পোকা-মাকড়ের কামড়ে বা বিচ্ছুর দংশনে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী ব্যবস্থা নিতেন ?

বিচ্ছুর দংশনে আল্লাহর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাৎক্ষণিকভাবে লবণ-পানি ব্যবহার করতেন। এ ব্যবস্থাটি আমরা একটি হাদীস থেকে জানতে পারি। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এক রাতে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায়কালে হাত মাটিতে রাখলে অন্ধকারে একটি বিচ্ছু তাঁকে দংশন করে। তৎক্ষণাৎ তিনি একটু লবণ চেয়ে নিয়ে পানিতে মেশান। অতঃপর ঐ লবণ মিশ্রিত পানি বিচ্ছুর দংশিত স্থানে ঢালছিলেন, আর অন্য হাত দ্বারা ক্ষতস্থান বা আক্রান্ত স্থান মালিশরত অবস্থায় পবিত্র কুরআনের সূরা ফালাক্ক ও সূরা নাস পাঠ করছিলেন।” হাদীসটি শু'আবুল ঈমান ও মিশকাত শরীফে উল্লেখ আছে। ৬৩৪



সাধারণ খাওয়ার লবণ (Common salt)



সুধীবৃন্দ! সাধারণ লবণ বা sodium chloride দ্বারা চিকিৎসা সর্বপ্রথম আল্লাহর নবী বর্ণনা করেছেন। এটা আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যে, লবণ দিয়ে চিকিৎসার জনক হচ্ছেন আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। বর্তমানে লবণ দিয়ে চিকিৎসাকে halotherapy বা salt therapy বলা হয়ে থাকে।



ইউরোপে halotherapy একটি প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা ব্যবস্থা । এটা আক্রমণধর্মী চিকিৎসা নয় ।



এই লবণ দিয়ে চিকিৎসার ধারণা মানুষ পায় ১৮০০ শতকের গোড়ার দিকে। ১৮০০ শতকের মধ্যভাগে পোল্যান্ডের জনৈক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লক্ষ্য করেন যে, লবণ খনির শ্রমিকরা কখনও ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয় না। ১৮৪৩ সালে মানবদেহের ওপর লবণ কণার প্রভাব নিয়ে তিনি একটি বই লেখেন। তার সহকর্মী পোল্যান্ডের ক্রাকাউ শহরের নিকটবর্তী স্থানে ওষুধসম্পন্ন একটি খনিজ পানির ঝরণা খুঁজে পান। ঐ ঝরণায় অসুস্থ ব্যক্তি গোসল করলে রোগ ভালো হয়ে যেত। যাহোক, আমাদের আলোচনার বিষয় এই যে, লবণ যে বিষক্রিয়া নিরাময়ে কাজ করে তা সর্বপ্রথম আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখিয়েছেন।