় রক্তের উত্তম উপাদনগুলো খাদ্যে পরিণত হয়, যা ভ্রূণের পুষ্টিবিধানের জন্য প্রয়োজন। অবশিষ্ট অংশ যা দূষিত রক্ত, তা মায়ের স্তনে গিয়ে জমা হয়। অনুরূপভাবে যখন কোনো দুগ্ধবতী মহিলা গর্ভবতী হন, তখন মাসিক রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে বুকের স্তনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং পরে তা দুধে রূপান্তরিত হয়, ভ্রূণের পুষ্টিবিধানের জন্য। তবে এ ব্যাখার সাথে কতিপয় ডাক্তার ভিন্নমত পোষণ করেন। হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ আনসারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল গাইলা অভ্যাস কার্যকর করলে তা শিশুকে যখন সে বড় হবে, ঘোড়ার পিঠ থেকে নিচে ফেলে দেবে।” (আবূ দাউদ ও আত-তিরমিযী) ৫৪৭



That is, practicing 'al-gayla' catches the rider and throws him down from the horse. In other words, the boy would not be strong and stout. He may fall down from the horse back.



আসমা বিনতে ইয়াযীদ ইবনুস সাকান রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “তোমরা গোপনে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করোনা। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ। দুধপানের মেয়াদে স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে আরোহীকে ঘোড়া তার পিঠ থেকে ভূলুন্ঠিত করে।” (আবূ দাউদ ও ইবনে মাজাহ) ৫৪৮