চিকিৎসা গ্রহণ না করে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করলে কি গুনাহ হবে?

একটু আগেই বলেছি যে, চিকিৎসা খোদায়ী বিধান। আর চিকিৎসা গ্রহণ করে আরোগ্য লাভ করা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। তাই ধরে নেয়া যায় যে চিকিৎসা গ্রহণ না করা সুন্নতের খেলাফ। তবে যেকোনো ধরনের চিকিৎসা করা যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যের যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে, সেখানে বলা হয়েছে যে, Health is defined as the physical, mental, social
and spiritual welbeing and not merely the absence of disease or infirmity. তাই সকল ধরনের রোগের চিকিৎসার ইঙ্গিত এ সংজ্ঞার মাঝে রয়েছে। তবে যদি কেউ physical medicine গ্রহণ না করেন তাহলে তিনি দু'য়ার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন, যাকে আমরা ইংরেজিতে বলে থাকি spiritual medicine বা রূহানি ওষুধ। মুঘল সম্রাট বাবর দু'য়ার মাধ্যমে তার ছেলে হুমায়ুনের রোগ নিরাময় করিয়েছিলেন। দু'য়ার মাধ্যমে রোগ থেকে আরোগ্যলাভের অসংখ্য উদাহরণ আমাদের সমাজে রয়েছে। কারণ যেহেতু রোগ আল্লাহ্ থেকে আসে, তাই আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে যাকে ইচ্ছা তাকে এবং যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে আরোগ্য দান করতে পারেন। পরিপূর্ণ আরোগ্য দানকারী হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ্ সুব্হানাহু ওয়াতা'য়ালা । He is the Healer, and doctors and medicines are the means of healing. তাই চিকিৎসা গ্রহণ না করে রোগের নিরাময় ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত নয়। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইবনে মাজাহ শরীফের একটি হাদীস লক্ষ্য করুন : “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অহী নাযিলের পর যখন মাথাব্যথা দেখা দিতো তখন তিনি মেহেদির প্রলেপ লাগাতেন।” (মুসনাদে আল বায্যার)