এই হাদীসের সনদে আমর ইবনুল হুসাইন নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি হাদীস বিশারদগণের নিকট মাতরূক বা পরিত্যাজ্য। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হিশাম ইবনে উরওয়া এবং তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন যে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তরকারিতে প্রচুর পরিমাণ লাউ দাও। কারণ এটি বিষণ্ণ অন্তরকে উজ্জীবিত করে।” (ইবনুল কাইয়িম ও আস-সুয়ূতী) ৭৫১
হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম শরীফে উদ্ধৃত আছে। তিনি বলেন, “জনৈক দর্জি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খানা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিলেন। আমন্ত্রণকারী যবের রুটি ও স্যুপ পরিবেশন করেন, যার মধ্যে লাউ ও শুকনো গোশত ছিলো। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরকারি পাত্রের কিনারা থেকে লাউ-এর টুকরা খুঁজে খুঁজে বের করে খাচ্ছিলেন। ঐ দিন থেকে আমিও সর্বদা লাউ খাওয়া পছন্দ করতাম।” (সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম) ৭৫২
লাউ সম্পর্কে আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেন হযরত আবূ তালুত রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি বলেন যে আমি হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহ আনহুকে দেখতে গেলাম। তখন তাকে লাউ খেতে খেতে বলতে
শুনেছি, “হে লাউগাছ! আমি তোমাকে কতো পছন্দ করি, কারণ আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তোমাকে পছন্দ করতেন। যেহেতু তিনি তোমায় খাওয়া পছন্দ করতেন, তাই আমিও তোমায় খেতে ভালোবাসি।” (আত-তিরমিযী) ৭৫৩
হাদীসটির ইংরেজি translation হচ্ছে, "O Yaqtin! You are a plant more dearer to me because the Messenger (SAWS) of Allah used to like eating you." (At-Tirmizi) 753 হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “এক ব্যক্তি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত করলো। ঐ দাওয়াতে আমিও শরীক হলাম। কদুসহ তরকারি পরিবেশন করা হলো। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেছে বেছে কদু খেতে লাগলেন যা তাঁর নিকট পছন্দীয় তরকারি ছিলো। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নিজে কদু না খেয়ে তা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এগিয়ে দিতে লাগলাম । হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বলেন, এর পর থেকেই আমার নিকট কদু তরকারি পছন্দনীয় ছিলো।” (সহীহ মুসলিম) ৭৫৪
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “যে কেউ লাউ ও ডাল (lentil) একত্রে খাবে, তার বর্ধিত হৃৎপিণ্ড (enlarged heart) স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং তার সঙ্গমশক্তি বৃদ্ধি পাবে।” ৭৫৫ হাদীসটি ইমাম আস্-সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন ।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একবার রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক গোলামের গৃহে প্রবেশ করলেন। সে দর্জি ছিল। সে খাবার ভর্তি একটি পেয়ালা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাযির করলো। এর মধ্যে কদুও ছিলো। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেছে বেছে কদু বের করে খেতে লাগলেন। বর্ণনাকারী (রাবী) বলেন, আমি এটা দেখে তাঁর সামনে কদু জমা করতে লাগলাম । আর খাদেমটি নিজ কাজে মশগুল হয়ে গেলো। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বলেন, যেদিন হতে আমি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কদু খেতে দেখেছি, সেদিন হতে আমিও কদু পছন্দ করতে লাগলাম।” (সহীহ আল বুখারী) ৭৫৬
প্রশ্ন-২৫৭ : লাউয়ের উপর কোনো গবেষণা হয়েছে কি? হয়ে থাকলে সংক্ষেপে বলুন।
উত্তর : লাউয়ের উপর বেশ গবেষণা হয়েছে। লাউয়ে ৯৬% পানি, ০.২% আমিষ জাতীয় পদার্থ (protein), ০.১% চর্বি জাতীয় পদার্থ এবং শর্করা জাতীয় পদার্থ ২.৫% আছে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, লৌহ, কিছু পরিমাণ ভিটামিন বি এবং বেশ পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে।
লাউ একটি হজমকারক (digestant). এর tender leaves শাক-সবজি হিসেবে খুবই জনপ্রিয় ও উপকারী খাদ্য। ইউনানী মেডিসিনে লাউয়ের বিচির যথেষ্ট গুণাগুণ বর্ণনা করা রয়েছে। বাংলাদেশে এটি কদুর তেল হিসেবে পরিচিত। এটি চুলকে সতেজ রাখে, মাথাকে ঠাণ্ডা রাখে এবং অকাল চুলপাকা বন্ধ করে। তাছাড়া নিদ্রাহীনতা, মাথাব্যথা উপশমে এবং কৃমিনাশক হিসেবে লাউ বেশ উপকারী। পিপাসা দূরীকরণে, প্রস্রাব বৃদ্ধিতে এবং শোথরোগ দূর করতে লাউ উপকারী।