যখন কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব হতো, তখন নবী করীম সল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে রোগের কারণ নির্ণয় করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতেন। অধ্যাপক আব্দুর রহমান জাবিরি ৪টি মাযহাবের উপর লিখিত একটি বইয়ে উল্লেখ করেন যে মুসলমানগণ যখন মদীনায় পৌঁছলেন তখন বেশ কয়েকজন সাহাবী একসাথে জ্বরে আক্রান্ত হন। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পানিবাহিত রোগের উৎস খোঁজার নির্দেশ দিলেন। পরে একটি বদ্ধ পানির পুকুরের সন্ধান পাওয়া গেলো যার পানি দূষিত ছিলো । তিনি সেই পুকুরটি ভরাট করার নির্দেশ দেন। ভরাট করা হলে সেই রোগ নির্মূল হয়ে যায় । প্রশ্ন-
২৬৫ : আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাছিবাহিত রোগের চিকিৎসা কীভাবে করার পরামর্শ দিয়েছেন? কোনো তরল খাদ্যদ্রব্যে মাছি পড়লে সে খাদ্য কি ফেলে দিতে হবে?
উত্তর : কোনো তরল খাদ্যদ্রব্য বা পানিতে মশা বা মাছি পড়লে সে খাদ্য ফেলে দেয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুটো হাদীস লক্ষ্য করুন, যা সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম শরীফে উদ্ধৃত আছে। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের পানীয়ের পাত্রে মাছি (মক্ষিকা) পতিত হলে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ডুবিয়ে উঠিয়ে ফেলে দাও। কেননা মাছির এক পাখায় রোগ আর অন্য পাখায় সে রোগের প্রতিষেধক রয়েছে।” (সহীহ আল বুখারী, আবূ দাউদ ও ইবনে মাজাহ) ৭৬৯ আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এক রিওয়ায়াতে নবী করীম সল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “মাছির এক পাখায় বিষ থাকে অপর পাখায় বিষের নিরাময় থাকে। যখন এটি কোনো খাদ্যদ্রব্যে বসে, তখন এটিকে ডুবিয়ে উঠাও। কারণ, সেটি বিষের পাখাকে আগে রাখে, এরপর বিষ নিরাময়ের পাখা রাখে।” (মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজাহ ) ৭৭০
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হাদীসটিতে শেষের অংশটি নেই। এ হাদীস দুটোর ব্যাখ্যায় হযরত আবূ উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, মাছিটিকে পানীয়দ্রব্যে ডুবিয়ে উঠানোর অর্থ তার অপর পাখায় থাকা ওষুধ extraction করা বা বের করে আনা, যেমন পানীয়তে মাছিটি পড়ার পর তার এক পাখা থেকে বিষটি পানীয়তে extracted হয়ে যায়। একইভাবে আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাছির অপর পাখায় থাকা ওষুধের মাধ্যমে মাছিবাহিত রোগ নিরাময়ের পদ্ধতি দেখিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ মাছির এক পাখায় আনীত বিষের ক্রিয়াকে অন্য পাখায় থাকা বিষের প্রতিষেধক দ্বারা neutralize করতেন।
হাদীসটির শুদ্ধতা নিরূপণ করা হয়নি। দ্বিতীয় হাদীসটিও বর্ণনা করেছেন আনাস রাদিয়াল্লাহু
House flies carrying over 100 different kinds of disease-causing germs হাদীস বিশারদ ইবনুল কাইয়িম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন যে এ আবিষ্কারটি সত্যি বিস্ময়কর। বিশ্বের অন্য কোনো বিজ্ঞানীর পক্ষে ল্যাবরেটরিতে গবেষণা ছাড়া এ ধরনের বিস্ময়কর ওষুধের আবিষ্কার করা সম্ভবপর ছিলোনা । তদুপরি এ হাদীস দুটো এমন এক সময় বর্ণিত হয়েছে যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান উন্নত ছিলোনা । সম্প্রতি মিসরের কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের microbiology department এ হাদীস দুটো নিয়ে গবেষণা হয় । গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য সম্পূর্ণ আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত । এই হাদীসটির উপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল আমার লেখা Medicine and Pharmacy in the Prophetic Traditions বইয়ের পাণ্ডুলিপিতে সন্নিবেশিত করেছি। মাছি ছাড়া ইঁদুর কর্তৃক খাদ্যদ্রব্য দূষিত হওয়ার ব্যাপারেও নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বক্তব্য রেখেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণনা করেছেন, “একটি ইঁদুর ঘিয়ের মধ্যে পড়ে মরে গেলো। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ইঁদুর ও তার আশপাশের ঘি তুলে ফেলে দাও এবং অবশিষ্ট ঘি খেয়ে নাও।” (সহীহ আল বুখারী) ৭৭১
ইমাম যুহরী আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হ'তে বর্ণনা করেছেন, “যায়তুন তেল ও ঘিয়ের মধ্যে ইঁদুর বা অন্য কোনো প্রাণী পড়ে মরে গেলে, তেল ও ঘি জমে থাকুক বা তরল থাকুক। এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমাদের নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে ঘিয়ের মধ্যে পড়ে ইঁদুর মরে গেলে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ইঁদুর ও তার আশপাশের ঘি তুলে ফেলে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তদনুযায়ী ইঁদুর ফেলে দেয়া হয়েছে এবং তারপর সেই ঘি খাওয়া হয়েছে।” (সহীহ আল বুখারী) ৭৭২ এ দুটো নির্দেশ স্বাস্থ্য বিজ্ঞান পুরোপুরি সমর্থন করে। কারণ মরা ইঁদুর খাদ্যদ্রব্যের ভিতর যেখানে পড়ে থাকে তার নিকটবর্তী অংশ দূষিত হয়ে থাকে; পুরো অংশ নয়। পাত্রের বিভিন্ন অংশের খাদ্যদ্রব্যের নমুনা সংগ্রহ করে microbiological পরীক্ষা করলেই খাদ্যদ্রব্য দূষিত হওয়ার মাত্রা জানা যাবে।