উত্তর : বিহিদানার আরবি নাম Safarzal, ইউনানি নাম বিহি বা বিহিদানা, বাংলা নাম বিহিদানা, Persian/হিন্দি/উর্দু নাম বিহি/বাহি, ফারসি নাম বাহ। ইংরেজি নাম Quince. বৈজ্ঞানিক নাম Cydonia oblonga. প্রজাতি Rosaceae.
এটি বহুল প্রচলিত টক-মিষ্টি একটি ফল। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে পাওয়া যায়। এটি সম্পর্কে ছয়টি বর্ণনা এসেছে হাদীস শরীফে। হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, “একদা আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে উপস্থিত ছিলাম। ঐ সময় নবী
করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে একটি অম্ল জাতীয় ফল ছিলো। তিনি দানাটি আমাকে দেখিয়ে বললেন, হে তালহা! এটি নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে এটি heart stimulant বা চিত্ত সতেজকারী।” (ইবনে মাজাহ) ৭৪৩
এখানে অম্লজাতীয় ফল বলতে বিহিদানাকে বুঝানো হয়েছে, যা পরবর্তী হাদীস থেকে জানা যায় । এই হাদীসটি আল মু'জামুল কাবীর হাদীস গ্রন্থে অন্যভাবে এসেছে। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, “হে তালহা! এটি নিয়ে নাও! বিহিদানা কলব বা অন্তরকে শক্তিশালী করে, মনকে প্রশান্ত বা সতেজ করে এবং বুকের ভার ভার ভাব দূর করে (অর্থাৎ দমবন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করে)।” (আল মু'জামুল কাবীর) ৭৪৪
আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা খালি পেটে বিহিদানা খাও।” ৭৪৫
হাদীসটি ইমাম আস্-সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও আবূ নুয়াইম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উদ্ধৃত করেছেন।
পাকা ফলসহ বিহিদানা গাছ
আল মু'জামুল কাবীর গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিহিদানাকে “মন প্রশান্তিকারক ও সতেজকারী বলে উল্লেখ করেছেন।” (আল-মু'জামুল কাবীর) ৭৪৬
আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা বিহিদানা খাও। এটি অন্তরকে শক্তিশালী ও সতেজ করে।” (জামে সগীর) ৭৪৭ তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা বিহিদানা খাও। কারণ, এটি চিত্তকে প্রশান্ত ও শক্তিশালী করে। আল্লাহর এমন কোনো নবী বা রসূল আলাইহিমুস্ সালাম নেই যিনি বেহেশতের বিহিদানা খাননি। কারণ সেই বিহিদানা কমপক্ষে চল্লিশজন মানুষের দৈহিক শক্তি জোগায়।” (আস-সুয়ূতী) ৭৪৮
ইমাম আস সুয়ূতী উদ্ধৃত এ হাদীসটি ইবনে মাজাহ ও অন্য কোনো হাদীস গ্রন্থে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
যাহোক, বর্ণিত এই হাদীসটিতে বিহিদানাকে 'বেহেশতের ফল' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একে দেহের শক্তিবর্ধক ও চিত্তের জন্য আনন্দদায়ক বলে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভবতী মহিলাদের বিহিদানা খাওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা বিহিদানা খাও, কারণ এটি চিত্তকে কোমল করে এবং অন্তরকে শক্তিশালী করে এবং সন্তানের গঠন সুন্দর করে।” (আস্-সুয়ূতী ও জামে সগীর) ৭৪৯ ইমাম আস-সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার তিববুন নববী গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমরা তার সূত্রভাষ্য অন্য কোনো হাদীস গ্রন্থে খুঁজে পাইনি।
প্রশ্ন-২৫৪ : বিহিদানার গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এবার আলোকপাত করুন।
উত্তর : বিহিদানা এক প্রকার অম্ল জাতীয় ফল। এটি ঠাণ্ডা ও গরম উভয় প্রকৃতির হয়ে থাকে । বৈশিষ্ট্য ভেদে এর স্বাদ আলাদা হয়ে থাকে। মিষ্টি ও টক উভয় ধরনের বিহিদানাই তৃষ্ণা নিবারণ করে, বমিবমি ভাব দূর করে এবং এটি মুত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে (diuretic)। মধুর সাথে খেলে অথবা ভেজে খেলে তা খুবই উপকারী বলে ইবনুল কাইয়িম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেছেন। বিহিদানার বীজ থেকে সংগৃহীত তেল শরীরের ঘাম দূর করে এবং পাকস্থলীকে শক্তিশালী করে। এর ঘন নির্যাস লিভার শক্তিশালী করে এবং চিত্ত ও আত্মাকে সতেজ ও শক্তিশালী করে।
প্রশ্ন-২৫৫ : বিহিদানা কীভাবে খাওয়া যায়? হাদীস শরীফে এ বিষয়ে কী বর্ণনা এসেছে?
উত্তর : বিহিদানা খেতে টক ও মিষ্টি উভয়ই। আল্লামা হাফিয ইবনুল কাইয়িম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিহিদানাকে উত্তপ্ত বা গরম করে অথবা হালকা আধা সিদ্ধ করে মধুর সাথে মিশিয়ে খাওয়া উত্তম বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বলেন, নানা প্রকারের শরবত বা সিরাপ এই বিহিদানা থেকে তৈরি করা যায়। এছাড়া রস বা মোরব্বা তৈরি করা যায়। যে সমস্ত syrup এই বিহিদানা থেকে তৈরি করা হয় সেগুলো হচ্ছে, Astringent syrup, lime syrup, simple syrup ইত্যাদি । এটি কফ প্রশমিত করে, গলাব্যথা ও স্বরভঙ্গ দূর করে এবং অন্যান্য রোগে উপকারী। তবে হাদীস শরীফে কীভাবে এটি খাওয়া যায়, সে বিষয়ে কোনো বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়নি।