এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, বৈধ প্রেম দূষণীয় নয়। যদিও অনেকে প্রেমকে বৈধ ও অবৈধ এই দু'ভাগে ভাগ করতে নারাজ। বস্তুত যে প্রেম সুন্দর, পবিত্র সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যেখানে লোভ-লালসা নেই, সেটা দূষণীয় নয়। যে প্রেমে অশ্লীলতা নেই, ব্যভিচার নেই, বেহায়াপনা নেই, নির্জন স্থানে বসে আড্ডা নেই, সে প্রেম দূষণীয় নয়। আর যদি বিয়ের পূর্বে দু'জনের মাঝে আলোচনা বা কথাবার্তার প্রয়োজন হয়, তাহলে সেখানে তৃতীয় একজন মেয়েটির নিকটাত্মীয় থাকা উচিত। আর যে প্রেমে যৌন চাহিদা থাকে, নির্জন কক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা থাকে, অশ্লীলতা-ব্যভিচার থাকে, তা অবৈধ প্রেম । এটি রীতিমতো দূষণীয়, নাজায়েয ও পরিত্যাজ্য । ইসলামের দৃষ্টিতে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের উদ্দেশে বলেছেন, কোনো পরনারীর প্রতি প্রথম অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি ক্ষমার যোগ্য। দ্বিতীয় দৃষ্টি ক্ষমার অযোগ্য। তাই যারা প্রেমে মগ্ন, তারা কীভাবে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের শিক্ষাকে বাস্তবায়িত করবে? কাজেই বর্তমানে যে ধরনের
প্রেম সমাজে বা বাজারে চালু আছে, তা পুরোপুরি অবৈধ ও অশ্লীল প্রেম, unlawful প্রেম। তা নাহলে প্রেম করে বিয়ে করে বছর যেতে না যেতেই প্রেমিক প্রেমিকাকে হত্যা করে কেনো? তখন কোথায় যায় প্রেম? কোথায় যায় আকাশ ছোঁয়া গভীর ভালোবাসা? আসলে এ ধরনের প্রেম-ভালোবাসা নোংরামিতে পরিপূর্ণ। যৌন চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যেই এ প্রেম। এটি এক প্রকার হৃদয়ের অসুস্থতা বা ব্যাধি । এ ব্যাধির : দ্রুত চিকিৎসা হওয়া উচিত।
সম্মানিত দর্শক! আপনারা মুনির-খুকুর প্রেমের কথা হয়তো বা জানেন কিংবা শুনেছেন। অন্যের বিবাহিতা স্ত্রীর সাথে গভীর প্রেম ও দিনের পর দিন দৈহিক মিলন। তারপর এ প্রেম থাকা অবস্থায় একজন বিখ্যাত সাংবাদিকের মেয়ের সাথে পুনরায় প্রেম ও পরে বিয়ে। তারপর কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই নতুন সুন্দরী স্ত্রী, যাকে প্রেমের মাধ্যমে বিয়ে করেছে, তাকে হত্যা করা হলো। এগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? এসব কাজ কি সমর্থনযোগ্য? কখনোই নয়। আর ভুক্তভোগী পিতা-মাতারই বা কী অবস্থা হয়? তারা তো জীবিতই মৃত। তাই আমার সুচিন্তিত অভিমত হচ্ছে, সব অবৈধ প্রেম আইন করে বন্ধ করতে হবে এবং সরকারকে তা করতে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যর্থ প্রেমের ভয়ংকর দিক ও কুফল সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে হবে। যতো তাড়াতাড়ি এই প্রেমের ব্যাধি দূর হবে ততোই মঙ্গল । প্রশ্ন- ২৮৫ : অবৈধ প্রেমের প্রভাব কী কী? অভিভাবকদের এসব ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও কর্তব্য কী কী?
উত্তর : বৈধ হোক আর অবৈধ হোক, প্রেমের প্রভাব ব্যাপক । রাজা-বাদশাহ থেকে শুরু করে জ্ঞানী-গুণী এমনকি অনেক মহৎ ব্যক্তি এই প্রেম নামক ব্যাধির ফাঁদে পড়েছেন। ইতিহাস সাক্ষী যে প্রেমিকার জন্য মানুষ যুদ্ধ-বিগ্রহ পর্যন্ত করেছে। এই ব্যাধির শিকার হয়ে অনেক বড় পণ্ডিত ব্যক্তিও বিপাকে পড়ে হতবুদ্ধি হয়ে পড়েন। অনেকে প্রায় পাগলপারা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেককে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়। প্রেমে ব্যর্থতা ভয়ংকর। এর পরিণতি আরো মারাত্মক ও অসহনীয়। এক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ঘটনা অহরহই ঘটে থাকে। তাই এসব ব্যাপারে পিতা-মাতাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আগে থেকেই ছেলেমেয়েদের সতর্ক করতে হবে। ব্যর্থ প্রেমের পরিণতি ও ফলাফল সম্পর্কে অবগত করাতে হবে।
যদি স্বাভাবিকভাবে কোনো যুবক কোনো যুবতীর সাথে নির্জনে বসে নিয়মিতভাবে গল্পগুজব করে সময় কাটায়, তাহলে মনের অজান্তেই তাদের ভেতর অশ্লীল কাজ বা ব্যভিচারের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই ইসলাম এটা স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে। Free mixing, socialization, seclusion between men and women, boy and girls are forbidden in Islam. তাই হঠাৎ করে কোনো মেয়ের সৌন্দর্য কাউকে মুগ্ধ করলে তার অন্যান্য গুণের দিকে তাকাতে হবে। যদি সবদিক দিয়ে ভালো ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়, তখন তাদের উভয়ের পিতা-মাতাকে বিষয়টি অবহিত করা উচিত। পিতা-মাতা যদি সবকিছু দেখে সম্মতি দেন এবং প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, তাহলে সামনে অগ্রসর হতে বাধা নেই এবং যতো তাড়াতাড়ি বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব ততোই মঙ্গল । আর যদি প্রস্তাব অনুমোদিত না হয়, তাহলে সেখানেই যাত্রা বিরতি করা উচিত। Completly full stop. সম্মুখে অগ্রসর হওয়া আর ঠিক হবেনা । তাই প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত তাদের ছেলেমেয়েদের বিষয়টি ভালো করে আলোচনা করে বোঝানো
যে, যা কিছু করতে হয় তা পিতা-মাতার সম্মতিতে বৈধভাবেই করা উচিত। অবৈধ প্রেম, ইভটিজিং ইত্যাদি অগ্রহণযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বখাটে ছেলেদের অবৈধ প্রেম নিবেদনও এর মতোই খারাপ। এরাই প্রেমিকার মুখে এসিড মেরে তার চেহারা বিকৃত করে দেয় । এসবই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে; পারিবারিক শান্তি বিনষ্ট করে। আমাদের প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এটা নিষেধ করেছেন। তাই এসব বখাটে ছেলের সমাজ বিরোধী ও অশ্লীল কাজের কঠোর শাস্তির বিধান থাকা উচিত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ সময়ের দাবি। অতএব সম্মানিত পিতা-মাতাগণ সাবধান !