ডায়রিয়া, আমাশয় বা পেটের পীড়ায় আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধু সেবনের উপদেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে যে বিখ্যাত হাদীসটি reference হিসেবে আলোচনা করছি, তা হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলো, 'আমার ভাইয়ের পেটে ব্যথা অথবা সে আমাশয় বা ডায়রিয়ায় ভুগছে।' নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তাকে মধু পান করিয়ে দাও।' সে ব্যক্তি চলে গেলো তবে আবার ফিরে এসে বলল, 'আমি তাকে মধু পান করিয়েছি, কিন্তু মধুতে কোনো উপকার হয়নি।' তখন তিনি পুনরায় তাকে মধু পান করাতে বললেন। এভাবে আরো দুবার এসে একই কথা বললো, আমাশয় বা পায়খানা বেড়ে গেছে। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চতুর্থবার বললেন, 'আল্লাহই সত্য বলেছেন, তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যে বলছে। তাকে মধু পান করাও।' সুতরাং সে ব্যক্তি তার ভাইকে পুনরায় মধু পান করালো এবং সে সুস্থ হয়ে গেলো।” ৫৮৯
বিশুদ্ধ মধু (Pure honey)
সহীহ আল বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ ও আত-তিরমিযীতে হাদীসটি উল্লেখ আছে। হাদীসটির শেষ কথা হলো “সে মধু পান করালো এবং সুস্থ হয়ে গেলো।” অন্যত্র এক বর্ণনায় আছে যে “সে ব্যক্তিটি তিনবার মধু সেবন করলো এবং সুস্থ হয়ে উঠলো।”
এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে হঠাৎ ডায়রিয়া, আমাশয় বা এ ধরনের রোগের চিকিৎসায় প্রথমে চিকিৎসকগণ একটু বেশি ওষুধ অর্থাৎ Loading dose
দিয়ে থাকেন এবং ২/৩ ঘণ্টা অন্তর উক্ত ওষুধ সেবন করতে বলেন। তাই ৩/৪ বার ওষুধ সেবনে ডায়রিয়া না থামলে এর অর্থ এ নয় যে ওষুধটি কার্যকর নয়। বরং পরিমাণ মতো নির্দিষ্ট dose মোতাবেক ওষুধ সেবন করলেই রোগ নিরাময় হয়ে থাকে। উক্ত ব্যক্তির বেলায়ও একই অবস্থা ঘটেছিল। “Allah has said the Truth and your brother's stomach lied." এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে মধু ডায়রিয়া বা আমাশয় রোগে সত্যি কার্যকর। তাই বর্তমানে মধুকে ‘পাকস্থলীর বন্ধু’ বা ‘friend of the stomach' বলা হয়ে থাকে। Honey is also bactericidal অর্থাৎ ‘রোগজীবাণু ধ্বংসকারী।'
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমোদিত এই prescription-এর সাথে আমি বর্তমান সময়ের খাবার স্যালাইনের তুলনা করতে চাই। স্যালাইন প্রথমদিকে কয়েক ঘণ্টা পরপর পান করতে হয়। কারণ শরীর থেকে যে পানি বের হয়ে যায় তা স্বাভাবিক করা প্রথম কাজ। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট পরিমাণ স্যালাইন শরীরে না প্রবেশ করালে এর সুফল পাওয়া যায়না। পরে ৫/৬ ঘণ্টা পরপর পান করতে হয়। তদ্রূপ উপরোক্ত হাদীস থেকে জানা যায় যে অসুস্থ বক্তির আমাশয় প্রথমদিকে না থামার কারণ যথেষ্ট পরিমাণ মধু সেবন করা হয়নি। পরে যখন বেশ কয়েক dose মধু সেবন করা হয়, তখন রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।