হাদীসটি মুসনাদে আহমাদ ও মুসতাদরাকে হাকিমে উল্লেখ আছে । ইহা এটি সহীহ হাদীস।
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইহরাম পরিধান করেন এবং যখন তা খুলে ফেলেন তখন আমি তাঁর দেহ জারিরাহ (sweet flag)-এর সাহায্যে সুগন্ধিযুক্ত করতাম।” (সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম) ৬৩৬
ইংরেজিতে এই ওষুধের নাম হচ্ছে sweet rush or sweet flag. আরবি নাম হচ্ছে জারিরাহ (Dhareerah) বা আল-ভাজ ।
বচ, শ্বেত বচ (Sweet flag, Sweet rush)
ইবনুল কাইয়িম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, জারিরাহ হচ্ছে এক প্রকার ভারতীয় ওষুধ যা sweet flag-এর reed থেকে তৈরি করা হয়। এটি পাকস্থলী ও লিভারের জন্য বেশ উপকারী। এট হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে। কারণ, এতে সুগন্ধি আছে। ইবনে সীনা বলেন, কোনো স্থান পুড়ে গেলে গোলাপ পানি ও ভিনেগার মিশ্রিত sweet flag-এর চেয়ে আর কোনো উত্তম ওষুধ নেই । sweet flag-এর reed হচ্ছে নরম, হালকা এবং কিছুটা সঙ্কোচক বা astringent গুণাগুণ বিদ্যমান। এর drying effect আছে, যার ফলে ফুলে যাওয়া বা স্ফীত হওয়া pimple দূরীভূত হয়।
প্রশ্ন-২১৪ : কারো গায়ে ফোঁড়া দেখা দিলে অথবা ফোঁড়া বড় হয়ে পেকে সেখানে পুঁজ সৃষ্টি হলে আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী ব্যবস্থাপত্র দিতেন?
উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে দেবার চেষ্টা করবো ইনশা'আল্লাহ। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক আনসার ব্যক্তিকে দেখতে গেলাম। তার (শরীরে) ফোঁড়া হয়েছিলো। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা তাঁর (শরীর) থেকে উহাকে বের করোনা কেনো?” বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর অস্ত্রোপচার (incision) করে তা বের করা হলো। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।” (মুসনাদে আবি ইয়া'লা আল মাউসিলী ও মাজমাউয যাওয়াইদ) ৬৩৭রিওয়ায়াতটি যাদুল মা'আদ গ্রন্থে নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ ভাষ্যে রিওয়ায়াতটি কোনো হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায়নি।
“একদা জনৈক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখার জন্য আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। উক্ত ব্যক্তির কোমরে ফোঁড়ার কারণে ফোলা ছিলো। লোকেরা বলতে লাগলো, এতে পুঁজ রয়েছে। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উক্ত ফোঁড়া operation (incision) বা সেগাফ করার নির্দেশ দিলেন। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেন, আমি তৎক্ষণাৎ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে সেগাফ বা অপারেশন করে ফেললাম।” (যাদুল মা'আদ) ৬৩৮ এই হাদীস আলোচনা করলে আমরা জানতে পারি যে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ মতো আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তৎক্ষণাৎ ফোঁড়াটির ইনসিশন করেছিলেন। হাদীসটি থেকে আমরা আরো জানতে পারি যে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ইনসিশন বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন। অন্যথায় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমন জটিল কাজ করার জন্য নির্দেশ দিতেন না। কারণ অস্ত্রোপচার বা surgical operation তো বাচ্চাদের খেলনা নয় যে প্রত্যেকে এটি করতে পারবে বা যে কোনো লোকের দ্বারা এ কাজটি সম্পন্ন করা যাবে। এ হাদীসের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারি
যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু সাধারণ বা প্রাকৃতিক অর্থাৎ natural medicine-ই prescribe করেননি, প্রয়োজনবোধে surgical operation-এর বিষয়েও প্রয়োজনীয় উপদেশ দিতেন। এ থেকে বোঝা যায় যে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন পদ্ধতির উপরও অগাধ জ্ঞান রাখতেন। কোন্ ধরনের অসুস্থতায় কী ধরনের ওষুধ বা কোন্ পদ্ধতির ওষুধ সেবন করা উচিত, তা তিনি জানতেন । তিনি সাধারণত হার্বাল মেডিসিন তথা natural medicine দ্বারা চিকিৎসা করার উপর গুরুত্ব আরোপ করতেন।
হাদীসটির শিক্ষা গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হবে যে এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ আমাদের দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাও ফোঁড়া পেকে গিয়ে ভেতরে pus formation হলে তখন incision করে থাকেন। এটিই সর্বোত্তম চিকিৎসা। পরে কাটা অংশ দ্রুত শুকানোর জন্য antibiotic prescription দিয়ে থাকেন।