কোনো বাড়িতে কারো আকস্মিক মৃত্যু হলে তার আপনজন তথা নিকটতম আত্মীয়-স্বজন সবাই শোকাহত ও দুঃখ ভারাক্রান্ত থাকে। এ সময়ে তাদের দুঃখ ও শোক দূর করতে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী উপদেশ দিতেন?


উত্তর : হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, “যখনই হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কোনো আত্মীয় মৃত্যুবরণ করতেন, তখন অনেক মহিলা তাদের বাড়িতে তশরীফ আনতেন। পরে তাদের প্রায় সবাই চলে গেলে নিকটতম আত্মীয়গণের মধ্যে যারা অধিক দুঃখ ভারাক্রান্ত ও বেশি শোকাহত, তারা আরো কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন। তিনি তাদের জন্য তালবিনা বা মিল্ক স্যুপ পাকানোর নির্দেশ দিতেন। তারপর সারিদ তৈরি করে তার উপর তালবিনা ঢেলে দেয়া হতো। অতঃপর তালবিনা সবাইকে পরিবেশন করা হতো। তখন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাদেরকে বলতেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তালবিনা স্যুপ অসুস্থ ব্যক্তির হৃদয়ে প্রশান্তি আনয়ন করে এবং অন্যান্য লোকদের দুঃখ-শোক, যন্ত্রণা ও দুশ্চিন্তা দূর করে।” (সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম) ৫৭৯

আমাদের দেশে মৃত ব্যক্তির জন্য শোক পালনকালে খিচুড়ি, রুটি বা সেমাই পাকানোর প্রচলন রয়েছে। এটি সাধারণত মাইয়্যেতের কোনো নিকটতম আত্মীয়-স্বজন নিজেদের পক্ষ থেকে নিয়ে আসে। তবে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত খাদ্য হলো তালবিনা ও সারিদ । এটি একদিকে যেমন খাদ্য, অপরদিকে শোকের প্রতিষেধকও বটে।

প্রশ্ন-১৯৬ : অসুস্থ ব্যক্তির জন্য তালবিনা ছাড়া আর কী খাদ্য পরিবেশনের জন্য নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন? অসুস্থ ব্যক্তিকে জোর করে কোনো পথ্য খাওয়ানো কি সঠিক?

উত্তর : অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালবিনা ছাড়া যবের রুটি খাওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখার জন্য তার বাসায় তশরীফ আনলেন এবং তাকে বললেন, “তোমার কী খেতে ইচ্ছে হয়?” তখন লোকটি বললেন, আমার যবের রুটি খেতে ইচ্ছে হয়। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমাদের ভেতর কারো নিকট যদি যবের তৈরি রুটি থাকে, সে যেনো তার ভাইয়ের জন্য কিছু পাঠিয়ে দেয়।” (ইবনে মাজাহ্) ৫৮০



গম (Wheat)

হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন, “তুমি কি কিছু খেতে চাও?” যে বললো, আমি কেক খেতে চাই। তখন তিনি বলেন, “আচ্ছা! তারা তখন তার জন্য সেটা তালাশ করে জোগাড় করলো।” (ইবনে মাজাহ) ৫৮১

উদাহরণস্বরূপ পিঠা, মিষ্টি, ফলমূল, পোলাও-কোর্মা ইত্যাদি । এ হাদীসটিও ইবনে মাজাহ শরীফে উদ্ধৃত হয়েছে। প্রখ্যাত গ্রীক চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও ওষুধশাস্ত্রের জনক হিপোক্র্যাট্সও নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশের মতো উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, preference should be given to whatever food or drink appears pleasant, even if it is not good - over whatever is more nutritious. অর্থাৎ তিনি বলেন, “কোন খাদ্য কতটুকু পুষ্টিকর তার চেয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত, কোন খাদ্য বা পানীয় রোগীর কাছে বেশি মনোরম ও সুপ্রিয়। খাদ্য স্বাস্থ্যকর না হলেও রোগীর পছন্দনীয় হলে তাকে তা দেয়া উচিত।”

উপরোক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, রোগী যা খেতে চায় বা খেতে পারে, তা তার স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী না হলেও তার জন্য তাই পরিবেশন করা উচিত। আমার মনে হয় ঠিক একই ধরনের medical concept আমাদের দেশের সম্মানিত চিকিৎসকগণ পোষণ করে থাকেন। কারণ রোগী যদি

কোনো পথ্য বা খাবার খেতে অপছন্দ করে, তখন তাকে জোরপূর্বক খাওয়ানো সমীচীন নয়, সে খাবার যতো উপকারীই হোক না কেনো। কারণ সে খাবারের প্রতি আগ্রহ বা রুচি না থাকলে সে তা বমি করে ফেলে দিতে পারে। বরং পথ্য জাতীয় হালাল খাবারের মধ্যে যা খেতে রোগীর মন চায়, তাই তাকে দেয়া উচিত। তা নাহলে রোগী না খেয়ে খেয়ে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হবে এবং সে ওঠা-বসা ও চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলবে।



সুপ্রিয় দর্শক-শ্রোতা ভাই-বোনেরা! আগামী কোনো এক পর্বে আমরা contraindications in sickness নিয়ে আলোচনা করবো ইনশা'আল্লাহ। যেখানে আমি সহীহ হাদীসের উদ্ধৃতিসহ প্রমাণ করবো যে ইসলামের মহান নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই drug-drug and drug food interaction নামক বিস্ময়কর medical concept-এর প্রথম আবিষ্কারক। Adverse effects of medicine, contra-indications in sickness, self-medication of medical concept- সম্পর্কেও তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রয়েছে । আপনাদের সে আলোচনা শোনার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাই ।