ক্ষতিকর। হযরত উম্মে মুনযির বিনতে কায়েস আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, “একদা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট তশরীফ আনেন। তাঁর সাথে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন চোখের অসুখ থেকে আরোগ্যলাভের পথে ছিলেন। ঐ সময় ঘরে বেশ কিছু খেজুর ঝুলানো ছিলো। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে খেজুর নিয়ে খেতে শুরু করেন। তখন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুও উঠে খেজুর খাওয়া শুরু করলেন। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, তুমি অসুস্থ, দুর্বল। সবেমাত্র আরোগ্যলাভ করেছো। তুমি খেজুর খাবেনা। একথা শুনে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু খেজুর খাওয়া বন্ধ করলেন।” (আবূ দাউদ, আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) ৮০১
এ ধরনের আরো একটি হাদীস হযরত সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যা ইবনে মাজাহ ও মুসতাদরাক কিতাবে উদ্ধৃত আছে। তিনি বলেন, “আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাযির হই। তাঁর সম্মুখে তখন রুটি ও খেজুর রাখা ছিলো। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কাছে এসো, খেতে বসো। আমি বসে খেজুর খেতে শুরু করি। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমার চোখে অসুখ। আর তুমি এই অবস্থায় খেজুর খাবে?” (ইবনে মাজাহ ও মুসতাদরাক) ৮০২
এখানে চোখের অসুখ বলতে opthalmia বা conjunctivitis কে বুঝানো হয়েছে।
এ দুটো হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, যখন চোখে ব্যথা ও জ্বালা-পোড়া থাকে, তখন খেজুর খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণও এ ব্যাপারে একমত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। Date is contraindicated is conjunctivitis opthalmia and other sicknesses of the eye.
প্রশ্ন-২৭৬
মেডিসিনের side effects বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস শরীফে কী বর্ণনা করেছেন?
উত্তর : আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ এমন কিছু ওষুধ রয়েছে, যার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন, “আমি ইবনে আবজারুল আকবারের দাদা হাইয়ানকে বলতে শুনেছি যে তিনি বলেন, যতোক্ষণ শরীর রোগ সইতে পারে ততোক্ষণ ঔষধ পরিহার করো।" (আল মু'জামুল কাবীর) ৮০৩ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, “রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকৃষ্ট ও অনিষ্টকর ওষুধ (যেসব ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি), অর্থাৎ বিষময় ওষুধ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।” (ইবনে মাজাহ)
নযর আহমদ রচিত তিব্বুন নববী কিতাবে উল্লেখ আছে যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যেসব ওষুধ এক রোগে উপকারী কিন্তু তাতে অন্য রোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা বর্জন করো।” (নযর আহমদ) ৮০৫
এ রিওয়ায়াতের সূত্রভাষ্য অন্য কোনো হাদীস গ্রন্থে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যাহোক, এ দুটো রিওয়ায়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে আমাদের ঐসব ওষুধ বর্জন করা উচিত, যার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। এবার হার্বাল মেডিসিন ও মডার্ন এ্যালোপ্যাথিক মেডিসিনের পার্থক্য সম্পর্কে সামান্য আলোকপাত করতে চাই।
হার্বাল মেডিসিন ও মডার্ন এ্যালোপ্যাথি মেডিসিনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে হার্বাল মেডিসিন বিশুদ্ধ নয়। এটি crude extract. অনেকগুলো উপাদানের সমষ্টি। তাই এর কাজও বেশ ধীর গতিতে। এর বিরুদ্ধ ব্যবহার নেই বললেই চলে। তাই কাজ বা উপকার না হলেও মানুষের শরীরে তেমন কোনো ক্ষতি করবেনা। অপরদিকে মডার্ন মেডিসিন বিশুদ্ধ এবং এর কাজ অত্যন্ত দ্রুত। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা বিরুদ্ধ ব্যবহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো একটি হাদীস বর্ণনা করেন। হযরত মাযীদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের খেজুরগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম খেজুর হলো বরনি। এটি রোগ নিরাময় করে এবং এতে কোনো রোগ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।” (মুসতাদরাকে হাকিম) ৮০৬
বরনি খেজুর খুবই নরম ও সুস্বাদু প্রকৃতির। এটি চুষে খাওয়ার উপযোগী এক প্রকার খেজুর যা মদীনায় চাষ করা হয়। আজওয়া খেজুরও নরম ও শুকনো প্রকৃতির। এটিও মদীনায় চাষাবাদ করা হয়। এটি ফলজ খেজুর । হাদীস শরীফে আজওয়া খেজুর সম্পর্কে বেশ বর্ণনা এসেছে যা আমি পূর্বে আলোচনা করেছি।