ঘুমরোগের আবির্ভাব বর্তমান সউদি আরবের হিজায প্রদেশে। ঘুমরোগ ঐ ব্যাধিকে বলে যার কারণে মানুষের শরীরে কোনো অনুভূতি নড়াচড়া, গরম-ঠাণ্ডা কিছুরই বোধশক্তি থাকেনা। হযরত আবূ উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত আবূ উসমান আন-নাহদী থেকে জেনে বর্ণনা করেছেন, “একদল লোক একটি গাছের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এবং তারা সে গাছের ফল খেয়ে নেয়। তখন তারা হঠাৎ paralysed হয়ে যায় (অর্থাৎ তারা অনুভূতিহীন ও নির্বাক হয়ে যায়)। মনে হয় যে তাদের ওপর কোনো বিশেষ বাতাস প্রবাহিত হওয়ার ফলে তারা জমে বরফে পরিণত হয়েছে। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ক্ষেত্রে বলেন, “পানির মশকে কিছু পরিমাণ পানি ঠাণ্ডা করো এবং তারপর সে পানি প্রত্যুষে অর্থাৎ ফজরের আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে তাদের উপর ঢেলে দাও বা ঝাপটা মার ।" (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, কানযুল উম্মাল ও ইবনুল কাইয়িম) ৬৫০
গ্রীষ্মপ্রধান দেশ বলে সউদি আরবে সাধারণ তাপমাত্রা অনেক বেশি। তবে প্রত্যুষে অর্থাৎ সকালের আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে পানির তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। তাই ঐ সময়ে কোনো অচেতন ব্যক্তির শরীরে পানি ছিটিয়ে দিলে তার জ্ঞান ফিরে আসতে পারে। এ চিকিৎসা ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতির অনুরূপ। কারণ কোনো ব্যক্তি সংজ্ঞাহীন হলে ইউনানি চিকিৎসামতে তার মুখমণ্ডলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দেয়া হয়ে থাকে ।
এ বক্তব্যের সমর্থনে একটি হাদীস এখানে আলোচনায় আনবো যা সহীহ আল বুখারীতে উদ্ধৃত আছে । হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লাম । নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে দেখতে আসলেন। তারা আমাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ করলেন এবং উদ্বৃত্ত পানি আমার গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমার সংজ্ঞা ফিরে আসলে দেখলাম যে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার সম্পত্তির ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো? আমার ধন-সম্পদের ব্যাপারে কী ফয়সালা করে যাবো? নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথার কোনো জবাব দিলেন না। ইতিমধ্যে মীরাস সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হলো।” (সহীহ আল বুখারী) ৬৫১
সউদি আরবের হিজায একটি তাপপ্রধান ও গরম এলাকা বিধায় সর্বত্র দুর্বল ও সহজ প্রবৃত্তিজাত উত্তাপ বিদ্যমান থাকে। তাই যারা ঘুম রোগে আক্রান্ত, তাদের গায়ে প্রত্যুষে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দিলে সহজ- প্রকৃতিগত উত্তাপ সমগ্র শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তাকে প্রবলভাবে সক্রিয় করে এবং শরীরের ভেতরের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গসমূহে তা ছড়িয়ে পড়ে।
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন, অনেক আধুনিক ডাক্তারের মতে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই রোগ নিরাময় পদ্ধতি একটি বিস্ময়কর remedy. তবে গ্যালেন বা হিপোক্রাটস্ যদি নারকোলেপসির এই remedy আবিষ্কার করতেন তবে মানুষ আশ্চর্য হতো এবং এ remedy রোগ নিরাময়ে এ ব্যবস্থাপত্র ব্যবহার শুরু করতো ।